Banshee: আমার মন খারাপের ঔষধ
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

গত শুক্রবারের মতন আজকেও আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি, আমার আরো একটি পছন্দের টিভি সিরিজের রিভিউ। আপনারা যারা আমার গত পর্বের রিভিউটি পড়েছেন, তারা সকলেই জানেন, “ডেক্সটার” আমার সবথেকে পছন্দের টিভি সিরিজ। যদিওবা আমার পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে “গট” রয়েছে। তবুও যেহেতু আজকাল সব মুভি রিলেটেড গ্রুপগুলোতেই গটের জয়জয়কার, তাই আমি আজ আমার তৃতীয় পছন্দের টিভি সিরিজ “Banshee” নিয়ে আজ কথা বলবো। আগামী শুক্রবার “Game of Thrones” নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো, কথা দিচ্ছি।
তাহলে শুরু করা যাক।

♥ সিরিজ রিভিউ ০২ ♥
——>>> Banshee <<<——

প্রথমে এই সিরিজটির সাথে আমার পরিচিত হবার গল্পটি বলে নেই। সময়টা ছিলো ২০১৬ সালের মে মাস। আমার ভার্সিটির ফাইনাল এক্সাম শেষে সেমিষ্টার ব্রেক চলছিলো। একদিন কোন এক কারণে মধ্যরাতে আমার প্রিয়তম মানুষটির সাথে আমার কোন একটি বিষয় নিয়ে সামান্য মনমালিন্য হয়। আমি মন খারাপ নিয়েই ঘুমিয়ে পরি। আমার উনি আবার খুব ভালো করেই আমাকে কি করে খুশি করা যায় সেই জাদু জানেন। তাইতো সকালে ঘুম থেকে উঠে মেসেঞ্জারে উনার মেসেজ দেখি, “মিথিলা, নাও। তোমার জন্য পারফেক্ট সিরিজ খুঁজে পাইলাম”। আর মেসেজের সাথে একটা সিরিজের ডাউনলোড লিংক। আমি সিরিজ কেমন তা আগে গুগলে সার্চ না করেই, আমার উনার কথার উপর ভরসা করে সিরিজটির প্রথম সিজন ডাউনলোড করতে দিয়ে দিলাম। বাকিটা ইতিহাস। ওইদিন সকাল এগারোটা থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত টানা পুরো সিজন শেষ করেই, আমার মনের তৃষ্ণা মিটেছিলো।

যাইহোক, নিজের কথা বাদ দিয়ে এবার সিরিজের কথায় আসা যাক। “Banshee” সিরিজটি আজকের দুনিয়ামাতানো অন্যান্য টিভি সিরিজ থেকে অনেকটা আন্ডাররেটেড। হয়তোবা, অনেক ক্রাইম, একশন ও ড্রামা সিরিজের পাশাপাশি এর নাম সচরাচর উচ্চারণ করা হয়না। কিন্তু আমার কাছে, এটি অন্যতম সেরা ক্রাইম-ড্রামা-একশন জনরার টিভি সিরিজ। সিরিজটির পথচলা শুরু হয়েছিলো আজ থেকে পাঁচ বছরের কাছাকাছি সময়ে, ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি। চারটি সিজন ও মোট ৩৮টি পর্বের এই সিরিজটির জনক, Jonathan Trooper ও David Schickler নামক এই দুই ব্যক্তি। সিরিজটির অরিজিনাল নেটওয়ার্ক সিনেম্যাক্স ও ডিস্ট্রিবিউটর হলো, “এইচ.বি.ও”। সিরিজটি প্রায় টানা চার বছর চলার পর ২০ মে, ২০১৬ সালে চতুর্থ সিজনের আটতম পর্বের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটায়। সিরিজের প্রতিটি পর্বের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪৩ মিনিট থেকে এক ঘন্টার কাছাকাছি সময়। সিরিজের শুটিং প্রথম তিন সিজনের উত্তর ক্যারোলিনার ও শেষ সিজনের পেনসিলভানিয়াতে হয়েছিলো। পুরো সিরিজটিতে প্রায় ৬৫৫ জন অভিনয়শিল্পী কাজ করেছেন, যাদের মাঝে প্রধান প্রধান ভূমিকাতে অভিনয়কারী শিল্পীরা হলেন Antony Starr, Ivana Milicevic , Ulrich Thomsen , Frankie Faison, Lili Simmons, Hoon Lee।
এবার সিরিজের প্লট থেকে ঘুরে আসা যাক। “Banshee” ছোট একটি শহরের নাম। বৃহৎ আমেরিকার ৫০টি স্টেটের মাঝে উত্তরে-পূর্বে অবস্থিত পেনসিলভানিয়ার কোলে বেড়ে উঠা অত্যন্ত ছোট একটি শহর এই ব্যানশী। এই শহরটি এতোটিই ক্ষুদ্র যে এখানে কারো বাড়িতে একটি মশা মারলেও মনে হয়, খবরটি পুরো শহরে পৌছে যাবে। এই শহরের সবাই সবাইকে চিনে। ভালো ও খারাপ দুই ধরণের মানুষেরই বসতি রয়েছে এই শহরে। তবে দিনশেষে, হিসাবের খাতা খুললে দেখা যাবে, শহরের মানুষের তুলনায় এখানে সংঘটিত হওয়া অপরাধমূলক ঘটনার সংখ্যা প্রায় দশগুণ। আর এই অপরাধগুলো কিন্তু এই শহরে নতুন নতুন আগত অচেনা অপরিচিত লোকদের কারণে নয়। বরং শহরে কয়েক শতাব্দী ধরে বসবাসরত সম্মানীয় বংশের লোকজন দ্বারা পরিচালিত অপরাধচক্রের কারণে সৃষ্ট। আর এমন এক শহরে হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই একজন অপরিচিত লোকের আবির্ভাব ঘটে, যে কিনা নিজেকে শহরের নতুন শেরিফ বলে দাবী করে। কিন্তু এই আগত নতুন শেরিফকে সহজে মেনে নিতে পারলো না, শহরের অপরাধচক্রের সাথে জড়িত লোকজন। এমনকি শহরের নিরাপত্তা ও অপরাধজনক ঘটনাকে প্রতিরোধ করার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের মনেও নতুন শেরিফকে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ছিলো। নতুন শেরিফ আসলে কে ছিলো? কি তার উদ্দেশ্য? তিনি কি পারবেন এই শহরের ভার নিজ কাঁধে তুলে নিতে? এই শহর কি পারবে নতুন শেরিফকে স্বাগত জানিয়ে বরণ করে নিতে?
এই প্রশ্নগুলো আপনাদের জন্য তুলে রাখলাম।

এবার সিরিজটির অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে কিছু কথা বলি। আমার ব্যক্তিগত স্বভাব অনুসারে, আমি যেই সিরিজই দেখি না কেন আর সেই সিরিজের মূল নায়ক চরিত্রটি ভালো কিংবা খারাপ যেমনই হোক না কেন, আমি দু’চোখ বন্ধ করে তাকে ভালবেসে ফেলি। এই সিরিজটির সাথে এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আমি লুকাস হুড নামক ব্যানশী শহরের সেই শেরিফের প্রেমেও পড়েছিলাম। লুকাস হুড নামক শেরিফের পিছনে লুকিয়ে থাকা সেই সত্তাটিকে আমি ভালবেসে ফেলেছিলাম যার অতীতে খারাপ দিকের পাশাপাশি ছিলো একটি ভালবাসাপূর্ণ হৃদয়। লুকাস হুডের কঠিন ও কোমলের সংমিশ্রণে গঠিত মন, বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ ও দুরন্ত গতি, শত্রুকে মিত্রের মতন ব্যবহার করে বশে আনার কৌশল ও কোনকিছুতে ভয় না পাবার মতন আত্মবিশ্বাস, আমাকে তার প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছিলো। এছাড়া রেবেকা নামক চরিত্রটি নারী চরিত্রগুলোর মধ্যে আমার প্রিয় চরিত্র। রেবেকার নিজের প্রতি আস্থা, মন-মগজ দু’টো একত্রিত করে সামনে এগিয়ে যাবার ও কোনকিছু হাসিল করার মনোভাব ও অকৃত্রিম সাহসিকতা, এসবকিছুই প্রশংসার দাবিদার। ক্যারি চরিত্রেরও অনেক ভালো ভালো দিক থাকলেও কেন জানি আমার পছন্দ হয়ে উঠেনি। তাছাড়া ভিলেন হিসেবে কাই চরিত্রটি ছিলো অসাধারণ। মানুষ চেহারায় কতোটা ঠান্ডা ভাব এনে দুনিয়ার সব জঘন্যতম পাপ কাজ গুলো একের পর এক করে যেতে পারে, এটা এই চরিত্রটিকে দেখলে বুঝা যায়। সুগার ও বব চরিত্র দুটি সিরিজে যোগ করেছিলো আলাদা মাত্রা।

এবার সিরিজের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে কিছু কথা হয়ে যাক।সিরিজটির প্রথম সিজন রোটেন টমেটোস থেকে মাত্র ৬০% রেটিং পেলেও, বাকি ৩টি সিজনের রেটিং ৯০-১০০% এর মাঝেই ছিলো। সিনেম্যাক্সের সিরিজগুলোর মধ্যে এর প্রথম সিজনের দর্শকসংখ্যা সর্বোচ্চ ছিলো। এমনকি এর সিজন ফাইনাল সিনেম্যাক্সের সিরিজ হিসেবে সর্বকালের সেরা দর্শকজনপ্রিয়তা পাওয়া একটি পর্ব হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। তবে এই সিরিজ নিয়ে কিন্তু সমালোচনাও কম হয়নি। অনেক সমালোচকদের মতে, সিরিজটিতে অতিরিক্ত বর্বরতা ও অশ্লীলতা ফুটে উঠানো হয়েছে। এমনকি অনেকের মতে, সিরিজটিতে কাহিনীর গভীরতা কম আর যৌনতা ও পাশবিকতা অধিকতর।

এতকিছুর পরেও আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করেন, “সিরিজটি কি ভালো?” অথবা, “আপনার এই সিরিজ এতো ভালো লাগার কারণ কি?”, তাহলে শুধু বলবো, আপনি আগে একটি পর্ব তো দেখুন। একটি পর্ব দেখার পরেও যদি আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে পান, তাহলে এই সিরিজ আপনার জন্য নয়। অশ্লীলতার কথা যদি বলি, তাহলে ইংলিশ টিভি সিরিজগুলোতে কমবেশি অশ্লীল দৃশ্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর বর্বরতার কথা যদি বলি, পর্দার অপরাধ ও অপরাধীদের দ্বারা সংঘটিত ভয়ানক সব হিংস্র কর্মকাণ্ড বরাবরই আমাকে আলাদা রকমের আনন্দ দেয়। আমার পছন্দের জনরাই হলো, ক্রাইম থ্রিলার। বাকিটা আপনাদের মর্জি।

মনে আছে, রিভিউয়ের শুরুতে নিজে কি করে এই সিরিজের সাথে পরিচিত হই, সেই ঘটনা বলেছিলাম? তারপর কি হলো জানেন? এরপর সেই সেমিষ্টার ব্রেকের বাকি দিনগুলোতে আমার মনমেজাজের সম্পূর্ণ ভার আমি সঁপে দিয়েছিলাম “ব্যানশী” নামক সেই ছোট শহরের উপর।

তাই তো আমি এই সিরিজকে – “আমার মন খারাপের ঔষধ” বলে আখ্যায়িত করে থাকি। আশা করি, রিভিউ সবার ভালোই লাগবে। ধন্যবাদ 😊।

©Sarah Iqbal

এই পোস্টটিতে ৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. download korar link ta diben plz torrent or other… series gulo niye j vabe lilhen dakhar issa hoi onek kintu download link pai nah…website pai nah… parle download link ta diye diyen

  2. Tarik Hasan says:

    gd….asa kori valo hobe….r tomak toh friend req daoa jainah j movie nea ektu alochona korbo

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন