Thesis(1996): এক অনন্য স্বাদের মিস্ট্রি-ক্রাইম থ্রিলার মুভি
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আজ আমি আপনাদের সামনে আমার খুব প্রিয় একটি স্প্যানিশ থ্রিলার নিয়ে রিভিউ লিখতে যাচ্ছি। মজার ব্যাপার কী জানেন? আমি নিজে এই মুভি বাংলা ক্রিয়েটর হওয়া সত্ত্বেও এই মুভি নিয়ে আমার বিস্তারিত কোন রিভিউ নেই। তাই আজ “এক ঢিলে দুই পাখি” মারার মতোই কাজটি সম্পন্ন করে নিচ্ছি। একদিকে রিভিউও লিখা হয়ে গেলো, আবার অন্যদিকে একটা মুভি রিভিউ কন্টেস্টে অংশগ্রহণও করা হয়ে গেলো। যাইহোক, তাহলে আমরা এখন মুভির দিকে মনোযোগ দেই।
—–>>> Thesis (1996) <<<—–

"থিসিস" শব্দটির সাথে পরিচিত আছেন তো সবাই? উচ্চতর ডিগ্রীপ্রাপ্ত হতে হলে, অনেক বিষয়ে গবেষণামূলক পড়াশুনা চালিয়ে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে সেটি নিজে লিপিবদ্ধ করে তত্ত্বাবধায়কের কাছে জমা দেওয়ার নাম থিসিস।এর আরো কোন অর্থও থাকতে পারে। তবে মুভিটিতে এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। তা যাইহোক না কেন। এই মুভির গল্প গড়ে উঠেছে এমন এক গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করা ছাত্রীর থিসিস চলাকালীন সময়ে সে থিসিসের বিষয়টি নিয়ে যে মারাত্নক বিপদের মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে সেই গল্প নিয়ে।
তাহলে এবার প্লটের দিক থেকে একটু ঘুরে আসা যাক। গল্পটি এঞ্জেলা নামের একটি মেয়েকে নিয়ে। সে তার ভার্সিটি জীবনের শেষবর্ষ পার করছে। অন্যান্য ছাত্রদের মতন সেও তার থিসিসের কাজ শুরু করেছিলো। কিন্তু তার থিসিসের বিষয়টি ছিলো, অন্যান্য সবার থেকে কিছুটা আলাদা ও চ্যালেঞ্জিং। একইসাথে বলা যেতে পারে, ওর থিসিসের বিষয়বস্তু ছিলো, বর্বরতাপূর্ণ ঘটনাগুলোকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে গড়ে উঠা। আর এই থিসিসের কাজ চলাকালীন সময়ে তার জন্য থিসিসে সাহায্য করবে এমন কিছু উপকরণ লাইব্রেরী থেকে সংগ্রহ করতে গিয়ে তার থিসিস সুপারভাইজার কাকতালীয়ভাবে মারা যান। কিন্তু তিনি মারা গিয়ে রেখে যান গোপন এক রহস্য, পাশবিক কিছু মানুষের পাশবিকতার প্রমাণ, বহুদিন ধরে মাটিচাপা থাকা এক মর্মান্তিক সত্যকে। আর তারপর এঞ্জেলা ও তার থিসিসের কাজে সাহায্য করছে এমন এক নতুন বন্ধু মিলে ধীরেধীরে খোলাসা করতে থাকে তাদের মৃত স্যারের রেখে যাওয়া সেই সূত্রের উৎপত্তিস্থল। তাদের চলার পথ বিপদজনক হয়ে উঠলেও তারা থেমে থাকেনি। অনেক তর্ক-বিতর্ক, মান-অভিমান ও মতের অমিল থাকা সত্ত্বেও দিনশেষে, দুই বন্ধু মিলে সমাজে আলোড়ন তুলার মতন নিষ্ঠুর কিছু মানুষের পর্দা ফাঁস করে তাদের সত্যের আলোর মুখোমুখি আনার লড়াইয়ে জয়ী হয়ে উঠে। আমি অনেক সংক্ষেপে ও কোন রকম স্পয়লার ছাড়াই প্লট নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলাম। আশা করি, মুভি দেখার আগ্রহ আপনাদের মনে জন্মাতে পেরেছি।

এবার তাহলে মুভির অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে কিছু কথা বলি। এঞ্জেলা চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন, এনা টরেন্ট, তিনি এক কথায় অমায়িক ছিলেন। শুধু দেখতেই অসাধারণ সুন্দরীই নন, তার অভিনয়ও যথেষ্ট প্রশংসার দাবিদার। চেমা চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন, সেই অভিনেতা মার্টিনেজ মুভিতে এনে দিয়েছিলেন অন্য রকম এই ছন্দ। তার চরিত্র থেকে শুরু করে, ডায়লগ, মুভির গল্পে তার ভূমিকা সবকিছুই ছিলো অনন্য। এছাড়া এডুয়ার্ডোকে নিয়ে আর কি বলবো? মানুষটা এমনিতেই আমার ক্রাশ, তার উপর এমন একটা রহস্যে ঢাকা চরিত্র। তার মুভিতে আর্বিভাব থেকে শুরু করে মুভির সমাপ্তি পর্যন্ত সবগুলো দৃশ্যেই ছিলো একটা মোহ ছড়ানো উপস্থাপনা। শুধু এঞ্জেলার হৃদয়ই নন, তিনি আমার হৃদয়ও কেড়ে নিয়েছিলেন। যদিওবা এই মুভিতে আমি মার্টিনেজকে এগিয়ে রাখতে চাই। অন্যান্য চরিত্রগুলো বিশেষ করে এঞ্জেলার বোন সেনা ও এঞ্জেলার নতুন সুপারভাইজার ইয়োর্গের চরিত্র দুটোও বেশ ভালো লেগেছে।

মুভির দুটো ব্যাপার নিয়ে না কথা বলে থাকতে পারছি না। একটি হলো, মুভির নির্মাণশৈলী ও অন্যটি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। মুভিটিকে নির্মাতা যেই নিপুণতার সাথে বানিয়েছেন, তাই মূলত মুভির প্রতি দর্শককে টেনে নিয়ে গিয়েছে। আহামরি কোন গল্প না হলেও, কী করে সাধারণ একটা গল্পকে রহস্যের জালে ফেলে, দর্শককে সর্বদা এরপর কী, এরপর কী এই দুঃশ্চিতাতে রাখা যায়, কিভাবে টান টান শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে হয়, পরিচালক তা খুব ভালোই জানতেন। সাধারণ গল্প বলাতে আবার ভাববেন না, মুভিটার গল্প নগণ্য। মানে আজকাল স্প্যানিশ থ্রিলার গুলোর মতন এতো প্যাঁচগোচ নেই আর কি। তবে রহস্য, অপরাধ, হত্যা, হত্যাকারী, আতংক ইত্যাদি উপাদান গুলো আপনি এই মুভিতে খুঁজে পেতে বাধ্য। আর হ্যাঁ, মুভিটিকে দর্শক হৃদয়ে আরো নাড়া দিতে এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলো কিন্তু দারুণ কাজে দিয়েছে। আমার তো, মাঝেমাঝে, দমবন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছিলো। সবমিলিয়ে, একটা চমৎকার স্প্যানিশ মিস্ট্রি-ক্রাইম থ্রিলার মুভি বলা যেতে পারে এটিকে।
এবার, আমার নিজের মতামত নিয়ে কয়েক লাইন লিখা যাক।মুভিটা আমি দেখেছিলাম, গত বছরের ডিসেম্বরে। তখন আমি নিজেও নিজের ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফের থিসিস নিয়ে দিশেহারা। চারদিকে শুধু হতাশা আর এই হতাশার পদতলে পিষ্ট হয়ে যাচ্ছিলাম আমি। তারপর এক রাতে মুভিটার নাম দেখে মূলত আগ্রহ জন্মানোতে, মুভিটা নামিয়ে দেখা শুরু করি। ওমা! কী মুভি দেখলাম! আমি আমার থিসিস নিয়ে এরপর থেকে আর কোন হা-হুতাশ করিনি। কারণ হয়তো আমার থিসিস অনেক প্যারাদায়ক ছিলো, অনেক খাটুনি গেছে আমার উপর দিয়ে। কিন্তু এঞ্জেলার মতন এমন মহাবিপদে ও গা হিম করে দেওয়া পরিস্থিতিতে পড়িনি, এটা ভেবেই মানসিক শান্তি পেয়েছিলাম। যাইহোক, মুভিটা বেশ ভালো লাগাতে, আজ থেকে এক মাস আগে বাংলা সাবটাইটেলের কাজটাও সেরে নেই। আর এটাই আমার "থিসিস" মুভি নিয়ে নিজের একান্ত ছোটগল্প।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, "আমি কেন মুভিটি দেখবো? " তাহলে বলছি শুনুন,
– আপনি থ্রিলার জনরা ভালবাসেন?
-আপনি অপরাধ নিয়ে নির্মিত মুভি পছন্দ করেন?
– আপনি ত্রিভুজ প্রেমকাহিনী পছন্দ করেন?
যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হাঁসূচক হয়ে থাকে, তাহলে এই মুভি আপনার জন্য দেখাটা বাধ্যতামূলক। সরাসরি লিংক না দিয়ে আমার বাংলা সাবটাইটেলের লিংকটা দিয়ে দিচ্ছি। সাবের কমেন্ট সেকশনে মুভির ডাউনলোড লিংক পাবেন। ধন্যবাদ। 😊

BSub Link: https://subscene.com/subtitles/tesis-thesis/bengali/1614127

Original Name: Tesis
Release Date: 12 April, 1996
Genre: Mystery, Thriller
Language: Spanish
Running Time: 125 minutes
Imdb Rating: 7.5/10

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন