Stronger: চলুন, ঘন্টাদুয়েক একটা অনুপ্রেরণার গল্প থেকে ঘুরে আসি

২০১৭ সালে তো আর কম মুভি দেখিনি। তবে আজ এমন একটা মুভি দেখলাম, আসলেই আত্মাকে ছুঁয়ে গেলো। আপনি ভাবতে পারেন, আমি বাড়িয়ে বলছি। তবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হয়তো, বুঝতে পারতেন, আমি মোটেও বাড়িয়ে বলছি না। আমি রিভিউ লিখছি নাকি শুধু মাত্র নিজের মনে উঁকিঝুঁকি দেওয়া নানা চিন্তাভাবনাকে শব্দের পর শব্দ বসিয়ে বাক্য সাজিয়ে লিখে যাচ্ছি, তাও জানি না। মুভিটা দেখার পর থেকে, গত এক ঘন্টা ধরে আমি বাকরুদ্ধ। নাহ, সবকিছু সিনেমাতেই হয়, তা মোটেও ঠিক নয়। অনেক সময়, বাস্তব গল্প থেকে নির্মিত সিনেমা আপনাকে যেই বার্তাটা দিয়ে যায়, তা আসলেই অনেক গুরুত্ব বহন করে থাকে। তাহলে আর দেরী কেন? চলুন, মুভিটা নিয়ে আর একটু বিস্তারিত কথাবার্তা হয়ে যাক।

—————–★ Stronger ★——————
Release Date: 29 September, 2017
Genre: Drama, Biography
Language: English
Running Time: 119 minutes
Imdb Rating: 7.2/10
Rotten Tomatoes: 94%

“Stronger” নামটা শুনলেই কিন্তু বোঝা যায় এটা একটি অনুপ্রেরণামূলক মুভি। তবে এটা কোন সাধারণ মানুষের অসাধারণ হয়ে উঠার গল্প নয় আগেই বলে দিচ্ছি। বরং, এটি হচ্ছে, একজন সাধারণ ও স্বাভাবিক মানুষের, প্রতিকূলতা কাটিয়ে নিজের অস্বাভাবিকতাকে আলিঙ্গন করে একজন স্বাভাবিক মানুষের মতন টিকে থাকার গল্প। যেহেতু জনরাতে বলেই দিয়েছি, বায়োগ্রাফি মুভি, তাই তো বুঝেই গিয়েছেন, বাস্তব জীবনে ঘটা কোন ব্যক্তির জীবন নিয়ে মুভিটি নির্মিত হয়েছে। আর সেই ব্যক্তিটি হলেন, Jeff Bauman। এই মানুষটা ২০১৩ সালে বোস্টন ম্যারাথন বোমাবাজির কবলে পড়ে নিজের দুটি পা হারিয়েছেন। আর সেই ঘটনার পর তার জীবনের কয়েকটি মাসের গল্প নিয়েই এই মুভিটির চিত্রনাট্য লিখা হয়েছে। জেফ ছিলেন একজন অতি সাধারণ, প্রাণবন্ত ও বলিষ্ঠ যুবক। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তার জীবনকে পুরোপুরিভাবে পাল্টে দেয়। আর তারপর? তারপর যেন নানাদিক থেকে নানা রকমের চাপ এসে পড়ে জেফের উপর। একদিকে, নিজের ভেতরে চেপে থাকা দুটি পা হারিয়ে অচল হয়ে যাবার বেদনা, অন্যদিকে পরিবারের সবার আশা ধরে রাখতে নিজের বাকিদের সামনে দুর্বল হতে না দেওয়া। আর এ সবকিছুকে ছাপিয়ে জেফের জন্য সবথেকে কষ্টদায়ক হয়ে পড়ে, নিজের এই দুর্দিনে হঠাৎ করে তারকা হয়ে উঠার বিপত্তি। আপনি নিশ্চয়ই, নিজের এমন পরিস্থিতিতে, মানসিক চাপে ভারাক্রান্ত অবস্থায় মানুষজনের সাথে দাঁত কেলিয়ে হাসি দিয়ে সেলফি তুলতে আগ্রহী হবেন না? যাইহোক, এভাবে করে, নানা ছোট ছোট প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক ঝড়ঝাপটা, নিজের শরীরের সাথে মনের লড়াই কাটিয়ে জেফ কীভাবে আরও একবার সোজা হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল, সেই গল্প এই মুভিতে চিত্রায়িত হয়েছে। বাকিটা আপনাদের জন্য তোলা থাক।

এবার নিজের কয়েকটা কথা বলি। আমার জীবনে আমি নিজে বিছানায় ছিলাম অনেকদিন। তাই অচল অবস্থায় কী জিনিস, আমি খুব ভালো করে উপলব্ধি করতে পারি। একটা মানুষ কতোটা অসহায় ও নিরুপায় হলে, তাকে বাথরুমে যেতেও আরেকজনকে ডাকতে হয়, সেটাও নিজ অভিজ্ঞতা থেকে জানি। একজন মানুষ যখন হঠাৎ করে বড়সড় অসুখের অথবা দুর্ঘটনার শিকার হয়, তখন যেই ঘটনাগুলো ঘটে থাকে সাধারণত, সেগুলো মোটামুটি কমন। প্রথমত, যার সাথে এমন কিছু ঘটে সেই বান্দা নিজে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয়ত, সে পরিবার ও আপনজনের কথা ভেবে নিজেকে হাসিখুশি ও শক্ত রাখার ভান করে। তৃতীয়ত, পরিবারের মানুষেরা তাকে আলাদা যত্ন ও সময় দিতে গিয়ে, নিজদের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক ত্যাগস্বীকার করে। চতুর্থ, ভিক্টিম নিজেকে বোঝা মনে থাকে ও অনুশোচনায় ভোগে। পঞ্চম, পরিবারের সবাই যতই সবকিছু ঠিক আছে ভান করুন না কেন, বাড়িতে একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস সবসময় বিরাজ করে। এই মুভিতে ও আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে এই বিষয়গুলো খাপে খাপে মিলে গিয়েছে। তাই মুভিটা দেখে মাত্রাধিক ইমোশনাল হয়ে পড়ছিলাম বারেবারে।

মুভির অভিনেতা জ্যাক জিলানহোক সবসময়ই আমার প্রিয় অভিনেতাদের একজন। আর এই মুভি দেখার পর, তার জন্য ভালবাসা আরও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। শুধু বলতে চাই, “জ্যাক, তুমি অসাধারণ!” মুভির সবথেকে প্রিয় দিক, জেফ ও ইরিনের ভালবাসার গল্প। এতো সুন্দর ও খাঁটি প্রেম এই যুগে পাওয়া আসলেই দুর্লভ ব্যাপার। বাস্তব জীবনে, তাদের মঙ্গল কামনা করি। পুরো মুভিটা আমাকে এতো বেশি গভীরভাবে স্পর্শ করেছে যে, মুভি দেখতে বসেছি ভুলে গিয়েছিলাম। যাইহোক, এসব আমার শুধুই আমার একান্ত অভিব্যক্তি। মুভিটা দেখবেন কী দেখবেন না, আপনাদের সিদ্ধান্তই থাক। তবে হ্যাঁ নিজের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্টিতে ভুগছেন? নিজেকে দুর্ভাগা মনে হয়? প্রতিকূলতার সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন? তাহলে, এই মুভি আপনার শতভাগ দেখা দরকার।

ধন্যবাদ। 😊

(Visited 855 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. অনেক,,,, হয়েছে,,,,,,আর নয়

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন