Hugo ( 2011 ) একটি ম্যাজিকাল সিনেম্যাটিক এক্সপেরিয়েন্স

Hugo.2011.1080p.BluRay.x264.YIFY[13-02-37]

মুভিটার নাম Hugo​ । আজকে দেখলাম । আমার খুব ভালো লেগেছে । ভালো বলতে আসলেই অসাধারন সুন্দর । যে মুভি খুব বেশি ভালো লেগে যায় সে মুভি নিয়ে কিছু বলতে ভয় লাগে । তাই মুভিটা নিয়ে তেমন বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না । ছোট করে বললে, মুভির গল্প শুরু হয়েছে হিউগো নামের এক এতিম ছেলেকে দিয়ে । যে বসবাস করে একটি রেল স্টেশনে, বেঁচে থাকার জন্য চুরি করে স্টেশনের দোকান থেকে, আর যার আগ্রহ যন্ত্রপাতির পার্টস এর প্রতি ।

একদিন পার্টস চুরি করতে গিয়ে সে ধরা পড়ে যায় স্টেশনের এক দোকানদারের কাছে যার নাম জর্জ । সে হিউগোর কাছ থেকে চুরি করা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার সময় পার্টস এর সাথে হিউগোর নোটবুকও ছিনিয়ে নেয় এই অভিযোগে যে এটা চুরির মাল, কিন্তু মুলত এটা আসলে হিউগোর ই ছিল এবং এটা সে তার বাবার কাছ থেকে পেয়েছিল । এরপর থেকে হিউগো আঠার মতো লেগে থাকে জর্জের পিছনে নোটবুক উদ্ধারের জন্য ,সারাদিন ঘুরঘুর করে দিনশেষে পিছনে পিছনে উনার বাড়ি পর্যন্ত যায় নোটবুকটা ফিরে পাবার আসায় । এই নোটবুক উদ্ধার করতে যেয়েই হিউগোর সাথে পরিচয় হয় জর্জের পালিত নাতনি ইসাবেলা এর সাথে । এরপর তাদের দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায় । জর্জের পিছুপিছু লেগে থাকার কারনে একদিন বিরক্ত হয়ে জর্জ রুমালে জড়ানো ছাই দেখিয়ে বলে, এই যে তোমার নোটবুক !!! আমি পুড়িয়ে ফেলেছি !!! এখন যাও ভাগো । হিউগো কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বাবার শেষ স্মৃতি হারিয়ে যেতে দেখে ।

কিন্তু এরপর ইসাবেলা হিউগোকে জানায় যে আসলে নোটবুকটি পুড়িয়ে ফেলা হয় নি, এটা আছে, কিন্তু এটা অদ্ভুত কারন এই নোটবুক পড়তে গিয়ে জর্জের চোখে পানি দেখা গেছে । কাজেই নোটবুকটা রহস্যময় আর এটা উদ্ধার করতে হবে এবং ইসাবেলা তাকে সাহায্য করবে কারন সে অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসে । আর হিউগোর মত ইসাবেলাও এতিম । দুজনে লেগে যায় এডভেঞ্চারে আর তাদেরকে আবর্তন করে ঘুরতে থাকে কাহিনী, বের হয়ে আসে চমকপ্রদ সব ইতিহাস । বের হয় জর্জের আসল রুপ, বের হয় সিনেমা সম্পর্কিত অনেক ঐতিহাসিক তথ্য । আমরা চিনতে পারি ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া Georges Méliès​ ।

Georges Méliès ,যাকে ইতিহাসে প্রথম সিনেম্যাজিশিয়ান হিসেবে ধরা হয় । তিনিই প্রথম চলচ্চিত্রে দেখিয়েছেন ইল্যুশন, হরর এবং সাইন্সফিকশন । চলচিত্রের অগ্রদূত বলা হয় তাকে ।

মুভিটির পরিচালক মার্টিন স্করসেস । ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া এই মুভিটি অস্কারের ৮৪ তম আসরে Best Picture সহ মোট এগারোটি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছিল এবং এর ভেতর থেকে জিতে নেয় পাঁচটি পুরস্কার । এগুলো হচ্ছে, Best Cinematography, Best Art Direction, Best Visual Effects,Best Sound Editing এবং Best Sound Mixing । এছাড়া অন্যান্য পুরস্কার তো আছেই ।

মুভিটির IMDB Rating 7.6 ।
Rotten Tomatoes এ ফ্রেশ 94% ।

টরেন্ট ডাউনলোড লিংক : https://kickass.so/hugo-2011-1080p-brrip-x264-yify-t8338918.html

ট্রেলার : https://www.youtube.com/watch?v=qjSNBP4P9RU

মুভিটা সবার ভালো লাগবে কিনা আমি জানি নাহ । কারন পছন্দ আপেক্ষিক…। তবে এটা একটা অসাধারন ভিজুয়াল জার্নি ।  যারা নিয়মিত নানা ধরনের সিনেমা দেখেন, সিনেমা নিয়ে ভাবেন, কিংবা সিনেমা নিয়ে পড়াশুনা করেন, সিনেমা বানানোর স্বপ্ন দেখেন, সিনেমা নিয়ে জানার আগ্রহ আছে এবং অবশ্যই পৃথিবীর প্রথম সিনেমাটি সম্পর্কে দেখতে বা জানতে চাইলে এই মুভিটা তাদের দেখা উচিত ।

 

(Visited 89 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ছবিটি খুব সুন্দর। ছবিটি আগে দেখেছি। প্রতিটি সিন অসাধারণ, দেখে মনে হয় আমি যেন. 1900s এ চলে গেছি।

  2. Rafibkk says:

    প্রায় দুই বছর আগে দেখেছিলাম। এবং দুইদিনে তিনবার দেখেছিলাম। লেখাটা পড়ে আবার দেখতে মন চাচ্ছে।

  3. প্রায় দুই বছর আগে দেখেছিলাম। এবং দুইদিনে তিনবার দেখেছিলাম। লেখাটা পড়ে আবার দেখতে মন চাচ্ছে….. (y)

  4. সিরাজাম মুনির সিরাজাম মুনির says:

    ছবিটা আমার কাছে বেশিমাত্রায় সুন্দর লেগেছিল। এত্ত অসাধারণ সিনেমা আমি কমই দেখেছি। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক জেভাবে করা হয়েছে আর কোনো মুভিতে এরকম অসাধারণ সাউন্ড দেখিনি। ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ডের হিসেবে এটা আমার রেঙ্কিঙ এ এক নম্বরে। আর মানতেই হবে সাউন্ড এই ছবিটার অনেক কিছু।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন