Gerold’s Game: শারীরিক বন্দিদশা অবস্থাতে আত্মিক মুক্তিলাভের গল্প
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0


★ মুভি রিভিউ ★
নেটফ্লিক্সের টিভি সিরিজগুলো তো বরাবরই আমার অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালের নেটফ্লিক্সের একটা মুভি আমার দারুণ ভালো লেগেছে। দিন পনেরো আগেই দেখেছি যদিওবা, কিন্তু রিভিউ লিখার সুযোগ হয়ে উঠেনি। তাহলে, চলুন ঘুরে আসা যাক নেটফ্লিক্সের অসাধারণ গল্পের উপর নির্মিত অসাধারণ একটা মুভির রিভিউ থেকে।

—————–♦ Gerold’s Game ♦—————–
Release Date: 29 September, 2017
Genre: Thriller, Horror
Language: English
Running Time: 103 minutes
Imdb Rating: 6.8/10
Rotten Tomatoes Rating:90%

মুভির গল্প মূলত স্টিফেন কিং এর একই নামের ১৯৯২ সালে প্রকাশিত উপন্যাস থেকে সংকলিত করা হয়েছে। গল্পটা এমনিতেই দারুণ মজবুত ও ভিন্নধর্মী বিষয়কে ঘিরে লিখা হয়েছিল, তার উপর মুভির পরিচালকের নির্মাণশৈলী। সব মিলিয়ে, অবশ্যই দেখার মতো একটা মুভি।

তাহলে প্লট থেকে ঘুরে আসা যাক। জেরাল্ড ও জেসি স্বামী-স্ত্রী। তাদের দাম্পত্যজীবনে নানা জটিলতা, মনোমালিন্য ও শারীরিক- মানসিক দূরত্বকে কাটিয়ে, নতুন ভাবে জীবন সাজাতে তারা দুজনেই প্রত্যয়ী হয়ে উঠে। আর তাই মূলত, দৈনন্দিন জীবনের কোলাহল, ঝঞ্ঝাট, কাজকর্ম ও দুঃশ্চিতাকে পিছে ফেলে দুজনে বেরিয়ে পড়ে দূরে কোথাও। অনেকটা যেন দ্বিতীয় মধুচন্দ্রিমা। প্রথমের দিকে,আপনার মনে হতে পারে, নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে এই দম্পতীর। একান্ত কিছু সময় শুধু ভালবাসার মানুষের সাথে কাটানোর জন্য তারা শহর থেকে দূরে বনের মাঝে একটা লেক হাউজকে উপযুক্ত জায়গা হিসেবে বেছে নেয়। যেহেতু পুরাতন সব বেদনাদায়ক ও তেতো স্মৃতিকে ভুলে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাবার এই প্রচেষ্টা, তাই জেরাল্ড নিত্যনতুন উপায়ে সম্পর্কটাকে চাংগা করে তুলতে চাইলো। আর সেই জন্যই, স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক মিলনের সময়, সে নিজের স্ত্রী দুই হাত খাটের সাথে হাতকড়া পড়িয়ে আটকে রাখলো। কিন্তু কে জানতো, এর পর কী হবে? দশ মিনিট যেতে না যেতেই, দুজনের মধ্যে আবার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে, জেরাল্ডের বুকে ব্যাথা শুরু হয় ও সে স্ত্রীকে হাতকড়া পরা অবস্থায় বন্দি রেখেই অজ্ঞান হয়ে যায়। জেরাল্ড কি শুধুই অজ্ঞান হয়েছিল? নাকি প্রাণ হারিয়েছিল? জেসিই বা এখন কী করে এই জিম্মি দশা থেকে বেরিয়ে আসবে? কে বাঁচাবে জেসিকে? উত্তরগুলো আপনাদের জন্যই থাকলো।

এবার মুভি নিজের মতামত দিতে গেলে বলবো, চমৎকার লেগেছে। বিশেষ করে, মনস্তাত্ত্বিক বিষয়বস্তগুলো। এতো সুন্দর করে জেসির অতীতের নানা স্মৃতিচারণা, নানা চরিত্রের আনাগোনা ও সেই সব চরিত্রের জেসিকে পরোক্ষভাবে সাহায্য করার ব্যাপারগুলো অস্থির ছিল। আসলে, আমাদের ভেতরে কিছু গোপনীয় কথা থাক, থাকে কিছু আত্ন স্বীকারোক্তি, যেগুলো আমরা নিজের কাছেও স্বীকার করতে ভয় পাই। পাছে, নিজের আসল সত্তা নিজের কাছেই প্রকাসজ পেয়ে যায় তো? আর এই মুভিতে জেসি চরিত্রের মধ্যেদিয়ে লেখক সুনিপুণতার সাথে কায়দা করে সেইদিকটিই যেন বলতে চেয়েছেন।

আসলে একটা জায়গাতে বসে একজন গল্পকে কীভাবে নানা মোড়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দর্শকদের সামনে নানা অজানা প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরতে পারে, সেটার ভালোই নিদর্শন মুভিটি।
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ভালো লাগলে, অবশ্যই দেখবেন। আশা করি, ভালো লাগবে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন