ফিরে দেখা ২০১৮ সালের পছন্দের নাটক ও টেলিফিল্ম

ফিরে দেখা ২০১৮ সালের পছন্দের নাটক ও টেলিফিল্মঃ-

★”আমার নাম মানুষ”
শাফায়েত মনসুর রানা পরিচালিত গল্পটিতে ফুটে উঠেছে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার অনিয়মে পিষ্ঠ মানুষেরা মুখ বুঝে কেবল সব অন্যায় সহ্য করে যায়। সোচ্চার হওয়ার আওয়াজ ও সেথায় আন্দোলনে মুখরিত হতে পারে ঐক্যতা; কিন্তু ন্যায়ের জয়ধ্বনি পথের পথিক বরাবরের মতোই একাই লড়তে হয় নিজ অধিকারের লড়াই। তাই বলে কি মোরা সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে রবো কোণঠাসা হয়ে?? নৈতিকতা রক্ষার্থে অধিকার আদায়ে যদি সোচ্চারিত নাই বা হতে পারি কি আমাদের পরিচয়??

এটি এই ঈদের সবচেয়ে সেরা কাজ। ছাত্র আন্দোলনকে দূর্দান্তভাবে ট্রিবিউট দেওয়া হয়েছে গল্পের অর্থবহতার আঙ্গিকে।

মূল চরিত্রে থাকা জন কবির, অপর্ণা, ইরফান সাজ্জান, শাফায়েত সহ আরো অনেকে প্রত্যেকে স্ব-স্ব চরিত্রে দূর্দান্ত কাজ করেছে।

নাটকটির ইউটিউব লিনকঃ-
https://m.youtube.com/watch?v=RkuKr9HYw1k&feature=youtu.be

★”ফেরার পথ নেই”
সমসাময়িক সময়ের সোশ্যাল ইস্যু বেইসড দূর্দান্ত এক নির্মাণ। নিঃসন্দেহে ঈদের অন্যতম সেরা একটি কাজ ও বটে।

পরিচালক আশফাক নিপুণ এবার তার নির্মিত নাটকে সামাজিক অবস্থার যে ক্রাইম ইস্যু দাঁড় করিয়েছে দুটো ভিন্ন গল্পে। তাও এত সুনিপুণ নির্মাণশৈলীতে!!! সত্যি এক কথায় লা-জবাব।

২টি দম্পতি ২টি অবস্থানে অথচ নাটকের টাইটেল “ফেরার পথ নেই” নামের সার্থকতার বাঁধাডোরে বাঁধা। যে গল্পের মধ্যে আমার-আপনার জীবনে নয়তো ঠিক পাশের মানুষটির জীবনের হাহাকার।

এখানে মেহজাবীনের স্ক্রিনপ্রেজেন্স নিশো থেকেও বেশি ছিল। সে দুটো অবস্থানেই সাবলীল অভিনয় করে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। অন্যদিকে মেহজাবীনের সহশিল্পী হিসেবে আফরান নিশো যেন স্বস্তির এক প্রশ্বাস। নিশোর জায়গায় সে বরাবরের মতই নিখুঁত কাজ করেছেন।

২টি অবস্থানেই নিশো-মেহজাবীনের পর্দায় রসায়ন কোন বাস্তব প্রতিচ্ছবির তুলনায় কোন অংশে কম নয়। দুজনের পর্দায় জুটি আদতে রূপক হলেও, আমাদের জীবনের জয়গান ঠিকই সমস্বরে উচ্চরিত হয় বাস্তবিক গল্পের প্রতীকি রূপে।

ডাউনলোড লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=wg24GOP3HB8&t=9s

★”আয়েশা”
“দূরে গ্রহে ভাবছি তোমার কথা,
এতটা দূরে যে ভাবাও যায় না ভালো।”

ন্যায়-অন্যায়ের বিভীষিকাময় যন্ত্রণায় চিরকাল ঘ্রাস হতে হয় অপার মহিমায় দন্ডায়মান অপেক্ষার। কেননা অপেক্ষা নামক শব্দটি আদতে ৩ বর্ণের মিলিত রূপে সংক্ষেপিত কিছু দৃশ্যমান হলেও; শব্দটির অর্থবহতা জানা-অজানা নানান রঙের মানুষকে করে তুলেছে দুর্বিষহ মর্মবেদনার আর্তকথা। হয়তো বা সে দূরহ অবসানের কোন পরিসীমা নেই। তবুও অশ্রুজলের শোভিত ব্যক্তির মন; ঠিকই তার জীবনের সাথে জড়িত লোকটির জন্য চিরকাল মনে লালন করে বন্ধুর পথের পথিক হতেও রাজি।

দীর্ঘ সময় পর মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী ভাই আনিসুল হকের আয়েশামঙ্গল গল্প অবলম্বনে নির্মাণ করেছে “আয়েশা” নাটকটি।

গল্পে বর্ণিত হয়েছে স্বামী জয়নালের খোঁজে দুর্বিষহ অপেক্ষার পথের পথিক রূপে আয়েশা নামের এক গৃহিণীর আত্মকথা। গ্রামীণ পরিবেশের অন্য সব সম্পর্কের মত, তাদের সম্পর্ক না চাওয়া বা চাওয়ার মধ্যে শুরু হলেও পরে তা মধুরতায় ভরে উঠে। স্বামী জয়নালের কাজের সুবাদে ঢাকায় পাড়ি জমায় জয়নাল ও আয়েশা দম্পতি। কিন্তু আকষ্মিক এক ঘটনার জের ধরে জয়নালকে আটক করা হয়। আয়েশার সরল আর্তনাদেও তার ফরিয়াদ আইনের কান পর্যন্ত পৌঁছালেও তা নিয়মের বর্হিভূত কারণ প্রদর্শিত গ্রাহ্যতা পায়নি। তবুও আয়েশা তার স্বামীর ফিরে আসার পথ চেয়ে রয়।

ফারুকী সাহেব ফিরেছেন রাজকীয় ভাবে বলা যায়। অসাধারণ সব ক্যামেরা শট ছাড়াও, ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজ, কালার গ্রেডিং এবং গল্পের সিকোয়েন্স অনুযায়ী প্রবাহধারা দূর্দান্ত ছিল।

অভিনয়ে তিশা ও চঞ্চল দুজনেই বাজিমাত করেছেন। তবে তিশার স্ক্রিন প্রেজেন্স চরিত্রানুযায়ী বেশি ছিল। এমনকি তিনি শতভাগ ফুটিয়ে তুলেছেন চরিত্রকে তার অমায়িক অভিনয়ের নৈপুণ্যে। গল্পের মর্মকথার সাথে তার অভিনয় গল্পের শেষাংশে এমনকি নানান স্তবকে আপনার চোখে জল আনতে বাধ্য করবে।

নিঃসন্দেহে এটি এই ঈদে সবচেয়ে সেরা কাজগুলোর মধ্যে এগিয়ে থাকবে।

নাটকটির ইউটিউব লিনকঃ-
https://m.youtube.com/watch?v=_S849rIsYjI

★”হোম টিউটর”
মাবরুর রশীদ বান্নাহের পরিচালনায় এই ঈদের সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রশংসিত কাজ ও বটে। এমন এক টপিক নিয়ে তার নিজস্ব ভঙ্গিতে দারুণ উপস্থাপনার জন্য সাধুবাদ পরিচালক ভাইকে।

গল্পটি একজন শিক্ষার্থীকে ঘিরে। যেকিনা পড়ালিখা শেষ করেও লাগাতার ইন্টারভিউ দিয়ে চাকুরী নামক সুখপাখির দেখা পাচ্ছে না। বন্ধুদের পরামর্শ মতে হোম টিউশনের যে যাত্রা শুরু হয়, এতে কেবল অর্থনৈতিক দিক দিয়ে নয়। বরং সে নিজেও আত্মতৃপ্তিতে মোহিত হয়ে টিউশনের পরিবারের সাথে জড়িয়েছে নিজ পরিবারের সদস্যরূপে।

মনোমুগ্ধকর এক গল্প, সেই সাথে শিক্ষণীয় ও বটে।

ডাউনলোড লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=6KI9DLw3IWI

★”সব মিথ্যে সত্য নয়”
শাফায়েত মনসুর রানা ভাই আবারো তার কারিশমা দেখালেন। যদিও তিনি পরিচিত কাস্ট নিয়ে অভিনয় করেন। তবুও এই কথা অস্বীকার করা যাবে না যে একমাত্র তার কাজেই জন কবিরকে সেরা ফর্মে দেখা যায়। সাথে অপর্ণা তো আছেই।

গল্পটি বেড়ে উঠেছে রাহাতের ছোট পরিবারকে ঘিরে। তার ছোট্ট পরিবারে আপন বলতে কেবল তার মা আর স্ত্রী রয়েছে। রাহাতের অসুস্থ মাকে নিয়ে তার স্ত্রী ফারিনের সময় কেটে যায়। দুজনে এক অদ্ভুতুড়ে রিয়েলিটি শোয়ের চরম ভক্ত। রাহাত আবার এই আগ্রহকে অনেকটা বিদ্রুপ ভাবেই দেখে। অনীহা আর কি। একটা সময়, সময়ের চাকা মায়ের চিকিৎসার আর্থিক টানাপোড়নের দরুণ রাহাতকে সেই রিয়েলিটি শোয়ের সম্মুখীন হতে হয়। উন্মোচন হতে থাকে একের পর রহস্যজনক ঘটনা।

অভিনয়ে এখানে জন কবির সত্যি ফাটিয়ে দিয়েছে। পরিচালক যেভাবে তাকে ব্যবহার করেছেন। ঠিক সেভাবে নিজের নৈপুণ্যতার জানান দিয়েছেন। দিলারা জামানের সাবলীল শব্দচয়ন ও নিখাদ অভিনয় নিয়ে নতুন করে বলার প্রশ্ন উঠে না। অপর্ণা তার জায়গায় দারুণ কাজ করছে। তারিক আনাম ও তার স্বল্প পরিসরে স্কোপে ফাটাফাটি কাজ করেছেন, তার ভারিক্কি ভাবের অভিনয়ের মাধুর্যতায়।

দূর্দান্ত ন্যারেটিভ স্টাইলে শাফায়েত ভাই ড্রামাটিক ওয়েভে গল্পের ফ্লো দৃশ্যায়িত করেছেন। গল্পে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু শুরুতে যেভাবে দর্শকমনে বীজ বপন করবে, তা অঙ্কুরিত হয়ে বেড়ে উঠার আগ্রহ দর্শককে গল্পের শেষ অবধি টানটান উত্তেজনাপূর্ণ আবহে টেনে রাখবে।

মেলোড্রামাটিক ধাঁচে উচ্চস্বরে কাঁদার হাহাকার হয়তো দেখান নি। তবে রচিত সংলাপের মোহনায় চোখের কোণে জমে থাকা জল, অক্ষিকোটর থেকে বেয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকবে অশ্রু হয়ে।

ডাউনলোড লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=GtVpJNogrBE

★”কলি ২.০”
তরুণ পরিচালক আবরার আতহারের পরিচালনায় নির্মিত ক্রাইম ড্রামা ধাঁচের নাটকটি চমৎকার সব ক্যামেরার শট আর দারুণ কালার গ্রেডিং সহ ডার্ক থিমে গল্প পরিবেশনের স্টাইল চমকপ্রদ। অস্থির সব লোকেশানের সাথে মানিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার ও দূর্দান্ত।

এক কথায় নিখুঁত একটি কাজ। খুব বেশি ভালো লাগছে।

মূল চরিত্রে তিশা, ইরফান সাজ্জাদ সহ আরো অনেকে কাজ করেছেন। প্রত্যেকের কাজ খুবই ভালো হয়েছে।

অনলাইনে সরাসরি দেখতে চাইলেঃ-
https://www.bioscopelive.com/en/watch?v=I3AYykInf30

★”ডালিম কুমার”
মাহমুদ দিদারের পরিচালনায় ডিপ থটের একটি কাজ।

মজনু নামে প্রেমিক শোনালেও ভয়াবহ প্রেম বিরোধী লোক। এমনকি তার এলাকার কাউকে প্রেম ও করতে দিবে না। নারী বিদ্বেষী স্বভাবাপন্ন মজনুর এমন আচরণের ভেতরগত বেদনার সুর ও যেন বাহিরের মুখোশে ঢাকা। অন্যদিকে রূপবতী কঙ্কাবতীর নাম করে লর্ড ক্লাইভ নামধারী ব্যক্তি দিনের পর দিন টাকা কামিয়ে যাচ্ছে। যদিও নারীদের প্রতি কোন প্রকারের মোহ নেই মজনুর। তবুও সমাজকে প্রেমমুক্ত করতে কঙ্কাবতীর শরণাপন্ন হয় মজনু।

আমাদের দেশে এমন ডার্ক থিমের দূর্দান্ত কাজ খুব কমই দেখা যায়। হলেও বেশিরভাগ দর্শক তার মহত্ত্ব বুঝতে অপারগ থাকে। কেননা গল্প বলার ভঙ্গির সাথে পরিবেশন ধাঁচটা বড়ই অদ্ভুতুড়ে। কিন্তু সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে কাজটির ভেতরগত সৌন্দর্য শোভিত সুনিপুণ কাজ পরিলক্ষিত করে সার্থক হলে বুঝতে পারবেন কাজগুলোর গুরুত্ব।

ডাউনলোড লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=hjyerKjfbIQ

★”সোনালী ডানার চিল”
“তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে!
পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;
আবার তাহারে কেন ডেকে আনো?
কে হায় হৃদয় খুঁড়ে;
বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!”

প্রত্যাশায় উচ্ছ্বসিত মানুষের মধ্যকার অভিপ্রায়কে কখনো দমিয়ে রাখা যায় না, এই কথা আমরা প্রত্যেকে বিশ্বাস করি। আদৌ কি ন্যায়ের জয়রথি তার প্রবাহধারার জানান সর্বদা দিতে পারে কি?? প্রায়শ তার বলি হয়, অন্যায়ের বিভীষিকাময় অন্ধকারের কাছে। যেথায় ন্যায়ের চাদরে মোড়া নির্লিপ্ত হাহাকার কর্ণ পর্যন্ত পৌঁছালেও তা কখনোই মনের ঘরে বাসা বাঁধতে পারে না। যার ফলে নৈতিকতার বলি হচ্ছে কদমে কদমে। এক্ষেত্রে অন্যকে খুন না করে হতে হয়, আপন প্রত্যাশার খুনী। যার জলধারায় অবলীলায় রক্তঝরা স্রোতের মতোই হারিয়ে যায় প্রত্যশিত সকল অভিলাশের মৃত্যু।

সমাজের বেড়িবাঁধে আমরাও বাঁধা। যেখান থেকে মুক্তির উপায়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মন ও অনেকসময় বারবার হতাশায় ধরাশায়ী হওয়ার দরুণ কম্পিত হয়ে উঠে পোক্ত আত্মবিশ্বাসী মনোভাব। যে পরিস্থিতি থেকে মধ্যকার উত্তোরণের উপায়ে মোরা হারিয়ে বসি এক রাজ্যের হাহাকার ময় মর্মবেদনা সুর। সে সুরের বেদনায় কেবল আশার নয় সর্বস্ব বিলিয়ে যায় শূণ্যের কৌটা জানান দিয়ে জর্জরিত শরীরটা।

গল্প বেড়ে উঠে একজন নীতিবান শিক্ষকের ছোট পরিবারকে ঘিরে। যার স্বপ্ন তার মেয়ে রুমকিকে একদিন ডাক্তার হিসেবে দেখতে। রুমকিও তার বাবার স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন হিসেবে মনে লালন করে, নিজেকে প্রস্তুত করে তুলছে স্বপ্নপূরণের অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা হিসেবে। কিন্তু রুমকি মায়ের কথা প্রশ্ন অনৈতিক উপায়ে কিনে হলেও তার মেয়ের স্বপ্নকে পূরণ করা লাগবেই। এতে বাঁধা-বিপত্তি দাঁড়ায় বাবা-মেয়ের অপ্রতিরোধ্য নৈতিকতা। নির্মম বাস্তবতা যায় না খন্ডন। রুমকি মেডিকেলে চান্স পায় না। অথচ তারই বান্ধবী যোগ্যতায় অনেক পিছিয়ে থেকেও ছলচাতুরীর দরুণ চান্স পেয়ে যায়। নীতির পথে চলা রুমকির বাবাও মেয়ের হতাশায় নিজেকে ঘ্রাস করে ফেলা পরিস্থিতি থেকে দুশ্চিন্তায় পড়ে। এরপর শুরু হয় ন্যায়-অন্যায়ের টানাপোড়নে অনিশ্চয়তাকে নিশ্চিত করার হতাশাগ্রস্ত নেশা।

শেষটা নাটকীয় অনেকেই ভেবেছেন। জীবন কি নাটকীয়তার চেয়ে কোন অংশে কম নয়। কেননা পলকের মধ্যে ছোট ই জীবনে কোন অঘটন কিংবা সুখকর মুহূর্ত এমন সময়ে এসে তার জানান দিয়ে যাবে; তখন হয়তো আপনি নিজেও ততটা প্রস্তুত থাকবেন না পরিস্থিতি মোকাবিলার সময়ে।

আশফাক নিপুণের পরিচালনায় গল্পটি উঠে এসেছে আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার একটি অন্ধকার চিত্র হিসেবে। কারো অনিয়মের সুখের জন্য এভাবেই প্রতিনিয়ত বলি দিতে হয়, শত শত প্রাণচঞ্চল প্রত্যাশায় উজ্জীবিত তরুণ/তরুণীদের। এমন সাহসী কাজ নিয়ে পরিচালক আবারো হাজির হওয়ায়, উনার সে সাহসের স্বদিচ্ছা এবং সুকৌশলে সাবলীল ভঙ্গিতে পরিবেশনের জন্য অবশ্যই কড়তালির যোগ্য দাবি রাখেন।

মূল চরিত্রে অভিনীত রাইসুল ইসলাম আসাদ উনাকে কিংবদন্তী অভিনেতা হিসেবে সম্মানিত করা হয়। উনাকে এমন বড় পরিসরের কাজে দেখে সত্যি দর্শক হিসেবে আপনি কতটা গর্বিত হবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়াও অন্য ২টি বিশেষ চরিত্রে মেহজাবিন ও সাবেরী আলম দুজনেই মুগ্ধ হওয়ার মতোই কাজ করছেন। বিশেষত মেহজাবিনের অভিনয়ের গ্রাফটা সত্যি দিনকে দিন আরো বিকশিত হচ্ছে, এই ধরনের কিছু দূর্দান্ত স্ক্রিপ্টের নাটকে। অন্যান্য অভিনয়শিল্পীরাও তাদের স্বল্প পরিসরের স্কোপে সাবলীল কাজ করেছেন।

নাটকের শেষাংশের গানটি অর্থবহতা আপনার বুক চিরে অশ্রুজলে সিক্ত করে তুলবে।

“সকাতরে ঐ কাঁদিছে সকলে
শোন শোন পিতা
কহো কানে কানে
শুনাও প্রাণে প্রাণে
মঙ্গল-বারোতা।”

আমিও কেঁদেছি হয়তো বা আপনাকেও কাঁদাবে। নিঃসন্দেহে এটি এই ঈদের অন্যতম সেরা কাজগুলোর মধ্যে শীর্ষের দিকেই থাকবে।

নাটকটির ইউটিউব লিনকঃ-
https://m.youtube.com/watch?feature=youtu.be&v=YXWkF3UWTXY

★”পাতা ঝরার দিন”
ঝড়ে পড়া দিনের মতোই আমাদের স্মৃতি ও লোপ পেতে বয়সের বার্ধ্যকতায়। সত্য ঘটনা অবলম্বনে বাবা-মেয়ের মধুর সম্পর্কে হৃদয়বিদারক এক গল্প।

অনেক দিন পর রেদোয়ান রনি আবারো ফিরেছেন বীরদর্পে। দূর্দান্ত এক গল্পের সু-কৌশলী পরিবেশনের মাধ্যমে।

নাটকটির ইউটিউব লিনকঃ-
https://m.youtube.com/watch?v=ZpDrRI8AcaA

★”কতটা পথ পেরুলে”
সরল গল্পের ভিড়ে সোশাল ইস্যু নির্ভর দূর্দান্ত এক কাজ।

দালালের সাহায্য নিয়ে আমাদের দেশ থেকে প্রায়শ গ্রামের হতদরিদ্র কিংবা পরিস্থিতির অসহায়ত্বের শিকার নানান শ্রেণীর নারীরা পাড়ি জমায় সৌদি আরব সহ এশিয়ার বেশকিছু দেশে। সেখানে কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, বরং বর্বর নির্যাতিত হয়ে অনেকে দেশে ফিরে আসেন। এমতাবস্থায় দেশে ফিরে আসলেও সে নারীর বাস্তব পরিস্থিতি কতটা নির্মম হতে পারে জানেন কি?

মেহজাবীন সৌদি ফেরত নির্যাতিত এক গ্রাম্য মেয়ে। পুলিশের সাথে ফোনালাপে থানায় উপস্থিত হয় সাংবাদিক নিশো। আলাপের শেষদিকে নিশো মেহজাবীনকে তার স্বামীর বাড়িতে পৌঁছে দিতে চাইলে, পুলিশ এর পেছনে নিশোর উদ্দেশ্য জানতে চায়!!! নিশো জানায় এতে সে একটা নিউজ পাবে, সে উদ্দেশ্যেই সাথে যাওয়া। কিন্তু মেহজাবীনের স্বামী বিদেশ ফেরত নির্যাতিত বউকে ঘরে না তোলে, বাড়ি থেকে বের করে দেয়। অন্যদিকে তরুণ ব্যাচেলার নিশোর বিবেক ও বাঁধা দেয়, একাকী মেহজাবীনকে তার বাসায় আশ্রয় দেওয়াতে।

গল্পটি যদিও খুবই সাধারণ ধাঁচের, তবে পরিবেশন সত্যি চমৎকার। গল্পটির সাথে আপনিও একটা সময় জুড়ে যাবেন।

পরিচালক তুহিন হোসেনের কাজটি সত্যি দারুণ বলতে হবে। গল্পের ক্লাইম্যাক্সের নিষ্ঠুরতার চিত্র গাঢ়ভাবে দেখিয়েছেন। সরল গল্পকে জটিলভাবে প্রদর্শন করার সামান্যটুকু চেষ্টা না করায়, কাজটি দারুণভাবে সবার মাঝে ফুটে উঠবে।

নিশো-মেহজাবীন জুটির রসায়ন পর্দায় এতটাই বিকশিত হচ্ছে, সত্যি দর্শকের মনে একটা সময় সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি বলেও বিবেচিত হতে পারে। তাদের জুটির প্রত্যেকটি কাজে ভিন্ন ভিন্ন গল্পের চরিত্রায়নেও রসায়ন যেন সেই মধুরতা বজায় নিয়ে চলছে।

এবারের ঈদের খুব ভালো মানের একটি কাজ। হয়তো অনেকটা কম আলোচিত হয়েছে, কিন্তু আপনি দেখলেও বুঝতে পারবেন। কাজটি আসলেই কতটা প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য।

লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=lFuVIZdI9Uc

★”সাদাসিধে মানুষের গল্প”
মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর দূর্দান্ত এক নাটক। অভিনয়ে মোশাররফ করিম ও অপর্ণা দুজনেই সাবলীল কাজ করেছেন। পরিচালক হাসান মোরশেদের আরেকটি দারুণ নির্মাণ।

★”লালাই”
“রাস্তায় আমার বসত আজি
সমাজ আমায় ডাকছে পাজি
আভাব আমায় দিচ্ছেনা ছাড়
দারিদ্রতা ছাড়ছেনা ঘাড়।”

কোরবানীকে কেন্দ্র করে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই মেতে উঠি ঈদের পূর্ব মুহূর্তে গরু কেনার নানান পরিকল্পনা। কিন্তু গরু বিক্রেতা সেই কৃষক যদিও তার আর্থিক অনটন কিংবা সামান্য লাভের কথা ভেবে তার স্নেহের গরুটিকে বিক্রি করতে প্রস্তুত; সে কি আদৌ মন থেকে সুখী হতে পারে কি??? তাদের হাহাকারের শব্দ প্রায়শ ভেসে উঠে সরল আর্তনাদের মধ্য দিয়ে। তখন অবুঝ নিরীহ পশুটিও মালিকের বেদনায় অশ্রুজলে ভেসে উঠে; গড়িয়ে পড়ে অশ্রু। চোখ থেকে সমগ্র মুখমন্ডল ব্যাপী। এই দৃশ্যের দর্শক আমরা অনেকেই হয়েছি। তবুও কি আমরা কখনো চিন্তা করতে পারি কি, সামান্য পশুর সাথে কিভাবে এত একাত্বতা কাজ করতে পারে কোন মানুষের??? যদি এতই বা টান থাকে, তাহলে তার আদরের পশুকে কেনই বা বিক্রি করতে এতটা উদগ্রীব হয়ে আছে???

মেয়েটার অসুখ তাই বলে কি পারতো না কোন সাহেবের শরণাপন্ন হতে!!! তা নিয়ে কবিতার কিছু চরণ মনে পড়ে।

“আমার মেয়েটার অসুখ,
সাহেব যদি পারেন,
দশটা টাকা বেশি দিয়েন।”

সাহেব রাগে গর্জে উঠেন বলে-
“রাখো মিয়া ওই সব চুতিয়া আলাপ,
ভাওতাবাজির জায়গা পাওনা আর!
শালা আবার ভদ্র ভাষায় কথা বলে!”

কৃষকের সাথে তার লালিত পশুর সম্পর্কটা হয়তো বা মুখরোচিত অনেকের জানা। অথবা আপনারা গুটিকতক লোকেরা স্ব-চোক্ষে সে যাত্রার পথিক ছিলেন। আসুন আপনাদের দারিদ্রতায় জরাজীর্ণ জীবনের মধ্য দিয়েও গরুর সাথে তার মালিকের জীবনচিরতের চিত্র প্রদর্শিত করবো।

কালু পরিচয়ে একেবারে সাদামাটা একদম চুপচাপ সহজ-সরল স্বভাবের কৃষক। দীর্ঘদিন কোমড়ে ব্যাথার কারণে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারে না। কিন্তু তার রোগ ব্যধি কিংবা পারিবারিক কোন মায়া তাকে মোটেও অমনোযোগী হতে দেয়নি তার লালাইয়ের অমায়িক দেখাশোনার কাছ থেকে। এসবে ভীষণ আপত্তি তার বউ কলির। কেননা তার মতে, লালাই তো সামান্য গরু। সে গরুর এতোই বা কিসের যত্ন নিতে হবে যে তার নিজের শরীর অথবা পরিবারের কথা বাদ দিয়েও তার কথা ভেবে চলতে হবে। কালুর মেয়ে খুশীর দীর্ঘদিন জ্বরে থাকার পর, চিকিৎসার অভাবে বড় রোগ দেখা দেয়। এতে অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে। পরিবারের মত থাকলেও কালু কোনমতেই রাজি নয় তার লালাইকে বিক্রি করায়। সে যেভাবেই হোক মেয়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করার ব্যবস্থা করবে।

বান্নাহ ভাই পরিচালিত নাটকটি গল্পধারায় ফুটে উঠেছে এমনই লাখো লাখো কৃষকের মর্মকথা। তিনি তার নির্দেশনার শৈলীতে তা দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন গল্পের আলোকে।

প্রত্যেকটি সিকোয়েন্সে আপনার কেবল হৃদয় ব্যথিত হবে না, সেই সাথে বেদনার করাল ঘ্রাসে অশ্রুজল আপনা-আপনি চোখ গড়িয়ে পড়তে থাকবে। সত্যি ইমোশানগুলো যতই চেষ্টা করেন, তা আর দমিয়ে রাখা যাবে না৷ কারণ প্রদর্শিত চরিত্র কালু অন্য কেউ নয়, আমি-আপনি বা আমাদের পরিচিত কোন লোকের জীবনচরিত। এই কান্না কিসের জানেন!!! আনন্দের বা বেদনার নয়। এটি আমাদের অসহায়ত্বতার জানান রূপে ফুটে উঠেছে। গল্পটির সংস্পর্শতা  উপলব্ধি করার দরুণ, সত্যি পাথর হৃদয় ও যেন মোমের মত গলে বেদনার কান্না স্বরুপ নীরব হাহাকারের সৃষ্টি করবে।

মূল চরিত্রে থাকা নিরীহ প্রাণীর ব্যবহারটা ক্যামেরা কাজ বা গরুটিকে প্রদর্শিত করার ভঙ্গি লা-জবাব। আফরান নিশো কালু চরিত্রে এভাবেই মিশেছেন যেন তিনি তার অভিনয়ের মধ্য দিয়ে জানান দিয়েছে স্ব-ঘোষিত কৃষক সম্প্রদায়ের অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে চরিত্রালোকে। তার নানান এক্সপ্রেশন কিংবা ডায়ালগ ডেলিভারি এমনকি তার বডি পোর্শান সত্যি প্রশংসিত। নিশোর হাহাকারের বেদনায় দর্শক বাধ্য হাজারো চেষ্টায় জমিয়ে থাকা অশ্রু জল হয়ে গড়িয়ে পড়ার। তানজিন তিশার কাজ ও যথেষ্ট ভালো ছিল। নিশো-তানজিন তিশার মধ্যকার মধুর-রিক্ততার সম্পর্ক দারুণভাবে ফুটে উঠেছে; তাদের মধ্যকার রসায়নের মাধ্যমে।

“দারিদ্রতা বুঝি, প্রভুর প্রিয় অতি,
সানন্দে সঁপে দেয়, প্রিয়তম প্রতি।
ধৈর্য চেয়ে বড় দান, নাহি কিছু আর,
তাই প্রভু খুলে দিলো, মুক্তির দ্বার।”

নিঃসন্দেহে এই ঈদের অন্যতম সেরা কাজ। এমনকি বান্নাহ ভাই পরিচালিত এবারের সেরা কাজ ও বটে।

নাটকটির ইউটিউব লিনকঃ-
https://m.youtube.com/watch?feature=youtu.be&v=NAY5UDHbmeI

★”কিছু দুঃখ সবারই থাকে”
শিহাব শাহিনের পরিচালনায় বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে ড্রামা ধাঁচের নাটক।

গল্পটির প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে একই সমাজের দুটি মানুষের জীবনের আলোকে আমাদের জীবনের অবস্থান অবলোকিত হয়েছে। যেথায় নিচুশ্রেণী হোক কিংবা উচ্চশ্রেণীর লোক, প্রত্যেকেই বেদনার মর্মগাঁথায় এক।

ডাউনলোড লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=SZaO6n_-3nI

★”সিনেমা জীবন”
হাবিব শাকিলের পরিচালনায় আশির দশকের প্রেক্ষাপটে দূর্দান্ত এক রোমান্টিক নাটক।

জেসমিন ও নিপা দুই বোন অভিনেত্রী সূচিত্রার অনেক বড় ভক্ত। পাড়ার ছেলেরাও জেসমিনকে সূচিত্রা হিসেবেই সম্বোধন করে। রাজ্জাক নামের এক সরল যুবক সে পথ দিয়ে যাওয়ার সময়, সূচিত্রার মুখোপানে চেয়ে ভালোবাসার অতলে হারিয়ে যায়। রাজ্জাক তার মনের গহীনে সৃষ্ট হওয়ার ভালোবাসার অভিপ্রকাশ চিঠির আলোকে জানায় সূচিত্রার রূপী জেসমিনকে। তার মনে গভীর বিশ্বাস সিনেমায় রাজ্জাক শাবানার হলেও এই রাজ্জাক কেবলই সূচিত্রার।

সেলুলয়েডের সেসব দিনগুলোতে হারিয়ে নিয়ে যাবে অভূতপূর্ব রোমান্টিক নাটকটি।

ডাউনলোড লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=VxivlSZ3uPE

★”এই শহরে কেউ নেই”
শিহাব শাহিনের পরিচালনায় বর্তমান সোশ্যাল ইস্যু নিয়ে দূর্দান্ত এক নির্মাণ।

মিথি ঢাকা শহরে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় দেওয়ার জন্য। কিন্তু আকষ্মিকভাবে তার ছিনতাই হয়ে যাওয়ার সময়, সে পথ দিয়ে যাওয়া আদিত্য ছিনতাইকারীদের বাঁধা দিতে চাইলে তারও একই পরিণতি হয়। আদিত্য মানবতার খাতিরে মিথির সাহায্যে এগিয়ে আসলেও, একটা সময় তা প্রণয়ে দেখা দেয়। তবে শহরে কি আদৌ কেউ কারো জন্য কি??

ডাউনলোড লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=_fOWnMYD8xc

★”সব গল্প রূপকথা নয়”
জীবনের গল্পে সুখের ভেলায় গমন করিতে চাইলে দুঃখকেও হাসিমুখে গ্রহণ করিবার প্রত্যয় থাকা উচিৎ। উচ্চাশার ইচ্ছেপূরণের স্বাদ হয়তো বা প্রায়শ হইবে নাকো পূরণ। তবুও মানব মনে আশার আলো নিভু হইতে দেওয়া যাবে না৷

গল্পটি নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দম্পতির। স্ত্রীর ছোট-বড় আশাপূরণে স্বামী নানান গল্পকথাতে বহিতে থাকে তার বহমান ধারা। গল্পের পেছনের মানুষটির আর্তনাদের হাহাকার কখনো মুখশ্রীপানে হতাশার স্থানস্বরূপে স্থায়ীত্ব লাভ করতে পারে না।

হিমেল আশরাফ পরিচালিত গল্পটি সত্যি মনকে নাড়া দিয়ে উঠবে। এই ঈদের খুব সুন্দর একটি কাজ।

★”কানামাছি ভোঁ ভোঁ”
কুয়াশার চাদরে লুকিয়ে পড়া রহস্য যতই তার ধুম্রজালে ভ্যাবাচেকা বানিয়ে ফেলুক না আমাদের। তার উন্মোচনের প্রফুল্লতা মনে সুখকর ফোয়ারা নিয়ে এলেও প্রায়শ তা অন্ধকার অমানিশার মতো আড়ালে থাকলেই সম্ভবত মোদের বিদঘুটে বর্বরতার স্বাক্ষী হতে হতো না।

অপরাধ বিজ্ঞান নিয়ে আমেরিকা ফেরত জেমস বাংলাদেশে আসে ২২বছর আগে ঘটে যাওয়া তার পিতৃহত্যার রহস্যভেদ করতে। সন্দেহের তীর তার বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দিকে হলেও বহু আগেই তিনি এই কেস থেকে ছাড়া পেয়ে যান। ভাগ্যের পরিহাস সেদিনই এই খুনের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী পূর্বা তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। জেমস নানান আঙ্গিকে পূর্বার মধ্য দিয়ে রহস্যভেদের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে থাকে। মূল রহস্যটা কোথায়???

Ashfaque Nipun আবারো সমাজের এমন এক ইস্যু নিয়ে গল্প পরিবেশনের সাহসিকতা দেখিয়েছেন, যা নিয়ে অনেকেই মুখ ফুটে কথা বলার সাহস পর্যন্ত পায় না। বরাবরের মতো তার এই কাজটি সুনিপুণ ভাবে পর্দায় ফুটে উঠেছে, লাখো অব্যক্ত মানুষের সুস্পষ্ট ভাষ্য হিসেবে।

অভিনয়ে অপি করিম এমন এক চ্যালেঞ্জিং চরিত্রেও নিজের সুদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তার এক্সপ্রেশন আর বডি লেঙ্গুয়েজ অস্থির ছিল চরিত্রানুযায়ী। এছাড়াও জন কবির, বাশার দম্পতির দুজনে সাবলীল কাজ করেছেন।

এই ঈদের আরেকটি খুবই ভালো মানের কাজ। অবশ্যই আলোচিত হওয়ার যোগ্য দাবিদার।

নাটকটির ইউটিউব লিনকঃ-
https://m.youtube.com/watch?v=8r-_bf9Alk8&feature=youtu.be

★”ওগো বধূ সুন্দরী”
বিয়ের সম্পর্কের দীর্ঘকাল যতই বাড়তে থাকে, প্রায়শ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কপোত-কপোতির মধ্যকার বোঝাপড়াটা অনেকটা ফিকে হয়ে যায়। হয়তো বা দায়িত্বের বোঝায় নুইয়ে পড়ে পরস্পরের মধ্যকার সম্পর্ক।

গল্প ঠিক এইভাবে এগিয়ে যায়, বিয়ের প্রায় ১০ বছর পর স্বামী তার স্ত্রীর নিকট থেকে জানতে পারে ২টি সন্তানের মধ্যে একটি তার নয়।

হিমেল আশরাফের পরিচালনায় খুব সুন্দর একটি কাজ। গল্পটিও একেবারে ফ্রেশ।

মাহফুজ ও মেহজাবিনের মধ্যকার বয়সের পার্থক্যটাও ঢাকা পড়ে গেল দুজনের মধ্যকার দারুণ রসায়নে।

অবশ্যই দেখার মত খুব ভালো একটি কাজ।

নাটকটির ইউটিউব লিনকঃ-
https://m.youtube.com/watch?v=3wNGOTAsFO0

★”শাড়ি”
হিমেল আশরাফের পরিচালনায় রোমান্টিক নাটক।

শাহাদাত পরিচয়ে একজন লিফটম্যান। লিফটে শাহাদাতের স্যারের ফেলা যাওয়া শাড়ির প্যাকেট, শাহাদাত নিজের কাছে রাখে পাছে কেউ ভুল করে তুলে নেওয়ার ভয়ে। পরে শাহাদাত তার অফিসের স্যারকে জানালে, উনি জানান আপাতত শাড়িটা শাহাদাতের কাছেই রাখুক। উনি পরে তার কাছ থেকে চেয়ে নিবেন।

কিন্তু শাহাদাতের বউ শাড়িটি তার স্বামীর উপহার ভেবে সাদরে পরিধান করে। শাহাদাত ও তার বউয়ের মুখের হাসি কেড়ে নিতে চায় নি। এতে দ্বিধাদ্বন্দ্বের খেলায় শাহাদাত আনমনে চিন্তায় ভুগতে থাকে।

ডাউনলোড লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=A_2dJS7IjNE

★”সংসার”
“সুখে কিংবা দুঃখে অথবা আনন্দ কিংবা বেদনায়; যাই হোক, আপনার সংসার আপনার ই ভালোবাসুন তাকে।”

কথাগুলো উক্তিস্বরুপ লিপিবদ্ধ কলামে আবদ্ধ শব্দ ঝংকার শোনালেও আভিধানিক অর্থবহতা সংসার জীবনে কপোত-কপোতির অভাবনীয় প্রভাব ফেলে যায়।

অহমতার বশিভূত হওয়ার দরুণ, আমরা নিজেদের অবস্থান সর্বদা অন্যের চেয়ে উচ্চস্বরে বলিষ্ঠ কন্ঠে সমোচ্চরিত করতে বদ্ধ পরিকর। মিথ্যে অহমের দরুণ নিজ জীবনসঙ্গীর ছিটেফোঁটা আত্মসম্মানবোধ ও আমাদের মনে উদীয়মান হয় না।

আমরা ধরেই নি, স্বামী হচ্ছে সংসারের গ্লানি টানা সে পুরুষ, যার দায়িত্ব যেকোন পরিস্থিতিতে হোক সংসারের হাল ধরা। অন্যদিকে স্ত্রী হবে ঘরকোণো সে বস্তু যেকিনা আজীবন সুস্বাদু খাবার তৈরি ছাড়াও পরিবারের লোকজনের যত্নশীলতার দায়িত্বভার নিবে। বৈষম্যতার এই পরিসীমার দরুণ সংসারের সৃষ্ট খুনসুটি ও অনেক বড় ঝগড়ার রূপ নেয়। কেননা ব্যক্তি হিসেবে আমরা নিজেদের অবস্থান কে অন্যের চেয়ে কঠোর কর্মসাধন করছি বলি বিশ্বাস করি। যার ফলে, সংসার জীবনের সামান্যতম রিক্ততা ও ভবিষ্যতে সম্পর্ক বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পাশ্চাত্য দেশগুলোর মত, আজ আমাদের দেশেও সংসার জীবন বিচ্ছেদের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সংসার জীবনে কপোত-কপোতীর কিভাবে নিজের সংসার টা গুছিয়ে নিতে পারে অল্পতে সন্তুষ্টতার মধ্য দিয়ে, তার ই জলছবি পর্দায় রূপায়ন করেছেন পরিচালজ মিজানুর রহমান আরিয়ান।

গল্পে লক্ষ্য করা যায়, অপূর্ব ও নাবিলা সদ্য নব-দম্পতি। তাদের দুজনের প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে; পরে দুই পরিবারের সম্মতিক্রমেই বিয়ের বন্ধনে তারা আবদ্ধ হন। অপূর্ব ও নাবিলা সাজানো গোছানো সংসার বেড়ে উঠেছে স্বল্পতে সন্তুষ্টিয়তার মধ্য দিয়ে। দুজনেই চাকুরীজীবী বলে, মাসিক খরচের হিসেব টা বাদ দিয়ে দুজনে চিন্তা করে অল্পকিছু অর্থ সঞ্চয়ের ব্যাপারে। তবুও সংসার জীবনে কি খুনসুটি আসে না কি?? হ্যা, অবশ্যই আসে। কথায় আছে না, ছেলে মানুষ রাগ না দেখালে বা মেয়ে মানুষ অভিমান না করলে বড্ড বেমানান দেখায়…!!!!

সংসার জীবনের যে প্রতিচ্ছবি পরিচালক মহোদয়, আমাদের মুখাপানে মেলে ধরেছেন। যদি আমরা তা নিজ জীবনে ধারণ করতে পারি, মনে হয় না সংসার জীবনের কঠোর থেকে কঠোর পরিস্থিতিতেও অর্ধাঙ্গ-অর্ধাঙ্গিনীর সম্পর্ক বিচ্ছেদের রেখা ও উন্মোচন হবে। সংসার জীবনে কষ্টগুলো যদি কপোত-কপোতীরা ভাগ করে নিতে জানে, সেথায় আনন্দগুলো আরো দ্বিগুণ হয়ে আসবে।

জীবনের সবগুলো স্বপ্ন হয়তো বা পূরণ নাও হতে পারে, তবে সংসার জীবনে একে-অন্যের প্রতি বিশ্বস্ততাময় সম্মানবোধ নিয়ে চললে কি ভালোবাসা কি কমবে কি কখনো???

মিজানুর রহমান আরিয়ান ভাইয়ের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের কাছে আদর্শ সংসার জীবনের প্রতিচ্ছবিয়তার মধ্য দিয়ে শিক্ষামূলক বিষয়টি তুলে ধরার জন্য। আমার বিশ্বাস, যেকোন দম্পতি প্রদর্শিত চিত্রায়ন জীবনে ধারণ করতে পারলে, প্রত্যেকের সংসার জীবন হবে স্বর্ণস্বরুপ দামি।

অপূর্বের অভিনয়ে সাবলীলতার ছাপ দেখা গিয়েছে। অবশ্য তার সাথে খুব সহজে এই ধরনের চরিত্রগুলোর মেলবন্ধন করা যায়। অপূর্বের অভিনয়ে মুগ্ধ বলতেই হবে। অন্যদিকে নাবিলার কথা কি বলবো!!! বড্ড ভালোবাসি তাকে। আমি তার শব্দচয়ন অথবা অভিনয়ের সাবলীলতার বদ্ধ পাগল। কখনোই মনে হয় নি, নাবিলা ছিটেফোঁটা ও অতিরঞ্জিত করছে তার কাজে। নাবিলা তার চরিত্রগুলো এভাবে ফুটিয়ে তুলে যার ছাপ আজীবন মনে প্রভাব ফেলে যায়। খুব করে চাইবো, নাবিলা যেন নাট্যপাড়ায় অন্তত উৎসবের দিনগুলোতেও যেন এমন অসাধারণ চরিত্রানির্ভর কাজ নিয়ে দর্শকমহলে হাজির হয়।

সংসার নাটকটি কেমন তা নিয়ে বিশেষ ভাবে বলতে গেলে, এই নাটকের তাহসানের মনোমুগ্ধকর সংলাপনির্ভর গানটির কিছু চয়ন বলতে মনে সায় দিচ্ছে:-

“ছোট্ট ঘর, রঙিন বিছানা,
দুটো বালিশ পাশাপাশি;
আর আমরা দুজন।

মিষ্টি আলোয়, শীতল বাতাস;
বারান্দায় টাঙানো কাপড়;
রোদ পোহায় যখন……

ঠিক তখন ই, সকালের রোদ;
জানালায় উঁকি দিয়ে জানিয়ে দেয়;
এই তোমার-আমার সংসার।”………..

নিঃসন্দেহে এবারের রোমান্টিক নাটকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সেরা নাটক। শুধু রোমান্টিক নাটক বলেই না, আমার মতে এটি আমাদের নাটকের ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি শিক্ষামূলক কাজ।

“ছেলেরা দেখবেন- কারণ আপনার এমন একজন জীবনসঙ্গী প্রয়োজন।

মেয়েরা দেখবেন- কারণ আপনি এমন একজন মানুষের সাথে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাটাতে চান।

প্রেমিক+প্রেমিকা দেখবেন- কারণ এমন একটা সংসার আপনি সাজাতে চান খুব তাড়াতাড়ি।

স্বামী+স্ত্রী দেখবেন- কারন এটা আপনাদেরই সংসার।”

লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=G15nqhdDmaA

★”বেডসিন”
“কিসের এত আনন্দ,
কিসের এত উল্লাস !
একদিন তোমায় মরতে হবে,
হতেই হবে লাশ !
যাদের তুমি আপন ভাব,
তারা সবাই হবে পর !
আপন বলতে থাকবে শুধু নেক আমল,
আর মাটির অন্ধকার কবর !”

শব্দগত অর্থে মস্তিষ্কের কোণে হয়তো বা জন্ম নিতে পারে কামুক কোন দৃশ্যের চিন্তাচেতনা। অথচ বিছানা বলতে রূপক অর্থে ব্যবহৃত শব্দের পঙ্কিমালা বিন্যস্ত করলে উন্মোচিত হবে মূল রহস্য। শৈশবকাল থেকে বৈবাহিক জীবন কিংবা মৃত্যুর পরে জীবনের এই মূল্যবান সময়টুকুতে বিছানাকে কেন্দ্র করে রচিত। যেথায় জীবনের সুখ-দুঃখের মর্মকথা রূপায়িত হয় নানান ধাপে ধাপে৷

জীবনের এই ধাপগুলো বর্ণিত হয়েছে Bannah ভাই নির্মিত নাটকে। যেথায় গল্পের প্রাক্কালে স্বামী-স্ত্রীর বাসর রাতের মুহূর্তের খুনসুঁটির মধ্য দিয়ে গল্প তার আপন গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে। যাকিনা প্রত্যেক পরতে পরতে বিছানাকে কেন্দ্রীভূত করে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের রিক্ততা কিংবা মধুরতা অথবা আনন্দ-বিষাদের মুহূর্তগুলো উন্মোচিত হবে জীবনের নানান সময়কালে। বিভিন্ন স্তবকে আপনার বা আমারই জীবনের রূপরেখা রূপায়িত হবে গল্পের আলোকে। যার শেষ গন্তব্য চিরন্তন নিষ্ঠুর সত্যতার মাধ্যমে বিলীন হয়ে যায়।

মূল চরিত্রে থাকা ইরফান সাজ্জাদ ও তানজিন তিশা দুজনের কাজ বেশ ভালো। তাদের মধ্যকার কেমেষ্ট্রিও খুব সুন্দরভাবে গল্পে ফুটে উঠেছে।

“ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিয়ে ঘন আবিরের রাগে,
অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে।
মসজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সুকরুণ সুরে,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দূরে।
জোড়হাত দাদু মোনাজাত কর, আয় খোদা! রহমান।
ভেস্ত নসিব করিও সকল মৃত্যু-ব্যথিত প্রাণ।”

নাটকটির ইউটিউব লিনকঃ-
https://m.youtube.com/watch?v=S1uHmAthpTE

★”এক বৈশাখে”
ভার্চুয়াল জগত প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার পর রীতিমত প্রেম বিষয় বড় সস্তা আর সহজলভ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রেম বিষয়ক নানান কার্যবিধির পেছনে রয়ে যায় কেবল শারীরিক চাহিদা। বর্তমানে ভার্চুয়াল প্রেম হচ্ছে এমন ই ভোগ্যপণ্য যেথায় এক শরীরের চাহিদায় ক্ষুধা মিটে না, বরং শরীরের পর শরীরের সে প্রেম নামক ভোগের নেশা চলতে থাকে।

তাই বলে কি, ভার্চুয়াল এই জগতে ভালো যুগল আদৌ মেলে না নাকি!!! লাখো কুলষতার ভিড়েও সততা থাকে। যাকিনা ভালো মানুষের প্রতীকি রূপে আজো উজ্জ্বল প্রতিভূ রূপে নিজেদের প্রোজ্জ্বলন করে যাচ্ছে সমাজের মাঝে। সেথায় অতিরঞ্জিত নাটকীয়তা নেই একেবারে সোজাসাপ্টা সহজ-সরল প্রেমের মুখরিত মধুরিমায় ছড়িয়ে যায়।

পলাশ গল্পের নায়ক বলবো না সরল স্বভাবের কোন ব্যক্তির প্রতীকি। পরিচয়ে ঢাকা শহরে থাকা চাকুরীজীবী ব্যাচেলার হলেও ফেইসবুকে তার প্রিয়সী নীলিমা রয়েছেন। নীলিমার সাথে তার প্রেমালাপে প্রতি দিনকার নানান খুঁনসুটি মেশানো রসাত্মক ভাব ফুটে উঠে। ওহ আচ্ছা, নীলিমার সাথে তো পরিচয় করানো ই হল না। নীলিমা ও ব্যস্ত নগরী ঢাকাতে ফ্ল্যাটবাড়িতে একা থাকে। ব্যস্ততা বলতে তার কর্মজীবন রয়েছে। সেথায় ও ছিটেফোঁটা ভ্রূক্ষেপ কিংবা ক্লান্তিভাব ফুটে উঠে না।

পলাশের সাথে নীলিমার প্রেমালাপ ভার্চুয়ালে বেড়ে উঠলেও; তাদের প্রণয়ে কেন জানিনা আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে নি। কেউ কাউকে কখনো দেখে নি, এমনকি ফোনালাপ ও কখনো হয় নি। বড্ড সেকেলে শোনালেও এই প্রেমে মুগ্ধতার আবেশে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে হবে।

বৈশাখের বিশেষ দিনে দেখা করার বাসনা তৈরি হয় পলাশ-নীলিমার।

তুহিন হোসেন পরিচালক হিসেবে নতুন হলেও তার কাজে মুগ্ধতা ছড়িয়ে গেল। যদিও তুলনায় যাচ্ছি না, তবে তার এই নাটকে “কথা হবে তো” নাটকের খানিকটা আমেজ খুঁজে পেলাম।

অভিনয়ে নিশো সত্যি একেবারে মত্তহারা করে দিয়েছে। নিশো কে বহুদিন পর এমন দারুণ এক চরিত্র করতে দেখে সত্যি ভীষণ পুলকিত হলাম। তানজিন তিশা যদিও সুদক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে পরিপূর্ণ রূপে পর্দায় চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারেন নি। তবে কেন জানি তাকে এমন চরিত্রে বড্ড সাবলীল মনে হল। বিশেষ করে তাদের দুজনের মধ্যকার পর্দায় কেমেষ্ট্রি গল্পের বদৌলতে এমনকি তাদের সাবলীল প্রচেষ্টায় মনে ছুঁয়ে গেল।

অবশ্যই নাটকটি দেখুন।

লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=wT6D21VxOKY

★”তনিমা”
প্রেক্ষাপটটি সাজানো হয়েছে বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। আমাদের খুব ছোট জীবনে তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ ঘটনাও অন্যের ব্যক্তিজীবনে কতটা প্রভাব বিস্তার করে যায়, সেথায় রীতিমত আমাদের দৃষ্টিপাত হতেও দেয় না লোলুপায়িত বিবেকবোধ।

শফিক দেখতে শুনতে ভদ্র অনেকটা নির্জীব ধরনের। দিন কে দিন তার জীবনটা অগোছালো হয়ে যাচ্ছে। তার অগোছালো জীবনে রীতিমত নিজেকে নিঃশেষ করতে থাকলেও, প্রতিদিন নিয়ম করে ঠিক ই তার থানায় যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশের কাছে শফিকের কেবল একটি প্রশ্ন করে- “ওদের কি কোন খোঁজ পেলেন?”

আর পুলিশেরা ও বিগত ২ বছর ধরে একই প্রশ্ন শুনতে শুনতে বিরক্ত। কিন্তু তাদের হাতে অপরাধীর কোন হদিস না থাকায়, বারবার খালি হাতে ফেরাতে হয় শফিক কে।

অগোছালো নিষ্পেষিত শফিক বিগত ২ বছর ধরে কাদের এভাবে খুঁজে যাচ্ছে? কি হয়েছিলো শফিকের জীবনে???

বলছি না মাথানষ্ট থ্রিলার কিছু আপনার সম্মুখে আসতে যাচ্ছে। তবে গল্পটি কেবল ক্ষণিকের ভালোলাগার চেয়ে বরং গল্পের ভেতরের ম্যাসেজ টা মনে লাঘব করতে পারেন। এতে হয়তো আমূল পরিবর্তন কিছু হবে কিনা জানি না, তবে কারো জীবন টা হয়তো এত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে না।

মাবরুর রশীদ বান্নাহ ভাইয়ের অন্যান্য নাটকের চেয়ে গল্পটি বেশ ভিন্ন ধাঁচের লাগলো। বিশেষ করে বাস্তব গল্পের কাল্পনিক রূপায়নে তিনি সার্থক হয়েছেন বলা যায়।

অভিনয়ে অপূর্ব সাবলীলতার পরিচয় দিয়েছেন। সাফা কবিরের স্ক্রিন প্রেজেন্স কম হলেও সাফার কাজ ও যথেষ্ট ভালো মনে হলো।

ইউটিউব লিনক:-
https://m.youtube.com/watch?v=kibuKxF3XCU&feature=youtu.be

★”ঠিকানা”
এক চোর তার এলাকায় দূর্ঘটনায় কবলিত যানবাহন থেকে লোকের টাকা ও নানান জিনিসপত্র চুরি করে তার দিন গুজরান করে। একদিন বাসে আকষ্মিক ভাবে এক শিশুর কান্না তার বুককে নাড়া দিয়ে উঠে। শিশুটিকে বুকে টেনে নিতে তার হারিয়ে যাওয়া শিশুটির প্রতি টান অনুভব করে। বাসায় নিয়ে গেলে তার স্ত্রীও শিশুটিকে মায়ের স্নেহে পালতে থাকে। চোর পুলিশকে খবর জানায় যেভাবেই হোক, এই শিশুটির ঠিকানা এখন তার বাড়িই হোক। কিন্তু পুলিশ জানায় শিশুটির পরিবার আসলে তাদের হাতে শিশুটিকে তুলে দিতে হবে।

অভিনয়ে মোশাররফ করিম ও রিচি সোলায়মান দুজনে দূর্দান্ত অভিনয় করেছে।

এই ঈদের খুব সুন্দর একটি নাটক। অবশ্যই দেখতে পারেন।

নাটকটির ইউটিউব লিনকঃ-
https://m.youtube.com/watch?v=m_7rwiC5UNU

★”এবার তোরা মানুষ হ”
শিক্ষক আমাদের শিক্ষাদান ও স্ব-শিক্ষায় বেড়ে উঠার প্রধান কারিগর। কিন্তু আমরা কতজন ই বা নিজের শিক্ষার সঠিক ব্যবহার করছি জীবনে?? বেশিরভাগ ই ছুটছি কেবল অর্থের মোহে লালসায়িত উন্মাদ নেশায়।

দারুণ শিক্ষামূলক এক নাটক।

নিশোর প্রধান ভূমিকায় কাজ সহ গল্পের বিভিন্ন চরিত্রের প্রতিচ্ছবিতে ভেসে উঠবে আমাদেরই কারো প্রতিবিম্ব।

লিনকঃ-
https://m.youtube.com/watch?v=TWy8V0PC63k

এছাড়াও আরো বেশকিছু নাটক বছরজুড়ে আলোচনা ও প্রশংসিত ছিল। প্রত্যাশা থাকবে নতুন বছরেও আমরা আরো ভালো ভালো কাজ পাবো।

(Visited 540 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন