কেন এই ঢাকা অ্যাটাক ঢাকা অ্যাটাক রব উঠেছে?
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

#প্রিভিউ
ঢাকা অ্যাটাক – Dhaka Attack

যেসব সিনেমার প্রিভিউ লিখি তার সবগুলাই দেখার পর ভালো লাগবে এমন তো নিশ্চয়তা নেই,প্রিভিউ লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে উদ্বুদ্ধ করা।
আমাদের দেশের তো আসলে সিনেমা দেখার অভ্যাস সোনালী অতীতের সময় যে রকম ছিল,তা তো এক সময় কমেই গিয়েছিল।কিন্তু এই অভ্যাসটা কয়েকবছর যাবত বাড়তে শুরু করেছে।এর পিছনে অনলাইনের ভূমিকা মনে হয় একটু বেশি।এই যুগের অনেক ছেলে মেয়েদের মধ্যেই বাংলা সিনেমা নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে,যা খুবই প্রশংসনীয় সেই সাথে হলে গিয়েও এই আগ্রহটার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
আর এই আগ্রহটাকে যাতে হল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায় তার জন্যই প্রিভিউ লেখা।শুধু মাত্র নিখাদ ভালোবাসা থেকেই কাজগুলো করা।
যাই হোক এটি যে সিনেমার প্রিভিউ , গত এক বছর ধরেই সেই সিনেমাটিকে নিয়ে সরগোল।কিন্ত কেন এই সরগোল?আসেন একটু আলোচনা করা যাক কেন এই ঢাকা এটাক ঢাকা এটাক রব উঠেছে?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভালো মানের ক্রাইম থ্রিলার একটি পরম আকাঙ্ক্ষিত জিনিস!
আগে আসুন দেখি কি প্লটের উপর সিনেমাটি কাহিনী দাড়িয়ে আছে।ঢাকা শহরে এক সিরিয়াল কিলার খুন করেই চলেছে।খুনের পর সে লাশের পকেটে “স্মাইলি” ইমো রেখে যাচ্ছে।যেটাকে বলা হচ্ছে “লাশের পকেটে হাসি”।এই ক্রিমিনালের আরো বিশাল পরিকল্পনা আছে ঢাকা শহরটিকে ঘিরে।আর এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করা এবং নাটের গুরু কে ধরতে এগিয়ে আসে এসিপি আবিদ ও তার বোম্ব টিম,সাথে সোয়াট লিডার আশফাক ও তার টিম।
আর এই গল্পটি লিখেছেন বহু সফল জংগী অভিযানের নায়ক এবং কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা,চৌকস পুলিশ অফিসার Sunny Sanwar ।সো একটা জিনিস মোটামুটি ক্লিয়ার যে খুব আজগুবি বা ভুলে ভরা কোন গল্প হবে না এটি।বাকিটুকু সফল চিত্রনাট্যের উপর নির্ভর করছে।
তাইলে দেখা যাক চিত্রনাট্যে কারা কারা আছে,কোলকাতার অভিমূণ্য মূখার্জি, হাসনাত মতিন,সেই সানী সানোয়ার আর ছোট পর্দায় অনেক ভালো ভালো কাজ উপহার দেয়া Dipankar Dipon।
আচ্ছা আপনি কি জানেন দীপংকর দীপন বলিউডের ভিন্নধারার পরিচালক অনুরাগ ক্যাশপের সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে?আর তারই ফল স্বরুপ এই সিনেমার মহরতের সময় অনুরাগ ক্যাশপ তার ফেসবুক পেজে এই সিনেমাদ জন্য শুভাকামনা জানাতে ভুল করেননি দীপনকে।
অনেকেরেই ধারণা এট মনে হয় হোলি আর্টিজান হামলাকে কেন্দ্র করে।কিন্ত আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি এর গল্প লেখা শুরু হয় ২০১২ সালে।তারপর টানা দুই বছর চলে প্রি প্রোডাকশনের কাজ।আর এরপরই ২০১৫ সালের ২৯ শে এপ্রিল হয়ে যায় এর মহরত।

 


এই সিনেমাটিকে বলা যায় একটি মাল্টিস্টারার সিনেমা।রয়েছেন কয়েক জন জীবন্ত কিংবদন্তী।আলমগীর(আইজিপি),আফজাল হোসেন(ডিএমপি),হাসান ইমাম (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) এবং লায়লা হাসান (প্রধানমন্ত্রী)।
আর তরুণদের মধ্যে রয়েছে এই প্রজন্মের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এবং স্মার্ট নায়ক Arifin Shuvoo (ডিবির এসিপি এবং বোম্ব ডিসপোজাল বিশেষজ্ঞ)।এই ছবির মত কষ্ট মনে হয় না তাকে অন্য কোন সিনেমাতে করতে হয়েছে।৪৫ পাউণ্ড ওজনের বোম্ব ডিসপোজাল ড্রেস সাথে ৫ কেজি ওজনের হেলমেট পরে অভিনয় করতে হয়েছে।সাথে আরেক জন Abm Sumon, আদি সিনেমার ট্রেইলারেই যিনি তার ঝলক দেখিয়ে দিয়েছিলেন।তিনিও কম কষ্ট করেন নি,তাকেও ১৪-১৫ কেজি ওজনের ড্রেস পড়ে শ্যূটিং করতে হয়েছে। তাও আবার বান্দরবনের পাহাড়ে!আর এত কিছু তার সোয়াট কমাণ্ডার রোলটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলা।তার বিপরীতে রয়েছে Quazi Nawshaba Ahmed। রয়েছেন আমার খুবই পছন্দের একজন গুণী অভিনেতা শতাব্দী ওয়াদুদ,যিনি রয়েছেন পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এডিসি চরিত্রে।
আর রয়েছে আমার না আরো অনেকেরই ক্রাশ(টুপ টাপ গানটা দেখে ক্রাশ এখন ডাবল) Mahiya Mahi,জার্নালিস্ট চরিত্রে।চমক হিসেবে রয়েছে স্মার্ট ভিলেন অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী তাসকিন।

এবার তাকানো যাক ট্যাকনিশিয়ানদের দিকে।
পরিচালক দীপন যে কম্প্রোমাইজ করেন নি কোন কিছুতেই তার প্রমাণ এই সিনেমায় ছয়জন সিনেমাটোগ্রাফার!জ্বি ভুল দেখেন নাই,ছয়জনই।ভারতের গোপী ভাগাত,আরচিত প্যাটেল।আমাদের দেশের অন্যতম সেরা কোরিওগ্রাফার চোরাবালি খ্যাত খায়ের খন্দকার।সাথে শৌভিক বসু,নাঈম ফুয়াদ এবং মালেশিয়ার দেভন রাগভান।
যাদের প্রতিভার ঝলক তো ট্রেইলার জুড়েই দেখা গেল।কি সুন্দর কালার গ্রেডিং,স্পেশালি টুপ টাপ গানের সিনেমাটোগ্রাফি দুর্দান্ত হয়েছে।

এডিটরের দায়িত্বে কোলকাতার স্বনামধন্য মো:কালাম।
একশনে রয়েছে চেন্নাই এক্সপ্রেস খ্যাত রাজেশ কান্নান,মুসাফির খ্যাত এডওয়ার্ড এফ গোমেজ।সাথে ভাতিজা চুন্নু।

মিউজিক ডিরেকশনে তো স্টারের ছড়াছড়ি। Adit Rahman ,DJ Rahat,অটমনাল মুন,কোলকাতার ডাব্বু এবং অরিন্দম চ্যাটার্জি।যাদের পরিচালনায় আমরা ভালো পাঁচটি গান পেতে যাচ্ছি আশা করাই যায় যার দুটি থাকবে সিনেমায় আর বাকি তিনটি ব্যাকগ্রাউণ্ডে।এর মধ্যে চমক হিসেবে আছে আইটেম সং টিকাটুলির মোড়।জ্বি একসময়ের বিখ্যাত সেই গান।দেশিয় একটি আইটেম সং দেখতে পাব।😍

আচ্ছে এতকিছু বলারও পরেও কি মনে হচ্ছে না সিনেমাটি দেখা উচিৎ??
তাইলে আরো চমৎকার তথ্য দেয়া যাক।বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ একশন থ্রিলার এটি আর দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সোয়াট ভিত্তিক সিনেমা।এর অধিকাংশ সহশিল্পী পুলিশ এবং সোয়াটের সদস্য।বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে।আর যেসব অস্ত্র, বোম ব্যবহার করা হয়েছে সবই আসল এবং আধুনিক।ইভেন কস্টিউম গুলাও ছিল সোয়াট এর অরিজিনাল।
সো ভালো কিছু আশা আমরা করতেই পারি,কি বলেন??

আর এই যে বিশাল কর্মযজ্ঞ যে সিনেমাটিকে ঘিরে,যে অক্লান্ত পরিশ্রম সিনেমাটির কলাকুশলীদদের সবই স্বার্থক হবে যদি আমি,আমরা হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখি।
তাইলে আর দেরি কেন তৈরি হয়ে যান দেখতে কে রেখে যাচ্ছে লাশের পকেটে হাসি?
#লাশের_পকেটে_হাসি

পাদটীকা :সিনেমা দেখেই সমালোচনা করুন, না দেখে নয়। অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে সিনেমা দেখা থেকে বিরত থাকবেন না,কারণ সব গল্প সব সিনেমা সবার কাছে ভালো লাগবে না।হলে যান,দেখুন তারপর সমালোচনা করুন এবং অবশ্যই গঠনমূলক

এই পোস্টটিতে ২২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ৬ তারিখ মেডিকেল তারপর ৮ তারিখ জাহাঙ্গীরনগর না হইলে অবশ্যই প্রিমিয়ারেই দেখতাম

  2. পোস্টারে আলমগীর এর নাম টাও রাখা দরকার ছিলো। মোষ্ট সিনিয়র এবং সফল অভিনেতা।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন