মহেশ বাবুঃ আমার স্বপ্নের রাজকুমার আর আপনার??
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ছোটকাল থেকে আমি ওয়াল্ট ডিজনি’র রূপকথার গল্পগুলোর দারুণ ভক্ত ছিলাম। আমার মা প্রায়ই ডিজনি’র বাংলায় অনুবাদ করা বইগুলো আমাকে কিনে দিতেন। সেই বয়সে হয়তো প্রেম- ভালবাসা কি তেমন কিছুই বুঝতাম না, তবে যখনই সিন্ডারেলা, বিউটি এন্ড দ্যা বিস্ট কিংবা দ্যা স্লিপিং বিউটি গল্পগুলো পড়তাম আর নিজেকে রাজকুমারী গুলোর জায়গা কল্পনা করতাম, তখন রাজকুমারের চেহারায় কেমন একটা শূন্যতা ছেয়ে থাকতো। ওই শূন্যতাকে পরিপূর্ণ করার মতন একটি চেহারা অনেক খোঁজাখুঁজির পর যখন আবিষ্কার করলাম, সেই চেহারার মালিক যিনি তিনি হলেন আমার আজকের এই পোস্টের প্রাণকেন্দ্র। আমার ছোটকালের স্বপ্নের রাজকুমারের সিংহাসনে একদম পাকাপোক্ত হয়ে নিজের রাজত্ব স্থাপনকারী বান্দা, ” মহেশ বাবু”। তিনি শুধু টলিউডের রাজকুমারই নন, আমার হৃদয়ের রাজকুমারও বটে।

মহেশের পিতা তেলেগু সিনেমার একজন স্বনামধন্য অভিনেতা হওয়ার সুবিধার্থে সিনেমার সাথে মহেশের পরিচয় একদম শিশুকাল থেকে। ১৯৭৯ সালে মাত্র চার বছর বয়সে “Needa” নামক মুভিতে শিশুশিল্পী হিসেবে মহেশের সিনেমাজগতে অভিষেক হয়। এরপর একে একে প্রায় আটটি ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি অভিনয় করেছিলেন। তারপর একদিন আসে তার নায়কের ভূমিকায় অভিষেকের পালা। সময়টি ছিলো ১৯৯৯ সাল, আজ থেকে প্রায় ১৮ বছর আগে। বলিউডের অন্যতম অভিনেত্রী প্রীতি জিনতার বিপরীতে “Raja Kumarudu” মুভির মাধ্যমে তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে হিরোর রোলে পা রাখেন তিনি। মুভিটি তাঁকে নিজের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ দেখিয়ে দিয়েছিলেন। সেইদিন থেকে আজ অবধি এই রাজকুমারের আর কখনো থমকে দাঁড়াতে হয়নি। একের পর এক তেলেগু সিনেমাতে দাপটের সাথে গত ১৮ বছর ধরে অভিনয় করে নিজের সাম্রাজ্যেকে বেশ তুখোড় পাহারা দিয়েই রেখেছেন তিনি। আজ ২০১৭ সালে এসে প্রায় ৪২ বছরের কাছাকাছি সময়ে এসেও তিনি তাঁর চিরতারুণ্য ভরা ব্যক্তিত্বকে ঠিক আঠারো বছর আগের মতনই( আর পরিপক্ব ও পরিপাটি) ধরে রেখেছেন তা আসলেই বাহবার যোগ্য।

এবার রাজকুমারের পারিবারিক জীবন নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক তাহলে। ১৯৭৫ সালের ৯ই আগস্ট ভারতের নামিলনাড়ুর চেন্নাইতে এই সুপারস্টার জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমার অন্যতম তারকা কৃষ্ণ ঘাট্টামানেনির চতুর্থ তম সন্তান। মহেশের বড় একটি ভাই ও দুজন বোন রয়েছে। এছাড়া মহেশের একজন ছোট বোন ও একজন সৎ ভাইও আছে। মহেশের বাল্যকাল চেন্নাইতেই কাটার ফলে তিনি সেখানেই তাঁর পড়াশোনার পাট চুকিয়ে ছিলেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কমার্সে ব্যাচেলর ডিগ্রি। তামিলনাড়ুতে বেড়ে উঠার কারণে তিনি খুব ভালো তেলেগু ভাষায় কথা বলতে পারলেও তেলেগু ভাষায় লিখতে ও পড়তে জানেন না একদম। টলিউডের এত বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও মহেশ বাবু মানুষ হিসেবে অনেকটা লাজুক ও বিনয়ী প্রকৃতির। এই তারকা ২০০৫ সালে বলিউডের অভিনেত্রী নম্রতার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন যিনি নাকি তাঁর থেকে বয়সে তিন বছরের বড়। তিনি ও তাঁর স্ত্রী একসাথে ২০০০ সালে ভামসি নামক সিনেমাতে অভিনয় করেন ও সেখান থেকেই তাঁদের প্রেম ও এরপর তা পরিণয়ে রূপ নেয়। তাঁদের সংসার আলোকিত করে আছে একটি পুত্র যার নাম গৌতম কৃষ্ট ও একটি কন্যা যার নাম সিতারা। মহেশ বাবু ও তার এই পরিবার হায়দারাবাদের একটি বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করেন যেটি নাকি মহেশের নিজের আয় করা অর্থ দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এই বাড়িটি শুধু যে আলিশান তা নয় নানা রকম তথ্যপ্রযুক্তির সরঞ্জামাদি দিয়ে পরিপূর্ণ। এছাড়া গাড়ির প্রতি মহেশের আলাদা ভালবাসা থাকার ফলে তাঁর গ্যারেজে ছয়টি বেশ নামীদামী গাড়ির সরংক্ষণ রয়েছে।মহেশের পছন্দের খাবার বিরিয়ানি। আর প্রিয় অভিনেতা তাঁর নিজের বাবা, আর অভিনেত্রীরা হলেন শ্রীদেবী ও তৃষা। মহেশ ধূমপান বিরোধী হলেও মদ্যপান করে থাকেন। অবসর সময়ে তিনি বই পড়েন কিংবা ভিডিও গেমস খেলে থাকেন। তাঁর খুব কাছের একজন বন্ধু যাঁর সাথে তিনি বাল্যকাল থেকে বন্ধুত্ব বজায় রেখেছেন তিনি হলেন তামিল ইন্ডাস্ট্রির তারকা কার্থি। এই মুহূর্তে আর তাঁর ব্যক্তিগত কোন কথা মনে পরছে না।

এবার তাঁর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ভূমিকা নিয়ে কথা বলি।
যেমনটি আমি আগেই বলেছি ১৯৯৯ সালে তাঁর লিড রোলে অভিনয় করার প্রথম সুযোগ মিলে। “Raja Kumarudu” নামক সেই মুভিতে চমকপ্রদ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু বক্স অফিসেই সাড়া ফেলেননি, বরং জিতে নিয়েছিলেন নন্দী এওয়ার্ড বেস্ট নবীন অভিনেতার ক্যাটাগরিতে। এরপর ২০০০ সালে “Vamsi”, ২০০১ সালে “Murari” নামক সুপারন্যাচারাল থ্রিলার মুভি যেটির জন্য তিনি শুধু সেই বছরের জুড়ি বোর্ডে সেরা অভিনেতা হিসেবে নন্দী এওয়ার্ডই জিতে নেননি, ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ডের জন্যও নমিনেশন পেয়েছিলেন। এরপর ২০০২ সালে ঘোড়া আরোহিত ডাকাতের চরিত্রে যেই মুভিটি নাকি অনেকটা ওয়েস্টার্ন মুভির ধাঁচে নির্মিত হয়েছিলো সেই মুভিতে অনন্য অভিনয়ের কারণে আবারো জুড়ি বোর্ডে সেরা অভিনেতার নন্দী এওয়ার্ড লাভ করেন। ২০০৩ সালে “Nijam” মুভিতে একজন সহজসরল মেধাবী ছাত্রের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি দর্শকদের ভোটে প্রথমবারের মতন নন্দী এওয়ার্ড লাভ করেন। একই বছর, “Okkadu” মুভিতে একজন কাবাডি খেলোয়ারের চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি বেশ সাড়া ফেলেন। এরপর আসে তাঁর সেই মুভি যেটি তাঁকে সাফল্যের আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। মুভিটি ছিলো, “Pokiri” যা তাঁকে ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড এনে দেয়। ওইবছর, “Athadu” মুভি তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয় ও এরসাথে তিনটি পুরস্কার।২০১০ সালে তাঁর “khaleja” মুভিটি সমালোচকদের নজরে তাঁকে প্রশংসিত করে। এরপর একে একে, Businessman, SVSC, 1- Nenokhadine, Srimanthudu তাঁকে আরো বেশ কয়েকটি পুরস্কার ও আরো কয়েকখণ্ড খ্যাতি এনে দেয়।1-Nenokkhadine এখন অবধি ভারতের টপ রেটেড থ্রিলার মুভি হিসেবে বিবেচিত। আমি নিজে উনার বেশিরভাগ মুভিই দেখেছি আর প্রতিবার আরো বেশি গভীরতম ভাবে উনার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছি। উনার হাসি, লুক, চালচলন, মারপিট, নাচ সবই আমার ভালো লাগে। জানি না, অতিরিক্ত হয়ে যাবে কিনা, তবে আমার চোখে তিনি দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ পুরুষ।

এছাড়াও মহেশ বাবু ইন্ডিয়ার ১২ টি নামকরা কোম্পানির ব্র্যান্ড এম্বেসেডর ও কিন্তু। তাঁর আকর্ষণীয় চেহারা ও ছয় ফিটের বেশি সঠাম দেহের জন্য বেশ কয়েকবার তিনি ভারতের সবথেকে আকর্ষণীয় পুরুষদের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। ২০১৩ সালে বলিউডের সব নামকরা তারকাকে পিছনে ফেলে এক নাম্বারেও এসেছিলেন। মহেশ আন্তর্জাতিক ভাবেসাউথের সবথেকে আয় করা তারকার তালিকাও এসেছেন। তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৪২.৩ কোটি রুপি ও মোট সম্পদের পরিমাণ ১০.৭ মিলিয়ন ডলার। তিনি ছবি প্রতি ২০-২৫ কোটি রুপি নিয়ে থাকেন।

মহেশ শুধু নারীদের স্বপ্ন পুরুষ হবারই দাবিদার নন, পুরুষের গুরু হবারও যোগ্য। হয়তো তিনি পারিবারিক নাম থাকার ফলে ও সুদর্শন হবার ফলে আগেই দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে ছিলেন, তবুও আজকের এই অবস্থানে আসার পিছনে তাঁর মেধা ও পরিশ্রমের কথা অনস্বীকার্য। তিনি তাঁর অভিনয় জীবনে ২৭ টি পুরস্কার জিতেছেন যা তাঁর মুকুটে রত্ম হয়ে জ্বলজ্বল করছে। আমি তাঁকে অসম্ভব রকমের ভালবাসি। আর আপনি?

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন