আমার একজন সিরিয়াল কিলারের প্রেমে পড়ার গল্প
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

গত এক ঘন্টা ধরে বসেই আছি, কিন্তু কিভাবে শুরু করবো কিছুতেই মাথায় আসছে না। আসলে, আমি অন্যান্য রিভিউদাতাদের মতন তেমন যুক্তিতর্ক ও কথার মারপ্যাঁচে রিভিউ সাজাতে পারিনা। আমার রিভিউ মানে আমার নিজস্ব অভিব্যক্তির প্রতিফলন। যাইহোক, তাহলে রিভিউয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা যাক।

——>>> Dexter <<<——
আজ আমি আপনাদের রিভিউ শুরু করার পূর্বে ছোট একটি গল্প শুনাবো।গল্পটি একটি অতি সাধারণ মেয়ের গল্প যে কিনা বাস্তবে নিজের হাত দিয়ে একফোঁটা রক্ত বের হলেই সারা বাসায় মাথায় তুলে চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। কিন্তু টিভি সিরিজ ও মুভির ক্ষেত্রে তার প্রথম পছন্দ হলো অপরাধকে মূল ভিত্তি ধরে গড়ে উঠা গল্পগুলোই। আর সেটি যদি সিরিয়াল কিলার নিয়ে গড়ে উঠা কোন কাহিনী হয় তাহলে তো কথাই নেই। যে মেয়ে বাস্তব জীবনে মানুষ কি করে এতো নির্মম হয় যে আরেকজন মানুষকে খুন করে ফেলে এসব ভেবে ভেবে মন খারাপ করে ফেলে। সেই মেয়ে নাকি পর্দার ভয়াবহ হত্যাকান্ডগুলোও হাঁ করে বসে বসে গিলে। আর এই মেয়ের জীবনে ২০১৬ সালে এমন এক সিরিয়াল কিলারের আবির্ভাব ঘটে যে কিনা মেয়েটির জীবনে পূর্বে আগত সকল অপরাধ সংক্রান্ত গল্প ও অপরাধী-খুনিদের পিছনে ফেলে আলাদা এক স্থান গড়ে নেয় মেয়েটির মন ও মস্তিষ্কে। আর সেই বিশেষ সিরিয়াল কিলারটি আর কেউ নয়, তিনি আমার কাল্পনিক ভালবাসা ” ডেক্সটার”। আর মেয়েটি কে ছিলো সেটা তো বলার দরকার নেই নিশ্চয়ই?
তাহলে এবার “ডেক্সটার” সিরিজ নিয়ে কথাবার্তা শুরু করা যাক। “ডেক্সটার” এমন একটি টিভি সিরিজ যা আপনি না দেখে থাকলেও এর টিভি সিরিজ জিনিসটার সাথে হালকাপাতলাও পরিচিতি থাকে, তাহলে কোন না কোন উৎস থেকে, কখনো না কখনো আপনি এই টিভি সিরিজটির কথা শুনেছেন এটা আমি মোটামুটি শিওর হয়েই বলতে পারি। আজ থেকে প্রায় ১১ বছর আগে শুরু হওয়া এই সিরিজটি চার বছর আগে শেষ হয়ে গেলেও তার রেশ এখনো ডেক্সটার ভক্তদের মন থেকে কাটেনি। তাইতো এখনো যখন ক্রাইম রিলেটেড টিভি সিরিজ নিয়ে আলোচনা হয়ে, ঘুরেফিরে বারবার সকলের মুখেই ডেক্সটার! ডেক্সটার! এই একটি শব্দই উচ্চারিত হতে থাকে। আসলে, ডেক্সটার শুধু একটি টিভি সিরিজই নয়। ডেক্সটার হলো একটি টিভি সিরিজের, খলনায়ক ও নায়কের সংমিশ্রণে সৃষ্ট এক অভূতপূর্ব কাল্পনিক চরিত্র।

এবার প্লটের দিকে একটু ঘুরে আসা যাক। “ডেক্সটার” সিরিজটি মূলত Jeff Lindsay এর ২০০৪ সালে প্রকাশিত হওয়া উপন্যাস, “Darkly Dreaming Dexter” থেকে সংকলিত।ডেক্সটার সিরিজের প্রথম সিজনের গল্প এই উপন্যাসের মূল ধারাকে ঠিক রেখে পরিমার্জিত করে পর্দায় উপস্থাপনের যোগ্য গল্প তৈরি করা হলেও, বাকি সকল সিজনগুলোর গল্পগুলো সিরিজের নিজস্ব চিত্রনাট্যকার James Manos Jr. এর মুক্ত ও স্বাধীন লেখনশৈলীর পরিবর্ধিত রূপ। সিরিজের গল্প গড়ে উঠেছে ডেক্সটার নামক একজন পূর্ণ বয়স্ক, শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত পুরুষের ও তার চারপাশের সকল মানুষ ও সে যে শহরে বাস করে তার অপরাধ জগত নিয়েই গড়ে উঠেছে। ডেক্সটার নামের এই লোক পেশায় মায়ামি মেট্রো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের একজন ফরেনসিক টেকনিশিয়ান। কিন্তু তার আড়ালে ডেক্সটারের আরো একটি পরিচয় আছে, যেটিকে একান্ত নিজের ভিতর পরম যত্নে ও অত্যন্ত সর্তকতার সাথে বাহিরের দুনিয়া থেকে লুকিয়ে রেখেছে। ডেক্সটারের পরিবার বলতে প্রথম সিজনে শুধু তার পালক পিতার মেয়ে ডেব্রাকেই দেখানো হয়। ডেব্রার বাবার একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন, যিনি কিনা ড়েক্সটারকে ছোটকাল থেকেই নিজের ছেলের মতনই আদর,যত্ন ও ভালবাসা দিয়ে বড় করেছেন। আর এই পিতার মৃত্যুর পর, ডেব্রাই ডেক্সটারের পুরো দুনিয়া হয়ে উঠে। ডেক্সটারের পিতা শুধু ডেক্সটারের সেই দানবীয় সত্তার কথাই জানতেন না বরং সেটিকে আংশিক সমর্থনও করেছিলেন। তাই ডেক্সটার পিতার মৃত্যুর পরেও তার সকল কাজে,সকল সিদ্ধান্তে, সকল পদক্ষেপে কল্পনায় পিতার সাথে শলাপরামর্শ করে নিতো। সিরিজে মূলত এমন এক মায়ামি শহরকে তুলে ধরা হয়েছে যেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারের মতন যখন একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটে যাচ্ছিলো, একের পর এক সিরিয়াল কিলারের আগমন ঘটছিলো। আর মায়ামি মেট্রো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট যখন শহরের অপরাধ প্রবণতা কমাতে, শহরের নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করতে ও অপরাধীদের শায়েস্তা করতে হাঁপিয়ে উঠছিলো, সেই সময়ে ডেক্সটার নামক মায়ামি শহরের এক সুপারভিলেন রূপী এক সুপারভিলেনের আগমনে মায়ামি শহরের জনগণ অনেকটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলো।কিন্তু ডেক্সটারের এই রূপ তার কর্মক্ষেত্রে তুমুল ঝড় তুলে ও সহকর্মীদের রাতের ঘুম হারাম করে দেয়। এছাড়াও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরে ডেক্সটারের পারিবারিক জীবনে ও ডেক্সটারের আপনজনদের উপর। আর এভাবেই মূলত সিরিজের গল্প আটটি সিজনে আটটি আলাদা আলাদা মূল খুনের গল্পের পাশাপাশি ডেক্সটারের ব্যক্তিগত জীবন, তার আশেপাশের লোকজনদের ব্যক্তিগত জীবন ও তার আরো ছোটখাটো পাশবিক কর্মকান্ডের কাহিনী বর্ণিত হয়ে প্রতিটি সিজনকে আলাদা আলাদাভাবে আকর্ষণীয় করে পর্দায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

ডেক্সটারের অভিনেতাশিল্পীদের কথা বলবো? আমার দেখা সেরা সিরিজ কলাকুশলী দল ছিলো ডেক্সটারের। প্রতিটি চরিত্রকে আমার বাস্তব মনে হচ্ছিলো। ডেক্সটারের কথা তো আর নাই বলি, আমি মাইকেল এইচ. হল কে তা জানি না, কারণ আমি শুধু ডেক্সটার নামক এক দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলারকে চিনি, যার জাদুতে আমি বিমোহিত। ডেক্সটার ছাড়াও ডেব্রা, মারিয়া, জোসেফ, বাটিস্টা, ভিন্স এদেরকে প্রত্যেককে অসম্ভব ভালো লেগেছিলো। পুরা সিরিজের ডেক্সটারের স্ত্রী রিটাকে সবথেকে অসহ্য লেগেছিলো। হেনাকে এমনিতে ভালো লাগলেও ডেক্সটারের সাথে সহ্য হয়নি বেশি। মোটকথা, ডেক্সটার ও তার জীবন জুড়ে থাকা লোকজনকে আমি নিজের জীবনের একটি অংশ ভেবে নিয়েছিলাম, সিরিজটি দেখাকালীন সময়ে।

আর ডেক্সটারের মিউজিকের কথা কি আর বলবো? থিম মিউজিকটা এতোটাই প্রিয় যে এখন রিং টোন হিসেবে দিয়ে রেখেছি। আর প্রতিটি এপিসোড ও সিজনের মিউজিকগুলোর প্রতিটিই অসম্ভব শ্রুতিমধুর লেগেছে আমার। সিরিজের সংগীত আয়োজনে ছিলেন Daniel Licht, Gary Calamar, Adyson Vidoli।

এবার ডেক্সটারের কিছু সাফল্যের গল্প বলি। আপনি যদি মেটাক্রিটিক ও রোটেন টমেটোসের রেটিং দেখেন তাহলে দেখবেন, ডেক্সটারের সিজন ২ সবথেকে পজেটিভ রিভিউ পেয়েছে। এমনকি ডেক্সটার সিজন ২ এ এসেই দর্শকজনপ্রিয়তার দিক থেকে তুঙ্গে উঠে। ২০০৭-২০০৮ এরদিকে শো টাইমের এই সিরিজ দর্শকদের মাঝে আলাদা এক ধরণের সিরিয়াল কিলার নিয়ে আমেজ তৈরি করে। অন্যদিকে, সিজন ৬ ছিলো ডেক্সটার সিরিজের বাকি সিজনগুলোর মধ্যে সবথেকে কম রেটিং প্রাপ্ত ও দর্শকপ্রিয়তার দিক থেকেও কম জনপ্রিয় সিজন। এই সিজনটি শুধুমাত্র ডেক্সটার চরিত্রটির জন্য সিরিজটিকে পরবর্তী সিজন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছে বলেই সমালোচকেরা মন্তব্য করেন।
এছাড়া অর্জনের কথা যদি বলতেই হয় তাহলে ডেক্সটারের কিছু অর্জনের কথা না বললেই নয়। ডেক্সটার এমন এক সিরিজ যা ২০০৮-২০১১ সাল পর্যন্ত টানা চারবার প্রাইমটাইম এমি এওয়ার্ডে সেরা টিভি সিরিজের ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পায়। এমনকি ডেক্সটার চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য মাইকেল এইচ. হল টানা পাঁচবার প্রাইমটাইম এমি এওয়ার্ড এ সেরা টিভি মনোনয়ন লাভ করেন। তাছাড়া মাইকেল তার অনবদ্য চরিত্র ডেক্সটারকে পর্দায় এতোটা জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য ২০১০ সালে গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড জিতে নেন। ডেক্সটার সিরিজটি এতোটাই খ্যাতি পায় যে এর নামে নানা রকম আইপ্যাডে ও আইফোনে গেমস বের হয়েছিলো। এমনকি মার্ভেল কমিকস থেক্র ২০১৩ সালে “ডেক্সটার লিমিটেড সিরিজ” প্রকাশ করে । এর লেখক ছিলেন, ডেক্সটার চরিত্রের জনক জেফ। ডেক্সটারের কিছু কিছু এপিসোড বিশেষ সিজন ফাইনাল গুলো দর্শকদের টানার দিক থেকে শো টাইমের আগের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সিজন ৭ সবথেকে বেশি দর্শক দেখেছিলো তা শো টাইমের জন্য যুগান্তকারী রেকর্ড গড়েছিলো।

ডেক্সটার সিরিজের কিছু খারাপ দিক মানুষের মনের উপর খারাপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের নানা জায়গায় ঘটিত নানা অপরাধ করার পর অপরাধীরা ডেক্সটার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে করেছে এমন দাবি করেছে। তার মাঝে ব্রিটিশ এক তরুণের দুইটি মেয়ের হত্যা অন্যতম। সুইডেনে এক নারী নিজেকে দ্যা ডেক্স্যার ওইমেন বলে দাবি করতেন। তিনি তার পিতাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।একবার এক ১৭ বছরের ছেলে নিজের ১০ বছর ভাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করলে সে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়, “আমি ডেক্সটারকে নিজের ভিতর অনুভব করি”। এছাড়া আরো অনেক এমন গল্প রয়েছে। এমনকি ডেক্সটার সিরিজকে যাতে টিভিতে না দেখানো হয় সেই নিয়ে ইউটিউবে ও নানা আন্দোলনও প্যারেন্টস প্রটেক্টশন কাউন্সিল নামক একটি সংস্থা বেশ তোড়জোড়ে করেছিলো।

মনে আছে, রিভিউ শুরুর আগে একটি মেয়ের কথা বলেছিলাম? আপনি কি জানেন, মেয়েটি ডেক্সটারের প্রতন এতোটাই আসক্ত হয়ে পরেছিলো যে সিরিজ সম্পূর্ণ শেষ করার পর টানা দুই সপ্তাহ স্বাভাবিক হতে পারেনি। আমি জানি না, মেয়েটির সাথে আসলে কি ঘটেছিলো। কিন্তু এইটুকু জানি, সিরিজ জিনিসটা বড্ড খারাপ আর তার থেকে আরো খারাপ সিরিজের প্রিয় চরিত্রগুলো। অনেকদিন টানা একটি সিরিজ দেখলে, তা হঠাৎ শেষ হয়ে গেলে তখন বুকের ভিতরটা এতো শূন্য লাগে তা লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

যাইহোক, এটি ছিলো আমার একজন সিরিয়াল কিলারের প্রেমে পড়ার গল্প। আর আপনারটি?

এই পোস্টটিতে ১৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Shahriar Joy says:

    প্রত্যেকটা কথাই যেন আমার মনের কথা। ভাল লাগার দিক দিয়ে গেম অব থ্রোনস কিংবা ব্রেকিং ব্যাড এর চেয়েও ডেক্সটার আমার অনেক বেশি প্রিয়।
    ডেক্সটার যেন একজন মানুষের মানসিক সহ্যশক্তির সর্বোচ্চ পরীক্ষা। হৃদয়ে এমন প্রবল ধাক্কা দেয় যে, সবচেয়ে পাষাণ হৃদয়টাও কোমায় চলে যেতে বাধ্য হয়। আর ডেক্মটারের বিখ্যাত সেই বিশেষ এপিসোড দেখা মানে মিনিমান এক সপ্তাহের ডিপ্রেশন সঙ্গী করে নেয়া।

    • Sarah Iqbal says:

      বাহ! আপনি ভালো কমেন্ট করতেও জানেন 😱 আমি পোস্টটা এডিট করেই দিতাম। সামান্য স্পয়লারের জন্য আপনি ওমন কড়া কমেন্ট না করলেও পারতেন। “আপু, এই বাক্যটি মুছে দিন” বলাও যেতো তাই না? যাইহোক, ওই গ্রুপে আর পোস্ট দিবো না। আর আপনি আমার পোস্ট এড়িয়ে গেলেই আপনার জন্য ভালো। খামাকা স্পয়লার খাবেন কেন। 👿

    • Shahriar Joy says:

      ভাল পোস্ট দিলে ভাল কমেন্ট পাবেন। স্পয়লার দিলে বকাও শুনবেন- এটাই তো স্বাভাবিক। আর আমি আপনাকে মোটেও খারাপ কিছু বলিনি। এইটুকু কথা সহ্য করতে না পারলে কেমনে চলবে?
      আমার একটা কমেন্টের জন্য আজীবনের জন্য গ্রুপ বর্জন! বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না? ঐটা কি আমার গ্রুপ নাকি আমি ঐ গ্রুপের এডমিন? আমি তো কিছুই না। তাহলে গ্রুপ বর্জন করবেন কেন?
      যাইহোক, আপনাকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আমি দুঃখ্যিত…

  2. Dexter,B.bad, GOT, suits, Friday nights lights, OZ, the wire, white collar, sherlock, prison break, narcos, daredevil,

    Love them all, the ultimate entertainment

  3. Timothi Roy says:

    সিজন টু শেষ করছিলাম। রাত্রে ঘুমানোর আগে ২টা করে এপিসোড দেখতাম। কিন্তু ঘুমানোর আগে দেখার ফলে স্বপ্নের মধ্যে শুধু রক্ত আর মৃত্যু দেখতাম আর অসহ্যকর একটা অনুভুতি হতো বিধায় বাকি গুলো দেখা হয়নি।

    তবে এক কথায় অসাধারণ একটা সিরিজ! আবার দেখতে শুরু করার ইচ্ছা আছে।

  4. Self-talk reflects your innermost feelings that what dexter makes me believe.

  5. আগের মত প্রতিদিন রিভিউ পাইনা কেন?

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন