৩টি অসাধারণ গল্পের অসাধারণ কলকাতার সিনেমা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আজ আপনাদের সামনে কলকাতার তিনটি মুভির কথা তুলে ধরতে চাই। মুভি তিনটি দুই থেকে চার বছর আগের হলেও, আমি নিজে এই কদিন মাঝেই দেখেছি। আসলে কলকাতার মুভি হঠাৎ হঠাৎ দেখা হয়ে থাকে। আর দেখে কোনকিছু ভালো লেগে গেলে, সবাইকে না জানিয়েও থাকতে পারি না। হাজারহোক, আমি নিজেও তো অনেক মুভিপ্রেমী মানুষদের থেকে নানান মুভির খবরাখবর পাই। তাহলে আমি নিজে জানাতে দোষ কী?
তাহলে শুরু করা যাক।

১. প্রলয় (২০১৩)
কলকাতার নায়কদের মধ্যে পরমব্রত আমার সবথেকে প্রিয়। তাঁর মুভিগুলো কেন জানি অদ্ভুত টানে আমাকে। আর এই মুভিটাও মূলত তাঁর কারণেই দেখা। মুভির গল্প খুব সাদাসিধে। আমাদের সমাজে খুব পরিচিত একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে মুভিটিতে। আর সেই দিকটি হলো, ধর্ষণ। শুধু ভারতই নয়, সমগ্র বিশ্বেই ধর্ষণ এক প্রকারের অভিশাপ স্বরূপ। আর এই মুভিটিতে মূলত ধর্ষণের পাশাপাশি আমাদের সমাজে দুর্বলকে প্রতি সবলের অত্যাচার, ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের আইন, শাসনব্যবস্থা ও মানবতা প্রতি বেপরোয়া মনোভাব, সমাজের শোসক শ্রেণীর নির্লিপ্ততা, দুর্নীতি ও পাশবিকতা ইত্যাদি বিষয়গুলোর উপর আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়া সমাজে এখনো যে কিছু মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে, দুষ্টের দমনে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে ও সমগ্র সমাজের কল্যাণে পাপের শরণাপন্নও হতে পারে সেগুলো মুভিতে অত্যন্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মুভিতে কিন্তু থ্রিলার থ্রিলার গন্ধও পাবেন শেষার্ধে। সবমিলিয়ে, দারুণ একটি মুভি।

২. খাঁদ (২০১৪)
মানুষ বড্ড অদ্ভুত কিসিমের প্রাণী। আমরা নিজেদের সত্তাকে উপলব্দি করতেও মাঝেমধ্যে ব্যর্থ হই। মানুষ নিজের আত্মা- মন- বিবেকের অন্বেষণ তখনি ভালোভাবে করতে পারে যখন সে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির শিকার হয়। আর এমন এক পরিস্থিতে, একদল মানুষের গল্প নিয়েই এই মুভি। বুড়ো ক্যান্সারে আক্রান্ত নারী, মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক, নতুন বিবাহিত জোড়া, এমন নানা মানুষের মিলন ঘটে একটি সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যদিয়ে। আর তারপর নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যা, পারস্পারিক দ্বন্দ্ব, অল্প বিস্তর স্বার্থপরতা ও মতামতের ভিন্নতাকে উপেক্ষা করে তারা সবাই মিলে কী করে এই কঠিন পরিস্থিতিতে মোকাবিলার যুদ্ধে নামে তার চিত্রই এই মুভিতে ফুটে উঠেছে। একজন মানুষের বাইরে ও ভেতরে যে দুটি আলাদা সত্তা থাকতে পারে। সবার জীবনে যে একটি না বলা গল্প থাকে, সেই বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে।দিনশেষে, আমরা মানুষ। এটাই আমাদের আসল পরিচয়। এটাই যেন ছিলো মুভির বার্তা।

৩. বোধন (২০১৫)
“মা” ছোট একটি শব্দ, যার মর্ম বুঝাতে গেলে বাক্যের স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। প্রতিটা মেয়ের জীবনের দুটি অংশ। মা হবার আগের অংশ ও মা হবার পরের অংশ। একজন মেয়ে একবার মা হয়ে গেলে, তার নিজের আপন ভুবন বলতে আসলেই কিচ্ছু থাকে না। হোক না তিনি কর্মজীবী, খুব সফল নারী। তবুও তার সন্তানই যেন তার পৃথিবী। আচ্ছা, পালক নেওয়া সন্তানকে কি নিজের সন্তানের মতন ভালবাসা যায়? আর বিশেষ কোন অক্ষমতায় ভোগা সন্তানকে মায়ের মনে আসলে কী কাজ করে? এই দুটি প্রশ্নের উত্তর মুভিটিতে দেওয়া হয়েছে। ছবিটা আমার নিজের অসম্ভব রকমের ভালো লেগেছে। যেমন সুন্দর গল্প তেমন সুন্দর পরিবেশনা, অভিনয়শিল্পীদের নিখাদ অভিনয়শৈলী ও আবেগের ছড়াছড়ি।
আশা করি, মুভি গুলো সবার ভালো লাগবে। ও হ্যাঁ, নতুন মুভি ধনঞ্জয়টাও দেখতে পারেন। ওটা নিয়ে গ্রুপগুলোতে অনেক রিভিউ থাকাতে আর নিজে দিতে গেলাম না। 😊

এই পোস্টটিতে ৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. বাংলা সিনেমা ডাউনলোড এর ভালো সাইট লিংক হবে?? ধন্যবাদ

  2. Rifat Hoque says:

    প্রলয় এবং খাদ দুটোই দেখা হয়েছে। বোধনটাই বাকি।

  3. ashikul hoque rahul ashikul hoque rahul says:

    খাদ টা baki royeche . baki golo onk valo movie

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন