Happy Birthday Salman Khan
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0


শুভ জন্মদিন সালমান খান
বলিউডের সেরার সেরা নায়কদের মধ্যে একজন সালমান খান। কোনও সিনেমায় তাঁর উপস্থিতিই হিট করিয়ে দেয় ছবিটিকে। নামী প্রযোজক থেকে পরিচালক সকলে হন্যে হয়ে পড়ে থাকেন সালমানকে সিনেমায় সই করানোর জন্য।এই বলিউড স্টার শুধু অভিনয়েই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। প্রযোজনাতেও হাত লাগিয়েছেন .অভিনেতাদের মতোই বলিউডে কেরিয়ার শুরু করা সালমান খান প্রথমে কাউকে নিজের তারকা পিতা সেলিম খানের পরিচয় দেননি। একক দক্ষতায় নিজের বিশ্বজোড়া পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি। এহেন সালমান খান সম্পর্কে আমজনতার আগ্রহ থাকাই স্বাভাবিক।
১৯৬৫ সালের ২৭ এ ডিসেম্বর মধ্য প্রদেশ এর ইন্ডোর এ জন্মগ্রহন করেন তিনি

ছেলেটা জন্মানোর পরেই বাবা সেলিম খানের ক্যারিয়ারে আলো ফিরে আসে।একের পর এক হিট মুভির কাহিনী লিখে সুপারস্টার রাইটারের তকমা পেয়ে যান। তাই বাবার খুবই আদরের ছেলে সালমান।বাবাও চেয়েছিলেনছেলে তার মত রাইটার বা ডিরেক্টর হোক।কিন্তু ছেলের মাথায় ঘুরছিল অন্যকিছু।প্রিয় নায়ক সিলভেস্টার স্ট্যালনের মত নিজেও সুপাস্টারের হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন।শুরু করলেন বডি বিল্ডিং।কিউট ফেস এবং জিম করা বডি থাকার পরেও চান্স হচ্ছিল না,সালমানও কখনো নিজের বাবার পরিচয়ে কাজ পেতে চায় নি।অগত্যা ছোট খাট কমার্শিয়াল এবং মডেলিংকরতে থাকেন।এরি মাঝে ছোট এক রোলে চান্স পান রেখা এবং ফারুক শেখ অভিনীত ‘বিবি হো তো এইসি’ মুভিতে।সাপোর্টিং রোল হলেও বলিউড আভাস পাচ্ছিল এক নতুন হ্যান্ডসাম হাংক এর।

আশির দশকের শেষের দিকেও তখন চলছিল অমিতাভ এর এংরি ইমেজের মুভিগুলার দাপটা।একশন মুভির দাপটে রোমান্টিক মুভিগুলা তেমন দর্শকপ্রিয় হচ্ছিল না।
১৯৮৯ সাল।রাজশ্রিপ্রোডাকশন একি সাথে বলিউডকে দুই স্টার উপহার দেয়, একজন ডিরেক্টর সুরাজ বারজাতিয়া অন্যজন সালমান খান।মুভির নাম ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’। অসাধারন স্টোরি, সুরাজের মেকিং আর সালমানের লুক মুভিটাকে
বানিয়ে দেয় ঐ দশকের সব চেয়ে সফল মুভিগুলার একটি।এতই আয় করেছিল মুভিটা যে অল্পের জন্য ‘শোলে’ র রেকর্ড ভাংতে পারেনি।প্রথম মুভি দিয়েই সালমান হয়ে যায়
সুপারস্টার।ভারতের তরুন সমাজ, বিশেষ করে মেয়েরা কাঁপতে থাকে সালমান জ্বরে। মুভির ‘ফ্রেন্ড’ নামের ক্যাপটা তখন দেখা যায় সব ছেলের মাথায়।মুভিটা বেশ কয়েকটি বিদেশি ভাষায় ডাবিংও হয়। পরের বছরই রিলিজ হয় নিজের লেখা
কাহিনীতে বানানো মুভি ‘বাগি’।মুভি আবারো সুপার ডুপার হিট।এই শুরু সালমানের।এরপর একে একে বলিউডকে উপহার দিতে থাকেন সাজন,আন্দাজ আপনা আপনা,হাম আপকে হ্যায় কৌন এর মত মুভি।

হাম আপকে হ্যায় কৌন এর কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। শোলের যে রেকর্ড প্রথম মুভি দিয়ে ভাংতে পারেননি তা ভেঙ্গে দেন সুরাজ এর ডিরেকশনের এই মুভি দিয়ে। হাম আপকে হ্যায় কৌন ছিল গত শতাব্দির সবচেয়ে ব্যাবসাসফল এবং জনপ্রিয় মুভি।সালমান এদিকে নিজের বডি বিল্ডিং এর দিকে আরো নজর দেন।এর পর কারন-অর্জুন,জিত,খামোশি,জড়ুয়া,বিবি নাম্বার ওয়ান,যাব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়,পেয়ার কিয়া তো ডারনা কেয়া ,হাম সাথ সাথ হ্যায় মুভিগুলা দিয়ে সালমান পৌছে যায় সাফল্যের চরম শিখরে। ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ শুটিং এর সময়েই সালমান ‘চিংকারা’ নামের এক বিরল প্রজাতির হরিন শিকার করে যার কেস নিয়ে তাকে আজও দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে।

নববই দশকের শেষের দিকেই শুরু হয় আর এক অধ্যায়, সালমান-এশ প্রেম কাহিনী।এই জুটি উপহার দেয় মিউজিকাল ব্লকবাস্টার ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’। তবে এই প্রেমই তার জীবনের কাল হয়ে দাড়ায়। ব্রেক আপ এর পরে জড়িয়ে
পরে নানা রকম বিতর্কে যার মধ্যে হিট এন্ড রান কেস তাকে এখনো ভোগাচ্ছে,
ক্যারিয়ারেও ভাটা পরে।তবে জবরদস্ত কামব্যাক করে ২০০৩ এ ‘তেরে নাম’ দিয়ে। ধরা হয় এটি তার অভিনিত সবচেয়ে সুন্দর মুভি।ভারতের সহ এর প্রতিবেশী দেশগুলার অলিগলিতে সালমান স্টাইলে ঘুরতে লাখো সালমান ফ্যান।

এর পর হিট ফ্লপ সহ প্রতিবছরই মুভি বের হতে থাকে তার।তখনকার মুভিগুলার মধ্যে মুঝসে শাদি কারোগী, চোরি চোরি চুপকে চুপকে,বাগবান,পার্টনার, ম্যায়নে পেয়ার
কিউ কিয়া,নো এন্ট্রি সুপারহিট হয়। মুভি হোক বা বিতর্ক ঐ সময়গুলোতে সালমান এর খবর সবসময় হেডলাইনে থাকত।

২০০৯ সালে
ক্যারিয়ার নেয় অন্য এক মোর, রিলিজ পায় ওয়ান্টেড।মুভি সুপার ডুপার হিট।ঐ বছর তার কয়েকটা মুভি ফ্লপ হলেও পরের বছর ‘দাবাং’ দিয়ে সালমান এর সাফল্য চলে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে দাবাং থেকে শুরু করে রেডি,দাবাং ২,বডিগার্ড,এক থা টাইগার,কিক সবইগুলাই রেকর্ড পরিমান আয় করে।সালমানের নাম হয়ে যায় ব্লকবাস্টার খান।
নাচে খানদের সুনাম নেই কিন্তু সালমানের নাচে কিছু ইউনিক কিছু স্টেপ থাকে
যেমন দাবাং এর বেল্ট নাড়ানো,রেডির পকেট নাড়ানো,বডিগার্ডের মাসল কাপানো,যাস্ট চিল চিল গানে স্টেপ এবং ও ওহ জানে জানা
গানের সেই বিখ্যাত ড্যান্স স্টেপ।পিপলস ম্যাগাজিনের মোস্ট হ্যান্ডসাম ম্যান এর
খেতাবও আছে সালমানের নামের সাথে।

খুব ভাল ছবি আঁকেন।নিজের আঁকা ছবি আগে প্রকাশ না করলেও, ‘বিয়িং হিউম্যান’ এর জন্য নিজের আঁকা ছবিগুলা প্রকাশ করতে থাকেন,ছবিগুলা দেখলে সত্যই অবাক হতে হয়। নিজের মর্জির মালিক সালমান।মনে যা বাইরেও তাও।সাংবাদিক যখন জিজ্ঞেস করে ‘আপনি কেন হিরানি, কাশ্যপদের সিনেমা করেন না? সালমান অকপটেই বলে দেয় ‘তারাই আমাকে কাস্টিং করার চিন্তা করে না।নিজেই বলে আমার কেসের ঝামেলার কারনে দামি ব্রান্ডগুলা আমাকে এম্বাসেডর বানায় না।

নায়ক এর থেকে একজন মানুষ হিসেবে সবার কাছে বেশি প্রিয়।প্রায় ৫০ বছর হয়ে
গেলেও নিজের ভিতরের বাচ্চাটাকে দূর করতে পারেন নি।সালমান কখনো কিসিং সিন করেন নি।তার মতে এটা তার কালচারের সাথে যায় না।সালমানের ব্যাপারে তার বাবা সেলিম খান একটা কথা প্রায়ই বলে ‘মানুষ সালমানের কোমল হৃদয়ের সুযোগ নেয়। আসলেই কতজনই তো তার মাধ্যমে স্টার হয়ে গেল।ডিরেক্টর সাঞ্জয়
লীলা বানসালি থেকে সুপারস্টার হৃত্তিক বা আজকের অর্জুন কাপূর , ক্যাটরিনা, সোনাক্ষি, সহ আরো অনেক নায়ক, নায়িকা, ডিরেক্টর,মিউজিক ডিরেক্টর কেউই কি তাদের সাফল্যের পেছনে সালমানের অবদান অস্বীকার করতে পারবে !! বর্তমান বলিউডের নিউকামারদের বেশিরভাগই সালমান ফ্যান।

অনেক অনেক বছর বেচে থাকুন, মানুষকে ভালবাসুন, মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হতে থাকুন 💜
জন্মদিনের অনেক শুভকামনা এবং ভালবাসা রইল

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন