Arjun Reddy: চলুন, এই শতাব্দীর দেবদাসের গল্প থেকে ঘুরে আসা যাক
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

★ মুভি রিভিউ ★
গতকাল সকালে খবর পেলাম, এই বছরের অন্যতম তেলুগু মুভি “Arjun Reddy” র এইচপ্রিন্ট ইসাবসহ নেটে চলে এসেছি। শোনামাত্র, মুভি নামিয়ে নিলাম।কিন্তু কাল আর দেখার সুযোগ ন্স থাকা বিধায়, আজ সকালে ৮ টায় ঘুম থেকে উঠে দেখতে বসেছিলাম। মাত্র শেষ করে উঠলাম। আর রিভিউ না লিখে আর এক সেকেন্ড অপেক্ষা করতে পারিনি। তাহলে চলুন ঘুরে আসা যাক, অর্জুন রেড্ডি মুভি থেকে।

—————–♦ Arjun Reddy ♦——————-
Release Date: August 25, 2017
Genre: Action, Drama, Romance
Language: Telugu
Running Time: 3 hours 1 minutes
Imdb Rating:9.1/10
Times of India: 4/5

সাউথ ইন্ডিয়ান মুভিগুলোর মধ্যে এই বছরে আমার সবথেকে বেশি অপেক্ষা ছিলো আমার মহেশের স্পাইডার মুভিটাকে ঘিরে। আর তারপর যে মুভি নিয়ে ছিলো, সেটা অর্জুন রেড্ডি। তেলুগু ( নন- মহেশ) প্রথম মুভি দেখার শুরুটা যে বান্দাটিকে ভালোলাগার মধ্য দিয়ে তিনি হলেন, সাউথের নব্য তারকা বিজয় দেবরকোন্ডা।ওঁর অভিনীত ২০১৬ সালের মুভি Pelli Choopulu দেখার পর থেকেই আমার তাকে অসম্ভব ভালো লাগে। আর তাই মূলত অর্জুন রেড্ডির জন্য এতো অধীর আগ্রহ নিয়ে বসেছিলাম। আর আজ দেখার পর পুরো বিজয় দেবরকোন্ডার ভক্তে পরিণত হলাম। তাহলে চলুন, মুভির গল্পের দিকে মনোযোগ দেই।

মুভির গল্প খুব সাধারণ। একটা মেডিক্যাল কলেজ। আর সেই মেডিক্যাল কলেজে মিলিত হওয়া একজন ডাক্তার ও একজন শিক্ষার্থীর প্রেম নিয়েই মুভির প্লট। গল্পের নায়কের নাম অর্জুন রেড্ডি। সে অসম্ভব ভালো ছাত্র, কলেজের গর্ব। ডাক্তারি পড়া শেষ করে,কলেজেই সার্জন হিসেবে আছে। গল্পের এই অর্জুনের চরিত্রের ৯৯% দিকই ভালো, শুধু ১%দিকই খারাপ। আর তা হলো, অর্জুনের বদরাগ। হঠাৎ করে সে রেগে গেলে, পুরো তুলকালাম কান্ড বাঁধিয়ে দেয়। আর এমন এক বদরাগী, নিজের রাগকে কাবু করতে ব্যর্থ যুবকের জীবনে একদিন প্রীতি নামের একটা মায়াবতী, নরম সরম মেয়ের আগমন ঘটে। অর্জুন যেই কলেজে আগে নিজে পড়াশোনা করেছে ও পরবর্তীতে সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছে, প্রীতি ওই কলেজেই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে যোগ দেয়। আর এতো এতো মেয়ের ভীড়েও প্রীতিকে প্রথম দেখায় অর্জুনের ভালো লেগে যায়।এই ভালো লাগা যেনতেন ভালো লাগা নয় কিন্তু। একদম পাগলামো ধরণের ভালোলাগা। আগেই অর্জুনের রাগ, জেদ ও তার মারকুটে আচরণে কলেজের সবাই তাকে বেশ ভয় করতো। তার উপর আবার প্রীতি আসার পর সে পুরো কলেজের প্রত্যেকটি ছেলের কানে পৌছে দেয়, প্রীতি শুধু তার। কেউ যাতে ভুলেও, প্রীতির দিকে চোখ তুলেও না তাকায়। এর মধ্যে প্রীতির বাবার অর্জুনের পরিবারের সাথে চেনাজানা থাকার ফলে প্রীতির ভালোমন্দ দেখাশোনা ভার গিয়ে পড়ে অর্জুনের কাঁধে। তারপর আর কী? একে তো অর্জুন ডাক্তার, তার উপর সুদর্শন, তার উপর আবার প্রীতিকে পাগলের মতন ভালবাসে। এমন ভালবাসাকে ফিরিয়ে কোন মেয়ে কেনই বা দিবে?প্রীতিও ভালবেসে ফেলে অর্জুনকে। কী ভাবছেন? হ্যাপি এন্ডিং? আরে মাত্র তো গল্প শুরু।

টানা ৩ ঘন্টা ১ মিনিট আগে মুভি দেখুন। মুভির গল্প এমনি এমনিই জেনে যাবেন। আমার নিজের কাছে মুভিটি কেমন লেগেছে? এক কথায় বললে, সেরা। আসলে বেশি সেরা। টানা তিন ঘন্টা মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। সাধারণ গল্পের কী অসাধারণ প্রতিফলন! কী চমৎকার ভাবে ফুটানোর তরিকা! নায়িকাটা আহমরি না হলেও, কী যেন একটা মায়া ছড়িয়ে ছিলো প্রীতি চরিত্রটায়। আর অর্জুন? ভালবাসি। এমন ছেলেদের রাগটাও কিউট লাগে। আসলে ভালবাসা নিয়ে তৈরি মুভিগুলা বড্ড কষ্টের লাগে আমার। কিন্তু এতো নিটোল প্রেম দেখেও আলাদা শান্তি পাওয়া যায়। তবে মুভি থেকে একটা জিনিস শিখলাম, রাগ কখনওই কোন কিছুর সমাধান নয়। আসলেই নয়। জেদ, রাগ ও ঘাউয়ামি সমস্যাকে আরো প্রকট করে। আর রাগের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্তও ভুল, বরাবরই ভুল।
যাইহোক, সাউথ ইন্ডিয়ান প্রেমী হলে মুভিটা দেখেন।আর হলেও দেখেন, হয়ে যাবেন।আধুনিক এক দেবদাসকে দেখার সুযোগ পাবেন। অনেক তো প্রেমামকে সেরা রোমান্টিক মুভি বললাম।এবার না হয় একটু অর্জুন রেড্ডি নিয়েও মাতামাতি করি।
তামিলরকার্সে লিংক পাবেন।😊

এই পোস্টটিতে ৯ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. টরেন্ট থেকে নামিয়েছি। কিন্তু ইসাবের লিংক পাচ্ছি না 🙁 কেউ দিবেন

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন