“পোড়ামন”, মনপুরার পর আরেকটা মনে দাগ কেটে যাওয়া বাংলা সিনেমা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

425361_158978380950187_482448508_n
পোড়ামন মুভিটা দেখে প্রচন্ড আলসেমি সত্ত্বেও রিভিউ লিখতে বসলাম, চমৎকার এই মুভিটা নিয়ে এখুঁনি না লিখলে অন্যায় হবে। মুভির শুরুটা পুলিশ অফিসার মিলন আর তার স্ত্রী বিপাশার পারিবারিক মান-অভিমান দিয়ে। বিপাশার আবার তিন ভাই এলাকার ত্রাস মিশা সওদাগর, ডন আর শিবা শানু(পুরা জল্লাদ ফ্যামিলি)। এদিকে মিলন-বিপাশা দম্পতি ওই তিন ভাইয়ের সাথে চিটাগং ঈদ করতে যাওয়ার কথা। কিন্তু মিলন নানান ঝামেলায় পড়ে যেতেও পারছে না, আবার বিপাশাকে ফোনেও সময় দিতে পারছে না। মিলনকে ঘিরে সন্দেহ শুরু হয় বিপাশার। মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ হয়ে আসে যখন মিলন নিজের বাসায় অনেক সমস্যায় জর্জরিত হওয়া মাহিকে নিয়ে আসে। মাহিকে দেখে বিপাশা নরপিশাচ (শব্দটা কি নারীপিশাচ হবে!) হয়ে যায়, অবশেষে মিলন কি বিপাশার সন্দেহের  কাজটাই করলো!! যতটুকু লিখলাম এটা হচ্ছে সিনেমার শুরুর কয়েক মিনিট আর শেষ দিকের ২ মিনিটের গল্প। মূল গল্পটা হচ্ছে মাহি আর সাইমনকে নিয়ে, তো মাহি কেন মিলনের বাসায়! সিনেমার প্রধান নায়ক সাইমনই বা তাহলে কোথায়! ২ ঘন্টা ১৫ মিনিটের মুভিটার প্রায় দেড় ঘন্টারও বেশি সময় চিত্রায়িত হয়েছে মাহি-সাইমন এর দূর্দান্ত প্রেমের রোমান্টিক গল্পটাকে ঘিরে। দূর্দান্ত বলছি কারন বাংলা সিনেমায় এমন গল্প সচারাচার চোখে পড়ে না। সাধারনত দেখা যায় বাংলা সিনেমার সব রোমান্টিক গল্পগুলো প্রায় একই হয় (প্রায় না পুরোপুরি ই), সেই গৎবাঁধা প্রেম ভালবাসা, ধনী-গরীব সম্পর্ক,
নায়িকার বাবা নায়কের বাবাকে মেরে ফেলেছে  বা উল্টোটা, আর সেই ঐতিহাসিক চৌধুরি সাহেব!! কিন্তু এই সিনেমায় তেমন কিছুই নেই।
Pora-Mon-Bangla-Movie-
মুভিটা দেখার সময় গিয়াস উদ্দিন সেলিমের মনপুরা সিনেমাটার কথা বারবার মনে পড়ছিল। কিছুটা একই রকম প্লটের উপর ভিত্তি করে পোড়ামন বানানো হয়েছে মনে হলো। এই মুভিটা পুরোটা পার্বত্য চট্টগ্রামে চিত্রায়িত হয়েছে। গ্রামের দুইটা ছেলে-মেয়ের মধ্যে অনেক আদর মেশানো একটা ভালবাসার গল্প। ছেলেটা মেয়েটার জন্য একদম পাগল (মেয়েটাও তাই), জীবনে মেয়েটাকে সাফল্যের চরম শিখরে পৌছে দেবার জন্য ছেলেটা সর্বাত্নক চেষ্টা করছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে মেয়েটার চোখে পানি ছেলেটা সহ্য করতে পারে না, সমস্যা  সমাধান না করতে পারলে ছেলেটাও কান্না শুরু করে; সিনেমায় এই ব্যাপারটা আমাদের যে কারোই বিরক্ত লাগতে পারে, অতিরিক্ত মনে হতে পারে, আমারো মেজাজ খারাপ লাগতো কিন্তু সিনেমায় ব্যাপারটা এত চমতকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে বিরক্ত না হয়ে উল্টো কিউট মনে হচ্ছিল… আমরা যারা বাংলা সিনেমার “গল্প ভাল না, গল্প ভাল না” বলে চিল্লাই তাদের এই সিনেমাটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেখা উচিত। সিনেমার শুরুতেই দেখলাম এটার কাহিনীকার “ফারজানা” নামে এক ভদ্রমহিলা। সম্পুর্ণ নতুন একটা সুন্দর গল্প, অন্য কোন সিনেমার কপি পেস্ট না (আমার তাই মনে হলো) এবং বান্দরবনের একটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটা…

995825_205825976233766_643536046_nসমালোচনায় পরে যাচ্ছি, আগে সিনেমাটা সম্পর্কে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনায় আসি; চমৎকার একটা গল্পের পর পোড়ামনের সবচেয়ে ভাল দিক ছিল এটার নায়ক “সাইমন”। বাংলা সিনেমা সাইমন কে পেয়ে সুদর্শন আর একজন সুঅভিনেতা কে পেল। তার একটা সমস্যা আছে অবশ্য, সেটা হলো কন্ঠস্বর, একটু কেমন যেন অন্য নায়কদের চেয়ে আলাদা। তবে এটা ব্যাপার নাহ, নিয়মিত যত্ন নিলে ঠিক হয়ে যাবে (বেশি বেশি আদা চা খাইতে হবে বোধহয় :p)। আর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল  তাই হয়তো আরো অন্যরকম শুনিয়েছে। তবে সাইমনের অভিনয় দুর্দান্ত। নায়ক আর এত স্মার্ট হবার পরও সিনেমায় তার মধ্যে কোন নায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি একটা মুহুর্তের জন্যও চোখে পরে নাই শুধুমাত্র তার চরিত্রটার জন্য। এই সুজন চরিত্র টা আমাদের সকলেরই পরিচিত, এলাকায় রাস্তার পাশে দাড়িঁয়ে থাকা ওই ছেলেটা। আমরা হরহামেশাই তাদের দেখি, ঠিক সেরকম একটা চরিত্র। 944349_199815406834823_723341731_n এই সুজন চরিত্রে সাইমন একেবারে মিশে গেছে, তার পোশাক আর কথাবার্তায় একটাবারের জন্যও মনে হয় নাই সে সিনেমায় নায়ক। আসলে এইখানেই তার স্বার্থকতা…  “মদনা, মদনা, ওই মদনা, আমারে থুইয়া আইয়া পরলি ক্যান? ওই খাঁড়া সাইকেলডা রাইক্ষা আইতাছি” সুজন চরিত্রের সব সংলাপ এই ধরনের ছিল, আর সেই সংলাপগুলোতে সাইমনের যে এক্সপ্রেশন আর ভয়েস ডেলিভারি তা নিশ্চিত সবার চোখে পরবে। 945520_200071543475876_1773961721_n আরেকটু বুঝিয়ে বলি; আমরা যখন আঞ্চলিক ভাষার নাটক দেখি তখন সেখানে সংলাপগুলো যতই গম্ভীর হোক আমার তা শুনে অনেক বিনোদিত হই (বিশেষ করে চঞ্চল চৌধুরীর নাটকে)। সাইমনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, অনেক সময় তার গম্ভীর সংলাপ শুনেও দর্শকরা অনেক আনন্দ পাচ্ছিলাম।  চরিত্রটা তে কোন ন্যাঁকামি ছিল না, সবচেয়ে ভাল লেগেছে নায়ক না হয়ে সাইমনের চরিত্রাভিনেতা হওয়া। এটা তার ২য় সিনেমা, তার ১ম সিনেমা “জ্বী হুজুর”ও অনেক ভাল ছিল কিন্তু দর্শকরা সিনেমাটা তখন ভালভাবে গ্রহন করেনি। সাইমন সম্পর্কিত আরেকটু তথ্য দেই; সে এনটিভি আর বিএফডিসি’র আয়োজনে “সুপার হিরো সুপার হিরোইন” প্রতিযোগিতা থেকে এসেছে। তখনই তার পারফরমেন্স আমার ভাল লেগেছিল কিন্তু ভাল পারফর্ম করার পরও দর্শক ভোট আর আরো কিছু কারনে সে ১২জন ফাইনালিস্টের মধ্যে যেতে পারেনি। এটা অবশ্য নতুন কিছু না, এসব প্রতিযোগিতায় বরাবরই এমন হয়ে আসছে, প্রতিভা থাকলে তা পরে বিকশিত হবেই…

 

482803_425520357535726_1436510306_nমাহিয়া মাহি সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নাই। আগের দুই সিনেমা “ভালবাসার রঙ” আর “অন্যরকম ভালবাসা” তে গ্ল্যামার আর সুন্দর অভিনয় দিয়েই তার যোগ্যতার প্রমান রেখেছে। যদিও তার সৌন্দর্য্য ছাড়া আগের সিনেমা ২টা আমার কাছে ভাল লাগে নাই। তবে মাহির কিছুটা আহ্লাদী ভাব আছে কিন্তু নায়িকাদের এই আহ্লাদীপনা টা দর্শকরা সহজেই মেনে নিতে পারে। পোড়ামনে পরী চরিত্রটা যেমন ছিল মাঝে মাঝেই মাহি তাতে খেই হারিয়ে ফেলছিল। 419172_159799407534751_1815680788_n 379620_1382459605302166_93217881_n তার কথাবার্তায় আর পোশাকে মাঝে মাঝেই নায়িকা সুলভ ব্যাপারটা চলে আসছিল, পরী হারিয়ে যাচ্ছিল।  তবে অনেক জায়গায়ই তার অভিনয় চোখে পরার মত ছিল। বিশেষ করে নায়কের সাথে অন্তরঙ্গ মুহুর্তগুলোতে। কিভাবে যেন তাকায়!! মুখে অল্প একটু হাসি, চোখ পিট পিট করে তাকায়, আবার কিসের আকাংখায় যেন চোখ লাল হয়ে টলমল করে (কেমনে মাহী কেমনে!! একদম দিলে দাগা দিয়ে গেলা)। হলে তখন এমন অবস্থা যে সব ছেলেরই মাহির প্রেমে পরা বাধ্যতামূলক, পুরা প্রেমময় পরিবেশ। আর আমি তো সেই কবে থেকেই তার প্রেমে পরে আছি… বাংলা সিনেমায় এখন তার মত সুন্দরী অভিনেত্রীরই দরকার, আটার বস্তা – ময়দার বস্তাদের দিন শেষ…

 

1000284_513681332020208_191862038_n (2)
এই সিনেমায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন। তার অভিনয় সম্পর্কে কম বেশি আমরা সবাই জানি, তাই বাড়তি কিছু বলার নাই। কিছুদিন আগে তার “দেহরক্ষী” সিনেমায় দর্শক নেগেটিভ চরিত্রে যে মিলনকে দেখেছিল এ সিনেমায় সৎ পুলিশ অফিসার চরিত্রে যেন অন্য আরেক মিলনকে দেখছিলাম, উনি এক কথায় ফাঁটিয়ে দিয়েছেন আবার (এই ফাটানির যে কি বিকট শব্দ তা না দেখলে বুঝবেন না)।

1000284_513681332020208_191862038_n
বিভিন্ন সিনেমার গানে আইটেম গানে এতদিন বিপাশা কে দেখে আসছিলাম। অনেকেই বলে সিনেমায় আইটেম গানের দরকার কি! আমিও সেটাই বলি “দরকার কি!”… কিন্তু এই আইটেম গানে বিপাশার পারফরমেন্স দেখলে আমার মত অনেকেই আবার “দরকার কি” কথাটা ভুলে যায়। ভেবেছিলাম অভিনয় কাঁচা তাই হয়তো পরিচালকরা তাকে নায়িকা হিসেবে নিচ্ছে না, কিন্তু এই সিনেমাতে বিপাশা তার জাত চিনিয়েছেন। পুলিশ অফিসারের টিপিক্যাল স্ত্রী’র চরিত্রে সাফল্যের সাথে নিজের যোগ্যতা প্রমান করেছেন। অভিনয়ের জাগয়াটাতে মাহির চেয়ে বিপাশাকেই আমার বেশি ভাল লেগেছে…

154615_542622779100739_1490266696_n
সিনেমার আরেকটা গুরুত্বপূর্ন চরিত্রে (পরীর মা) অভিনয় করেছেন “মুনিরা মিঠু”। মুনিরা মিঠুকে চেনেন তো!! ওই যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর “স্পার্টাকাস ৭১” বা “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি” টেলিছবিতে অভিনয় করে যিনি এখনো সবার মনে দাগ কেটে আছেন। ছোটপর্দায় হুমায়ুন আহমেদ ছাড়াও অন্যান্য নাটক সিনেমায় মুনিরা মিঠুর অভিনয় দেখে ভাবতাম বড়পর্দায় নিয়মিত হলে ভদ্রমহিলা অনেক ভাল করবেন, এবং এই সিনেমায় তিনি সেটাই প্রমান করলেন। আগেও বলেছি; ইদানিং বাংলা সিনেমায় নায়ক নায়িকা ছাড়া অন্যান্য চরিত্রগুলো অনেক প্রাধান্য পাচ্ছে, শুধু যে প্রাধান্য পাচ্ছে তা না তাদের জন্য ওই সিনেমাগুলোও অন্য মাত্রায় পৌছে যাচ্ছে। সেই ঘেটুপুত্র কমলায় “তারিক আনাম খান”, কমন জেন্ডারে “দিলিপ বিশ্বাস”, ভালবাসার রঙ’এ “অমিত হাসান”, চোরাবালিতে “শহিদুজ্জামান সেলিম”, পিতা তে “মাসুদ আখন্দ” টেলিভিশনে “সাহির হুদা রুমি” দেহরক্ষীতে “মিলন” আর এই সিনেমায় “বিপাশা, মিলন আর মুনিরা মিঠু রা”…

970117_461606853927076_1578948942_n

এই পোস্টারের মত সিনেমাতেও একটা গানে দেখা যাচ্ছিল নায়ক সাইমনের কপাল কেটে রক্ত পরছে। এখন জাতীর বিবেকের কাছে ১ম প্রশ্ন হলো নায়িকার এত বড় উড়না থাকতে নায়কের কপাল বেয়ে রক্ত পরে কেমনে!! বাংলা সিনেমা কি তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে!! :p

সমালোচনা___

একেবারে বানিজ্যিক সিনেমা নিয়ে সমালোচনা করতে গেলে অনেক কথা বলতে হয়; “এটা কেন করলো না, ওটা কেন বেশি হলো, আর এই জিনিসটা তো একেবারেই অর্থহীন” এই ধরনের অনেক নেগেটিভ দিকগুলোতে না যাওয়াই ভাল। তবে যে বিষয়গুলো না বললেই না সেগুলো হচ্ছে; প্রবীন পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর কাছে সিনেমা নিয়ে অনেক বেশি আশা করা যায় কিন্তু এই সিনেমায় মেকিং ভাল হয় নাই, এখনো কিছু কিছু ব্যাপারে সেই আদিকালেই পরে আছেন। সিনেমায় কিছু গ্রাফিক্সের কাজ অনেক বাজে হয়েছে, তবে নতুন কিছু করার চেষ্টা ছিল এটা ভাল দিক। সিনেমায় ঈদের দিন পরীর বিয়ের ব্যাপারগুলো কেমন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল। আর পর্দায় তখন বিন্দুমাত্র ঈদের আমেজ দেখা যায়নি। সিনেমার শুরুর দিকে স্কুলের শিক্ষকের সাথে ছোটবেলার সুজন যে ধরনের খারাপ ব্যবহার আর মারাত্নক বেয়াদবি করেছে সেটা পর্দায় হাস্যরসের ছলে একদমই দেখনো উচিত হয় নাই। এটাকে সিনেমার সব চেয়ে খারাপ দিক মনে হয়েছে। শিক্ষক যেমনি হোক তার সাথে এই ধরনের বাজে ব্যবহারের প্রেজেন্টেশন বাংলা সিনেমায় কোনভাবেই কাম্য না। তবে ছোট সুজন চরিত্রে বাচ্চা ছেলেটা অনেক ভাল অভিনয় করেছে। আরেকটা যে ব্যাপার চোখে পরেছে সেটা হচ্ছে চারটা মূল চরিত্র ছাড়া অন্যান্য চরিত্রগুলো সিনেমাটা থেকে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া। সুজনের মা-বাবা, বন্ধু, বন্ধুর প্রেমিকা, পরীর মা, বিপাশার তিন ভাই মিশা ডন শিবা এরা এক এক করে সিনেমা থেকে হঠাৎ করে কোথায় হারিয়ে গেল বুঝলাম না! আর সিনেমায় যে আঞ্চলিক ভাষাটা ব্যবহার করা হয়েছে এটা নিয়ে আমি দ্বিধান্বিত। এটা কি আসলেই পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাষা!! আমার কাছে মনে হচ্ছিল এই ভাষায় নরসিংদী, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ এলাকার মানুষজন কথা বলে…

 

382536_169178333263525_212667035_n

অনেক সমালোচনা করলাম এবার কিছু ভাল দিক বলি; জাকির হোসেন রাজুর সিনেমা মানেই ভালমানের কিছু গান। এই সিনেমার সবগুলো গানের কথা সুর গায়কী আর চিত্রায়ন অনেক ভাল লেগেছে। বিশেষ করে ন্যান্সির একটা গান ভাল লেগেছে, তাছাড়া পুলকের “বিধাতা জানে”, মনিরের “পরীর মুখে খুশির হাসি” আর খেয়ার গাওয়া “পোড়ামন” গানটা অনেক ভাল লাগার। আর এই সিনেমার ভাল দিকের কথা বললে এটার “গল্প” টা থাকবে সবার উপরে, পাশপাশি পুরো সিনেমাতেই এমন অনেক সংলাপ দিয়েছে যা থেকে সিনেমার সবচেয়ে বড় বিনোদন টা এসেছে। অনেক সংলাপের মধ্যে এখন একটা মনে পরছে_ পরীকে যখন বিয়ে দেয়ার জন্য তার মা ঘরে আটকে রাখে তখন সুজন বাইরে থেকে বলে; “ওই বুড়ি, বইলাম তোর দরজার সামনে। দেখি কোন মায়ের পুত আমার পরীরে বিয়া করতে আহে।” সংলাপটা অনেক সাদামাটা কিন্তু এটার উপস্থাপন আর সাইমনের এক্সপ্রেশনের জন্য পুরো পরিবেশটাই বদলে যায়। সিনেমার প্রায় সব সংলাপ আর তার উপস্থাপনই এই ধরনের ছিল (বিনোদনের আখড়া)। আরেকটা ভাল দিক ছিল সাইমনের শারিরীক পরিশ্রম করার ক্ষমতা, ছেলেটা ভাল অভিনয়ের পাশাপাশি অনেক কায়িক শ্রমও দিয়েছে। সিনেমার শেষ দিকে এসে মনে হলো; যাক সিনেমাটা দেখে পয়সা উসুল হলো, পরিপূর্ন বিনোদন সাথে মনে দাগ কাটে যাওয়া কিছু অংশ। কিন্তু শেষ দেড় মিনিটে ঘ্যাচাং করে যা দেখলাম তা ছিল বাড়তি পাওনা, এটা একদমই আশা করি নাই। এই দেড় মিনিটের জন্য সিনেমাটা আরো ভাল লেগেছে। অনেক ক্লান্ত তারপরও সিনেমাটা নিয়ে গরম গরম লেখার ইচ্ছা দমাতে না পেরে অতিমাত্রায় হালকাভাবে রিভিউটা লিখলাম, লিখতে গিয়ে অনেক প্যাচাঁল করে ফেলেছি। তবে সিনেমাটা সত্যি অনেক ভাল লাগার। এমন গল্পের রোমান্টিক বাংলা সিনেমা অনেকদিন দেখি না, শেষ ভাল লেগেছিল “মনপুরা” আর আজকে এটা। মনপুরার মত এই সিনেমাও মনে দাগ কাটার মত যদিও এটা পুরোপুরি কমার্শিয়াল মশালা সিনেমা। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে পোড়ামন আর মনপুরা ২টা দুই জেনারের সিনেমা হলেও এদের মধ্যে অনেক মিল আছে। নামের মধ্যেও মিল অনেক “মনপুরা”র অক্ষর গুলোকে একটু চেঞ্জ করলেই “পোড়ামন” হয়ে যায়(হাস্যকর অবজার্ভেশন :p )…

gfd

(ছবিগুলো ইন্টারনেট ঘেঁটে নেয়া)

বিঃদ্রঃ (সংযোজন)__
হুদাই উরাধুরা একশ্যান দৃশ্য থাকে বলে তামিল/তেলেগু মুভি একদমই দেখা হয় না, তাই কপির ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পারি নাই। আজকে জানলাম পোড়ামনের গল্পটা নাকি সেসব কোন সিনেমা থেকে নেয়া হয়েছে, জেনে খুবই হতাশ হলাম। বাংলা সিনেমার উন্নতি করতে হলে রিমেক নয়, বরং নিজস্ব স্বকীয় গল্প দরকার সবার আগে… 🙁

 

& মাঝখানে ব্লগে সমস্যা হওয়ায় এই পোস্ট থেকে সবার সবগুলো মন্তব্য আটো ডিলিট হয়ে গেছে। 🙁

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মেগামাইন্ড says:

    তেমন ভাল লাগেনি

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন