শুভ জন্মদিন, ভালবাসা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

“আপনার প্রিয় অভিনেতা কে?” এই প্রশ্নের জবাবে আপনাদের কী প্রতিক্রিয়া হয় জানি না। কিন্তু আমার নিজের ক্ষেত্রে পুরোপুরি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি আমি। কারণ, কার নাম রেখে কার নাম বলবো? আমার পছন্দের অভিনেতা তো একজন, দুইজন অথবা তিনজন নয়। বেশ অনেকজনই আছেন এই তালিকাতে। আর তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়াটা পাপ নয় ঘোরতর পাপ। আর জেনেশুনে সেই পাপ আমি করতে পারবো না, কক্ষনোই না। তাই সাধারণত এই প্রশ্নের উত্তরে আমি একনাগাড়ে সব প্রিয় অভিনেতার নাম একে একে বলে যেতে থাকি। আর সেই তালিকাতে আছেন, এমন একজন প্রিয় অভিনেতার জন্মদিন আজ। এই মানুষটিকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তবুও এই লিখাটি লিখছি শুধুই শোবিজের একজন ভালবাসার মানুষকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু প্রদর্শনের লক্ষ্যে। আশা করি, যারা কষ্ট করে লিখাটি পড়বেন, তাদের ভালো লাগবে।

তাঁর সাথে আমার পরিচয়ের গল্প দিয়ে যদি শুরু করতে হয়, তাহলে আগে একটা কথা স্বীকার করে নিবো আমি। তাঁর প্রতি ভালোলাগাটা মূলত শুরু হয়েছিল তার বাহ্যিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে। তার থেকেও মজার কথা হলো, আমি কিন্তু তাকে মুভি দেখে প্রথম চিনিনি। ২০০৪-২০০৫ সালের দিকে যখন তাঁর ও জোলির প্রেম কাহিনী নিয়ে হলিউডে ঝড় উঠছিল, তখন আমাদের দেশের পত্রিকা গুলোতেও সেই ঝড়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। আমাদের বাসায় প্রথম আলো পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকে পত্রিকাটি প্রতিদিন রাখা হয়। সেই সময়ও হতো। প্রথম আলো পত্রিকায় বিনোদন জগতের খবর নিয়ে “বিনোদন” নামে যেই বিশেষ পাতাটি থাকে, সেই পাতায় প্রথম দেখি তাকে। আর দেখেই ভালো লেগে যায়। যাইহোক, তারপর থেকে পিট- জোলি জুটির নিত্যদিনের টুকিটাকি খবরগুলো প্রায়ই খবরের কাগজে পড়তাম আর ধীরেধীরে পিটের উপর আগ্রহ বাড়তে থাকে। এরপর মানুষটিকে টিভি পর্দায় দেখি, ২০০৯-২০১০ এর দিকে প্রথমবারের মতো। মুভিটার নাম হলো, “ট্রয়”। মুভিটা এমনিতেই অসাধারণ, তাএ উপর সেই পরিচিত মানুষ। পুরো মুভি শুধু হা করে গিলেছিলাম আমি। তবে তখনো জানা হয়ে উঠেনি, তিনি আসলে কত বড় মাপের অভিনেতা। সেই ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল, গত ৮ বছরে তাঁর অভিনীত ৯০% মুভিই আমার দেখা। যেগুলা বাকি আছে কেন জানি, পরম যত্নে আগলে রাখছি। যদি দেখে ফেলি, শেষ হয়ে যাবে যে! আমার দেখা তাঁর অভিনীত মুভিগুলো হলো, Troy, Seven, 12 Monkeys, Fight Club, Ocean Trilogy, Kalifornia, The Curious Case of Benjamin Button, Inglourious Bastards, Sleepers, Seven years in Tibet, Snatch, Meet Joe Black, A river runs through it, Legend of the fall, World War Z, Fury, Allied, Mr. & Mrs. Smith, Spy Game, Interview with the vampire, Moneyball, 12 years of a slave, True Romance। আর কোনটা বাদ গেলেও এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। যাইহোক, এই মুভিগুলার মধ্যে আমার সবথেকে প্রিয় মুভির নাম বলাটাও দুষ্কর। কারণ তার প্রতিটি মুভিতে তার অভিনীত প্রতিটি চরিত্র আলাদা আলাদাভাবে দাগ কেটেছে আমার মনে। তবে তবুও যদি প্রিয় একটা বলতেই হয়, আমি বলবো, The Curious Case of Benjamin Button। আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম পিটের অভিনয়শৈলী দেখে। এতোটা নিখুঁত! এতোটা জীবন্ত! এতোটা বাস্তব! আগে যতটা ভালবাসতাম, এই এক মুভি দেখে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভালবাসা শুরু করি।

কিন্তু এই অভিনেতা হলিউডে কী করে পা রেখেছিলেন? তাঁর হলিউড আসার পেছনের গল্প কী? এসব প্রশ্ন নিশ্চয়ই আপনার মনে ঘুরপাক খেতে পারে। তাহলে, সেই গল্প থেকে একটু ঘুরে আসি। সময়টা ছিল ১৯৬৩ সাল। সেই বছরের ১৮ই ডিসেম্বর ট্রাকিং কোম্পানির মালিক উইলিয়াম আলভিন পিট ও স্কুল কাউন্সিলর জেইন ইটার ঘর আলোকিত করে জন্ম নিয়েছিল স্বর্ণকেশী ও নীল চোখের মায়াবী চেহারার এক শিশুপুত্র। তাঁর জন্মের কিছুদিন পর তাঁর পরিবার মিসৌরির স্প্রিংফিল্ডে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। ছোট দুই ভাইবোন ডগলাস ও জুলিকে নিয়ে ব্র্যাডের বাল্যকাল কেটেছে স্প্রিংফিল্ডের মতন পাহাড় ও খালবিলের প্রাচুর্যে ভরা স্থানে। রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান বলে ছোটকালটা তাঁর দক্ষিণীয় ব্যাপ্টিস্ট হিসেবে কেটেছে। কিকাপো হাই স্কুল নামক স্কুলে পড়াকালীন সময়ে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি গলফ, সুইমিং ও টেনিস খেলাতেও অংশগ্রহণ করতেন। এছাড়া স্কুলের ফরেনসিক ক্লাব, ডিবেট ক্লাব ও মিউজিকাল ক্লাবের সদস্যও তিনি ছিলেন। সেই স্কুল থেকে পাশ করে ১৯৮২ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরিতে সাংবাদিকতার উপর পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছিল, পিটের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমতে শুরু করেছিল ও ফিল্মের প্রতি টান বাড়তে শুরু করেছিল। তাঁর কাছে ফিল্ম ছিল, “এমন একটা প্রবেশদ্বার যা দিয়ে নানা জগতে পা রাখা যায়”। যেহেতু মিসৌরিতে বসে বসে ফিল্মের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো সম্ভব ছিল না, তাই স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার ঠিক দুই সপ্তাহ আগে মিসৌরি ছেড়ে তিনি লস এঞ্জেলসের যাত্রা শুরু করেন। সেই তো শুরু, তারপর কী আর থেমে থাকা আছে?

পিটের হলিউড যাত্রারম্ভ কিন্তু মোটেও সুখকর ছিল না। আজকে তিনি যে অবস্থানে তিনি নিজেকে নিয়ে এসেছেন তার পেছনে যেমন তাঁর অভিনয় দক্ষতা ও মেধার কৃতিত্ব যতটুকু রয়েছে, তারচেয়ে কয়েক গুণ বেশি তাঁর ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের রয়েছে। ১৯৮৭ সালে পিটের অভিনয় জীবনের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে নানা মুভিতে তাকে ছোটখাটো চরিত্রে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর প্রথম কাজ তাই ধরতে গেলে এনবিসির সোপ অপেরা এনাদার ওয়ার্ল্ডের দুইটা এপিসোডে তাঁর অংশগ্রহণ। এরপর নানা টিভি সিরিজে পিট অতিথি চরিত্রে আগমন ঘটাতে শুরু করেন। তাঁর মূল নায়ক চরিত্রে অভিনীত প্রথম মুভি হলো, “The Dark Side of the Sun”। কিন্তু দুঃখের কথা হলো, মুভিটির কাজ ১৯৮৮ সালে ধরা হলেও, মুভিটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। তাই সেই মুভিও পিটের জীবনে আলোর সন্ধান দিতে পারেনি। এভাবে নানা মুভিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতে করতে পিট সবার দৃষ্টি কাড়েন ১৯৯১ সালে থেলমা ও লুইস মুভিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে। এরপর ১৯৯২ সালের “A river runs through it”, ১৯৯৩ সালের “Kalifornia”, ১৯৯৪ সালের “Interview with the vampire” এই তিনটি মুভিতে অভিনয়ের মাধ্যমে মোটামুটি হলিউডে পাকাপোক্ত স্থান গড়ে নেন। এরপরের গল্পটা আমরা সবাই জানি। তারপর একে একে গত ২৩-২৪ বছরে পিট নিজের ঝুলিতে সর্বকালের সেরা বেশ কয়েকটি মুভিই বাগিয়ে নিয়েছেন। একদম শূন্য থেকে উঠে এসে বিশাল সাম্রাজ্যের মালিক আমাদের পিট সাহেব। আশা করি, ভবিষতেও উনার কাছ থেকে আরও দারুণ দারুণ চমক পেয়ে আসবো।

এবার চলুন, মানুষটার এতো এতো খ্যাতির ফলে প্রাপ্ত অর্জনগুলোর দিকে একটু চোখ বুলিয়ে আসি। অভিনেতা হিসেবে তিনবার ও প্রযোজক হিসেবে তিনবার অস্কারে মনোনয়ন প্রাপ্তি লাভ করে, 12 years a slave মুভির জন্য অস্কার জিতে নেন তিনি। এছাড়া ৯ টি গোল্ডেন গ্লোবে মনোনয়ন পেয়ে দুটি জয় করার কৃতিত্ব আছে তাঁর। এই তো গেলো, বড় দুইটি এওয়ার্ড শোয়ের কথা। পিট তাঁর অভিনয়জীবনে সর্বমোট ১৪৭ বার নানা এওয়ার্ড শোতে নানা ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন লাভ করেছেন। তার মধ্যে জিতে নিয়েছেন ৬১ টি পুরস্কার। এই তো গেলো, শুধুমাত্র পুরস্কারের কথা। আর দর্শকপ্রিয়তা ও বিশ্বব্যাপী খ্যাতির কথা? সেটা কি লিখে বলা সম্ভব? সেটা তো পিট নিজের হৃদয়ে ধারণ করে আছেন।

এবার প্রিয় অভিনেতা সম্পর্কে কিছু ছোট ছোট তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করি। পিটের আসল নাম হচ্ছে, উইলিয়াম ব্র্যাডলি পিট। আর ডাকনাম পিট বুল ও বুরাতো পিটো। তাঁর উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি ও ওজন ৭৮ কেজি। তাঁর রাশি হচ্ছে আমার নিজের রাশি মানে ধনু। পিটের পছন্দের খাবার টোস্টার স্ট্রুডেল, ফ্রোস্টেড ফ্ল্যাক্স ও পিজ্জা। তাঁর পছন্দের রঙ নীল ও কালো। তাঁর শখ হচ্ছে, গান শোনা, ধাতু দিয়ে নির্মিত চিত্রকর্ম সংগ্রহ করা ও বাড়িঘরের নকশা নির্মাণ। তাঁর পছন্দের মুভি One flew over the Cuckoo’s Nest ও Planet of the Apes। ব্যক্তিগত জীবনে নানা সময়ে অনেকের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ালে বিয়ে করেছিলেন দুজনকে। একজন জেনিফার এনিস্টন ও অন্যজন এঞ্জেলিনা জোলি। দত্তক সন্তান ও নিজের সন্তান মিলিয়ে তিনি ৬ জন সন্তানের গর্বিত পিতা। ধর্মবিশ্বাসের কথা বলতে হলে বলতেই হয়, পিট একজন অনীশ্বরবাদী। পিট আগে ধূমপান করলেও এখন আর করেন না। তবে মদ্যপান করেন। তার বর্তমান ঠিকানা ব্র্যাভেরি হিল। আমাদের এই তারকার নিজস্ব ৬ টি বিলাসবহুল গাড়ি ও ৭ টি নামীদামী বাইকের মালিকানা রয়েছে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২৪০ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

পিটকে নিয়ে অনেক বকবক করলাম। এবার নিজের একটা মজার কথা বলি। আমি গত চার বছর ধরে মানে ২০১৪ থেকে প্রতিবছর পিটের মুভি দেখে বছরের শুরুটা করে থাকি। আসলে প্রথমবার এমনিতেই দেখেছিলাম, দ্বিতীয় বার কাকতালীয় ভাবে মিলে যাওয়াতে পরের দুইবার ইচ্ছাকৃতভাবে দেখেছিলাম। তাই ইচ্ছা আছে , ২০১৮ এর শুরুটাও পিটের মুভি দিয়ে করার। এটাই নিতান্ত পাগলামো হলেও, আমি পাগলামো করতেই ভালবাসি। ঠিক যেমনটা ভালবাসি, আমার দেখা অন্যতম সুদর্শন পুরুষ ব্র্যাড পিটকে।

তাঁর উদ্দেশ্য কোন কথা বলবো না। শুধু এই গানের দুইটি পঙক্তি তাঁর জন্য বলতে চাই-

” In his eyes I see a gentle glow.
And that’s where I’ll be safe I know.”

শুভ জন্মদিন, ভালবাসা। <3

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন