Ustad Hotel: একজন যুবকে্র জীবনের প্রকৃত সংজ্ঞা অনুসন্ধানের গল্প
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

“Ustad Hotel” মালায়ালাম হার্টথ্রব সুপারহিরো দুল্কার সালমানের অভিনিত একটি মাস্টারপিস। আজ অনেকদিন পর হঠাৎ খেয়াল হলো, আমি এই মুভি নিয়ে কখনওই রিভিউ লিখিনি। একটা জিনিস উপলব্ধি করলাম, যেই মুভিগুলা যত বেশি সেরা হয়ে থাকে কিংবা আমার হৃদয়ে খুব গভীরভাবে গেঁথে যায় মুভির গল্প সেই মুভি নিয়ে আমি রিভিউ লিখতে ঠিক ততই দেরী করি। আসলে মনকে মোহাচ্ছন্ন করার মতন কাহিনী নিয়ে কিছু লিখতে গেলে তো পর্যাপ্ত শব্দভান্ডার লাগে তাই নয় কি? তাই হয়তো এই মুভিটা নিয়েও লিখতে প্রায় তিন মাসখানেক সময় নিয়ে ফেললাম।কিছু কিছু মুভি থাকে যা আমাদের নতুন করে জীবনকে চিনতে শিখাবে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করবে কিংবা আমাদের আপন সত্তাকে চিনতে শিখাবে এই মুভিটাও ঠিক তেমন একটি মুভি।
আচ্ছা এবার মুভিতে ফিরে আসি। ২০১২ সালের মাঝামাঝি তে মুক্তিপ্রাপ্ত এই মুভিটি মনে হয় সালমানের ক্যারিয়ারে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু করেছিলো। শুধু সালমানের জন্য নয় পরিচালক আনোয়ার রাশিদের জন্যও এটি একটি চরম সাফল্যের চাবিকাঠি। কারন এই মুভিটি দর্শকজনপ্রিয়তা এতোটাই পেয়েছিলো যে ন্যাশলাল এওয়ার্ড ও জিতেছিলো সেরা জনপ্রিয় মুভির ক্যাটাগরিতে।

মুভির শুরুতে দেখানো হয়, কেরালায় বসবাসরত আব্দুল রাজ্জাক ও ফারিদা নবদম্পতীকে যাদের ঘরকে আলো করে খুব শীঘ্রই সন্তান আসার কথা। আব্দুল রাজ্জাক ছেলে সন্তান পাবার আশায় আকুল ছিলো, তাই স্ত্রী প্রথম কন্যাসন্তান জন্ম দিলে এটি সে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি।কিন্তু আব্দুল রাজ্জাক হার মেনে নেবার পাত্র ছিলো না, তাই টানা পাঁচবছর পর পর চারটি মেয়ে জন্ম দেবার পর স্ত্রী যখন একটি পুত্র সন্তানের মা হলেন ঠিক তখনই রাজ্জাক মানসিক শান্তি লাভ করলেন।কিন্তু বেচারি স্ত্রী বিরতিহীন ভাবে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে অসুস্থতাজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। তাই সদ্যজন্মিত পুত্রসন্তান ফাইজি মাকে হারিয়ে তার থেকে মাত্র অল্প কয়েক বছরের বড় বোনদের ও বাবার দায়িত্বে বড় হয়ে উঠতে থাকে। এর মাঝে তার বাবা তার পাঁচ সন্তানকে নিয়ে দুবাই পাড়ি জমান ও সেখানে ব্যবসা করে বেশ ধন সম্পদের মালিক হন।এভাবেই ছোট ফাইজি বোনদের ওড়নার আঁচলের নিচে পরম আদরে বেড়ে উঠে। বোনদের সাথে থাকতে থাকতে তার মাঝে রন্ধনশৈলীর প্রতি একটি আলাদা ভালোলাগা তৈরি হয় যা একদিন এতো প্রকট আকারে রূপ নিবে সে নিজেও প্রথমে ভাবতে পারেনি। কিন্তু এটি সে বুঝতে পারে যখন তাকে সুইজারল্যান্ডে হোটেল ম্যানেজমেন্টের উপর পড়াশুনা করতে পাঠানো হয় কিন্তু সে তার সম্পূর্ণ অর্থ, শ্রম, সময় ও সাধনা শেফ( পাচক) হবার পিছনে ব্যয় করে আবার পরিবারের কাছে ফিরে আসে।আর তখন থেকেই মুভির আসল গল্পের শুরু হয়। এর আগ পর্যন্ত মুভিটা আমার কাছে বেশ রসিকতাপূর্ণ লেগেছিলো।এর মাঝে ফাইজির জীবনের আরো কিছু কাহিনী দেখানো হয়, নায়িকা শাহানার আবির্ভাব ঘটে যা আমি দর্শকদের দেখে নিয়ে জেনে নেবার জন্য ছেড়ে দিলাম। কিন্তু এরপর মুভির গল্পের যে বাস্তবিকতা আমাকে অন্য এক সুরে টানতে শুরু করে তা নিয়ে কিছু লিখবো।

পারিবারিক চাপ ও মনঃক্ষুণ্ণতা, আকস্মিক প্রেমের সম্পর্কের ইতি, নিজের অন্ধকার ভবিষ্যৎ ইত্যাদি নানা ফাইজি কোন কূলকিনারা না পেয়ে ওদের বাড়ির একজন বিশ্বস্ত লোকের সহযোগিতায় নিজের বাসা থেকে পালিয়ে দাদা করিমের কাছে আশ্রয়ের সন্ধানে আসে। করিম ছিলেন ওই এলাকার নামকরা একজন রন্ধনশিল্পী যিনি উস্তাদ হোটেল নামক একটি হোটেলের মালিক ছিলেন। মালায়ালাম ভাষায় উস্তাদ বলতে মাস্টার বুঝায়, তাই সেই এলাকার বাসিন্দারাই করিমের রান্নাবান্নার উপর জাদুকরী শৈলী থাকার ফলে করিমের হোটেলের এই নামকরণ করেছিলো। ফাইজি দাদার কাছে ধীরেধীরে জীবনে অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শিখতে শুরু করে যা তার পুরো জীবনার্দশ, পূর্ব অভিজ্ঞতা, মূল্যবোধ ও চিন্তাচেতনাকে পরিবর্তন করে তাকে নতুন এক ফাইজিতে পরিণত করে। জীবনের সংজ্ঞা যেন খুঁজে পায় সে তার দাদার সংস্পর্শে এসে যা সে এতকাল ধরে খুঁজে এসেছিলো। বলাবাহুল্য, ফাইজি আপন সত্তাকে উপলব্দি করতে পেরেছিলো অবশেষে।
মুভিতে সালমানের অভিনয় নিয়ে আমি একটি লাইন ও লিখবো না।কারণ আমি ওইখানে কোথাও সালমানকে দেখিনি শুধুই দেখেছি ফাইজি নামক একটি জীবনের প্রকৃত অর্থ সন্ধ্যানরত এক যুবককে। আর নিথিয়াকে শাহানা চরিত্রের জন্য একদম নিখুঁত মানিয়েছে। আমি আরো একবার প্রেমে পড়লাম সালমান- নিথিয়া জুটির উপর।

এবার নিজের দুই- চারটি মতামত লিখি। মুভি দেখে আমি নিজে কয়েকটি কথা দারুণ ভাবে উপলব্ধি করেছি। ১. জীবন ছোট কিন্তু নিজেকে ( নিজের সত্তা) চেনার জন্য যথেষ্ট বড়। ২.আত্মতৃপ্তি অর্জনের মাধ্যমেই আশেপাশের মানুষকে খুশি করা যায়, নিজেকে অসুখী করে নয়। ৩. স্বপ্ন বাস্তবায়নটাই মূল সেটি ছোট হোক কিংবা বড় পরিসরে।৪.নিয়তি আমাদের জন্য যা রেখেছে সেটি আমরা পাবোই তাড়াতাড়ি হোক কিংবা দেরীতে। এবং ৫. পরিবার পরিবারই, এর উপর কিচ্ছু নেই।
আর বকবক করলাম না। এবার দর্শকদের মুভিটি দেখে ফাইজির গল্প জেনে নিবার সুযোগ করে দিচ্ছি। আমি নিচে লিংক দিয়ে দিলাম।ধন্যবাদ 😊 ।

ডাউনলোড লিংক: http://tamilrockers.cx/…/33183-ustad-hotel-2012-malayalam-…/

Movie: Ustad Hotel
Release Date: 13 July, 2012
Director: Anwar Raseed
Writer: Anjali Menon
Starring : Dulquer Salman, Nithiya Menon
Genre: Comedy, Drama, Musical
Running Time: 151 minutes
Imdb Rating :8.4/10

এই পোস্টটিতে ৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ফানি পেইজ✔✔ 🙂 (y) আমার আপন ভুবন ভালো লাগবে আশা করি .. আমার আপন ভুবন (y) 🙂 ✔✔ লাইক দেয়ার অনুরোধ রইলো 🙂

  2. ছবিটা আমারও অনেক ভাললেগেছিল

  3. 2 বার দেখলেও boring লাগবে না

  4. মালায়লাম মুভি ভারতের অন্যান্য industy এর যেকোন মুভির চেয়ে ভাল, অহেতুক valgarity মু্ভিগুলোতে নাই বরং অাছে সুন্দর অভিনয়, সিনেমাটোগ্রাফি ও গল্প।

  5. মালায়ালাম মুভি “চার্লি”র হিন্দি ডাভেড লিংক টা জানা আছে ব্রো ?

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন