Mother!: এক আশ্চর্যবোধক চিহ্নধারী চরিত্রের মায়ের গল্প
Share on Facebook254Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

কাল রাতে মুভিটা দেখার পর থেকে মাথা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও ঝাড়তে পারছি না। অনেকেরই মুভি নিয়ে মতামত দিয়ে গত দুই-তিনদিনে শুনেছি। আমি শুধু তাদের মতামত শুনতাম আর মনে মনে ভাবতাম, “কী এমন আছে এই মুভিতে?!” আসলে কি, আপনি যতক্ষণ কোন মুভি অথবা সিরিজ নিজের দেখে পরখ না করে নিবেন, ততক্ষণ যে যত যাই বলুক, আপনার তার কথায় বিশ্বাস করতে মন চায় না। আসলে করাও উচিত নয়। কারণ প্রতিটা মানুষের রুচি, পছন্দ, চিন্তাধারা এক নয়। তাই সবথেকে ভালো উপায়, আগে নিজে মুভি/ সিরিজটা চেখে দেখা, তারপর সেটা নিয়ে নিজের মনকে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত করা। সেই হিসাবে, এখন আপনি ভাবতে পারেন, আমার রিভিউই তাহলে কেন পড়বেন? তাহলে বলছি, শুনুন, মোটেও পড়বেন না। বরং আগে মুভি দেখুন, তারপর কমেন্টে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করুন।এতেই আমার রিভিউ লিখা সার্থক হবে।

আচ্ছা, চলুন এই বছরের আমার দেখা সেরা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার- হরর জনরার মুভি “মাদার!” মুভির একঝলক সারাহ্ ইকবালের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে আসা যাক।

——————-★ Mother! ★——————-

Release Date: 05 September, 2017
Genre: Drama, Mystery, Horror
Language: English
Running Time: 121 minutes
Imdb Rating:7/10
Rotten Tomatoes:68%

“মাদার” শব্দটার বাংলা অর্থ নিশ্চয়ই নতুন করে বলার কোন প্রয়োজন দেখছি না। এই মাদার বা মা শব্দটা আমাদের কানে আসলেই অথবা লিখা দেখলেই প্রথমে নিজের মায়ের মুখচ্ছবি ভেসে উঠবে দুচোখের সামনে। আমাদের কাছে মা মানে “মা”ই। মা মানে, নিষ্ঠুর জগতে একমাত্র নিরাপদ স্থল। কিন্তু কখনো কী ভেবেছেন, এই মা থেকে যদি তার সবথেকে প্রিয় দুটো জিনিস, তার সংসার ও তার গর্ভে ধারণ করা সন্তানকে কেড়ে নিতে চায় তখন? কেউ যদি তার নিজের হাতে তিলতিল করে গড়া ঐশ্বর্য মাখা সংসারকে লণ্ডভণ্ড করে দেয় অথবা তার নিজের অস্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা সন্তানের অস্তিত্ব মিলিয়ে দিতে চায়? তখন, সেই মা কতটা বিনাশকারিনী হয়ে উঠতে পারেন? না ভেবে থাকলে, মুভিটা দেখে নিতে পারেন।

মুভির প্লট নিয়ে আর কী বলবো। প্রথম কথা যেটা মুভি দেখার সময় একজন দর্শককে মনে রাখতে হবে, সেটা হলো, “ডোন্ট মিস আ সেকেন্ড!” একদম শুরু থেকে শেষ দৃশটা গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন। খুব ভালো হয়, একা অন্ধকারে রাতের বেলা নিরিবিলি পরিবেশে সবকিছু ফেলে মুভিটা উপভোগ করলে। প্রথম থেকে আপনার মনে এক অন্যরকম রহস্য রহস্য গন্ধ নাকে আসলেও, আপনি কিছুই তেমন আন্দাজ করতে পারবেন না। মুভির গল্পের প্রথমে দেখানো হবে, একজন সুন্দরী তরুণী বয়সী নারী ও তার থেকে প্রায় এক প্রজন্মের বড় স্বামী শহর থেকে দূরে কোলাহল মুক্ত একটি বাড়িতে বসবাস করেন। লোকটি পেশায় একজন কবি ও স্ত্রী বাড়ি নির্মাণ থেকে শুরু করে গোছগাছ করতেই ব্যস্ত। গল্পে আপনি যতই আগাবেন বুঝতে পারবেন, এই দম্পতী একে অপরকেও প্রচন্ড ভালবাসলেও, কিছু একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও মানসিক দূরত্ব তাদের মধ্যে বিদ্যমান। যাইহোক, তারপর এক রাতে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয় একজন বয়স্ক ডাক্তার। সেই ডাক্তারের বাড়িতে প্রবেশ করার পর থেকে একে একে সব বদলে যেতে লাগলো। তার পরের প্রতিটি মুহূর্ত দর্শকদের সামনে সেই তরুণীর এই আচানক পরিবর্তনে কেমন হিমশিম খায় ও পরিস্থিতিতে তার জীবনকে কোথা থেকে কোথাও নিয়ে যায়, সেটা অসাধারণ কিছু ছোট ছোট কাহিনীর মধ্যদিয়ে গভীর কিছুর তাৎপর্য রূপে তুলে ধরা হয়েছে। আপনি যত মুভির ভেতরে যাবেন, তত আপনাকে গভীর চিন্তাশক্তি দিয়ে মুভিতে মনোযোগ করতে হবে। সেই তরুণী যে নাকি মুভিতে একসময় “মা” তে রূপান্তরিত হবে, তা চালচলন, সংলাপ, মুখভঙ্গি, আচরণ, মোটকথা আপনাকে তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মুভির কাহিনীকে বিশ্লেষণ করতে হবে। আপনি যখন তার মানসিক অবস্থার সাথে নিজেকে মিশিয়ে নিতে পারবেন, তখন মুভির গল্প আপনার কাছে পানির মতো স্বচ্ছ। মুভির কথা এখানেই থাক।

এবার মুভি নিয়ে আমার মতামত বলি। আমি বাইবেল তো পড়িনি। তাই বাইবেলের গল্প কোনটার সাথে কী কী মিল জানি না। তবে যতটুকু বুঝেছি ও জানি, এখানে মূলত মা ভূমিকায় থাকা সেই তরুণীকে ধরণীমাতার সাথে তুলনা করা হয়েছে ও তার স্বামীকে তার স্রষ্টা, তার প্রতিপালক হিসেবে। ঈশ্বর যেমন ধরণীর পাশাপাশি আরও অনেককিছু যেমন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এই গল্পে তার স্বামীও তেমন। তাই তার স্ত্রী যেমন তার অনুপ্রেরণা হিসেবে থেকেছে, ঠিক তার নিজের স্বার্থে তার বলি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। আর মুভির মাও অনেক সংগ্রাম করেছে টিকে থাকার, নিজের স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য ও ভালবাসা প্রকাশ করতে। কিন্তু তবুও মাঝেমধ্যে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু শেষমেশ তো, স্রষ্টার জয়ই নিশ্চিত। স্রষ্টার তো প্রিয়ভাজন বস্তুর অভাব নেই, তিনি হয়তো একটির ভালবাসা দিয়ে অন্য একটি গড়ে নিবেন। যাইহোক, এই কথাগুলো একান্ত নিজের অভিব্যক্তি।

মুভির প্রিয় একটি দৃশ্যের সংলাপ।

– Just let me go
– I need one last thing.
– I have nothing left to give.
-Your love. It’s still in there, isn’t it?
– Go ahead. Take it.

মুভিটা অস্থির লেগেছে। আরও একবার লরেন্সের প্রেমে পড়লাম। আশা করি, সবার ভালো লাগবে। ও হ্যাঁ, খুব শীঘ্রই সিরিয়াল কিলারের পক্ষ থেকে মুভিটার বাংলা সাব নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে। এমন মুভির বাংলা সাব না হলে চলে?

এই পোস্টটিতে ৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Starting slow chilo tai boring legeche Kintu jokhon concept bujlam valo laglo ….Amr kache mone hoise mother diye world ke bujano hoise ,fame ,power ,popularity paoyer jonne manush hanahani kore world ke shesh kore dicche

  2. Arif Billah says:

    ছবির পরিচালক ‘ড‍্যারেন অ‍্যারোনফস্কি’র আরো দুইটা ছবিও আমার দেখা আছে। ‘দ‍্য ফাউন্টেন’ ও ‘ব্ল‍্যাক সোয়ান’। এই দুইটা ছবি ও ‘মাদার’ দেখার পর যেটা বুঝলাম। পরিচালক একটা সাইকো!! 😃😃😃
    আর নয়তো এতো অতি-আধ্যাত্মিক ছবি কিভাবে বানায় সে। তার মুভি দেখতে বসলে চিন্তার খেই হারিয়ে যায়। তবে তার মুভিগুলোর গভীর তাৎপর্য রয়েছে বলে আমি মনে করি।
    অনেস্টলি বললে, মাদার দেখে আমি মোটেই কিছু ঠাওর করতে পারিনি। কয়েকটা রিভিউ পরেও মনঃপুত হচ্ছেনা। গল্পের যথার্থ একটা ব‍্যাখ‍্যা পাচ্ছিনা।
    রিভিউয়ারের উদ্দেশ্যে, আপনার শেষের ব‍্যাখ‍্যাটা গোছালো। তবে একটা বিষয়ে একটু খটকা লাগছে। ‘মাদার’কে যদি ধরনিমাতা ধরি তবে ‘কবি’ সেখানে স্রষ্টা। স্রষ্টা তার প্রত‍্যক্ষে এমন অনাচার কিভাবে মেনে নিলেন বোধগম‍্য না। আরেকটা বিষয় হলো মুভির শুরু ও শেষের দৃশ‍্য দেখলে বুঝা যায় একই ঘটনাগুলোর পূণরাবৃত্তী ঘটতে যাচ্ছে, হয়তোবা পুরোপুরি তাই ঘটবে। স্রষ্টা, ধরনিমাতা, সৃষ্টির এটাই কি নিয়ম?

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন