আমার দেখা ৩টি অবিস্মরণীয় সিনেমা (পর্ব-০২)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আমি আজ থেকে দুই-তিন দিন আগে আমার দেখা তিনটি মাস্টারপিস মুভি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজ আরো তিনটা নিয়ে আপনাদের সামনে রিভিউ নিয়ে এসেছি। আশা করি, সবাই মুভিগুলো ও পোস্টটি দুটোই ভালো লাগবে। আজকে যে তিনটি মুভি নিয়ে পোস্ট দিবো, তার মধ্যে দুটো কোরিয়ান ও একটি ইরানি মুভি।

১. Miracle in Cell No.7 (2013)
২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই কোরিয়ান মুভিটিকে পিউর মাস্টারপিস নিঃসন্দেহে বলা চলে। মুভির গল্প গড়ে উঠেছে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী পিতা ও তাঁর শিশুকন্যাকে জীবনের মর্মান্তিক একটি অধ্যায় নিয়ে। মর্মান্তিক অধ্যায় কেন বলেছি, সেটি আপনারা মুভি দেখলেই জেনে যাবেন।শুধু বলে রাখি, আপনি কোন মুভিতে পিতা-কন্যার নিটোল ভালবাসার বন্ধন দেখতে চান? আপনি নিষ্ঠুর এই জগতে এখনো যে নিষ্পাপ মনের কিছু মানুষ বেঁচে আছে, সেই প্রমাণ পেতে চান? তাহলে এই মুভি আপনার জন্য সেরা মুভি হিসেবে গণ্য করা যায়।
আইএমডিবিতে ৮.২ রেটিং পাওয়া এই মুভিটি আমার দেখা সেরা দশটি কোরিয়ান মুভির মধ্যে আমি একটি বলে বিবেচিত করবো। পিতা-কন্যার চরিত্রে অভিনয় যে দু’জন শিল্পী করেছেন, তাদের অভিবয় এতো নিখুঁত ও আবেগী ছিলো, যে একমুহূর্তের জন্য আমি ভুলেই গিয়েছিলাম, আমি মুভি দেখছি।
মুভির উপকরণ নিয়ে যদি বলতে হয়, তাহলে বলবো হাসি, কান্না, রহস্য, কোমলতা ও কঠোরতা, মানবতা ও অবিচার সবকিছুই পাবেন এই মুভিতে। তাহলে আর দেরী করে, আজই দেখে ফেলুন।

২. Silenced (2011)
এই পৃথিবীতে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, অপহরণ, সড়ক দুর্ঘটনা ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর সাথে আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু শিশুদের যৌন নির্যাতন সম্পর্কে আমরা কতোটা শুনে থাকি? বেশিরভাগ সময়, প্রাপ্তবয়স্কদের কুরুচিপূর্ণ মন অথবা মানসিক বিকারগ্রস্থতার কারণে অনেক শিশু পরিচিত কিংবা অপরিচিত মানুষের দ্বারা যৌন নির্যাতিত হয়ে থাকে। শুধু মেয়েরাই নয়, ছেলেশিশুরাও এই পাশবিকতার শিকার। আর এই যৌন নির্যাতনকে মূল ভিত্তি ধরে কোরিয়ান এই মুভিটি একটি সত্য ঘটনার উপর নির্মিত হয়েছে।
মুভির প্লট একটি স্কুলকে ঘিরে উঠেছে। তবে এই স্কুলটি আট-দশটি সাধারণ স্কুলের মতন ছিলো না কিন্তু। এই স্কুলটি ছিলো একটি বাক-বধির প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ স্কুল। আর এই স্কুলের তিনটি ছেলেমেয়ের যৌন নির্যাতিত হবার গল্প নিয়েই মুভিটির কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
বাকিদের কাছে মুভিটি কেমন লাগবে জানি না, আমি ব্যক্তিগত ভাবে মুভিটি অন্যতম সেরা কোরিয়ান মুভি বলে বিবেচিত করবো। আইএমডিবিতে ৮ রেটিং পাওয়া এই মুভিতে মানবজাতির এই লজ্জাজনক দিকটাই শুধু তুলে ধরা হয়নি, এর পাশাপাশি আমাদের এই ধরণীর বুকে অর্থ, যশ, খ্যাতির আগে যে ন্যায়বিচার পাওয়াটা কতোটা মুশকিল ও প্রায় ধরা ছোঁয়ার নাগালের বাইরে সেই দিকেও আঙুল তুলে দেখানো হয়েছে।
কেউ যদি বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে দেখতে চান, তাহলে বলি রাখি, সাবসিনে বিসাব আছে। আমি নিজেই এটার বিসাব করেছি।

৩. The Color of Paradise (1999)
আজ থেকে ১৮ বছরের আগের এই মুভিটি আপনাকে বাস্তবতার একটি ছোট ঘটনার সম্মুখীন করবে। আর তা হলো, ” প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের কাছে বোঝা হবার আগে আপন পরিবারের কাছেই বোঝা স্বরূপ”। মুভির গল্প আহামরি কিছু নয়। কিন্তু মুভিটির নির্মাণ কৌশল ও কাহিনী বর্ণিত করার ধরণ আপনার হৃদয়কে ছুঁয়ে যেতে বাধ্য। আপনিও মুহম্মদের সাথে সাথে তার পৃথিবীকে অনুভব করতে শুরু করবেন। আপনিও তার সুখে হাসবেন, তার দুঃখে চোখের জল ফেলবেন।তাহলে এবার প্লট নিয়ে দুইটা লাইন লিখি।
মুভির প্লট মুহম্মদ নামক একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুর গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে। মুহম্মদ অন্ধ হলেও তার রয়েছে একটি মেধাশক্তি ভরপুর মাথা আর ভালবাসাপূর্ণ কোমল ও পবিত্র হৃদয়। পরিবার থেকে বহুদূরে থেকে শহরের বিশেষ স্কুলে অধ্যয়নরত মুহম্মদের মনে শুধু পরিবার ও আপন গ্রামে কিছু সময় কাটানোর অনাবিল স্বপ্ন। কিন্তু মুহম্মদ ওর পরিবার, পরিজনকে নিয়ে যতোটা ভাবে, তারা কি ততোটা ভাবে?
মুভিটার শেষ দৃশ্যটা নিয়ে আমার একটু দ্বিধা আছে। আমি তাই আমার মতন করে একটি সমাপ্তি টেনে নিয়েছি। কেউ কমেন্টে বলতে চাইলে বলতে পারেন।

আশা করি,পোস্ট সবার ভালো লাগবে। আগের পর্বের লিংক কমেন্টে।ধন্যবাদ।

এই পোস্টটিতে ১৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Miracle in to the cell no.7 দেখে কান্না করেছিলাম।

  2. miracle in cell no.7 অসাধারন ছবি… আমার দেখা ভালো ছবি গুলোর মধ্য একটি… অনেক অনেক কান্না করছিলাম ছবি টা দেখে……

  3. Sujoy Das says:

    প্রথমেই আপনি দুই তিন লিখে দিন না সপ্তাহ না মাস উল্লেখ না করায় কনফিউশনে পড়ে গেলাম, আশাকরি পোস্টটি আবার এডিট করবেন।

  4. দুইটা দেখছি। miracle in the cell no 7
    color of paradise
    both are so touchy

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন