মহাকাশযানের দুই সহযাত্রীর মহাকাশের দুই বাসিন্দা হয়ে উঠার গল্পঃ প্যাসেঞ্জারস
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

Movie: Passengers
Release Date:21 December, 2016
Director: Morten Tyldum
Writer: Jon Spaihts
Starring: Jennifer Lawrence, Chris Pratt
Genre: Sci- Fic, Adventure,Romance
Running Time:116 minutes
Imdb Rating:7/10
Rotten Tomatoes Rating: 31%
গত বছরের শেষের দিকে মুক্তিপ্রাপ্ত এই মুভিটি সায়েন্স ফিকশন ও রোমান্সের সংমিশ্রণে নির্মিত অসাধারণ একটি মুভি। একই সাথে অত্যাধুনিক যুগের বিজ্ঞানের পৃথিবীকে শ্রেষ্ঠত্বের চূড়াতে পৌছে নেবার প্রচেষ্টা এবং মানবজাতির মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলো খুব নিখুঁতভাবে একই গল্পের ভিতর দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এবার আসি মুভির মূল গল্প নিয়ে কিছু কথায়। মুভির প্লট তৈরি হয়েছে একটি স্টারশিপকে কেন্দ্র করে, এই স্টারশিপটির নাম এভালন।এভালন পৃথিবী থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি যাত্রী নিয়ে অন্য একটি নতুন গ্রহ হোমস্টেড ২ এর উদ্দেশ্য পৃথিবীর সময়কাল অনুসারে প্রায় ১২০ বছরের দীর্ঘ ভ্রমণে যাত্রা শুরু করেছিলো।এই মহাকাশযানের প্রতিটি যাত্রাকারী সদস্য নিজেদের নানা স্বপ্ন পূরণে,নানা আশার তাগিদে নিজের আপন ভুবন ছেড়ে নতুন ভুবনের সন্ধানে অনেক টাকা খরচ করে মহাকাশের অতল শূন্যতায় নিজেদের ভাসিয়ে দিয়েছিলো। যেহেতু প্রায় একশ বিশ বছরের যাত্রাপথ, তাই যাত্রার আগেই একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্যে স্পেসশিপের ক্রু থেকে শুরু করে প্রতিটি পেসেঞ্জারকে ঘুমের জগতে বাক্সবন্দি করে ফেলা হয়েছিলো। স্পেসশিপে করে নতুন গ্রহতে পাঠানোর ব্যবস্থাপনা সমিতির পরিকল্পনা অনুযায়ী,এই গভীর ঘুম ভাঙবে যাত্রা প্রায় শেষ হয়ে যাবার কিছুদিন আগে।কিন্তু আসলেই কি সবকিছু সবসময় পরিকল্পনামতন হয়? বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কি সবক্ষেত্রে ১০০% সঠিক হয়?
যাইহোক, হঠাৎ স্পেসশিপের কিছু একটি ক্রুটির ফলে যাত্রার প্রায় ত্রিশ বছরের মাথায় ঘুম থেকে জেগে উঠে জিম নামের একজন মেকানিক। প্রথমে সে কিছু বুঝে উঠতে না পারলে পরে বুঝতে পারে এই মহাকাশযানে সেই একমাত্র জাগ্রত মানুষ যাকে আরো নব্বই বছর এভাবে একা কাটাতে হবে।শুধু একাই কাটাতে হবে না, এই যাত্রাপথেই তার মৃত্যুও অবধারিত ছিলো।জিমের মানসিক অবস্থা প্রায় পাগলের মতন হয়ে উঠে
সে নানা উপায়ে নিজেকে আবার ঘুমের ঘোরে আবদ্ধ করতে চায়। কিন্তু কিছুতেই কোন কূলকিনারা পায় না। একাকীত্ব, হতাশা, দুঃশ্চিন্তা তাকে আত্মহত্যা করবার পর্যায়ে নিয়ে যায়।আর তখন তার চোখ যায় অ্যারোরার উপর। আর তারপর শুরু হয় নতুন গল্প।
আমি আর কিছু লিখতে চাই না মুভির গল্প সম্পর্কে।শুধু এটাই বলবো, মুভিটা আসলেই চমৎকার।মুভিটি দেখার পর আমার কিছু উপলব্ধি হয়েছে।আমরা চাইলেও একা কখনওই বাঁচতে পারবো না।বিজ্ঞান যত কিছুই আবিষ্কার করুক না কেন, মানুষ যে সামাজিক জীব এই কথা কখনওই বদলাবে না। আর মানুষ যতই ভালো হোক কিংবা কাউকে যতই ভালবাসুক না কেন, কিছু সময় নিজের প্রয়োজনের তাগিদে নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই চোখে পরে না।যাইহোক, এইগুলা একান্ত আমার ব্যক্তিগত মতামত।
এবার আসি অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে দুই- একটা কথায়। জেনিফারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অসম্ভব পছন্দ করি।এক্স-ম্যান সিরিজের মিস্টিক চরিত্র থেকেই তাঁর প্রতি আমার এই ভালোলাগা। শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, তাঁর অভিনয়ও ছিলো প্রশংসার যোগ্য।আর ক্রিসকে মুভির জিমের চরিত্রে একটু বেশিই মানিয়েছে। একদম ভুলেই গিয়েছিলাম এই লোকটাই গার্ডিয়ানস অব দি গ্যালাক্সির সেই স্টারলর্ড।
এছাড়া মুভির ভিজুয়াল ডিজাইন আসলেই মনোমুগ্ধকর ছিলো, প্রতিটি দৃশ্য একদম বাস্তব স্পেসশিপের ভেতরকার স্বাদ এনে দিচ্ছিলো যেন।
আমার ব্যক্তিগত রেটিং :৮। আমি নিচে লিংক দিয়ে দিলাম, যারা এখনো দেখেননি দেখে নিবেন।
ডাউনলোড লিংক: ১. http://bit.ly/2mz5TVq
২.http://bit.ly/2liYBTG


এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Rk Nahid says:

    VFX darun cilo, kahini tao valoi lagce amar. Overall its good enough….

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন