“হালদা” কি আমরা আরেকটি অজ্ঞাতনামা বানাব??
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

#প্রিভিউ
Haldaa – হালদা

 

অজ্ঞাতনামা সিনেমা কেন ভালো ব্যবসা করে নাই এই নিয়ে আমাদের আফসোসের শেষ নাই,কিন্তু আমরা কয়জন সিনেমাটি দেখার জন্য হলে গিয়েছিলাম?অনেকেই বলবেন আমরা তো জানলামই না কবে সিনেমাটি মুক্তি পেল?!মানি প্রচারণা বিশাল একটা ব্যাপার কিন্তু আপনি যদি সিনেমাপ্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে সিনেমার খোজ খবর রাখাও আপনার দায়িত্ব।যাই হোক পরে দেখা গেল যে সিনেমাটি এক সপ্তাহ ও ঠিক মত হলে থাকল না,সেই সিনেমাটি মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ল ইউটিউবে দেখার জন্য। সিনেমাটি গাল ভরা প্রশংসা আর পুরস্কার ঠিকই পেয়েছে কিন্তু এতে প্রযোজক পরিবেশক,পরিচালক ওভার অল ইন্ডাস্ট্রির লাভের খাতায় শূণ্য।যে অজ্ঞাতনামা সিনেমাসহ তৌকিরের বাকি তিনটি সিনেমা হল পেতেই হিমশিম খেয়েছে,সেখানে হালদার মত এফডিসি ঘরণা বাইরের ফর্মুলা হীন একটি সিনেমা একশর মত হল পাওয়া আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মত অবস্থা!এই জন্য অবশ্যই সিনেমাটির পরিবেশক অভি কথাচিত্রকে টুপিখোলা অভিনন্দন, হল নিয়ে নোংরা রাজনীতি থাকা সত্বেও এত বিপুল সংখ্যক হল বুকিং পাওয়ার জন্য।তবে এইক্ষেত্রে ‘অজ্ঞাতনামা’ যে একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে তা হলফ করেই বলা যায়।

এখন বাকি দায়িত্ব হল আমাদের মানে দর্শকদের, আমরা যদি দলে বলে হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখি তাহলেই চলবে,শুধু দেখলেই হবে না আশেপাশের সবাইকে দেখার জন্য উদ্বুদ্ধও করতে হবে।এখন অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন কেন আমরা সিনেমাটি হলে গিয়ে দেখব আর কেনইবা আশেপাশের সবাইকে দেখতে বলব?আসেন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজার চেষ্টা করি।

আমাদের দেশে মেধাবী পরিচালকদের যদি শর্ট লিস্ট ও করা হয় সেখানে তৌকির আহমেদ থাকবেন।তার প্রতি আমার বাড়তি সম্মান এই জন্য যে তিনি দু একটা সিনেমা বানিয়েই ক্ষেমা দেন নাই,শুধু তাই না সস্তা খ্যাতির লোভে স্রোতেও গা ভাসান নাই।তিনি তার ধারা বজায় রেখেই ভিন্নধারার সিনেমা নিয়মিত ভাবেই বানিয়ে গিয়েছেন।জয়যাত্রা (২০০৪),রূপকথার গল্প (২০০৬),দারুচিনি দ্বীপ (২০০৭) তবে মাঝখানে অভিমানের বিরতি দিয়ে আবার ফিরে এসেছেন ২০১৬ সালে অজ্ঞাতনামা দিয়ে।কিন্তু আফসোসের বিষয় মানুষ হলে গিয়ে না দেখে ঘরে বসে দেখেই প্রশংসার ফুলঝুরি ছিটিয়েছে।তিনি আক্ষেপ করে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন,আমার সিনেমা বেশি মানুষ দেখে না তাই হল পায় না!একজন মেধাবী পরিচালকের কাছ থেকে এ ধরণের আক্ষেপের কথা শুনা আসলেই বেদনাদায়ক। কিন্ত তার বেশিরভাগ সিনেমার বিষয়বস্তুই ছিল প্রান্তিক মানুষের জীবনের গল্প।প্রত্যেক সিনেমাত গল্প বা চিত্রনাট্যই ছিল প্রধান,এইবারও তার ব্যতিক্রম ঘটে নাই সেই আশা করাই যায়।

হালদা’ ছবির গল্প লিখেছেন আজাদ বুলবুল। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা তৌকীর আহমেদের। “হালদা” সিনেমার গল্প গড়ে উঠেছে নদী এবং নারীকে কেন্দ্র করে। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক হালদা নদী ও সেখানকার প্রান্তিক মানুষের জীবন-বৈচিত্র্যই এর বিষয়বস্তু।বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ছিল তাদের বিশাল অবদান।দেশের বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এই হালদা নদী। মা মাছেরা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে এখানে ডিম ছাড়ে। এই নদী ও নদীর গতি-প্রকৃতি, নদীর ক্ষয় ও নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন প্রবাহ ও জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে গল্পে।সময়ের সাথে অন্যান্য নদীর মত হালদা নদীও দখল ও দুষণের স্বীকার হয়ে হারাবার পথে।সেই সাথে এর বিরুপ প্রভাব নদী নির্ভর জনগোষ্ঠীর উপরেও পরেছে।তারই একটি সুনির্মিত চিত্ররূপ দেখার আশা করা যেতেই পারে তৌকিরের অনবদ্য পরিচালনায়।

জাহিদ হাসান,ফজলুর রহমান বাবু,মোশাররফ করিম, নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং শ্রদ্ধেয় দিলারা জামান কে বাংলা সিনেমাতে কখনো একসাথে দেখা গেছে কিনা জানা নাই।এই রকম লোভনীয় সুযোগ কেন হেলায় মিস করবেন?
তাঁরা তো সবাই পরীক্ষিত এবং নি:সন্দেহে গুণী অভিনেতা।তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ তিশা কে নিয়ে কিছু না বললেই নয়।বর্তমান সময়ের অভিনেত্রী দের মধ্যে কি নাটক কি সিনেমায়, তিশাকে নির্দ্বিধায় সেরা বলা যায়। তার মধ্যে অভিনয়ের জন্য ডেডিকেশনটা দেখা যায়,চরিত্র বুঝে তা ধারণের সর্বাত্মক চেষ্টাও দেখা যায়।এবং প্রতিনিয়তই তিনি তার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন।আশা করি এই সিনেমাতেও তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

চিরকুট খ্যাত পিন্টু ঘোষের সংগীত পরিচালনায় মনোমুগ্ধকর, হৃদয় স্পর্শী পাচটি গান শোনার আশা করা যেতেই পারে।এরই মধ্যে রিলিজ পাওয়া “গম গম লাগে আর” প্রথম গানটিও বেশ লেগেছে।এছাড়া এই সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফি যে ভালো হতে যাচ্ছে তার কিছুটা আঁচ সিনেমাটির ট্রেইলারে এবং গানটির ভিডিওতে পাওয়া গেছে।

একজন পরিচালক বেশ কষ্ট করে,শ্রম দিয়ে মেধা খাটিয়ে একটি সিনেমা বানান।সেখানে তার একটি ব্যক্তিগত দর্শন থাকে।সবাই যে সেই দর্শন গ্রহণ করবেন তা নয়,কিন্ত তাই বলে কি সেই পরিচালকে আক্রমন করে কথা বলতে হবে, রূঢ় সমালোচনা করতে হবে?একজন শিল্পী কখনোই ব্যর্থ হওয়ার জন্য শিল্প সৃষ্টি করেন না,কিন্ত যদি ব্যর্থ হয় তবে দিন শেষে তিনিই বেশি কষ্ট পান অন্য সবার থেকে।
এইসব কথা বলার উদ্দেশ্য একটাই সিনেমাটি যদি খারাপ লেগে থেকে তবে পরিচালককে শূলে না চড়িয়ে আসুন গঠনমূলক সমালোচনা করি।

একজন সিনেমাপ্রেমী হিসেবে বেশ ভালোই লাগছে ঢাকা এ্যাটাক,ডুব নিয়ে রেশ কাটতে না কাটতেই হালদা এসে উপস্থিত। এভাবে প্রতিমাসে বা দুই মাস পরপর এই রকম কিছু সিনেমা আসলেই তো ইন্ডাস্ট্রির চেহারা পালটে যাবে।

তার আগে আসুন আমরা একটু চেষ্টা করি ইন্ডাস্ট্রির চেহার পাল্টানোর, ১ লা ডিসেম্বর থেকে শামিল হই হলে গিয়ে হালদা দেখার উৎসবে,দলে বলে!

এই পোস্টটিতে ৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন