কারণ আমি মুভিপ্রেমী
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আমি মেয়েটা বরাবরই মুভিখোর। যদিওবা আজকাল মাস্টার্সে প্রিপারেশন ও বাংলা সাবটাইটেল জগতে পা রাখার ফলে, তেমন একটা সুযোগ হয়ে উঠেনা। তবুও দিনে ১-২ দেখা চাই ই চাই। যাইহোক, গতকাল মানে ৮ তারিখ সকল কাজ ফেলে চারটা মুভি দেখার সুযোগ হলো, অনেক দিন পর। আর ভাবলাম চারটা মুভি নিয়ে হয়ে যাক অল্প স্বল্প গল্প।

1. Antaheen (2009)
অন্তহীন মুভিটা কলকাতার আর্ট ফিল্ম। যতোটা সুন্দর নাম, ঠিক ততোটা সুন্দর মুভির গল্প। আর তার থেকে বহু গুণে সুন্দর, মুভিটির গল্পকে ফুটিয়ে তোলার তরিকা। এটি শুধু যেন নামেই আর্টফিল্ম নয়, আসলেই শিল্পীর তুলিতে আঁকা অনন্য এক সৃষ্টি। মুভিটা দেখার সময়, বারবার একটা আফসোস মনে মনে করে এসেছি, “আগে কেন দেখিনি! ধুর যাহ! আগে কেন দেখিনি! ”

যাইহোক, অবশেষে দেখেছি। মুভিটা মূলত প্রেমের গল্পের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। কয়েকটি চেনা পরিচিত মানুষের, যাদের জীবন কোন না কোনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে একে অন্যের সাথে জড়িয়ে গেছে, এমন কয়েকজন মানুষ। এমন এক জোড়া দম্পতির গল্প দেখানো হয়েছে, যারা একই ছাদের নিচে না থাকা স্বত্তেও দুজন দুজন সীমাহীন ভালবাসেন। আবার, এমন এক জোড়ার গল্প দেখানো হয়েছে, যারা কেউ কখনো কাউকে না দেখে, কারো কন্ঠ না শুনে, এমনকি নাম, পেশা, ব্যক্তিগত কোন তথ্য না জেনে শুধুমাত্র চ্যাটে একে অপরের কাছে আসতে শুরু করেছে। দেখানো হয়েছে, এক ছাদের নিচে বছরের পর বছর বাস করা দম্পতির মধ্যে কতোটা দূরতর বাসা বাঁধতে পারে। আরো দেখানো হয়েছে, কী করে একজন নারী বাকি সব নারীদের থেকে আলাদা হয়ে ঘর সংসার না বেঁধে একাকিনী সারাটিজীবন কাটিয়ে দিতে পারে।
গল্পটি কয়েকটি অন্তহীন অপেক্ষার গল্প। মুভির গানগুলো ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পুরোটা সময় জুড়ে আপনাকে এক ধরণের মোহাচ্ছন্ন করে রাখবে।

2. Bluebeard (2017)
এই মুভিটা কোরিয়ান মুভি। মুভির গল্প আপনার প্রথম যতো সোজা মনে হবে, ধীরেধীরে ঠিক ততোই জটিল মনে হতে থাকবে। মুভিটা মূলত ক্রাইম- থ্রিলার জনরা। আপনি যদি সিরিয়াল কিলিং এর ভিত্তি করে গড়ে উঠা মুভি ভালবাসেন, এটা দেখতে পারেন।

মুভির গল্প একজন ডাক্তারকে নিয়ে। যিনি ডিভোর্সি ও একটি পুত্র সন্তানের জনক। ক্লিনিকে কাজ করে তেমন একটা আয় না করতে পারাতে, তেমন বড়সড় এপার্টমেন্টে থাকার কোন সুযোগ নেই তার। তাই ছোটখাটো এক রুমের একটা ঘরেই ভাড়া থাকতেন তিনি। মানুষটা কেমন যেন আত্মকেন্দ্রিক ও অন্যমনস্ক থাকতেন সবসময়। রোগীর সেবা ও নানা ধরণের ক্রাইম বিষয়ক বইপাগল পড়েই বেশ দিন কাটছিলো তার। তারপর একদিন তিনি উপলব্ধি করলেন, তিনি যাদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন, সেই মালিকের যেই কসাইখানা আছে, সেখানে অদ্ভুত কোনকিছু একটা ঘটছে। এরপর আর কী? নানা রহস্য আস্তে আস্তে যেমন জমাট বাঁধতে শুরু করলো, ঠিক তেমনি শেষমেশ এসে একে একে জট খুলে সামনে আসতে লাগলো। আহ! মুভির লাস্ট দুইটা মিনিট। সকল উত্তর পেয়ে যাবেন আপনি!

3. No One killed Jessica (2011)
এই মুভিটা গত কয়েকবছর ধরে শুধু দেখবে দেখবোই করে যাচ্ছিলাম। অতঃপর কাল দেখেই নিলাম। মুখ দিয়ে শুধু, “ওয়াও!” শব্দটাই বের হয়েছে। রাণী ও বিদ্যা আমার সব সময়ের পছন্দের দুই বলিউড অভিনেত্রী। আর কাহিনী? এটা নাকি সত্য কাহিনীর উপর নির্মিত মুভি। কাহিনী আমার দুচোখ দিয়ে জল বের করে ছাড়িয়েছে।

আসলে, আমাদের যাদের ছোট ভাইবোন আছে, তারা জানি ভাইবোন কতোটা মূল্যবান আমাদের জীবনে। আর একটা পরিবারের সবথেকে ছোট সদস্যের অকাল মৃত্যু কোন পরিবারের জন্যই মেনে নেওয়ার মতন বিষয় নয়। আর সেটি যদি কোন গাড়ি এক্সিডেন্ট অথবা জটিল দুরারোগ্য ব্যাধি না হয়ে খুন হয় তাহলে? কীভাবে একটা পরিবার সেটি মেনে নিবে? আর সবথেকে, বাজে ব্যাপার, যখন ক্ষমতা ও অর্থের জোরে খুনের আসামি আদালতের বেড়াজাল অতিক্রম করে মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াবে। আর সমাজের কেউ সেই অসহায় ও আইনের নির্মমতার শিকার পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, বিপক্ষে একজোট হয়ে দাঁড়াবে। কী হবে তখন?
জানতে হলে, মুভিটা দেখে নিবেন।

4. Finding Dory (2016)
এটি ইংরেজি এনিমেটেড মুভি। ২০১৬ সালের অন্যান্য সেরা এনিমেটেড মুভিগুলো দেখা হলেও কোন ফাঁকফোকর দিয়ে এটা মিস হয়ে গিয়েছিলো।

মনে আছে, মার্লিন ও নিমোর কথা? বাবা মার্লিন তার ছেলে নিমোকে হারিয়ে যে পুরো সাগরের এপার থেকে ওপার হন্য হয়ে বেড়াচ্ছিলো, সেই গল্প তো কারো ভুলে যাবার কথা নয়। আর মার্লিনের সাথী হয়ে উঠেছিলো শর্ট টাইম মেমোরি লস সমস্যায় ভুক্তভোগী বান্ধবী ডোরি। যেই ডোরি আসলে কে, কোথা থেকে এসেছে ও ডোরির অতীত কী, সেটা অন্য কেউ তো দূরের কথা, ডোরি নিজেও জানে না।
তারপর হঠাৎ একদিন ডোরি তার পরিবার, যাদের সে বহুবছর আগে হারিয়ে ফেলেছিলো, তাদের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। এবার ডোরির সাথী মার্লিন ও নিমো। তারা তাদের যাত্রাপথে যে নানা এডভেঞ্চার ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়, সেই গল্প নিয়েই, ” ফাইন্ডিং ডোরি” মুভিটি।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন