রিভিউ না, গল্প বলবো। “Leap Year” আমার দেখা বেস্ট রোমান্টিক কমেডি…
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

LeapYear2একটা রিলেশনশীপে মেয়েরা সব সময় অপেক্ষায় থাকে ছেলেটা কবে/কখন তাকে বিয়ের প্রপোজ করবে, সেই মূহুর্ত টার দিন গুনতে থাকে সব সময়। দুজন মিলে বাড়ি, গাড়ি, এপার্টমেন্ট, বিয়ের পরবর্তী সবকিছু কিনে ফেলার পরও যদি ছেলেটা প্রপোজ না করে তখন মেয়েটার কেমন লাগে!!(মনে মনে গালি দেয় শালা মোখলেস)… মুভির ঠিক এমন এক পর্যায়ে মেয়েটা(Anna) জানতে পারে আজকে স্পেশাল ডিনারে ছেলেটা তাকে প্রপোজ করবে। leapyear6 শুরু হয় মেয়ের প্রিপারেশন, ফ্রেন্ডস-ফ্যামিলিসহ পুরো পৃথিবীকে জানিয়ে দিতে চায় ব্যাপারটা। বান্ধবীর সাথে বসে প্র্যাকটিস করে প্রপোজের সময় কেমন হবে তার এক্সপ্রেশন।  "শিট!! পারফেক্টলি অবাক হতে পারছে না" "হচ্ছে না, বেশি এক্সাইটমেন্ট দেখিয়ে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে" "উহু, চোখ আরো বড় বড় করতে হবে" আরো অনেক প্র্যাকটিস শেষে ডিনার করতে যাওয়ার পর মেয়েটার ৪ বছরের রিলেশনশীপের কারডিওলজিস্ট বয়ফ্রেন্ড Jeremy তাকে বহু কাংখিত সেই "রিং" উপহার দেয়। বক্স খোলার পর দেখে ১টা নয়, ২টা রিং "শিট!! এটা তো আংটি না, কানের দুল :p "… ব্যস্ততার কারনে Jeremy বিদায় নিয়ে আয়ারল্যান্ড চলে যায় কয়েকদিনের জন্য। প্রচন্ড হতাশা নিয়ে Anna বাসায় এসে নেট ঘেঁটে জানতে পারে "Leap Year Propose"র কথা, আয়ারল্যান্ডের মেয়েরা প্রতি ৪ বছরে একবার ফেব্রুয়ারীর ২৯ তারিখ তাদের বয়ফ্রেন্ড কে প্রপোজ করতে পারে, এটা সেখানকার পুরোনো ট্রেডিশন। Anna সিদ্ধান্ত নেয় এই সুযোগটাই সে কাজে লাগাবে, এবার সে ই শালা মোখলেস কে প্রপোজ করবে। ৩ দিনে আগেই প্লেনে করে রওনা দেয় আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের উদ্দেশ্যে। শুরু হয় আরো নতুন নতুন ঝামেলার। আয়ারল্যান্ডের আবহাওয়া সারা বছরই অনেক খারাপ থাকে, প্লেন মুখোমুখি হয় দুর্যোগের কবলে। সবাই যখন বাঁচার জন্য দোয়া পড়ছে, Anna'ও তখন দোয়া পড়ছে তবে একটু অন্যভাবে; "I'm getting engaged, I'm getting engaged. I'm not gonna die without getting engaged!" :p

070dbb6024b5ef93784428afc71f2146অবস্থা একটু ভাল হলে প্লেন Wales Airport'এ ল্যান করে। এখান থেকে ডাবলিন অনেক দূর। Anna বাস, ফেরী, বোট সবকিছুতে ট্রাই করেও ডাবলিন পৌছাতে পারে না, দূর্যোগ আবহাওয়ার জন্য সব বন্ধ। শেষে পুরোনো এক ভাঙ্গা ট্যাক্সি করে রওনা দেয় ডাবলিন। ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসেবে তার সঙ্গী হয় Declan। "Anna কি লিপ ইয়ার ২৯ তারিখের আগে ডাবলিন পৌছাতে পারবে?!" এমন একটা প্রশ্ন দিয়ে এই লেখা শেষ করা যেত, কিন্তু এটা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ মুভির মূল অংশের শুরুটা হয় এখান থেকে, এখনো সব বাকি। (বিরক্ত হয়ে লাভ নাই, আমি মুভিটার আরো অনেক গল্প বলবো, সবে তো শুরু :p )… Declan'র হোটেলে রাত কাটিয়ে রওনা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয় তাদের। 216421 এই এক রাতে Declan'র পুরোনো হোটেলের ১২টা বাজিয়ে ফেলে Anna, সবকিছু ভেঙ্গে চুরে অস্থির অবস্থা পুরা, শুরু হয় ঝগড়া। সকালে মেজাজ খারাপ করে রওনা হয় দুজন। রাস্তায় আবার ঝগড়া, একজনের খাবার ফেলে দেওয়া, অন্যের বয়ফ্রেন্ড কে নিয়ে তামাশা করা, গাড়ির প্লেয়ার থেকে ক্যাসেট ফেলে দেওয়া, গাড়ি থামিয়ে রাস্তার গরু তাড়ানো, গরুর গোবরে পা ঢুবিয়ে গাড়ির পিছনে তা মুছতে গিয়ে গাড়িটাই ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া।(লে হালুয়া, যা এইবার ডাবলিন ক্যামনে যাবি)… তারপর ভিলেন বাহিনী নিয়ে বাংলা সিনেমার মত একটা ঘটনা ঘটল হলিউডি  স্টাইলে, সেটা দেখে যে কেউ মারাত্নক বিনোদন পাবে। অবশেষে ডাবলিনের ট্রেন পাওয়া গেল, যা ছাড়বে আড়াই ঘন্টা পর। এই সময়ে ২জনের ঝগড়া মিটে অল্প বন্ধুত্ব হয় যার খেসারত হিসেবে Anna ট্রেন মিস করে। প্রতিহিংসার আগুনে ছাড়খার হয়ে পরের দিনের ট্রেনের অপেক্ষা করার জন্য এক বাড়িতে ভাড়ায় রাত কাটাতে যায়, সেখানে জানের দুশমন Declan কে স্বামী পরিচয় দিয়ে থাকতে হলো। এই থাকা নিয়ে শুরু হয় আবার মারামারি মহামারি। ভুলে পাশের চার্চে এক বিয়েতে গিয়ে নতুন দম্পতির সর্বনাশ করে ফেলে। নাচতে গিয়ে জুতা ছুড়ে কনের কপাল কেটে ফেলে, বিয়ার ফেলে কনের বিয়ের ড্রেস নষ্ট করে ফেলে, পুরা ভয়াবহ অবস্থা। রাতে বাসায় খেতে গিয়ে পড়ে আসল বিপদে; সবাই এক এক করে সবার স্ত্রীকে হামি খাচ্ছে, এবার Declan'র পালা। কিন্তু সে তো এই কাজ জীবন থাকতে করতে পারবে না, আর Anna তো জীবন না থাকলেও করবে না। এরপর যা ঘটলো সেটা এই মুভিতে সবচে ভাল লাগার একটা দৃশ্য। যাইহোক অনেক গল্প বলেছি আর বলা যাবে না, বাকীটুকু দেখতে হবে। লিপ ইয়ারে Anna'র সাথে Jeremy'র কি ঘটে, আর Declan ই বা শেষ পর্যন্ত হেল্প করে কিনা। মুভিটা যেভাবে শেষ হতে যাচ্ছিল সেটা দেখে আমার ৫০% ভাল লাগছিল আর ৫০% খারাপ লাগছিল। কিন্তু যেভাবে শেষ হলো সেটাতে ১২০% ভাল লাগা ছিল… যাইহোক আমি সিওর; অর্ধেক মুভির বেশি লিখে ফেলা গল্পটা পড়ার পরও মুভিটা দেখতে কারো বিন্দু মাত্র খারাপ লাগবে না, মুভিটা প্রতিটা দৃশ্য দেখেই মুগ্ধ হবে, তাছাড়া আমি নিজেও মুভির এতটুকু অংশের অনেক কিছু স্কীপ করে গেছি।

 

Untitled মুভির সবচে বেশি ভাল লেগেছে সবার ডায়ালোগ। শুরুতে ভেবেছিলাম এটা কমেডি মুভি হবে, কিন্তু আস্তে আস্তে এটা পুরোদস্তুর রোমান্টিক মুভি হয়ে গেল। মুভির প্রতিটা দৃশ্য প্রতিটা ডায়ালোগ (আমি আবারো বলছি "প্রতিটা") একদম মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত, কোনোটা দেখে/শুনে হাসতে হাসতে লুটুপটি খাওয়ার আবার কোনোটা বিস্মিত হওয়ার। Film Title: Leap Year এটা কে আমার দেখা ওয়ান অব দ্য বেস্ট রোমান্টিক কমেডি বলবো না, এটা আমার দেখা বেস্ট রোমান্টিক কমেডি। মুভিতে Anna চরিত্রে Amy Adams কে আমার কাছে তেমন কিউট লাগে নাই যতটা রোমান্টিক মুভিতে নায়িকাদের লাগে কিন্তু Amy কে আমার অন্য রকম ভাল লেগেছে, পবিত্র লেগেছে, দেখলেই অনেক খারাপ হয়ে থাকা মনও ভাল হয়ে যায় এমন। অ্যামির অভিনয় আর এক্সপ্রেশনও অনেক উপভোগ্য ছিল। আর Adam Scott কেও অনেক ভাল লেগেছে এমন চরিত্রে। তবে সবচে বেশি ভাল লেগেছে Matthew Goode কে, পুরো মুভিতে তার ডায়ালোগ শুনবো নাকি এক্সপ্রেশন দেখবো বুঝতে পারছিলাম না। মজার ব্যাপার হচ্ছে মুভিটা ভাল লাগার প্রধান কারন ছিল এর পরিচালনা। মুভির লোকেশন, গান, স্ক্রীপ্ট, ক্যামেরা ওয়ার্ক, সিক্যুয়েন্স বাই সিক্যুয়েন্সে দর্শককে মুগ্ধ করে বেঁধে রাখার ক্ষমতা (ধারাবাহিকতা), ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সবকিছুই ছিল সেই লেভেলের। লাভ মেকিং সিন বা কোন রগরগে দৃশ্য ছাড়া একটা চমৎকার পরিচ্ছন্ন রোমান্টিক মুভি। সর্বোপরি মুভিটা একটু বেশিই ভাল লাগার। ২০১০ সালের ১০০ মিনিটের এই মুভিটা হয়তো প্রায় সবাই দেখে ফেলেছেন, যারা এখনো দেখেননি তাদের অবিলম্বে দেখে ফেলার আহ্ববান করছি।

লিঙ্ক__ http://www.uploadbaz.com/wh0gtkfw7oak

এই পোস্টটিতে ৩৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. নির্ঝর রুথ says:

    মুভিটা ভালো লেগেছিলো কি কারণে, সেটা বলতে গেলে আমার ট্রেডমার্ক মন্তব্যটা করতে হয়, “সাধারণ ঘটনার অসাধারণ উপস্থাপন”। আবার একই কারণে (কমন কাহিনী) তেমন ভালোও লাগে নি।
    এমিকে অভিনয়ে একশোতে একশো দিয়েছিলাম। কারণ ওর এক্সপ্রেশনগুলো এতোটা সূক্ষ্ম পর্যায়ের পারফেক্ট ছিলো যে, নায়ককে রীতিমত দুর্বল লেগেছে ওর পাশে।
    কাহিনী যাই হোক, অভিনয়-লোকেশন আর শেষের পেঁচগিগুলোর জন্যে হলেও মুভিটা দেখা যায় 😀

    আর যে কথাটা না বললেই নয়…. মারাত্মক রিভিউ (y)

    • ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

      “সাধারন ঘটনার অসাধারণ উপস্থাপন” এই একটা লাইনই মুভিটা এক্সপ্লেইন করার জন্য পারফেক্ট…
      হুম অভিনয়-লোকেশন আর শেষের পেঁচগিগুলোর মুভিটা অন্য মাত্রা পেয়েছে। এমিকে তো অনেক ভাল লেগেছে বললামই কিন্তু নায়ককেই আমার বেশি ভাল লেগেছে… 🙂

  2. হাইজেনবার্গ® says:

    ভাল্লাগছে ।

  3. Simile says:

    মুভি টা অনেক আগে দেখেছি ভালই লেগেছিল কিন্তু এখন আর অত খুঁটিনাটি মনে নাই! আবার দেখতে হবে মনে হচ্ছে!!

  4. Waqar Sakif says:

    অনেক প্রিয় এক মুভি । লোকেশান গুলা অস্থির , নায়কটারে ভাল লাগছে আর এমিরে তো আগে থেকেই ভালো লাগে । লেখা দেখে ভালো লাগছে ।

  5. সোলিটারিও says:

    ট্রিপল এস, ট্রিপল লাইক… 😀 😀

  6. রিফাত আহমেদ রিফাত আহমেদ says:

    পোস্ট ভালো হইছে

  7. তানিয়া says:

    মুভিটা অনেক বার দেখছি, আপনার লিখা অনেক ভালো হইছে 😀 রোমান্টিক মুভি হলেও বেশ মজার ছিল, অনেক ইঞ্জয় করছি 🙂 টাইমিং গুলা জটিল ছিল 😛

  8. শাতিল আফিন্দি says:

    নাইস রিভিউ, অনেকদিন রোম্যান্টিক মুভি দেখা হয় না…এইটা দেখব তাহলে!

  9. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    মুভিটা আসলেও অনেক মজা লেগেছে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডে যাবার পর যা যা হয়েছে সেই জায়গাগুলো। মুভিটা যেমন এনজয় করেছি তোমার রিভিউটাও তেমন মজা লেগেছে পড়তে। যারা যারা দেখেননি তারা দেখে ফেলুন। 🙂

  10. আমার কাছে বেস্ট রোম্যান্টিক মুভি না হলেও এতোটা ভালো লাগবে আশা করিনি 🙂 নাইস পোস্ট (y)

  11. লেখা বোল্ড কেন?? পড়তে পারিনি পুরোটা। আরেকদিন সময় নিয়ে পড়ব। 🙂

  12. শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

    রোমান্টিক মুভি? :/
    লেখা ভালো, তয় মুভিখানা দেখবাম না। :p

  13. ডন মাইকেল কর্লিওনি says:

    মুভিটা সত্যই অচাম… 😛 😛 তবে পরিচালকের উপ্রে আমার বিশাল রাগ হইছিল… >:( কেন সে বারবার নায়ক নাইকার রোমান্সের মাঝখানে বাম কনুই ঢুকায়… ইহা ৩০২ ধারার অপরাধ…

    লেখার ব্যাপারে একটা ছোট্ট আবদার… এতো চমৎকার করে রিভিউ না লিখলে হয় না!!! পাবলিকে তো তোমার রিভিউ পইড়াই আনন্দে আত্মহত্যা করবো… 😛 :v
    গুলাপ লও… 😛

    • ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

      ছোটা ডনের আবদার শুনে হাসতেই আছি…
      আর বদ পরিচালকের উপ্রে এজন্য আমারো রাগ লাগসে…

  14. আমার অন্যতম প্রিয় মুভি । লেখা ভাল্লাগছে 🙂

  15. James Bond says:

    হেয়ার ইট ইজ। মাই ওয়ান অফ দ্যা ফেভারিট মুভি।। 🙂 চরম লিখেছেন যে 😉

  16. অনিক চৌধুরী says:

    গল্প বলা অসাধারণ ছিল। মুভি হাড্ডিতে ডাউনলোডাইতে হইব বুইঝলাম।

  17. মেগামাইন্ড says:

    দেখে ফেলেছি

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন