আমার দেখা তিনটি অবিস্মরণীয় সিনেমা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আমরা যারা মুভিখোর আছি, অনেক ধরণের মুভিই তো দেখে থাকি।কিন্তু এদের মধ্যে কয়টি মুভি দেখে আপনার চোখ থেকে জল এসেছে, বলত্র পারবেন? আজ আমি এমন ৩টি মুভির কথা বলবো, যেগুলো শুধু যুগান্তকারী মুভিই নয়, একই সাথে মনকে নাড়া দেবার মতন মুভি। আর এদের প্রত্যেকটি দেখার সময় আমার চোখে জল এসেছে।

১. The Boy in Stripped Pyjamas (2008)
বন্দুত্বের সংজ্ঞা বলতে পারবেন? বর্তমান যুগে চারপাশে যখন এতো স্বার্থপর ও সুযোগ সন্ধানী মানুষের বসবাস, সেখানে কাকে নিজের বিশ্বস্ত বন্ধু বলে দাবি করবেন? আমাদের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের জন্য এটি মহা ঝামেলার ব্যাপার হলেও, কিন্তু শিশুদের জন্য তা নয়।শিশুরা খুব সহজে কারো থেকে অল্প একটু ভালবাসা ও সুন্দর ব্যবহার পেলেই তাকে নিজের মনে স্থান দিয়ে ফেলে।আর সেই মানুষটি যদি হয় তার কাছাকাছি বয়সের, তাহলে তো সোনায় সোহাগা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটের গড়ে উঠা এই মুভিতে সরাসরি যুদ্ধ না দেখানো হলেও, দেখানো হয়েছে যুদ্ধের অত্যন্ত ভয়াবহ একটি দিক। যা কিনা দর্শকদের হৃদয়কে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট নির্মম পরিস্থিতির সাথেই পরিচয় করেই দিবে না। এর সাথে সাথে যুদ্ধের সাথে জড়িত সকল ব্যক্তিদের পাশবিক মনের পর্দাও ফাঁস করে দিবে।
মুভিটা দুইজন শিশুর মধ্যেকার বন্ধুত্ব ও সেই বন্ধুত্বের পরিণতির গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে। আই এমডিবিতে ৭.৮ রেটিং পাওয়া এই মুভিটি আমাত প্রিয় মুভিগুলোর অন্যতম।

২. Children of Heaven (1997)
গল্পটি অতি সাধারণ, কিন্তু মুভিটি অনন্যসাধারণ। আমাদের আশেপাশে তাকালে আমরা দারিদ্রতার ছাপ সহজে খুঁজে পাবো, এটি যদি আপনি বলে থাকেন,তাহলে আপনি অন্ধ। আর ঠিক আমাদের দেশের অসংখ্য নিম্নবিত্ত পরিবারের মতনই একটি ইরানি পরিবারের গল্প নিয়ে মুভিটি নির্মাণ করা হয়েছে। যদিওবা মুভির মুখ্য গল্প একজোড়া জুতো নিয়ে গড়ে উঠেছে। দিনমজুর পিতার সন্তান আলী ও জাহরা। তাদের পিতামাতা গরীব হলেও তাদের পড়াশুনার প্রতি বেশ যত্নশীল। তাই সাংসারিক কাজ, বাড়ির বাইরের টুকিটাকি কাজ ছাড়াও এই দুই ভাইবোন রোজ স্কুলে যেতো। আর মেধাবীও ছিলো ওরা দু’জনেই। কিন্তু একদিন আলীর সামান্য ভুলের কারণে জাহরা একমাত্র জুতোটি হারিয়ে যায়। এখন জুতো ছাড়া জাহরা স্কুলে কি করে যাবে? একে তো স্কুলে স্যান্ডেল পরে যাওয়া যাবে না, তার উপর বাবা-মা এমনিতেই অর্থ সংকটে আছেন।তাদের কাছে নতুন এক জোড়া জুতো চাইলেও তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।
আর মূলত এই গল্প নিয়ে মুভিটি অতিবাহিত হয়।মুভিটিতে বাস্তব জীবনের একটি ছোট গল্পকে এতো সুনিপুণভাবে পর্দায় অংকন করা হয়েছে যে দর্শকদের মনকে তা না ছুঁয়ে পারেই না। যদিও মুভির শেষ অংশটাতে সুখের ছিটেফোঁটা দেখা দিয়েছিলো, তবুও মুভিটা চলাকালীন আলী ও জাহরার জন্য যে অদ্ভুত রকমের ভালোলাগা ও মায়া কাজ করছিলো, তাতে চোখ দিয়ে পানি না বলে কয়ে চলে এসেছিলো।

আইএমডিবি তে ৮.৪ রেটিংপাওয়া ইরানি ভাষার এই মুভিটা দেখেননি, এমন কেউ আছেন বলে মনে হয় না।

৩. The Bicycle Thief (1948)
সাইকেল চোর? জ্বী হ্যাঁ। একটি সাইকেল চুরির গল্প নিয়ে মুভিটি নির্মিত হয়েছে। মুভিটি ইতালিয়ান মুভি। এটির প্লটও খুব সাধারণ গল্পের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু সাধারণ গল্পকে অসাধারণ রূপ দেওয়াতেই তো পরিচালকের কৃতিত্ব, তাই না?
মুভির গল্প এমন একজন পুরুষ ও তার পরিবারকে নিয়ে যিনি নাকি বহুদিন বেকার থাকার পর বহু কষ্টে একটি ছোটখাটো চাকরি যোগাড় করেন। অভাবের সংসারে তার স্ত্রী ও পিচ্চি একটি ছেলে রয়েছে। আর তাদের মুখে প্রতিদিন আহার তুলে দেবার জন্য প্রাণেপণে এই চাকরি ধরে রাখা তার ব্রত হয়ে উঠে। কিন্তু চাকরির প্রয়োজনে বহুকষ্টে কেনা নতুন সাইকেলটি তিনি নিজের সামান্য বেপরোয়াপনার জন্য হারিয়ে ফেলেন।কোন এক চোর তার সাইকেলটি নিয়ে ভেগে যায়। এখন? তারপর তিনি ও তার শিশুপুত্র বেরিয়ে যান সেই চোরের সন্ধানে। পিতা-পুত্র মিলে হন্য হয়ে খুঁজতে থাকেন সেই চোরকে। সমাপ্তিটুকু আপনাদের জন্য থাক।
এই মুভি দেখে কেন কেঁদেছি? প্রথমত, আমি মানুষকে বিপদে দেখলে ও কারো সাথে ঘোরতর অন্যায় কোন কিছু ঘটলে সহ্য করতে পারি না। আর দ্বিতীয়ত, ওই পিচ্চিটার নিষ্পাপ ও করুণ চেহারা আমার মন খারাপ করে দিয়েছিলো।
আইএমডিবিতে ৮.৩ রেটিং পাওয়া মুভিটি দেখেছেন তো?
আজ এই তিনটা নিয়েই লিখলাম।আরো অনেক আছে।আগামীতে ইনশাআল্লাহ্‌ লিখবো। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটিতে ১৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Sujon Jahan says:

    also color of paradise, sindler list, purest of happyness & don’t recogned name

  2. Amar to kuch kuch hota hain dekheo kanna eshechilo. Tokhon oboshho boyosh chilo matro 10

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন