” The Notebook 2013 ( Original title: A nagy füzet ) ” —- হাঙ্গেরির এই সিনেমাটি দুইটি অসহায় ছেলের অনুভূতিহীন হওয়ার নির্মম গাঁথা এবং বর্বর বাস্তবতার এক অন্য রূপ দেখাবে…… :( :( :(

“People speak sometimes about the “bestial” cruelty of man, but that is terribly unjust and offensive to beasts, no animal could ever be so cruel as a man, so artfully, so artistically cruel.”

 

আবেগ বা অনুভূতি মানব চরিত্রের এক অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। মানুষের সকল অনুভূতি নির্দিষ্ট একটি feeling station থেকে আসে…এবং সেই নির্দিষ্ট feeling station এর নাম হল মন। মানবিক দিকের অনুকূল পরিস্থিতিতে যার নাম স্নেহ, প্রতিকূল অবস্থায় তা বিদ্বেষে পরিণত হয়ে যায়… অনুকূলে যা ভালোবাসা, প্রতিকূলে তা ক্রোধ হয়ে যায় । পৃথিবীর অনেক জিনিসের মত অনুভূতিগুলোও শক্তির নিত্যতা সূত্র মেনে চলে… আলোক শক্তি রুপান্তর হয়ে যান্ত্রিক অথবা যান্ত্রিক শক্তি রুপান্তর হয়ে রাসায়নিক…এভাবে পৃথিবীর অনেক কিছুই রুপান্তর প্রক্রিয়াতে চলছে… Metamorphosis বলে যাকে! অনুভূতিগুলোও ঠিক একই ধাঁচের হয়ে থাকে…পরিবর্তনশীল এবং ভঙ্গুর… কিন্তু স্থিতিস্থাপক নয়। কোন মানুষ অনুভূতির এই ক্ষমতা হারায় অনেক কারণে যার মধ্যে অন্যতম একটি পারিপার্শ্বিকতা ।আজকের সিনেমা যুদ্ধভিত্তিক হলেও…যুদ্ধের ফলে মানব মনের এক অন্য চিত্র তুলে ধরেছে সূক্ষ্মভাবে…যাকে আমরা বাংলা ভাষাতে “পরিস্থিতিতে অনুভূতিহীন” বলে থাকি।  রিভিউ এর শুরুতে সুকান্তের  ‘নিবৃত্তির পূর্বে’ কবিতাটি রইল—

“দুর্বল পৃথিবী কাঁদে জটিল বিকারে,
মৃত্যুহীন ধমনীর জ্বলন্ত প্রলাপ ;
অবরুদ্ধ বক্ষে তার উন্মাদ তড়িৎ ;
নিত্য দেখে বিভীষীকা পূর্ব অভিশাপ ।

ভয়ার্ত শোণিত-চক্ষে নামে কালোছায়া,
রক্তাক্ত ঝটিকা আনে মূর্ত শিহরণ—
দিক্‌প্রান্তে শোকাতুরা হাসে ক্রূর হাসি :
রোগগ্রস্ত সন্তানের অদ্ভুত মরণ ।

দৃষ্টিহীন আকাশের নিষ্ঠুর সান্ত্বনা :
ধূ-ধূ করে চেরাপুঞ্জি-সহিষ্ণু হৃদয় ।
ক্লান্তিহারা পথিকের অরণ্য ক্রন্দন : 

      নিশীথে প্রেতের বুকে জাগে মৃত্যুভয় ॥  ”    

 

20130705a-nagy-fuzet2

 

 

১৯৪৪ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট…সিনেমার ঘটনা আবর্তিত হয় দুই যমজ ভাইকে ঘিরে….। যার একজনকে সিনেমাতে অভিহিত করা হয় “One” নামে এবং অপরজনকে “Other” নামে। উন্নত, শহুরে পরিবেশে বেড়ে উঠা এই দুই ভাই, তাদের মা বাবার অত্যন্ত আদুরে… বাবা জার্মান মিলিটারিতে কর্মরত একদিন যুদ্ধে ফেরত যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়…এবং যুদ্ধে যাওয়ার আগে তাদের দুইজনকে একটি Notebook দেয় এবং বলে তাদের কিছুদিন নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থানের জন্য শহুরে পরিবেশ থেকে অচেনা কোন জায়গায় পাঠিয়ে দাওয়া হবে…। তারা যেন তাদের চিন্তাধারা, কাজ, অনুভূতিগুলো Notebook টাতে লিপিবদ্ধ করে যাতে তাদের কোন একটি সময়ের প্রতিচিত্র তারা তাদের ভবিষ্যতে লেখ্য রূপে দেখতে পায়। বাবা যুদ্ধে চলে যাওয়ার পর তাদের মা “One” এবং “Other” এর সুরক্ষিত অবস্থানের জায়গা হিসেবে হাঙ্গেরির বর্ডার সংলগ্ন একটি প্রত্যন্ত জায়গায় নিজের মায়ের কাছে রেখে আসার চিন্তা করে। ছেলে দুইটির ইতোপূর্বে তাদের নানীর সাথে ১৩ বছরের জীবনে কখনও সাক্ষাত হয়নি। নানীর কাছে নিয়ে যাওয়ার পর তারা বুঝতে পারে, তাদের নানী আর কিছু হলেও স্নেহবৎসল নয় বরং অনেক বেশি বদরাগী এবং নির্মম স্বভাবের। এই অবস্থাতেই তাদের মা  বিরূপ স্বভাবের নানীর তত্ত্বাবধানে ছেলে দুইটিকে রেখে আসে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে “ যুদ্ধ শেষ হলেই সে ফিরে এসে তাদের দুই ভাইকে নিয়ে যাবে, কিন্তু ততদিন পর্যন্ত তারা যেন ধৈর্যশীল এবং পরিস্থিতির সাথে সহনশীল অবস্থায় থাকে এবং একে অপরের সঙ্গ যেন কখনই না ছাড়ে”। প্রথমদিন “One” এবং “Other” এর নানী তাদের বাড়ির বাইরে সারা রাত বেঞ্চে অবস্থান করায় এবং শর্ত জুড়ে দেয় “ খাওয়ার পেতে হলে তা অর্জন করতে হবে, খাওয়ার বিনিময়ে কাজ করতে হবে”। পরের দিন থেকে তারা তাদের নানীর বিভিন্ন কাজ করে দিতে থাকে, কাঠ কেটে দেয়া থেকে পানি তুলে দেয়া পর্যন্ত কাজ তারা শুধু একটু খাওয়ার প্রয়োজনে করে দেয়…। তাদের নানী সেই কাজের বিনিময়ে প্রথম তাদের আলুর তৈরি স্যুপ খেতে দেয় এবং তাদের বাড়িতে থাকার অবস্থান করে দেয়। কাজের ফাঁকে ফাঁকে তারা তাদের মায়ের কথামত, পড়াশুনা করতে থাকে… তাদের সাথে আনা বই নিয়ে যার মধ্যে বাইবেল উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন নিয়ম করে দুই ভাই পড়ে এবং তাদের দিনের কার্যাবলী লিপিবদ্ধ করে রাখে। কিন্তু দিনকে দিন গেলে তারা খেয়াল করে, তারা যতটা সহজে পৃথিবীর মানুষগুলোকে এই গ্রামাঞ্চলে আসার পূর্বে জেনে এসেছে… মানুষ জাতি এতটাও সহজ কোন জিনিস নয়। বিনা কারণে তাদের মানুষ, বিশেষত তাদের নানী প্রহার করতে থাকে, একটু খাদ্য পাওয়ার আশায় অসহ্য সব যন্ত্রণা তাদের সহ্য করা লাগে….. বর্বর পৃথিবীর বর্বরতার অসহায় শিকার হতে থাকে তারা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। এভাবে একদিন তারা সিদ্ধান্ত নেয়, মানুষ যতই বর্বরতা করুক তাদের সাথে তারা সেই ব্যাথা সহ্য করার ক্ষমতা অর্জন করবে, ক্ষুধার্ত থাকার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তারা ক্ষুধাকে বশ মানাবে….. ক্রুদ্ধ এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে গেলে অনুভূতিহীন হতে হবে তাদের । শুরু হয়, যমজ দুই ভাইয়ের নতুন এক বর্বর জীবনের সূচনা….. অনুভূতিহীন হওয়ার প্রক্রিয়া। তাদের জীবন গিয়ে শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে দাঁড়ায়? বর্বর পৃথিবী এবং যুদ্ধের বাস্তবতা তাদের পরিণতি নিয়ে যায় কোন দিকে? সিনেমাটার মূল বৈশিষ্ট্য প্রেক্ষাপটের ভয়াবহতা তুলে ধরার capability এবং এর ভিন্নধর্মী প্লট।  যে কোন যুদ্ধের তুলনায় অনেক মাত্রার কঠিন যে যুদ্ধের নাম তা স্বয়ং জীবনযুদ্ধ…এই সিনেমা তা উপলদ্ধি করায়। যমজ দুই ভাইয়ের প্রাণবন্ত ১৩ বছরের বালক থেকে শেষ অবধি ভাবলেশহীন মার্কা মানুষে পরিণত হওয়ার যে metamorphosis দেখায় এক বাক্যে তা অসাধারণ। এই সিনেমাতে entertainment খুঁজতে গেলে গুঁড়ে বালি পড়বে…এই সিনেমাটা যতটা না দেখার তার থেকে অনেক বেশি উপলদ্ধির। Agota Kristof এর “The Notebook ” উপন্যাস অবলম্বনে এই সিনেমাটি তৈরি হয়েছে…১৯৮৬ সালের এই বইটি ফ্রেঞ্চ ভাষার অন্যতম একটি ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। ৮৬ তম অস্কারে এটি হাঙ্গেরির হয়ে Best Foreign Language Category তে প্রতিনিধিত্ব করেছিল। সিনেমার গল্প আর কিছু হলেও রূপকথার নয়… এতে আছে বর্বর বাস্তবতা, যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং সবার উপরে দুইটি অসহায় যমজ ছেলের অনুভূতিহীন হওয়ার নির্মম গাঁথা। এই The Notebook নিকোলাস স্পার্কস এই সেই অমর প্রেমের গাঁথা “The Notebook” এর পুরোই বিপরীত… নাম একই হলেও বিষয় পুরোপুরি ভিন্ন! It is a very much sensitive movie with a lot of cruelty and horrifying drama.

 

A_nagy_fuzet_4

 

 

 

“The Notebook 2013 (Original Title: A nagy füzet )”

 

IMDB rating: 6.9/10

Genre: Drama/ War

Cast: László GyémántAndrás GyémántPiroska Molnár

Country of Origin: Hungary

 

 

 

nagy_fuzet_xlg

 

**** এই লেখা সম্পূর্ণ রূপে আমার… পূর্বের কোন লেখার সাথে মিলে গেলে তা একান্তই co-incidence….no resemblance. আশা করি পোস্টটি ভালো লাগবে       ! Happy Movie Watching 🙂 🙂 🙂 অগ্রিম ধন্যবাদ 🙂 🙂

(Visited 118 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন