The Bridges of Madison County: A Story of Pure & Absolute Love
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0


★ মুভি রিভিউ ★
হলিউডের কোন জনরা আপনার সবথেকে ভালো লাগে, যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয় বরাবর উত্তর একটিই হবে, “ক্রাইম-থ্রিলার “। তবে তাই বলে অন্য জনরা যে দেখি না, তা কিন্তু নয়। আর হলিউড অথবা বলিউড, টলিউড, কলিউড, মলিউড কিংবা স্প্যানিশ, কোরিয়ান, টার্কিশ যাই বলুন না কেন, এমন একটি জনরা আছে যার মুভিগুলো আমাকে অন্যরকম আনন্দ দেয়, অন্যরকম বেদনা দেয়, অন্যরকম ভালো লাগা ও কষ্ট লাগার সংমিশ্রিত অনুভূতিতে দোদুল্যমান রাখে। আর সেই জনরা হলো, “রোমান্টিক জনরা”। যাইহোক, আজ আমি আপনাদের সামনে ২২ বছর আগের একটি রোমান্টিক মুভির রিভিউ নিয়ে এসেছি।
তাহলে শুরু করা যাক।

—>>> The Bridges to Madison County <<<—
Release Date: 2 June,1995
Genre: Drama, Romance
Language: English
Running Time: 135 minutes
Imdb Rating: 7.6/10
Rotten Tomatoes Rating: 89%

১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই মুভিটির গল্প মূলত, ১৯৯২ সালে রবার্ট জেমস ওয়ালার রচিত সেই সময়ের সেরা বিক্রিত উপন্যাস "দ্যা ব্রিজেস অব মেডিসন কাউন্টি" থেকে ধার করা হয়েছে। মুভিটির পরিচালক হলেন, হলিউডের কিংবদন্তি ওয়েস্টার্ন নায়ক ক্লিন্ট ইস্টউড। ইস্টউড পরিচালনার পাশাপাশি মুভির নায়ক চরিত্রে অভিনয় ও মুভির যৌথ প্রযোজক হিসেবেও ভূমিকা পালন করেছেন। আর ইস্টউডের নায়িকা হিসেবে ছিলেন মেরিল স্ট্রিপ নামক গত শতাব্দীর অন্যতম অভিনেত্রী।

এবার তাহলে মুভির প্লট নিয়ে কথা বলি । মুভির গল্প গড়ে উঠেছে একটি ছোট গ্রামাঞ্চলের একজন খুবই সাধারণ মধ্যবয়সী গৃহবধূর জীবনের প্রেম কাহিনী নিয়ে। তবে এই প্রেম তার বিবাহ পূর্ববর্তী প্রেম অথবা বিয়ের পর স্বামীর সাথে প্রেম নয়। এই প্রেম তার জীবনে মাত্র চারদিনের জন্য আগত কোন অচেনা অজানা অপরিচিত মধ্যবয়স্ক একজন নামকরা ফটোগ্রাফার সাংবাদিকের সাথে তার প্রেমের গল্প। একদিনে আগেও যার অস্তিত্ব সম্পর্কে তার কোন ধারণা ছিলো না, একদিন আগেও যিনি স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে আপন ভুবনে ডুবে ছিলেন, সেই নারীর জীবনে আচানক ঘটে যাওয়া অদ্ভুত প্রেমের গল্প নিয়েই মুভিটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এই প্রেমের পরিণতি কি হবে?

আপনার প্লট পড়ার পর মনে হতে পারে, "ধুর যাহ! পরকীয়া প্রেম!" আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে পরকীয়া প্রেমকে খুব বেশি ঘৃণা করি। তাই মুভি দেখা যখন শুরু করে, ভেবেই রেখেছিলাম এই মুভি দেখে আমার পরম শ্রদ্ধেয় ও অন্যতম পছন্দের অভিনেতা ইস্টউডের উপর প্রচণ্ড রাগ উঠবে । কিন্তু মুভি শেষ হবার পর, আমি আবিষ্কার করি, আমার চোখদুটো দিয়ে অঝোর ধারায় বর্ষণ শুরু হয়ে গেছে। আসলে প্রেম বড়ই অদ্ভুত।কখন,কোথায়, কাকে ভালবেসে জান প্রাণ উজাড় করে দেওয়া যায়, তা আগে বলাটাই মুশকিল।
যাইহোক, এবার অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে বলি। ইস্টউড শুধু বন্দুক হাতে আর বুটজুতো-হ্যাট পরে ঘোড়ায় চড়ে যে শত্রুকে দমন করতে পারেন, তা ই নয়। তিনি চরম রোমান্টিকও হতে পারেন। তাঁর চোখেমুখে প্রায় ৬৫ বছর বয়সেও তিনি দারুণ প্রেমময় ভাব ফুটিয়ে তুলে মুখে হৃদয়ছুঁয়ে যাওয়া ডায়লগ দিতে পারেন। আর মেরিল স্ট্রিপের কথা কি বলবো? তিনি তো মুভির প্রাণ। পুরা ভালবেসে ফেলেছিলাম ফ্রান্সিস্কা চরিত্রটিকে। আর ইস্টউড পরিচালক হিসেবেও যে অসাধারণ মানতেই হয়। এছাড়া মুভিতে ব্যবহৃত গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলোও বেশ শ্রুতিমধুর ছিলো।

মুভিটির সাফল্যেগাঁথা যদি বলতে হয়, তাহলে প্রথমেই বলি মুভিটি বক্স অফিসে দারুণ সফল হয়েছিলো। মুভিটি টপ বক্স অফিস ফিল্ম হিসেবেও এ. এস. সি.এ.পি. থেকে পুরস্কার জিতে নেয়। মেরিল তাঁর অসাধারণ অভিনয়শৈলীর জন্য অস্কার ও গোল্ডেন গ্লোবে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে এর পরের বছর মনোনয়ন প্রাপ্ত হোন। মুভিটি জাপানের একটি বিখ্যাত এওয়ার্ড শোতে সেরা ভিনদেশি মুভি হিসেবে নির্বাচিত হয় ও ক্লিন্ট ইস্টউড সেরা ভিনদেশি পরিচালক হিসেবে পুরস্কার জিতে নেন। তাছাড়া ২০০২ সালে মুভিটি আমেরিকান ফিল্ম ইন্সটিটিউশন থেকে সর্বকালের সেরা ১০০ প্যাশন জনরার মুভির মধ্যে ৯০ তম স্থান লাভ করে।

মুভির একটা প্রিয় লাইন দিয়ে রিভিউ শেষ করছি। " আমার পুরোটা জীবন আমি আমার পরিবারের জন্য উৎসর্গ করেছি। তাই মৃত্যুর পর আমার যতটুকু অবশিষ্ট থাকবে, আমি তা রবার্টকে দিতে চাই"। আশা করি মুভিটা সবার ভালো লাগবে। সব টরেন্ট সাইটেই লিংক পাবেন। ধন্যবাদ 😊।

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন