শতাব্দীর একজন যুগান্তকারী তারকার গল্প
Share on Facebook194Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আজ আমি মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখবো। কারণ
আজ আমার হলিউডের সবথেকে প্রিয় অভিনেতার জন্মদিন। যদিওবা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও নাকি এই অভিনেতা কে বেশি পছন্দের তা নিয়ে নিজের মনের সাথেই অনেক সময় বেশ বড়সড় একটা দ্বন্দ্ব বেঁধে যায়, তবুও বলতে চাই এরা দুজনই আমার ফেভারিট। কেউ কারো থেকে কম ভালবাসার পাত্র নন। আর বয়স, প্রাপ্তি, অভিজ্ঞতা ও অভিনয়শৈলীর কথা গণনা করলে অবশ্যই লিওনার্দো থেকে তাঁকে আমি কেন সবাই ই এগিয়ে রাখবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। গত ৩৯ বছর ধরে ( ১৯৭৮-২০১৭) তিনি হলিউডে এক নামে যে দাপটের সাথে অভিনয় করে যাচ্ছেন তাঁকে সেই জন্য জানাই হাজারো সালাম। আজ যে তাঁর জন্মদিন আমি অনেক আগে জানলেও ইদানীং নানা চিন্তায় মাথা ভারাক্রান্ত থাকাতে প্রায় ভুলে বসেছিলাম। এই সপ্তাহখানেক আগে উইকিতে তাঁকে নিয়ে একটা তথ্য জানতে গিয়ে হঠাৎ তাঁর জন্মদিন চোখে পরলো। আর তৎক্ষণাৎ মাথায় বুদ্ধি আসলো কেন না এই মহান অভিনেতাকে নিয়ে উনার জন্মদিন উপলক্ষে একটু লিখালিখি হয়ে যাক। আমি আবার মেয়েটা চরম প্রকৃতির অলস প্রজাতির, তাই এতো বড় ট্রিভিউট পোস্ট লিখা আমার পক্ষে সবসময় সম্ভবপর হয়ে উঠে না, যেহেতু এবার হয়ে উঠেছে তারমানে এখন আমার নিজের কাছেও বেশ পরিষ্কার যে, আমি আসলেই তাঁর দারুণ ভক্ত। শুধু দারুণ ভক্তই নয়, একদম যাকে বলে চোখকান বন্ধ করে উচ্চমাত্রার অনুরাগী। যাইহোক, কাকে নিয়ে কথা বলেছি বুঝে গিয়েছেন তো নাকি? অবশ্য যারা কমবেশি হলিউডপ্রেমী তাদের তো না বুঝে থাকার প্রশ্নই থাকে না, কারণ আমি আমার পোস্টের সাথে তাঁর একটা ছবিও যে সংযুক্ত করে দিয়েছি তা তো আর কারো চোখ এড়ানোর নয়। হ্যাঁ, আমি হলিউডের অন্যতম একজন কিংবদন্তী টম হ্যানক্সের কথাই বলছি, যিনি কিনা গত চার দশক ধরে ইংরেজি মুভিতে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত নিজের পরিচয়কে আরো দৃঢ় থেকে দৃঢ়তম ভাবে উজ্জ্বল করে চলেছেন।

এবার আসি উনার সাথে আমার পরিচয় কিভাবে হয়েছিলো। তখন আমি সবে মাত্র ইংলিশ মুভি দেখা শুরু করেছি, অভিনেতা- অভিনেত্রী নিয়ে একদম কোন জ্ঞান নেই। কিন্তু বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ড্যান ব্রাউনের “The Da Vinci Code” উপন্যাসটি আগেই পড়ার কারণে এই উপন্যাসকে কেন্দ্র করে নির্মিত মুভিটি দেখার ইচ্ছা জাগে, যার ফলে মুভিটি নামিয়ে দেখেছিলাম। তারপর আর কি, মুভিতে রবার্ট চরিত্রে অভিনীত শিল্পীর অভিনয় ভালো লাগাতে তাকে নিয়ে নেটে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হয়। এরপর একে একে The Green Mile, Forrest Gump, The Terminal, Cast Away, Big,Saving Private Ryan, The Burbs, You’ve Got The Mail, Cloud Atlas,The LadyKillers, Captain Phillips, Catch Me If You Can, Saving Mr. Banks, Angels & Demons, Road To Perdition, Sleepless In Seattle, Philadelphia, Apollo 13, Money Pit, Splash, Bachelor Party, Bridges of Spies, A Hologram for King, Sully, Inferno, Toy Story, Polar Express ইত্যাদি মুভি দেখার মধ্যে দিয়ে আমি তাঁর অন্ধভক্তে পরিণত হই। তাঁর কত মুভি দেখে যে হাউমাউ করে কেঁদেছি সেই গল্পে আর নাই গেলাম। কখনো যোদ্ধা, কখনো জাহাজের ক্যাপ্টেন, কখনো পাইলট, কখনো পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো কোন দ্বীপে বন্দী বাসিন্দা, কখনো পেশাদার খুনি, কখনো মহাকাশচারী, কখনো সমকামী এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি, কখনো রোমান্টিক প্রেমিক, কখনো প্রিয়তম স্বামী,কখনো স্নেহশীল পিতা , কখনো আর্দশ পুত্র, কখনো বিপদে পিছপা না হওয়া বন্ধু ইত্যাদি ইত্যাদি চরিত্রে তাঁর কোন বিকল্প নেই। তাঁর বিকল্প তিনি শুধু নিজেই। প্রতিটি মুভিতে নিজের চরিত্রের মাঝে এমন নিখুঁতভাবে মিশে যান তিনি যে আমি মাঝেমধ্যে ভুলেই যাই উনি মুভিতে শুধুই একজন অভিনেতা, যিনি কিনা অন্য এক চরিত্রের মুখোশ পরে পর্দায় উপস্থাপিত হয়েছেন। তাঁর এমনি ক্ষমতা যে তিনি তার দক্ষ অভিনয়শিল্প দ্বারা দর্শককে বাস্তবতা ও কাল্পনিক জগতের পার্থক্য ভুলিয়ে দিতে পারেন।

এখন তাঁর হলিউডের আসার আগের গল্প একটুখানি বলি। আমি জানি, অনেকেই ভাববেন আজকাল এসব নেটে ঢুঁ দিলেই কয়েক সেকেন্ডের মাঝে চোখের সামনে এসে ধরা দেয়, তাহলে এতো কষ্ট করে লিখার দরকার কি? তাদের শুধু বলবো, ভালবাসি তাঁকে, তাই তাঁকে নিয়ে লিখতেও ভালবাসি। আজ আমরা যাঁকে টম হ্যানক্স নামে চিনি সেই কালজয়ী অভিনেতার আসল নাম হলো, Thomas Jeffrey Hanks যিনি কিনা ১৯৫৬ সালের ৯ জুলাই ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। হাসপাতাল কর্মী পর্তুগীজ বংশধর মা ও রাঁধুনি ইংলিশ বংশধর পিতার সংসারে বাবা-মার সাথে বেশিদিন একত্রে বেড়ে উঠা হয়নি তাঁর, কেননা ১৯৬০ সালে তাঁর পিতামাতার তালাক হয়ে যায়। তারপর পিতার কাছে বেড়ে উঠতে থাকেন তিনি, তাঁর বয়স দশ পেরুতে না পেরুতেই প্রায় দশটি বাসা বদল করে হয় তাঁর। আর এভাবেই বেড়ে উঠছিলেন আজকের এই মহানায়ক। যিনি কিনা স্কুলজীবনে অন্যান্য ছাত্রদের থেকে অনেকটা অদ্ভুত প্রকৃতির হবার কারণে স্টুডেন্ট থেকে শুরু করে শিক্ষকেরা তাঁকে একটু অন্যদৃষ্টিতে দেখতো, তাঁর কাছে কেউ তেমন ঘেঁষতো না। তারা কি আর জানতো, একদিন এই লাজুক, আজব কিসিমের ছেলেটি পুরো দুনিয়া কাঁপাবে? হাইস্কুল জীবন থেকে তিনি স্কুলের প্লে তে অংশগ্রহণ করার মধ্যে দিয়ে অভিনয়ে প্রথম পা রাখেন। তারপর আর থেমে থাকা নেই।তিনি কলেজেও থিয়েটারকে নিজের পড়াশুনার বিষয় হিসেবে বেছে নিলেন তিনি। তাঁর সমবয়সী সবাই যখন সুন্দরী রমণীদের ডেট করতে ব্যস্ত, তিনি তখন একা একা থিয়েটারে বসে নানা রকমের প্লে দেখে অভিনয় সংক্রান্ত নানা জ্ঞান ধারণ করতে আগ্রহী ছিলেন। এরপর কলেজে পড়াকালীন সময়ে Ohio র “The Great Lake” নামক থিয়েটারের পরিচালকের সাথে পরিচিত হবার পর তার পরামর্শ মতে তিনি সেখানে তিন বছরের জন্য ইন্টার্নিশিপ করতে যান। ফলে তাঁকে কলেজ ছাড়তে হয়। এরপর শুরু হয় তাঁর দিন বদলের পালা। ১৯৭৮ সালে জগৎবিখ্যাত লেখক, চিত্রনাট্যকার শেক্সপিয়ারের “The Two Gentleman of Verona” প্লেতে “Proteus” নামক ভিলেন চরিত্রে মঞ্চে অভিনয় করার ফলে তিনি ক্লিভল্যান্ড ক্রিটিক্স সার্কেল এওয়ার্ড জিতে নিয়েছিলেন যা কিনা তাঁর দীর্ঘ উনচল্লিশ বছরের সাম্রাজ্য গড়ার প্রথম ভিত্তিমূল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এখন তাহলে তাঁর অভিনয়জীবনের ১৯৭৮ সাল থেকে ২০১৭ সালে আসার গল্পের দিকে নজর দেই। টম হ্যানক্স সিনেমাজগতে আগমন ঘটান একটি ছোটখাটো বাজেটের মুভি, ” He knows you are alone” এর মাধ্যমে যেটি ১৯৮০ সালে মুক্তি পায়। ততদিনে তিনি আমেরিকার নিউইয়র্কের বাসিন্দা। এরপরের চার বছর তিনি নানা টিভি শো, মঞ্চনাটক ও টিভি মুভিতে অভিনয় করলেও এমন কোন মুভিতে রোল পাচ্ছিলেন না যেটি নাকি তাঁর জীবনে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। এরপর ১৯৮৪ সালে সেই বহুপ্রতীক্ষিত সময় আসে, তাঁর প্রথম মূল নায়ক চরিত্রে অভিনীত “Splash” নামক রোমান্টিক- কমেডি- ফ্যান্টাসি জনরার মুভিটি বের হয় যার পরে তাঁব আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।সবথেকে মজার ব্যাপার হলো, এই মুভিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিলো প্রথমে তাঁর, কিন্তু ভাগ্যক্রমে হঠাৎ মূল চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান।একই বছর তাঁর “Bachelor Party” এডাল্ট কমেডি মুভিটি বের হয় এবং দুইটি মুভিই বক্স অফিসে বেশ সাড়া জাগায়। ১৯৮৬ সালে “Nothing In Common” মুভিটির মাধ্যমে তিনি কমেডি রোল থেকে বের হয়ে এসে ড্রামাটিক রোলে নিজের নাম লিখান।তারপর একে একে “The Money Pit”, ” Dragnet”, “Big” মুভিগুলোর মধ্যে দিয়ে তিনি হলিউডে নিজের বেশ পাকাপোক্ত অবস্থান গড়তে শুরু করেন, এর মাঝে ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “বিগ” মুভিটিতে অসামান্য অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবারের মতন অস্কারে মনোনয়ন প্রাপ্ত হন। ওই একই বছর তিনি “Punchline” নামক মুভিতেও অভিনয় করেছিলেন। এরপরে কিছুদিন তাঁর সময় অনেকটা খারাপ যায়, পর পর তিনটি মুভি ব্যবসায়িক ভাবে সাফল্য পাইনি। সেগুলো হলো, “The Burbs”, “Joe Vs. The Volcano” ও “The Bonfire of the Vanities”। অবশ্য ১৯৮৯ সালের “Turner & Hooch” মুভিটির সাফল্য তাঁর অন্ধকার সময়ের কিছুটা আলো এনে দিয়েছিলো। তিনি প্রায় তিনবছর পর ১৯৯২ সালে “A League of Their Own” মুভিটি নিয়ে আবার নতুনরূপে ফিরে আসেন।যদিওবা তাঁর ভাষ্যমতে, প্রত্যেক অভিনেতার জীবনে একটি মুভি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে, আর তাঁর জীবনে সেই মুভিটি ছিলো ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত “Sleepless in Seattle” রোমান্টিক ঘরানার মুভি। তবে সত্যিকার অর্থে তাঁর ক্যারিয়ারের আসল চমক আসে ঠিক এর পরের বছর “Forrest Gump” মুভির মধ্যে দিয়ে যা কিনা আজো মানুষের মুখে মুখে তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের শোনা যায়। এছাড়া ১১৯৩ সালে “Philadelphia” মুভিটিতে সমকামী চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছিলেন তিনি। এই দুইটি মুভির জন্য দ্বিতীয় অভিনেতা হিসেবে পরপর দুই বছর দুইটি অস্কার জিতে নেওয়ার অমূল্য সম্মান অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে “Apollo 13” নামক বায়োগ্রাফি জনরার মুভিতে একজন বিখ্যাত মহাকাশচারী Jim Lovell এর ভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্যও তিনি প্রশংসা কুড়ান। এছাড়া NASA তাঁর প্রতি সম্মান জানাতে তাদের আবিষ্কৃত একটি গ্রহাণুর নাম তাঁর নামানুসারে রাখে। ওই একই বছর তিনি এনিমেটেড মুভি জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুভি সিরিজ “Toy Story” তে শেরিফ উডি চরিত্রে কন্ঠ দেওয়ার কাজও শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অন্য এক পরিচয়ে হলিউডে আত্নপ্রকাশ করেন, আর তা হলো পরিচালক হিসেবে। তাঁর প্রথম পরিচালিত মুভি ছিলো ” That Thing You Do” যাতে কিনা তাঁর নিজের পরিবারের লোকেরাও অভিনয় করেছিলো। ১৯৯৮ সালে তাঁর যুদ্ধের গল্পের উপর নির্মিত বেশ বড় রকমের বাজেটের “Saving Private Ryan” মুভিটি মুক্তি লাভ করে। এই মুভি তাঁকে অস্কারের জন্য মনোনয়ন এনে দেয় আর তাঁর সাথে এমন একটি পুরস্কার যা কি না খুব লোকের ভাগ্য জুটে। সেটি হলো, ইউ এস মিলিটারির পক্ষ থেকে পাবলিক সার্ভিস এওয়ার্ড। ২০০০ সালে “Cast Away” মুভিটিতে অভূতপূর্ব অভিনয়ের কারণেও তিনি অস্কারে মনোনীত হয়েছিলেন। এরপর ২০০২ সালে তাঁর দুইটি মুভি বের হয় যেগুলো হলো, “Road To Perdition” “Catch Me If You Can”, সেগুলোতেও বরাবরের মতন তিনি নিজের নামের মর্যাদা রাখেন। সেই বছর সর্বকনিষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে আমেরিকান ফিল্ম ইইন্সটিটিউট এর পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। ২০০৪ সালে The Ladykillers, The Terminal, Polar Express থেকে শুরু করে মাঝখানে অনেক ভালো ভালো কিছু মুভি উপহার দেওয়ার মাধ্যমে তিনি ২০১৭ সালের “The Circle” মুভিতে এসে পৌছেছেন। এগুলোর মাঝে ড্যান ব্রাউনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিরিজটি অন্যতম যার এখন পর্যন্ত “Angels & Demons”, ” The Da Vinci Code” ও “Inferno” এই তিনটি মুভি এসেছে যাদের প্রত্যেকটিতে তাঁকে চিরতরুণ অভিনেতা মনে হয়েছে। ২০১২ সালে জার্মান- আমেরিকার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত “Cloud Atlas” মুভিতে চারটি ভিন্ন ভিন্ন সাজে ও ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অবতারণের মাধ্যমে নিজেকে অন্যতম মেধাবী অভিনয়শিল্পী হিসেবে তুলে ধরেন।এছাড়া তাঁর ২০১৩ সালে অভিনীত “Captain Phillips” অন্যতম উল্লেখযোগ্য।

শুধু অভিনয়শিল্পী হিসেবে নয়, তিনি একটু প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবেও নিজের বিশ্ববাসীর সামনে মেলে ধরেছেন। “Band Of Brothers” নামক যুদ্ধভিত্তিক দুনিয়া জুঁড়ে সাড়া জাগানো মিনি টিভি সিরিজের তিনি একজন প্রযোজকই নন পরিচালকও বটে। এছাড়া আরো অনেক টিভি সিরিজও তিনি পরিচালিত করেছেন। তাঁর অভিনীত মুভি “Larry Crowne” মুভিটিও তিনি একযোগে প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন। তাঁর আরো একটি প্রযোজিত সেরা টিভি সিরিজ হলো, “The Pacific”। এছাড়া তাঁর অন্যতম দর্শকনন্দিত মুভি “Cast Away” ও তাঁর নিজের প্রযোজিত। এছাড়া আরো উল্লেখ করার মতন তাঁর প্রযোজিত দুইটি মুভি হলো, “My Big Fat Greek Weeding” ও “Charlie Wilson’s War”।

এবার তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একটু কথা বলি। ১৯৭৮ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি তাঁর কলেজ সুইটহার্ট সামান্থা লুইসকে বিয়ে করেন, যা কিনা তাঁর মতে, যৌবনকালের একাকীত্ব মেটানোর তাগিদেই সংঘটিত হয়েছিলো।বিয়ের কিছুদিন আগেই তিনি প্রথমবারের মতন বাবা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন এবং সেই ছেলে সন্তানটির নাম রাখেন কলিন হ্যানক্স। এর প্রায় চার বছর পর তাঁর কন্যা এলিজাবেথ হ্যানক্সের জন্ম হয়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি প্রতারক নই, তবে ২৭-২৮ বছর বয়সে এসে যে কোন মানুষ আরো বিবেক বিবেচনা মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তকে হ্যাঁ বলতে শিখে।” আর তাইতো ১৯৮৭ সালে তাঁর ও সামান্থার মধ্যে তালাক হবার পরে এর পরের বছর তিনি রিটা উইলসন কে বিয়ে করেন। তাঁর মতে, “রিটাকে পাবার পর মনে হয়েছিলো আমি এমন কাউকে পেয়েছি, যার সাথে আর কখনওই নিজেকে একা অনুভব করবো না”। তাঁর ও রিটা সংসারে পরে আরো দুজন পুত্র সন্তান আসে ও চার সন্তানের জনক- জননী এই জুটি ভালবাসার প্রায় ২৯ টি বছর একই ছাদের নিচে পরম সুখে বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ধূমপান, মদ্যপান করেন ও খুব নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করেন। তাঁর প্রতিরাতে ঘুমুতে যাবার সময় রাত দশটা মানে দশটা এর কোন নড়চড় হয়না। ২০১৩ সালে এই তারকার ডায়াবেটিস ধরা পরে। এই তারকার অন্যতম শখের কাজ হলো, পুরানো দিনের দুর্লভ টাইপ রাইটার সংগ্রহ করা। তাঁর এই টাইপ রাইটারের প্রতি ভালবাসা আইপ্যাডে “Hanx Writer” নামে একটি ডিজিটাল টাইম রাইটার এপ সংযোজন করতে অ্যাপেল কোম্পানিকে সহযোগিতা করেন। মানুষ হিসেবে তিনি বরাবরই অতীব নম্র-ভদ্র, উদার ও সরল জীবনযাপনকারী। এতো এতো অর্জন, সাফল্য ও দৌলত তাঁর ভিতরের সাধারণ মানুষটিকে হাওয়ায় মিলিয়ে দিতে পারেনি। এই অভিনেতা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটার নিয়মিত ব্যবহার করেন। গত বছর তিনি তাঁর জন্মদাত্রী মাকে হারান যাকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম সুন্দরী ও প্রিয় নারী বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি নাকি আমেরিকার কালজয়ী প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের দূর সম্পর্কের আত্নীয় ও বটে। ৬১ বছরের এই মানুষটি নিজের স্ত্রীর প্রতি এতোটাই মোহাচ্ছন্ন যে কোন এওয়ার্ড শো তে গেলে চারপাশকে ভুলে নিজের মোবাইলের ক্যামেরায় লাল গালিচায় দাঁড়ানো অবস্থায় স্ত্রী ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পরেন। এই অভিনেতা তাঁর ভক্তদের প্রতি ও অনেক যত্নশীল যা কিনা নানা ঘটনা দ্বারা প্রকাশ পেয়েছে।তাঁকে হলিউডের সবথেকে সেরা ব্যক্তিত্বের বলা হয়ে থাকে কারণ তিনি এমন একজন মানুষ যিনি সততার দিক দিয়ে কখনো পিছু হাঁটেন নি। তাঁর একটি মুভি একজোড়া দম্পতীর ভালো না লাগায় তিনি তাদের পঁচিশ ডলার ফেরত পাঠিয়েছেন বলেও তাঁর রেকর্ড আছে। এছাড়া তিনি সামাজিক সেবামূলক অনেক কাজ করেছেন শিশু-দুস্থ- অসুস্থ মানুষের কল্যাণে। তিনি অনেক স্বনামধন্য সামাজিক উন্নয়নকারী সমিতির সাথেও জড়িত। তাঁর এই অঢেল প্রাপ্তির মধ্যে মাত্র একটিই শুধু আফসোসের বিষয় রয়েছে।সেটি হলো, তিনি “The Shawshank Redemption” এ অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।যদিও তিনি নিজে এ নিজে কোন অনুশোচনা করেন না।

হলিউডের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে চিরতরে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলা এই তারকার অর্জন কিন্তু বলে শেষ করা যাবে না। তিনি নানা পুরস্কার ও সম্মানে আজ অবধি সম্মানিত হয়ে এসেছেন। সেগুলোর মধ্যে ২০০৬ সালের ডগলাস এস. মরো পাবলিক আউটরিচ এওয়ার্ড, ২০১৪ সালের ক্যানেডি সেন্টার ওনার মেডেলিয়ন ও ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট মেডেল অব ফ্রিডম অর্জন করেন। এছাড়া মুভিতে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য আরো অগণিত নামকরা সব এওয়ার্ড তো রয়েছেই তাঁর ঝুলিতে। তাঁর ক্যারিয়ারের মুভিগুলোর আয় হলিউডের তৃতীয় সর্বোচ্চ ও তিনি হলিউডের অন্যতম ধনী তারকা। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় চারশ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এতো এতো সাফল্য, খ্যাতি, সম্পদ ইত্যাদি ইত্যাদি থাকার পরেও আমি মনে করি তাঁর আসল অস্ত্রবল হচ্ছে পুরো দুনিয়াব্যাপি তাঁর আকাশচুম্বী দর্শকপ্রিয়তা। আর তা না হলে কি দুনিয়ার সব থেকে শক্তিশালী ও বিশাল আকৃতির দেশ আমেরিকা থেকে হাজারো মাইল দূরে অবস্থিত এই ছোট বদ্বীপে বসবাসকারী একটি সাধারণ বালিকা নিজের এতো গুলো সময় ব্যবহার করে তাঁকে নিয়ে একটু লিখালিখি করতে? এটাই কি তাঁর দুনিয়া জুঁড়ে তাঁর জাদু ছড়িয়ে দেওয়ার বড় প্রমাণ নয়?

আমার হাত চলছে তো চলছে, গত চার ঘন্টা ধরে চলছে। তাই এবার বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করছি। তাঁকে নিয়ে চাইলে আরো অনেক অনেক কথা লিখা যাবে কিন্তু অন্য কোন সময়, হয়তোবা তাঁর আগামী জন্মদিনে। আজ শুধু এইটুকুই বলতে চাই,
—” আপনি বেঁচে থাকুন টম হ্যানক্স, বেঁচে থাকুন আরো কোটি কোটি বছর। মরণশীল এই জগতে রক্তেমাংসে গড়া মানব হিসেবে নাহলেও যুগ যুগ ধরে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বেঁচে থাকুন মানবজাতির হৃদয়ে। কারণ মানুষ মাত্রই মরণশীল, কিন্তু তাঁর আজীবনের কর্মফল নয়। আপনার কর্মও ঠিক তেমনি চিরন্তন, যা আপনাকে করে তুলেছে একজন চিরঞ্জীবী তারকা। আগামীতেও অনেক চমৎকার চমৎকার মুভি পেতে চাই। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন ও ভক্তদের ভালবাসায় আরো সিক্ত হয়ে উঠুন। দীর্ঘজীবী হোন এই দোআ রইলো ।
সবশেষে বলতে চাই, শুভ জন্মদিন স্যার”।♥
©Sarah Iqbal

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন