প্রস্তুত তো গহীন বালুচরের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার জন্য……???

#প্রিভিউ

২০১৭ শেষ হতে চলল,বছরের শেষ সিনেমা হিসেবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সরকারি অনুদানে নির্মিত গহীন বালুচর।প্রথমে ভেবেছিলাম সিনেমাটি নীরবে নিভৃতেই মুক্তি পাবে।তাই হতে যাচ্ছিল কিন্তু ঢাকা এটাকে তোড়ে সিনেমাটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুবিবেচনায় মুক্তির তারিখ পিছিয়ে বছরের শেষ শুক্রবার করা হয়।এতে লাভের লাভ যা হল তা প্রচারণা ঠিক মত চালাতে পারলেন তারা সেই সাথে সিনেমাপ্রেমী মানুষের নজরেও আসতে পারেলন।আরেকটা ব্যাপার ঘটল তা হল এ ধরনের প্রচলিত ধারার বাইরের সিনেমা গুলো হল সংকটে ভুগে,তা থেকে মুক্তি পেতে এ সিনেমাটি পেয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়ার মত বড় পরিবেশক, যা সিনেমাটিকে সর্বোচ্চ সংখ্যক হল পেতে সাহায্য করবে।যাই হোক এইবার আসি সাধারণ মানুষ কেন সিনেমাটি দেখতে হলে যাবে?

আমরা বাংলাদেশ বলতে কি বুঝি?বাংলাদেশ বলতে কিন্তু আমরা সুরম্য অট্টালিকা,ফ্লাইওভার বুঝি না!!তাইলে কি বুঝি?আমি জানি শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ এই বিষয়ে একমত হবে আমার সাথে যে বাংলাদেশ বলতে আমরা বুঝি নদী-নালা,সবুজ ধানক্ষেত,নৌকা,ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি!যা আমাদের গ্রাম বাংলার প্রতিচ্ছবি।আর সিনেমার অভিনেত্রী এবং সহ প্রযোজক সুবর্ণা মোস্তফার ভাষায় ঠিক এই গ্রাম বাংলাকেই খুঁজে পাওয়া যাবে এই সিনেমায়।এমনই একটি গল্প,যার চিত্রায়ন মফস্বল শহরেও সম্ভব নয়।সুতরাং এই গ্রাম বাংলার রুপরসে অবগাহন করার সুযোগটা কি হারানো ঠিক হবে?

সিনেমাটির কথা আগে শুনলেও এর ট্রেইলার সিনেমাটি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রেইলার দেখা যতটুকু বুঝা গেল তাতে মনে হল আর যাই হোক সিনেমাতে একটি গল্প আছে।এখন হলে গিয়ে দেখার বিষয় গল্পটার গাঁথুনি কেমন হয়েছে?
এছাড়া সিনেমাটোগ্রাফিও যথেষ্ট ভালো মনে হয়েছে।
তবে সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল এর অসম্ভব সুন্দর কিছু গান এবং এর ভিন্নধর্মী চিত্রায়ন। এর মধ্যে বাপ্পা মজুমদার এবং দিনাত জাহান মুন্নির গাওয়া ভালোবাসায় বুক ভাসাইয়া গানটি তো মনে এই বছরের সেরা গান গুলোর একটি।বুঝাই যাচ্ছে ইমন সাহা বেশ যত্ন নিয়েই গানগুলোতে সুরারোপ করেছেন।
গানগুলোতে রোমান্সের শৈল্পিক উপস্থাপন ও বেশ ভালো লেগেছে।

এই সিনেমার অভিনয় শিল্পীর তালিকা সিনেমাটি দেখার লোভ আরো বাড়ায় দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
সুবর্ণা মোস্তফা,রাইসুল ইসলাম আসাদ,ফজলুর রহমান বাবু,জিত আহসান,রূনা খান,আফরোজা বানু,শাহাদাৎ হোসেন,শর্মীমালা,লুৎফর রহমান জর্জ।এই নাম গুলো দেখলেই বুঝা যায় আর যাই হোক অভিনয় দেখে হলেও মন জুড়ানো যাবে।
তবে পরিচালক সবচেয়ে কঠিন এবং ভালো যে কাজটি করেছেন তা হল একদম নতুন তিনজনকে সিনেমায় অভিষিক্ত করাচ্ছেন।
“চিনি দিবেন কিন্তু ঘুটবেন না,নীচে পড়ে থাকবে,ধীরে ধীরে গলবে”-ভাইরাল হয়ে যাওয়া এডটি নিশ্চয়ই ভুলে যান নি,জি সেই আলোচিত তানভির হচ্ছে এই সিনেমার নায়ক,সাথে লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার খ্যাত নীলাঞ্জনা নীলা,যত যাই বলেন মেয়েটি কিন্তু অসম্ভব সুন্দর!আর আছে জান্নাতুন মুন,মেয়েটির চেহারায় এক অদ্ভুত মায়া আছে।ট্রেইলারে যতটুকু বুঝা গেল,তারা যথেষ্ট সাবলীল ছিল বাকিটুকু হলে যেয়ে দেখার অপেক্ষায়।

সবশেষে আসি যিনি এইসব কিছুকে একসুতোয় গেঁথেছেন, পরিচালক বদরুল আনাম সৌদ।নাটকে হাত পাকিয়ে অবশেষে তিনি সিনেমায় এসেছেন।তার পরিচালিত নাটকগুলো দেখে এতুটুকু উপলব্ধি হয়েছে যে তিনি স্রোতে গা ভাসিয়ে দেননি,সব সময়ই মানসম্মত কিছু উপহার দেবার চেষ্টা করে গেছেন।আশা করি তার পরিচালিত প্রথম সিনেমাতেও এর ব্যতিক্রম ঘটবে না।

এখন যদি আপনাদের মনে প্রশ্নের উদয় এই সিনেমাতে কোন ভালো নায়ক নায়িকা নাই,তাহলে কেন দেখব?তাহলে বলি সবাই তো একসময় নতুন থাকে,আমরা যদি নতুনদের কাজ না দেখি তাহলে তারা কাজ করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে,পরে তো আপনারাই বলবেন একই মুখ বারবার দেখতে ক্লান্ত!
আসুন তাদেরকে সুযোগ করে দেই তা অবশ্যই ইউটিউবের আশায় ঘরে বসে থেকে নয়,হলে যেয়ে!

এতটুকু নিশ্চয়তা দেয়া এই সিনেমা একদম দেশীয় সিনেমা,মৌলিক গল্পের সিনেমা। মাটি,মানুষ,সংঘাত আর ভালোবাসার মিশেলে নির্মিত এই সিনেমা।
তাহলে আর দেরী কেন আসুন প্রস্তুতি নেই আসছে ২৯ শে ডিসেম্বর থেকে গহীন বালুচরে হারিয়ে যাওয়ার..

(Visited 200 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন