আয়নাবাজির ভেল্কিবাজি… বাংলা চলচ্চিত্রের সাফল্যের পালকে এক নতুন পালক….এই সুদিন যেন থেমে না যায়…🙂
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

14610956_1317986521558948_7211801634648196774_n
পুরা স্পয়লার ফ্রি 😛

Morning shows the day…এই কথা সব সময় সত্যি না হলেও… আয়নাবাজির ক্ষেত্রে মনে হয় একটু বেশি সত্যি.. আয়নাবাজির ট্রেইলার দেখে যে পরিমান এক্সপেকটেশন ছিল মানুষের… যে হাইপ তৈরি হয়েছিল… তা যে মোটেও বেশি বেশি ছিল না এইটা মুভি দেখার পর প্রুভ হয়ে গেছে।বরং যে এক্সপেকটেশন ছিল তার থেকেও মুভিটা ভালো লেগেছে… আর এখন পর্যন্ত দর্শক রেসপন্স সেইটাই প্রমাণ করে!!!
সম্প্রতি সময়ে কোন বাংলা মুভি নিয়ে এই রকম উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায় নাই… মুক্তির আগেই মুভি রিলেটেড ফেসবুকে বেশির ভাগ গ্রুপেই গ্রুপের মেম্বাররা প্রচারণা চালিয়েছে… এই ক্ষেত্রে #বাংলা_চলচ্চিত্র গ্রুপ মনে হয় এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।আর একটি গ্রুপ তো যুগান্তকারী ঘটনা ঘটায় ফেলছে… মুক্তির প্রথম দিনই দুপুরের শো তে তারা পুরা হল বুকিং দিয়ে ফেলেছিল… বাংলা মুভির ইতিহাসে এইটা আগে কখনো ঘটেছে কিনা জানা নাই..মানুষের যে এই আবেগ…উন্মাদনা কোন কিছুই বিফলে যায় নাই… যার প্রমাণ এই ৩য় সপ্তাহে এসেও দেখা যাচ্ছে… বেশির ভাগ শোই হচ্ছে হাউসফুল…মনপুরার পর কোন বাংলা মুভির টিকিট আমি অগ্রিম কাটি নাই…কিন্তু এই মুভি আমাকে অগ্রিম টিকিট কাটতে বাধ্য করছে!!! লাইন দিয়ে হলে ঢুকা আর হাইজফুল হলে মুভি দেখার মজাই আলাদা!!!একটা উৎসব উৎসব ভাব অনুভব করা যায়!!vlcsnap-2016-09-26-10h48m13s937
যাই হোক এইবার আসি মুভি প্রসংগে…
মুভির প্রধান চরিত্র শরাফত করিম আয়না… যার পেশাই হচ্ছে অন্য মানুষের চরিত্র ধারণ করা… তার ভাষায় মানুষ টিকে সাহায্য করা…যদিও সে সবাইকে সাহায্য করে না…আগে কেস কি সেইটা দেখে তারপর সাহায্য… মোট ছয়টি চরিত্র অভিনয় করেছেন চঞ্চল… অনেকেই তাকে টাইপো অভিনেতা মনে করে….অনেকেরই আবার পছন্দ না…কিন্তু এই মুভি যদি কেউ দেখে থাকে…তাহলে সে ডেফেনেটলি তার ফ্যান হয়ে যেতে বাধ্য…এটলিস্ট ফ্যান না হলেও.. মুখ দিয়ে যে ওয়াও শব্দটি বের হবে এইটা হলফ করে বলাই যায়!!এক চরিত্র থেকে আর এক চরিত্র রুপান্তরে তিনি যে ক্যারিশমা দেখিয়েছেন…এক কথায় অনবদ্য..মেক আপ ও ছিল দুর্দান্ত!! অমিতাভ যে কোন কিছুতেই ছাড় দান নি…তার প্রমাণ এই মেক আপ ম্যান…মোহাম্মদ আলি…কোলকাতা থেকে নিয়ে এসেছেন!!

এরপর যে চরিত্রটি নিয়ে বলতে চাই… তা হল নাবিলার চরিত্র…এই রকম স্নিগ্ধ চরিত্র বাংলা মুভিতে খুব কমই দেখা গেছে… মনপুরার পরীর পর আমি আর দেখি নাই… পুরা মুভিতে নাবিলা কে দেখলে মনে হয় স্নিগ্ধতার আবেশে আবিস্ট করে রেখেছিল… কয়েকটা জায়গায় মনে হয় মেক আপই ইউজ করে নাই… বিশেষ করে গাড়িতে করে ফিরে আসছিল আয়নার সাথে দেখা করার পর… তখন যে কি অসাধারণ লাগছিল মেকাপ ছাড়াই… মাইন্ড ব্লোয়িং… আর অভিনয় তো ছিল খুবই ন্যাচারাল… দেখে কে বলবে এই মেয়ের প্রথম অভিনয় সিনেমায়…!!!নেই কোন নায়িকা সুলভ ন্যাকামি… গ্লামারাস লুক… অযথা যৌন সুরসুরি… কিন্তু তবুও চুম্বকের মত আকর্ষন!!!একদম র একটা লুক.. ❤ ❤14639755_1399139076767067_2957385890728022036_n
পার্থ দার কথা কি আর বলব… সাংবাদিক হিসেবে ওনার অভিনয় ছিল যথেষ্ট ম্যাচউরড…তবে মদ খাওয়া নিয়ে দেখলাম অনেকের অভিযোগ.. কিন্তু যে লোকটার বউ -পোলাপান কাছে নাই… সেই লোকটার আর কি করার আছে দুখ ভোলার জন্যে???
আর শরিফুলের কথা তো স্পেশাল ভাবে বলতেই হয়…এই পিচ্চি যতখন ছিল পুরা সিনেমা হলের মানুষ হাসতে হাসতে শেষ… তার কয়েকটা ডায়লগ তো ছিল সেই… কামিং,ওয়েট..ইমেল..এই শব্দগুলো বলার বাচন ভংগি ছিল খুবই হাসির আর মজার…সেই সাথে দুইটা সিন তো ভুলারই না…ক্লোজ শটে যখন মাউজ নাড়ানো আর কি- বোর্ড টিপার দৃশ্য এবং হলিউড স্টুডিও তে ফ্যান ধরে ফটোশ্যুটের দৃশ্য এই দুইটা আমার যখনি মন পড়ে তখনই হাইসা উঠি… আর হলে যখন দেখছিলাম তখন পুরা হলে যে হাসির রোল উঠছিল.. কি আর বলব…সিট থেকে পড়ে যাওয়ার মত অবস্থা…এইছাড়া পার্থর কাজের ছেলের চরিত্রে মিরাক্কলের রনির অভিনয় ও যথেষ্ট হাসির উদ্রেক করছে..ডায়লগ গুলাও সেই.. মদ ঢালার সময় বলা কাচাই খাবেন কথাটা মনে হইলে তো এখনো হাসি পায়… এই ছাড়া পুরা আরো মজার মজার ডায়লগ আছে… বিশেষ করে পার্থ আর চঞ্চল এর কথোপকথন গুলা ছিল যথেষ্ট হাসির এবং মজার…চঞ্চল তো কমেডি রোল বরাবরই ভালো করে..
অমিতাভ রেজা এই মুভির জন্য কোন কিছুতেই আপোষ করেন নাই তার প্রমাণ ছোট ছোট ক্যারেক্টার এর জন্যেও দক্ষ অভিনেতা অভিনেত্রি নিয়েছেন…হলিউডে এই প্র‍্যাকটিসটা থাকলেও.. আমাদের মুভিতে নেই… ছোট রোলের জন্য বড় বড় স্টার দের বাছাই করা… তবে অমিতাভ রেজা যে এই মুভির জন্য যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছেন তা বুঝা যায় একটা সিনেই… যে পরিমাণ হাত তালির আওয়াজ পাওয়া গেল..!!!
আমাদের প্রাণের ঢাকা কে যেন নতুন ভাবে পরিচয় করায় দিলেন.. এই মুহুর্তে দেশ সেরা চিত্রগাহক রাশেদ জামান…ঢাকার এই অনিন্দ্য সুন্দর রূপ আর কোন মুভিতে ধরা পড়েছে কিনা আমার জানা নাই… পচা নোংরা বুড়িগঙ্গা যে এত্ত সুন্দর ভাবে দেখানো যায় জানা ছিল না!!! আর বৃষ্টির সিন গুলার কথা কি আর বলব এক কথায় অসাম ❤ ❤14713661_1175456485858471_2309615225899000326_n
পৃথিবীর তাবত মাস্টার পিস মুভির ও ভুল আছে…সো এই মুভি যে নির্ভুল তা বলা যাবে না… আমার কাছে কয়েকটা জিনিস খটকা লেগেছে… প্রতিবন্ধি ছেলের অভিনয়ের পর হঠাৎ করে চুল কিভাবে বড় হয়ে গেল??? এই ছাড়া সিনেমার এই অভিনয়ের অংশটুকুই আমার কাছে ভালো লাগে নাই… পার্থ এক জন সাংবাদিক হয়েও এই রকম মান্ধাতার আমলের ক্যামেরা কেমনে ইউজ করে???আর শেষে চঞ্চলের দাড়ি টা আসল হলে আরো ভালো হত..

এই মুভির প্রত্যেকটা গানই সুন্দর.. আর সুন্দর হবেই না কেন.. নামগুলা কি এক একটা হাবিব,অর্ণব,চিরকুট ফুয়াদ… চিরকুটের পাপ জমাই গানটার গূড় অর্থ রয়েছে… আর লাগ ভেল্কি লাগ গানটা তো বিশাল খানা দানার পর ডেজার্ট এর মত 😁
আপনি সব কিছু ভালো কইরা যদি লাস্টে সব গুবলেট পাকায় ফেলেন তাইলে কিন্তু সব শেষ.. 😌 আমার দেখা বাংলা মুভির বেস্ট ফিনিশং হল আয়নাবাজির… অসাধারন!!! এই রকম ফিনিশিং যে মানুষ মুভি একদম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিট ছেড়ে উঠতে পারবে না!!!
এই মুভির আরেকটি শক্তিশালী দিক হলো এর ডায়লগ… দুর্দান্ত সব ডায়লগ পুরা মুভি জুড়েই!!! কিছু ডায়লগ তো আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেল…এটি একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত … বোঝ নাই ব্যাপারটা ???
এছাড়া রাজনীতি ই তো— সবচেয়ে বড় অভিনয়….জনগন চায় আমি বাহিরে থাকি , তাহলে ভিতরে যাবে কে ??…মজা লাগে, ভোর হলে পরেই চরিত্র বদলায়। এক ক্যারেক্টার থেকে আরেক ক্যারেক্টারে শিফট হলেই সব হাওয়া। চারপাশ বদলে যায়, থেমে যায় সময়, মিথ্যা তখন সত্যি হয়। সবার জন্য সব সত্যি, আমার জন্য অভি…বাসাটা সুন্দর প্রতিদিন অাসবো নদী পার হয়ে তোমার এখানে রান্না করে দুপুরে খেয়ে অাবার চলে যাব, কত দিন অাসবে তুমি যতোদিন নদী থাকে …বাঘটার সংগে কথা বলি 😛
14753259_146931842436255_4611210933553352877_o
আয়না কি শুধু একজনই??? আমার মনে হয় না… আমরা প্রতিনিয়ত নানা রকম চরিত্রে অভিনয় করে চলেছি…আমাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য… আর রাজনীতিবিদরা সবচেয়ে বড় অভিনেতা… তারা সবকিছুকেই রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে পাড় পেতে চায়… প্রভাব প্রতিপত্তির জোরে আমরা আইনকে প্রতিনিয়তই বুড়া আংগুল দেখাচ্ছি… আবার মানুষ যখন প্রেমে পড়ে তখন সে তার ভালো গুন গুলোকেই বড় করে দেখাতে চায়… পাপ কাজ থেকে দুরে সরে আসতে চায়… আর এটাই হলো ভালোবাসার শক্তি… আর এই সবকিছুরই প্রতিচ্ছবি হল আয়নাবাজি!!!
বোঝ নাই ব্যাপারটা????
জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের..!!!

পাদটিকাঃনেই কোন আইটেম গান,কোমড় দোলানো নাচ,ঢিশুম ঢাশুম মারামারি…যৌন সুরসুরি তবুও কেন মানুষ হ্যামিলনের বাশিওয়ালার মত আয়নাবাজির পিছু পিছু ছুটছে??? জানতে চাইলে হলে গিয়ে আজই দেখে আসুন… আর আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিবেন.. মুভির প্রথমে যে লাশ দেখায় ওইটা কার লাশ ছিল???

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. lalon lalon says:

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অবদান অপরিসীম ও সর্বজন স্বীকৃত।
    বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাতে এস ডি রুবেল এর কথা সুর সঙ্গীত ও কণ্ঠে ধারণ করা “বঙ্গবন্ধু তুমি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ” শিরোনামে গানটি আপনাদের জন্য উপহার রইলো 🙂
    শুভ কামনায় ,,, এস ডি রুবেল

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন