Oggatonama-The Unnamed মুভিটা অজ্ঞাত থাকা অবস্থাতেই হল থেকে নেমে গিয়েছিল(তাও আবার ২-৩ টা হল,ঢাকার)।
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

স্পেশালি যাদেরকে কেন্দ্রে করে মুভিটি তাদের কাছে তো পুরাপুরি অজ্ঞাতই রইল।
আমি কখনো বাংলা মুভির(দেশী) পাইরেটেড কপি দেখি নাই, এই প্রথম দেখলাম, দেখলাম না বলে দেখতে বাধ্য হলাম বলা যায়।মুক্তির সময় আরেকটু আলোচনা থাকলে বা অথবা এখনকার মত এত্ত পজিটিভ রিভিউ পেলে মনে হয় হলে যেয়েই দেখা হত।যাই হোক এই মানের একটা মুভি কেন ঠিকমত পাবলিসিটি হবে না, মার্কেটিং হবে না এইটা আমার বোধগম্য নয়।এই দোষ আসলে কার,প্রযোজক, পরিচালক নাকি আমরা এই দর্শকরা?? এইটা একটি জটিল বিষয়।কিন্তু যত যাই হোক আফসোসটা থেকেই যাবে..😖😖😖
আমাদের দেশে বিশাল জনগোষ্ঠীর বাস।উন্নয়নশীল এই দেশে বিশাল জনগোষ্ঠীর সকলের জন্য নেই পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা।এর ফলে তৈরি হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। আর এই সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠী একটু খানি সুখের আশায়,আর্থিক সচ্ছলতার আশায় স্বপ্ন দেখে বিদেশ যাওয়ার।গ্রামের সচ্ছল লোক আরো সচ্ছলতার আশায় পাঠায় আবার সহায় সম্বলহীন লোক একটু সুখের আশায় পাঠায় তাদের আদরের ধণ কে।আর তাদের স্বপ্নকে পুঁজি করে কিছু অসাধু চক্র গড়ে তুলেছে অবৈধ ব্যবসা।
এই সকল অসাধু চক্রের নানা রকম লোভে পড়ে দরিদ্র মানুষজন ভিটেমাটি বিক্রি করে অবৈধ উপায়ে বিদেশে পাড়ি জমায়।নানা রকম জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের বিদেশ পাঠানো হয়।এমনকি পিতা মাতা প্রদত্ত নামও বিসর্জন দিতে হয়,গলাকাটা পাসপোর্ট এ অন্যের পরিচয় নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমায় এই সকল হতভাগ্য লোকজন।আর এই রকমই এক মর্মস্পর্শী মানিবিক এক কাহিনী কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অজ্ঞাতনামা।
কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে একটি লাশ,কিন্তু সেই লাশের পরিচয় নিয়াই যত গন্ডগোল।আর লাশটি আসলেই কার এইটা জানতে হলে দেখতে মুভির একদম শেষ পর্যন্ত।
THEUNNAMED-postar-03
স্টোরি টেলিং এ উত্তেজনা ধরে পেরেছেন ডিরেক্টর, কিছু টুইস্ট ও ছিল ছিল কমেডি,রোমান্স।কিন্তু সিকোয়েন্স গুলার মধ্যে কোথায় জানি একটা ছন্দপতন। সামঞ্জস্যহীন মনে হয়েছে,কন্টিনিয়ুটি নাই।এতে মুভিটি কিছুটা আবেদন হারিয়েছে।তবে একটা জিনিস বলতেই হবে অযথা টেনে লম্বা করা হয়নি কাহিনীকে।ফর্মুলা ভিত্তিক মুভি না হলেও বোরিং হওয়ার কোন সুযোগ নাই।মুভির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একই গতিতে চলেছে।

এই মুভিতে রয়েছে সব শক্তিশালী অভিনেতার সমাহার।
ফজলুর রহমান বাবু:আমি মনে হয় তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিনয় দেখলাম।পুত্রশোকে কাতর পিতার যে রকম অভিনয় হওয়ার কথা এক দম সেই রকমই অভিনয় করেছেন।সংলাপহীন কিছু এক্সপ্রেশন এখনো চোখে লেগে আছে।অভিনয় মনে হয় তখনি সার্থক হয় যখন দর্শকের মনকে আর্দ্র করে ফেলে। সেই সাথে গেট আপ এবং মেকআপ ছিল একদম পারফেক্ট।

অফটপিক একটা কথা বলে রাখি আয়নাবাজীর আয়নার (চঞ্চল চৌধুরি) সাথে কেফায়েত উদ্দিন প্রামাণিক (বাবুর) জোর লড়াই হবে মনে হচ্ছে এইবারের জাতীয় পুরস্কার নিয়ে।
শহিদুজ্জামান সেলিম:দালাল হিসেবে তো পুরাই ফাটায় দিছেন।আমি তো এই লোকের ভক্ত অনেক আগে থেকেই শুধু আফসোস আমরা তাকে সিনেমায় ঠিক মত ব্যবহার করতে পারছি না।এনিওয়ে একজন দালালের চরিত্রের যে উত্থান-পতন সময়ানুযায়ী দরকার তারই এক সার্থক রূপ দান করেছেন তিনি।
শতাব্দি ওয়াদুদ:আরেক জন ক্লাস অভিনেতা।পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় যথেষ্ট সাবলীল।
আর সবশেষে মোশাররফ করিম।ওনার কথা আর কি বলব!!তবে উনি এই টাইপের অভিনয় আগেও করেছেন,এইটা ওনার জন্য নতুন ছিল না।
তবে সেলিম আর করিম এর মধ্যে টম এন্ড জেরি র মত যে প্রতিযোগিতা ছিল এইটা বেশ উপভোগ্য ছিল,দর্শকের যথেষ্ট হাসির খোরাক জুগিয়েছে। কোন ভাঁড়ামি ছিল না,সাবলীল অভিনয় দুই জনেরই।কয়েকটা সিকোয়েন্সের কথা না বললেই না,যখন করিম নিপুণের খাটের নীচে লুকায় ছিল এরপর সেলিম যে দোউড়ানি টে দেয়,আবার সেলিম যখন টাকার খোঁজে নিপুণের ঘরে আসে তখন তিন জনের চেহারা ছিল দেখার মত 😜😜😜
আর লাস্টে যখন সেলিম বাংলা মদ সাধে করিম রে, that was too funny man😁😁।
চরিত্রানুযায়ী সবার অভিনয় ভালো ছিল। তবে নিপুণের কথা আলাদা করে বলতেই হয় ,উনি যে একজন সুঅভিনেত্রি তার প্রমাণ আবারো দিলেন।ওনাকেও ঠিক মত মুভিতে ব্যবহার করতে পারছি না আমরা।
maxresdefault

এইবার বলি ক্যেরেক্টার গুলার নেগেটিভ দিক।পুত্রের মৃত্যুর খবর শুনার পর দুই মা রই আল্লাহ গো বইল চিৎকার কেমন জানি ন্যাচারাল বলে মনে হয় না। কয়েকটা ক্যেরেক্টার এখানে পরিপূর্ণ ভাবে প্রস্ফুটিত হয় নাই,কিন্তু তারা ছিল লিড রোলে।এই যে বাবু এত জোশ অভিনয় করছেন কেফায়েত উদ্দিন প্রামাণিক এর চরিত্রে,তাকে নিয়ে কয় লাইন লিখা যাবে??এই রকম আরো কয়েকটা ক্যেরেক্টার ছিল।আবার প্রামাণিকের নাতনীর ক্যেরেক্টার এর ডেভেলপমেন্টটা ভালো ছিল যদিও স্থায়িত্ব কম ছিল।তবে ফিনিশিং সিনটা ছিল ক্লাসিক। নাতনীর খেলনাটাই লাগানো ছিল অজ্ঞাতনামা কবরের চারপাশে।
মুভির সিনেমাটোগ্রাফি খুবই নরমাল।ক্লোজশট লং শট এর ক্ষেত্রে কোন ভেরিয়েশন নাই।মানে ক্যামেরার যে একটা নিজস্ব ভাষা আছে সেই বিষয়টা অনুপস্থিত ছিল।তৌকির আহমেদ ডিরেক্টর দেখেই আশাটাও বেশি। ☺☺
মুভিতে যে তিনটা সাউণ্ডট্র‍্যাক ব্যবহার করা হয়েছে,তিনটাই ছিল এক কথায় অসাধারণ। প্রথমটা(টাইটেল ট্র‍্যাক) ছিল রক ধাচের।আর বাকি দুইটার একদম মোক্ষম ব্যবহার করা হয়েছে।গান দুইটির কথা এবং সুর ছিল একদমই হৃদয়স্পর্শী,মনকে আর্দ্র হতে বাধ্য।স্পেশালি “আমার সোনা জাদুর মুখ ,জগতের সবচেয়ে সুন্দর …ক্ষমা কইরা দিও বাজান ক্ষমা কইরা দিও চোখের আলো কেমন কইরা আমি ঢাইকা দিব??” এই গানের সময় চোখের পানি ধরে রাখা কষ্টকর। এজ এ মিউজিক ডিরেক্টর পিন্টু ঘোষ তার প্রতিভার ঝলক ভালোই দেখাচ্ছেন। ওনার মুভিতে আরো কাজ করা উচিত।

পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন এবং কষ্টের কাজ হল পিতার কাধে পুত্রের লাশ।
সেই লাশেরই যখন কোন সুরাহা হচ্ছে না তখন গ্রামের সেই অল্পশিক্ষিত হত দরিদ্র কেফায়েত উদ্দিনের মুখ দিয়েই বের হল মুভির সবচেয়ে দামি এবং বর্তমান সময় বিবেচনায় খুবই প্রয়োজনীয় সংলাপ-
‘লাশ সেইটা হিন্দুরই হোক বা মুসলমানের,সে তো কারও না কারোর সন্তান।তারও তো অধিকার আছে সৎকার পাবার।’
এই যে একটা মানবিক চেতনা,অসাম্প্রদায়িক চেতনা এই বোধটুকুরই বড় অভাব এই অস্থির সময়ে!!!

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন