অনেকেই বলতে পারেন যে আমাদের রবার্ট ডি নিরো…হ্যারিসন ফোর্ড… ডাস্টিন হফম্যান নেই….নেই অমিতাভ বচ্চন…উত্তম কুমার….কিন্তু নায়ক রাজ রাজ্জাক তো আছেন…!!!!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

বিদেশি অভিনেতা – অভিনেত্রী বিশেষ করে পাশের দেশের অভিনেতা -অভিনেত্রী নিয়ে আমাদের মাতা মাতির শেষ নেই কিন্তু আমাদের অভিনেতা -অভিনেত্রী নিয়ে কয়জন মাতা মাতি করে?????

অনেকেই বলতে পারেন যে আমাদের রবার্ট ডি নিরো…হ্যারিসন ফোর্ড… ডাস্টিন হফম্যান নেই….নেই অমিতাভ বচ্চন…উত্তম কুমার….কিন্তু নায়ক রাজ রাজ্জাক তো আছেন…!!!!

Razzak

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বাজার খুবই ছোট,এর ইতিহাস ও খুব বেশি দিনের নয়।কিন্তু এই প্রতিকূল পরিবেশেই তিনি তাঁর মেধা,মনন,অভিনয় দ্যুতি দিয়ে নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যেখানে বাংলাদেশের আর কোন চলচ্চিত্র অভিনেতা যেতে পারেন নাই।তাঁর ‘নায়ক রাজ’ উপাধি তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।আজ তাঁর ৭৬তম জন্মদিন, শুভ জন্মদিন নায়ক রাজ…💜

504b60f3c4b15675142e54852adc0a30-ec6b4bd57219bdc09cdcb989392d36ae-RAZZAK

একটা সময় ছিল যখন ঢাকাই ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে দুটো দিনের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। এর একটি হলো নায়করাজ রাজ্জাকের জন্মদিন। অন্যটি হলো তার মেয়ের জন্মদিন। রাজ্জাকের জন্মদিনে বন্ধ থাকতো এফডিসি। দুপুরের দিকে এফডিসির দারোয়ানসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী গুলশানে রাজ্জাকের রাজলক্ষ্মী ভবনে নিমন্ত্রণে যেতেন। সন্ধ্যা থেকেই আসতে শুরু করতেন তারকা শিল্পী, নির্মাতা ও প্রযোজকরা। রাতভর চলতো আড্ডা, হৈ চৈ, আলোচনা। আসতেন জহির রায়হান, আলমগীর কুমকুম, মোস্তাফিজুর রহমান, এহতেশাম, কবরী, শাবানা, আলমগীর, ফারুক, সোহেল রানা, জাফর ইকবাল, জসিম, ইলিয়াস কাঞ্চন, ববিতা, রোজিনার মতো সফল আর গুণী মানুষরা।
এক স্মৃতি চারণ অনুষ্ঠানে নায়ক রাজ বলেন আমার আগে যারা নায়ক হিসেবে অভিনয় করতেন সবাই ছিলেন চল্লিশোর্ধ। আনোয়ার হোসেন ভাই, খলিল ভাই, শওকত আকবর ভাই। তাদের দর্শক কলেজপড়ুয়া রোমান্টিক হিরো হিসেবে মানতে পারতো না। আমি যখন এলাম রোগা পাতলা একটা যুবক। অনেকেই আমাকে দেখে বিরক্ত হয়ে অফিস থেকে চলে যেতে বলেছে। পরে সেইসব পরিচালকই আমাকে নিয়ে ছবি করেছেন। এটা আমার কাছে প্রাপ্তি। আমার চেহারাটা ফটোজেনিক ছিল। তবে অনেক রোগা পাতলা ছিলাম বলে লোকে ভাবতো এই ভাঙাচোরা দিয়ে কী হবে! যাক, আমি রোমান্টিক হিরো হয়ে পর্দায় আসতেই দর্শক লুফে নিলো। এটা ছিল আমার জন্য প্লাস পয়েন্ট। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে আমি বদলেছি। যুদ্ধের পর দেখলাম দেশের যুবকদের মধ্যে একটা পরিবর্তন। তারা অনেক ফাস্ট হয়ে গেছে। ওরা যুদ্ধ দেখেছে। রক্ত দেখেছে। এখন অভাব দেখছে। কাজ নেই। হাতে পয়সা নেই। সমাজ তাদের জন্য কিছু করতে পারছে না। একটা অস্থিরতা সবখানে। মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়াচ্ছে। আমি তখন সিদ্ধান্ত নিলাম নিজের ইমেজটাকে ভেঙে নতুন করে দাঁড় করাবো। ‘রংবাজ’ ছবি করলাম। সমাজের অবহেলিত এক যুবকের অস্থিরতা, হতাশা ও সমাধানের গল্প। আমাকে কাছের সব পরিচালক ও প্রযোজকরা বাধা দিলেন। এটা করবেন না আপনি। দর্শক আপনাকে রোমান্টিক হিরো হিসেবে, আদর্শ যুবক হিসেবে মানে। তারা আপনার হাতে অস্ত্র, মদের বোতল এসব গ্রহণ করবে না। কিন্তু আমার মধ্যে বিশ্বাস ছিল সময় বদলে গেছে। তাকে ধরতে হবে। দর্শক এখন কলকাতায় গিয়ে হলে হিন্দি ছবি দেখছে। তবে নিজের দেশের নায়ককে সেসব চরিত্রে পেলে কেন দেখবে না। সত্যি কিন্তু তাই হলো। ‘রংবাজ’ সুপার ডুপার হিট হলো। এরপরই ‘বেঈমান’ ছবিটি করলাম। সেটিও সুপারহিট। সবাই বুঝতে পারলো আমার ভাবনা অমূলক ছিল না। একজন হিরোকে এভাবে সময় ধরতে জানতে হয়। প্রযোজক-পরিচালকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ীই ভাববেন। কিন্তু হিরোকে ভাবতে হয় সময় কী চাইছে। আমার পরবর্তীতে ইলিয়াস কাঞ্চন সেটা করতে পেরেছে। মান্না পেরেছে। কলকাতায় দেখছি প্রসেনজিতকে। কিন্তু শাকিবরা সেটা পারেনি। এখনো তাকে কলেজের ছাত্র হিসেবে দেখতে হয়। দর্শক তো বিরক্ত হবেই। সমাজে যদি একজন হিরোর প্রভাব না থাকে তবে সেই সমাজে ওই হিরোর প্রয়োজনীয়তা থাকে না। এখন কোনো হিরোরই সেই প্রয়োজনীয়তা নেই। সবাই তারকা হতে আসছে, পয়সা কামাতে আসছে। আমরাও এখানে পেশাদারিত্ব দেখিয়েছি। কিন্তু আজীবন যুদ্ধও করেছি ইন্ডাস্ট্রির জন্য। ভেবেছি কীভাবে কী করলে মানুষ ছবি দেখবে।’

নায়করাজ আরো বলেন, ‘একবার একটা হলে গিয়েছিলাম ছদ্মবেশে। ছবিতে আমার তখন রোমান্টিক সিন চলছিল। দর্শক মজা করে চিৎকার করে উঠলো- আংকেল আর কতো। দিনে দিনে বেলা তো কম হলো না! ওই কথায় আমি বুঝলাম নিজের বয়স হচ্ছে। এসব প্রেমিক চরিত্রে দর্শক আমাকে আর চায় না। আমি নতুন নায়ক নিয়ে আসতে পরিচালক ও প্রযোজকদের পরামর্শ দিলাম। আলমগীর, ফারুক, সোহেল রানারা এলো। এদের সমসাময়িক প্রায় সবাই আমার হাত ধরে এসেছে। কোনো না কোনোভাবে তাদের চলচ্চিত্রে আগমনে আমার কন্ট্রিবিউশন আছে। আমি এটা কেন করলাম? আমি চেয়েছি ইন্ডাস্ট্রি যেন শূন্যতায় না ভোগে। আমি চলে যেতে যেতে যেন আরেকটা সার্কেল দাঁড়িয়ে যায়। হলোও তাই। ওরা সবাই সুপারহিট ছবি দিলো। আমিও তাদের অনেকের সঙ্গে অভিনয় করলাম। আমার নায়িকারাই তাদের নায়িকা হলো। কবরী, ববিতা, শাবানা, রোজিনারা সফল হলো ওদের সঙ্গে। ইন্ডাস্ট্রিতে শূন্যতা আসেনি। আমার এই প্রজন্মের পরপরই জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চনরা এলো। বেশ শক্তভাবেই তারা হাল ধরলো। কাঞ্চনের দুটো ছবি করে ফ্লপ হলো। সবাই নিরাশ হলো নতুন মুখ নিয়ে। কাঞ্চনকে বাসায় ডেকে আনলাম। দেখলাম সেও হতাশ। আমি সাহস দিলাম। বললাম আবার শুরু কর। হলো কিন্তু। ইন্ডাস্ট্রিতে কাঞ্চনের মতো জনপ্রিয়তা বা স্টারডম খুব কম নায়কই দেখেছে। এগুলো আমার করার কী দরকার ছিল বলো? আমি নিজে সুপারস্টার। ইন্ডাস্ট্রির সবাই আমাকে সম্মান করে। কী দরকার ছিল এসবের? শুধুই চলচ্চিত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্য। নতুনদের নিয়ে কাজ করতে আমার অনেক আগ্রহ ছিলে। আমি নিজে অনেক নতুন নায়িকাদের সঙ্গে কাজ করেছি। শাবানাকে পরিচালকরা নিতে চাইতো না। কারণ সে উর্দু ছবিতে বেশ নাম করেছিল। আমি বললাম ও বাঙালি মেয়ে। ওকে অবশ্যই আমাদের ছবিতে নেয়া উচিত। নেয়া হলো। বাকিটা ইতিহাস। তখন কেউ কেউ আমাকে বকতেন আমি নাকি কবরী, শাবানা, ববিতার দালালি করি। শবনমকে সুযোগ দেই না। শবনম ইজ নাইস লেডি। খুব ভালো মানুষ উনি। আগেও যেমন ছিলেন, এখনো তেমনি। আমি পরিচালকদের বললাম, আপনারা ভুল বলছেন। আমি শবনমকেও ইন্ডাস্ট্রিতে চাই। তার সঙ্গে ছবি করবো। করেছি। শুধু তাই নয়, তখন অনেক নতুন সংগীতশিল্পীরাও আমার ইশারায় ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছে। একদিন এক পরিচালক খুরশিদ আলমকে নিয়ে এলেন। রোগা পাতলা একটা লোক। বলে সিনেমাতে গান করবো। আমি তো দেখেই বলি আরে না, হবে না। পরিচালক বললেন একটা গান শুনে দেখুন। শোনলাম। সত্যি ভালো লাগলো। তিনি ছবিতে গাইলেন এবং কালজয়ী শিল্পীদের তিনিও একজন আজ। এমন অনেককেই আমি ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়ে এসেছি। নতুনদের সুযোগ দিতে হবে। তাদের নিয়ে রিস্ক নিতে হবে। ভালো করে বড় আয়োজনে উপস্থাপন করতে হবে। দর্শকদের মনে প্রভাব ফেলতে হবে। তবেই দর্শক হলে আসবে।’

কোলকাতা সাংবাদিকদের বিষয়ে তিনি বলেন‘বাবারা তোমরা দুঃখ করো না। কলকাতার সাংবাদিকদের সম্পর্কে তোমাদের ধারণা আছে কি না আমি জানি না। দুনিয়ার আর কোনো সাংবাদিকদের সঙ্গে ওদের মেলানো যাবে না। সেই সত্তর দশক থেকে দেখে আসছি, এখনো গেলে দেখি সবকিছু বদলায় ওদের কোনো পরিবর্তন নেই। সেই কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, ছেড়া স্যান্ডেল। তোমরা তো বেশ স্মার্ট। চকচকে চেহারা। আর ওদের দেখলেই কষ্ট হয়। তারা নিজেদের দেশের তারকাদেরই কথা ছাপাতে পারে না ঠিকমতো অন্য দেশেরটা ছাপাবে কী। আর আমাদের এখানে যেমন প্রত্যেক পত্রিকায় আলাদা বিনোদন সাংবাদিক থাকে কয়েকজন ওদের মনে হয় একটু আলাদা। অতো রিপোর্টার নেই। তবে সম্মানের কথা যদি বলো, তবে বলবো এটা হচ্ছে আদায় করে নেয়ার ব্যাপার। আমি যখন কলকাতায় কাজ করেছি বাবা কেন চাকর ছবিতে তখন প্রসেনজিত আমার জন্য আলাদা গাড়ি, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। যখন যার সঙ্গে কাজ করেছি সবাই আমাকে এই বাংলার সুপারস্টার তারকা হিসেবেই মূল্যায়ন করেছে। এখন তুমি যদি এক দেশের সেরা তারকা হয়ে অন্য দেশে গিয়ে হাত কচলাও, নিজের ইমেজটা ভুলে যাও তার দায় কে নেবে? কী দরকার কলকাতায় গিয়ে সম্মান খুয়ানোর। কী হচ্ছে দেখছি না যৌথ প্রযোজনার নামে। সব বাটপারি, জোচ্চুরি। দর্শক, দেশ, রাষ্ট্রকে ঠকানোর বন্দোবস্ত। শাকিব কেমন করে এসব ছবিতে কাজ করে। ও কী ভুলে গেছে ওর জন্য ইন্ডাস্ট্রির কন্ট্রিবিউশন? দিন সমান যায় না। আমি রাজ্জাকও বৃদ্ধ হয়েছি!’

অভিনন্দন নায়ক রাজ, বেঁচে থাকুন আরো দীর্ঘকাল, আরো স্বার্থক হোক আপনার বেঁচে থাকা !!
16195802_10211078329574910_3011313613561487347_n

বি.দ্র. তিনি বাংলাদেশের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনেতা যিনি স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন… 😊

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন