ভয়ংকর সুন্দরের ভয়ংকর প্রিভিউ :)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

তামিল তেলেগু,বলিউড হলিউড এর কপি পেস্ট করেই এই দেশের বেশির ভাগ পরিচালক সিনেমা বানান।তারা নাকি গল্প পান না!!আমাদের দেশে বা বাংলা ভাষায় এত্ত ভালো ভালো উপন্যাস আছে যেগুলো থেকে অনেক ভালো ভালো সিনেমা নির্মাণ সম্ভব।আমি তো দেখি হলিউডের বেশির ভাগ ভালো সিনেমা হয় কোন উপন্যাস অথবা কোন সত্যি ঘটনা অবলম্বনে।আর আমাদের দেশে??? এদের তো পড়ারই অভ্যাস নাই!যা একটু বানান মোরশেদুল ইসলাম আর বানাতেন চাষী নজরুল ইসলাম।
আরে বাবা উপন্যাস থেকে সিনেমা বানাতে গেলে তো উপন্যাস বা গল্পের বই পড়ার অভ্যাস থাকতে হবে!

বর্তমান সময়ের অনেক পরিচালকের এই সুঅভ্যাসটা আছে।এদেরই একজন Animesh Aich।তিনি মতি নন্দির জলের ঘুর্ণি ও বক বক শব্দের গল্প অবলম্বনে বানিয়েছেন ভয়ংকর সুন্দর সিনেমাটি।গল্পটি পড়েছিলেন ২০০২ সালে।সিনেমা শুরু করতে করতেও তের বছর পার হয়ে যায়।এই তেরটি বছর তিনি স্বপ্নটি বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।সুতরাং এই কথাটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় এইটা তার একটি স্বপ্নের সিনেমা।যেনতেন ভাবে না বানিয়ে খুব যত্ন নিয়েই বানানোর কথা সিনেমাটি।

কন্টেন্ট ভালো হলে মানুষ জন দলে বলে হলে গিয়ে সিনেমা দেখবে।আয়নাবাজী তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।কিন্ত এই নামে যে সিনেমাটা আসছে তা তো মানুষের কানে পৌছাতে হবে।তারপর সে না হলে গিয়া দেখার বিষয়।যেমন অজ্ঞাতনামা সিনেমাটার খবর কেউ রাখলো না,কোন প্রচারণাও হলো না।কিন্তু কন্টেন্ট ভালো ছিল বলে মানুষের আর আফসোসের শেষ নাই কেন এই সিনেমার খবর আগে জানল না,তাহলে আয়নাবাজির মত হিট হয়ে যেত।
ভয়ংকর সুন্দর নিয়ে কেমন প্রচারণা চলছে বুঝতে পারছি না,সিনেমাপ্রেমী মানুষের কানে পৌছেছে কিনা তাও জানি না শুধু একজন সিনেমাপ্রেমী মানুষ হিসেবে মনে হল এই সিনেমার খবরটা যতটুকু ছড়ায় দেয়া যায়।

তাই বলে তো যা তা গল্পের যেন তেন ভাবে বানানো সিনেমার খবর ছড়াইয়া তো লাভ নাই।তাইলে তো মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা সিনেমারও প্রচারণা করা লাগে
এখন বলতে পারেন কিভাবে জানলেন এইটা ভালো গল্পের সুনির্মিত সিনেমা??আসেন এইবার এই প্রশ্নের উত্তর গুলা খুজি।
যেহেতু এইটা গল্প নির্ভর সিনেমা সেহেতু এতটুকু বলা যায় সিনেমাতে একটা গল্প থাকবে।এবং গল্পটা যেহেতু আমার পড়া তাই বলতে পারি এইটা একটা ভালো সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা হওয়ার কথা।
আর ট্রেইলার দেখে যদিও সিনেমার মান বিচার করা ঠিক না,তবে টেইলারে যে ঝলক দেখা গেছে এতটুকু নিশ্চিত করে বলা যায় সিনেমার নির্মাণটা আর যাই হোক গড় পড়তা মানের হয় নাই।

কাস্টিং
সিনেমার প্রধান চরিত্রের দুইজনের মধ্যে একজন হলেন পরমব্রত।এপার ওপার বাংলা মিলিয়ে যদি বর্তমান সময়ের ভালো অভিনেতাদের তালিকা করা হয় তাহলে তিনি উপরের দিকেই থাকবেন।আর আমারও খুব পছন্দের একজন অভিনেতা।সো তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করাই যায়।


আর আরেক জন হলেন Ashna Habib Bhabna।এই সিনেমা দিয়েই ছোট পর্দার এই তারকার বড় পর্দায় অভিষেক।টিভি নাটকে তার কিছু কাজ দেখেছি।ভালোই লেগেছে।সবচেয়ে ভালো তার উচ্চারণ। স্পষ্ট এবং শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলেন তিনি।আর যে পরিমাণ ডেডিকেশনের কথা শুনেছি আশা করা যায় ভালো কাজই উপহার দিবেন তিনি।ট্রেইলারেও তার কিছুটা আভাস পাওয়া গিয়েছে।
অন্যান্য যারা আছেন…হাসান ইমাম,ফারহানা মিঠু,লুতফর রহমান জর্জ,দিহান,ফারুক আহমেদ,এলেন শুভ্র তারা সকলেই পরীক্ষিত অভিনেতা-অভিনেত্রী।

গান
একটি সিনেমার গান বা মিউজিক যেটাই বলেন না কেন তা হলো অলংকার,যা সিনেমার প্রচার এবং প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এই সিনেমাতে তাহসান,এলিটা,চিরকুট, মমতাজ,অদিত এর মত সুপরিচিত শিল্পি ও ব্যান্ড কাজ করেছেন।গানগুলোও শ্রুতিমধুর হইছে,তবে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভাল্লাগছে মমতাজের ফিরব না আর ঘরে আর চিরকুটের এই শহরের কাকটাও জেনে গেছে।তাহসান এবং এলিটার গান থেকে গানের লিরিক্সটা বেশি পছন্দ হয়েছে

ক্যাপ্টেন অফ দ্যা শিপ
এই সিনেমার পরিচালক ছোট পর্দার নন্দিত নির্মাতা অনিমেষ আইচ।প্রচুর ভালো টিভি নাটক উপহার দিয়েছেন।এর মধ্যে কিছু কাজ তো এই দেশের টিভি নাটকের ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে থাকবে।ছোট পর্দায় হাত পাকিয়ে এসেছেন বড় পর্দায়, প্রথম যে দুটি সিনেমার কাজ শুরু করেছিলেন (না মানুষ,কাঁটাতার) নানা সংকটের কারণে কোনটাই আর আলোর মুখ দেখে নি।অবশেষে তিনি আসলেন জিরো ডিগ্রী নামক মৌলিক গল্পের এক ব্লাক সাইকো থ্রিলার মুভি নিয়ে।আমাদের দেশের সিনেমার প্রেক্ষাপটে এই ধরণের সিনেমা একদম নতুন।এই সিনেমাটা নিয়ে অনেকের অনেক রকম মত ছিল।একদলের কাছে ভালো লেগেছে,আরেকদলের কাছে লাগে নাই।দর্শকের অনেক উচ্চাশা ছিল তার এই সিনেমা নিয়ে।ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে সিনেমাটি ভালোই লেগেছিল,আশা যদিও আরো বেশি ছিল।সিনেমার নির্মাণ কিন্তু ভালো ছিল।যাই হোক প্রথম সিনেমা দিয়েই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা সহ চারটি পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন।আবারো তিনি আসলেন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের গল্প শুনাতে।

অনিমেষ আইচের ভাষায় এ সিনেমায় একটা নতুন গল্প আছে। এখানে শেষ দৃশ্যে পুলিশ আসে না, কমন কোনো পরিসমাপ্তি নাই। গল্পটা ইউনিক। আশা করব এই সিনেমা দিয়ে তিনি আমাদের তৃপ্ত করতে পারবেন।

এখন বাকিটুকু হলে গিয়ে দেখার পালা 

“সুবোধ তুই ফিরে আয়।৪ঠা আগস্ট #ভয়ংকর_সুন্দর মুক্তি পাচ্ছে।বাংলা সিনেমার সুদিন ফিরবেই।”

জয় হোক ভালো সিনেমার
জয় হোক বাংলা সিনেমার

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন