Game of Thrones: এটি কোন সাধারণ সিরিজ নয়, এটি আমার ভালবাসার গল্প
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

★ টিভি সিরিজের সিরিজ রিভিউ ★
গত দুই সপ্তাহের মতন এই শুক্রবারে আপনাদের সামনে নিয়ে হাজির হলাম, আরো একটি টিভি সিরিজের বিস্তারিত রিভিউ। আমি প্রথমেই বলে দিচ্ছি, আমি কোন স্পয়লার দেইনি, তাই সবাই পড়তে পারবেন। মজার ব্যাপার হলো, আমি একজন নিয়মিত মুভি/ সিরিজ রিভিউদাতা হলেও, এখন পর্যন্ত আমি কখনওই গট নিয়ে কোন রিভিউ লিখিনি।
তাহলে আজ লিখেই ফেলি দুনিয়াকাঁপানো এই সিরিজ নিয়ে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে একটা রিভিউ।

♥ সিরিজ রিভিউ ০৩ ♥
——>>> Game of Thrones <<<——

"গেম অব থ্রোনস" – একটি ভালবাসার নাম। বাকিদের কাছে কিনা ঠিক হলফ করে বলতে পারছিনা, তবে আমার কাছে অবশ্যই একশত ভাগ খাঁটি কথা। কারণ কি? তাহলে তো এই সিরিজের সাথে পরিচয়পর্ব থেকে ঘুরে আসতে। সময়টি ছিলো আজ থেকে প্রায় তিনবছর আগের কোন এক সন্ধ্যা। তখন মনে হয়, গটের চতুর্থ সিজন চলছিলো। আমার বন্ধুসমাজের মাঝে সিরিজটি নিয়ে বেশ মাতামাতি। কিন্তু টিভি সিরিজ দেখা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়,এই নীতিতে বিশ্বাসী তখনের আমি বন্ধুদের কথা কানেই তুলতাম না। তবুও কোন এক বন্ধু পেনড্রাইভে প্রথম তিনটা সিজন দিয়েছিলো বলে, তা পিসিতে ফেলে রেখেছিলাম। তারপর একদিন সব বদলে গেলো। আমার ভার্সিটি জীবনের ক্রাশ যে কিনা আমাকে একফোঁটা পাত্তা দেওয়া তো দূর চোখ তুলে জীবনে আমার দিকে তাকায়নি, সেই বালক একদিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলো, "ওয়াচিং গেম অব থ্রোনস"। ব্যস, আমিও ওই সন্ধ্যায় বসে গেলাম গট দেখতে। এরপরের সবকিছু ছিলো গটের মতনই স্বপ্নজালে বোনা স্মৃতি। সেই ঘটনা পরে বলছি। তার আগে সিরিজ থেকে ঘুরে আসা যাক।

আমরা সকলেই জানি, গেম অব থ্রোনস নামক এই যুগান্তকারী টিভি সিরিজের সূচনা হয়েছিলো ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে এইচ.বি.ও চ্যানেলের মাধ্যমে। সেই যে শুরু, তারপর গত সাত বছর ধরে রাজকীয় কায়দায় সিরিজটি মোট সাতটি সিজন নিয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে। সিরিজটির জন্ম হয়েছে মূলত আমেরিকান লেখক জর্জ মার্টিনের (George R. R. Martin) উপন্যাস সিরিজ A song of ice & fire থেকে, যা কিনা ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পাঁচটি আলাদা আলাদা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছিলো। গটের প্রথম পাঁচটি সিজন এই উপন্যাসগুলোর গল্পকে অনুসরণ করে থাকলেও, সিজন ৬ থেকে পরবর্তী সিজনগুলো Devid Benioff ও D.B. Weiss নামক দুইজন স্ক্রিপ্ট রাইটারের লিখনশৈলীর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যদিওবা সিজন ১ ছাড়া বাকি সব সিজনের গল্পই নানাভাবে সংযোজন ও বিয়োজন এর মাধ্যমে পুনরায় লিখা হয়েছিলো।গটের সিজন সংখ্যা মোট ৮ টি ( ৭ টি বের হয়েছে) ও প্রতি সিজনে প্রায় ১০ টি করে পর্ব (সিজন ৭ ও ৮ বাদে) রয়েছে। প্রতিটি পর্বের সময় প্রায় ঘন্টাখানেক করে। পুরো গট সিরিজটি প্রায় ৭২১ জন অভিনয়শিল্পী অভিনয় করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন Peter Dinklage,Lena Headay, Kit Harrington, Emilia Clarke, Sophie Turner, Maisie Williams, Nikolaj Coster Waldue। এছাড়া আরো বেশ কিছু অভিনয়শিল্পী আছেন, যাদের ছাড়া গটের আসল মজা পাওয়া অসম্ভব ছিলো। গটের শুটিং যে সকল জায়গাতে হয়েছে সেগুলো হলো ইউনাইটেড ষ্টেট অব আমেরিকা, কানাডা, মরক্কো, আইল্যান্ড, স্পেন, নর্থান আইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, মাল্টা, ক্রোয়েশিয়া। গট ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে এইচ.বি.ও চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে টিভি পর্দায় উপস্থাপিত হয়। আর এভাবেই শুরু হয়, গটের পথচলা।

এবার তাহলে গেম অব থ্রোনসের প্লটের দিকে হালকাবিস্তর ঢুঁ দিয়ে আসা যাক। আমরা সবাই জানি, গট হলো, ফ্যান্টাসি ঘরানার সিরিজ। এতে দেখানো স্থানগুলো, চরিত্রগুলো ও কাহিনী গুলো পৃথিবীর বুকে কখনওই সত্যিকার অর্থে জন্মায়নি। গটের প্লট গড়ে উঠেছে, সাতটি রাজ্যের গল্প ও এই সকল রাজ্যের একমাত্র শাসকের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ সিংহাসন নিয়ে। এছাড়া বেশ কয়েকটি উচ্চবংশীয় পরিবার, তাদের মধ্যেকার আত্নীয়তা, শত্রুতা ও নিজেদের বংশের অস্তিত্ব রক্ষার্থে একে অপরকে ডিঙিয়ে উপরে উঠার লড়াই, প্রাকৃতিক কিছু বৈরিতা নিয়েই সিরিজের গল্প। গটে আপনি সবকিছুই পাবেন। শত্রুর কথা তো বাদই দিলাম, আপনজনকেও পিছন থেকে ছুরিকাঘাত, স্বার্থপরতা, রক্তারক্তি,হিংস্রতা, যৌনতা, পরকীয়া, অবৈধ সম্পর্ক, সমকামিতা,ক্ষমতার লোভে অন্ধতা, কামনা, ভালবাসা, সম্পর্কের অনৈতিকতা, বচনের অবক্ষয়, যুদ্ধ, কারো টিকে থাকার লড়াই তো কারো আরো বেশি হাসিল করার লড়াই, অতীতের কিছু গোপনীয় গল্প, অতীতের কিছু জমাট বাঁধা ক্ষোভ, প্রতিশোধের আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা কয়েকটি মানব হৃদয়,আপন-পর নির্ণয় করার অপারগতা, কিছু ব্যক্তিবিশেষের অলৌকিক শক্তি, বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের মধ্যে দোদুল্যমান জীবন ইত্যাদি ইত্যাদি উপকরণ নিয়ে গটের কাহিনী অংকন করা হয়েছে। যারা গট দেখেছেন, একবার চোখ বন্ধ করেআমার কথাগুলোর সাথে গটের গল্পটা মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দেখুন।

এখন আমার গটের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে একটু কথা বলি। আমাকে যদি আপনি জিজ্ঞাসা করেন,! গট কেন দেখি? কোন চরিত্রকে ভালো লাগে?" তাহলে আমার কাছ থেকে উত্তর পাবেন, "গট অনেকটা নেশার মতন। একবার মত্ত হলে সহজে ছাড়া যায়না। আর টিরিয়ন ল্যানিস্টার আমার সবথেকে প্রিয় চরিত্র। এতোটাই প্রিয় যে অকে যদি মেরে ফেলা হতো, আর হয়তো দেখাই হতো না সিরিজটা"। এছাড়া জন স্নোর উপর আমার সেই রকমের ক্রাশ, ডেনেরিসকে আগে খুব ভালো লাগলেও আজকাল লাগে না। আর জেইমিকে কেন জানি আমার খুব ভালো লাগে। বেচারার জন্য এক ধরণের মায়া কাজ করে। আমি জানি, সানসার সাথে অনেক খারাপ খারাপ ঘটনা ঘটেছে, তারপরেও ওকে আমার অপছন্দ। ভিলেন হিসেবে সার্সেই অসাধারণ। এই চরিত্র না থাকলে গট পুরা মরা মরা হয়ে যাবে। আর আরিয়া? আরিয়া তো আরিয়া। এতো এতো ভালবাসা ওর জন্য।

আমার গটের আরো কিছু ভালো লাগার দিক হলো, গটের মিউজিক ট্র‍্যাক ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো। আর এই অসাধারণ শিল্পের পিছনে যে ব্যক্তির হাত আছে, তিনি হলেন Ramin Djawadi। তিনি গটের মিউজিক কম্পোজার। এছাড়া যারা লোকেশন বাছাই, ভিজুয়াল ইফেক্টের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। যারা প্রতিটি চরিত্রকে পর্দায় নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে কস্টিউম ও মেক আপের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অসামান্য অবদান ভুলে গেলেও চলবে না। এমনকি যারা স্টান্ট হিসেবে ছিলেন, তারাও কি কম ভূমিকা রেখেছেন। ফটোগ্রাফার, এডিটর, ডিরেক্টর ও অন্যান্য গটের সকল কলাকুশলীদের কারো অবদানই খাটো করে দেখার মতন নয়।

এবার গেম অব থ্রোনসের সাফল্যগাঁথার দিকে মনোযোগ দেওয়া যাক। সাফল্যের কথা যদি বলতেই হয়, আগে বলি অভিনয়শিল্পীদের কথা। টিরিয়ন ল্যানিস্টার চরিত্রে অভিনীত শিল্পী পিটারের কথাই ধরুন। এই সিরিজ না থাকলে,তার অভিনয় প্রতিভার কথা কি করে জানতো গোটা বিশ্ব? সানসা চরিত্রের মাধ্যমে সোফির, আরিয়া চরিত্রের মাধ্যমে মাইসির, জন চরিত্রের মাধ্যমে কিটের ও বাকি অনেকের অভিনয় জগতে যেভাবে আগমন ঘটেছে, কয়জনের এমন ভাগ্য হয়? এছাড়া সার্সেই চরিত্রের জন্য লিনা যতোটা মানুষের সাথে কুখ্যাতি পেয়েছেন, কতোটা শক্তিশালী অভিনয় হলেই এটি লাভ করা যায়, ভেবে দেখেছেন? এসবই কি তাদের জন্য সাফল্যের গল্প নয়? আর অর্থ, যশ, খ্যাতি তো আছেই।
তাছাড়া যদি সিরিজের অর্জনের কথা বলতে হয়, তাহলে প্রথমে পুরস্কারের দিকে যাওয়া যাক।গট এমন এক সিরিজ যা আজ পর্যন্ত ৩৮ টি প্রাইমটাইম এমি এওয়ার্ড জিতেছে। এছাড়া আরো কত শত ধরণের এওয়ার্ড তো আছেই। ২০১১ সালে সিরিজটি ১৩ টি ক্যাটাগরিতে প্রাইমটাইম এমি এওয়ার্ডে মনোনয়ন পায় ও একটি জিতে নেয়। ২০১২ সালে ২য় সিজনের জন্য ১১টি মনোনয়ের মধ্যে ছয়টি জিতে নেয়। ২০১৩ সালে ১৬ টি মনোনয়নের মধ্যে ২টি, ২০১৪ সালে ১৯টির মধ্যে ৪ টি, ২০১৫ সালে ২৪ টির মধ্যে ১২ টি ও ২০১৬ সালে ২৩ টি মনোনয়ন পায়। এতগুলা মনোনয়ন পাওয়া আসলেই একটি যুগান্তকারী রেকর্ড ছিলো যে কোন টিভি সিরিজের জন্য।
দর্শকপ্রিয়তার কথা যদি বলি, তাহলে গট এমন এক সিরিজ যা পুরো বিশ্বকে প্রায় গট জ্বরে আক্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে। গট সিরিজটি যতোটা দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে , আর কোন সিরিজ এতোটা পেয়েছে বলে আমার জানা নেই। গটের প্রথম সিজন প্রায় গড়ে ২.৪৪ মিলিয়ন দর্শক দেখেছে। ২য় সিজন ৪.৮৮ মিলিয়ন দর্শক, ৩য় সিজন ৫.৫০ মিলিয়ন দর্শক, ৪র্থ সিজন ৬.৪০ মিলিয়ন দর্শক, ৫ম সিজন ৬.২৪ মিলিয়ন দর্শক, ৬ষ্ঠ সিজন ৬.৭১ মিলিয়ন দর্শক ও ৭ম সিজন প্রায় ১০.২৪ মিলিয়ন দর্শক দেখেছে।

আইএমডিবিতে ৯.৫ রেটিং পাওয়া এই টিভি সিরিজ সমালোচকদের কাছে বেশ ভালো পজিটিভ রিভিউ পেয়েছে। রোটেন টমোটসের রেটিং এর দিকে খেয়াল করলে দেখবেন, সিজন ১ এ রেটিং ছিলো ৮৯%, যা কিনা পরবর্তী সিজনে বেড়ে ৯৬% এ চলে যায়। এরপরের দুই সিজনের রেটিং ছিলো ৯৭% করে, পঞ্চম সিজনে তা নেমে হয় ৯৫%, আবার সিজন ৬ ও ৭ এর জন্য তা বেড়ে ৯৬% এ চলে গিয়েছে। অন্যদিকে, মেটাক্রিটিকের রেটিং দেখলে দেখবেন প্রথম সিজনে ১০০ এর মধ্যে ৮০ থাকলেও পরের চার সিজন তা বেড়ে নব্বইয়ের কোঠায় পৌছে যায়।আবার একদম শেষের দুই সিজনের জন্য তা নেমে সত্তরের ঘরে চলে এসেছে।

গেম অব থ্রোনসের অন্যান্য জনপ্রিয়তার কথা বলতে গেলে বলতেই হয়, সিরিজটি এতোই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌছে গেছে যে, আমার আমেরিকা থেকে আগত কাজিন থেকে শুনেছিলাম, মানুষ নিজেদের বাচ্চাদের নাম জন, আরিয়া ইত্যাদি রাখা শুরু করেছে। এছাড়া এই সিরিজটির ভিডিও গেম, এই সিরিজের নামে, স্থানগুলোর নামে রেস্তোরাঁ। সিরিজে ব্যবহৃত কস্টিউমের অনুকরণে কাপড়চোপড়, অস্ত্রাবলী ইত্যাদি ইত্যাদিও বাজারে বের হয়ে গেছে। গট নিয়ে যতো ট্রল ও পোস্ট ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হয়ে থাকে, এমন আর কোন মুভি/সিরিজের জন্য হয়?

এছাড়া যদি আমরা গটের বাজেট নিয়ে বলতে যাই, তাহলে আমি নিজে মাঝেমাঝে ভেবে অবাক হই, এই সিরিজের লোকেশন, কস্টিউম, ভিজুয়াল ইফেক্ট, অভিনয়শিল্পীদের বেতন, আনুষঙ্গিক খরচাবলীতে না জানি কতো অর্থই খরচ হয়েছে আজ পর্যন্ত। আমি যদিও টাকাপয়সার ব্যাপারস্যাপার কম বুঝি। তাই এই ব্যাপারে আলোচনায় গেলাম না। তবে একটা কথা তো নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, নিশ্চয়ই এর ব্যয়ের তুলনায় আয়ের ভান্ডার অনেক বেশি সমৃদ্ধ, না হলে এতদিন ধরে সিরিজ এতো দাপটের সাথে চলতো না।

যাইহোক, চাইলে আরো অনেককিছু লিখা যাবে। কিন্তু বেশি বড় করলেও আবার ভালো দেখায় না। ও হ্যাঁ, এবার আমার নিজের গল্পটার তাহলে সমাপ্তি টানি। অতঃপর, আমি গট দেখা শুরু করে যখন গট নিয়ে স্ট্যাটাস দেই, আমার সেই ক্রাশ নিজে থেকে আমাকে নক দেন। তারপর আমাদের মাঝে গট নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাট চলতে থাকে। আর এভাবে কথা চলতে চলতে কখন যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়, আর ধীরেধীরে তা কখন যে ভালবাসায় বদলায়,খোদা মালুম। আজ থেকে তিন বছর পরেও, আমরা গট নিয়ে কথা বলি, তর্ক করি আর একসাথে গট দেখে থাকি। তাই আমার কাছে, "গেম অব থ্রোনস মানে-ভালবাসা"।
আজকের মতন বিদায় নিচ্ছি। আগামী পর্বে "How I met your mother" নিয়ে কথা বলবো।
©Sarah Iqbal

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. 👉 ɴɪᴄᴇ ᴘᴏsᴛ 🌹 বায়োস্কোপ । Bioscope 🌹

    ♪ sιтε ♪ Hassan-ali .tk ♪

    ♥ σωηεя ~> нαssαη αℓι ♥

    ♥ ¢яα¢кєяχ 🌹 вσт 🌹 тєαм ♥

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন