আজ পর্যন্ত কেউ মৌলিক সিনেমা বানাতে পারেন নি!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

একটা মানুষের যখন চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক প্রশ্ন উঠে তখন তার সম্পর্কে একটা বাজে ধারণা তৈরী হয়ে যায়। সমাজে তার সম্মান পাওয়ার বিষয়টির সূত্রের পরিবর্তন হয়। অন্যদিকে একটি সিনেমার সম্মান কোথায়?

 

সিনেমার চরিত্র হলো তার পান্ডুলিপি। কেউ একটি সিনেমা দেখার পর তার পান্ডুলিপির মৌলিকতা নিয়ে যখন যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন তোলে তখন সিনেমার চরিত্রে আঘাত হানে। প্রশ্নটা যদি প্রমাণিত হয় তাহলে সেই সিনেমার সম্মান থাকে না। মনের মধ্যে ধাক্কা লাগলে সেটাকে আর আগের মতো করে নেয়া যায় না।

 

একটা উদাহরণ দেই, বিদ্যা বালান অভিনীত ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কাহানি’ সিনেমা দেখা শেষ করে একটা প্রাপ্তির ঢেকুর ছেড়েছিলাম। সিনেমাটার সবকিছুই ভালো লেগেছিলো। কিন্তু সিনেমা দেখতে দেখতে একদিন হাতে পড়লো ‘টেকিং লাইফস’ (২০০৪)। সিনেমা শেষ করে বুঝলাম এই সিনেমার ক্লাইম্যাক্সের উপর ভিত্তি করেই তিনটি জাতীয় পুরস্কার ও পাঁচটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জেতা ‘কাহানি’ সিনেমাটা বানানো। এরপর ‘কাহানি’ সিনেমার উপর যে সম্মান ছিলো কিংবা একটা আলাদা নজর ছিলো সেটা গায়েব হয়ে গেছে। মনের মধ্যে একটা খটকা লাগে!

 

kahano

 

আপনি যদি স্বত্ত্ব কিনে অফিশিয়াল রিমেক করেন এতে সমস্যা নেই। আগে থেকেই সব পরিস্কার থাকলো কিন্তু অন্য সিনেমার প্লট কিংবা ক্লাইম্যাক্সকে ভিত্তি করে সিনেমা বানিয়ে যদি সেই তথ্য গোপন রাখেন তাহলে সেটা অন্যায়। মানুষকে ধোঁকা দেয়া বলা যায়। এমনটা করলে যেমন সেই সিনেমার সম্মান ক্ষুণ্ণ হয় তেমনি পরিচালকের উপর আস্থা হারিয়ে যায়। সেই পরিচালকের পরবর্তি সিনেমার বাজ কিংবা মানুষের আগ্রহ শুরু থেকেই থাকে না।

 

হঠাত এই প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলার কারণ বলছি। সদ্য রিলিজ পেয়েছে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর প্রথম সিনেমা ‘আয়নাবাজি’। অমিতাভ রেজার পূর্বের অসাধারণ কাজের জন্যই এই সিনেমা নিয়ে অনেক উচ্চপ্রত্যাশা ছিলো। রিলিজের আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তৈরী হয় বিশাল বাজ। সিনেমার প্রচারণায় নতুন নতুন পন্থা ব্যবহার করতে দেখা যায়, যা আগে বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে কখনোই দর্শনে পড়ে নি। অন্যদিকে সিনেমা রিলিজের পর চারিদিকে ইতিবাচক প্রশংসা। টিকেট পাওয়া নিয়ে এক ধরনের যুদ্ধ। সিনেমার সবকিছুই যখন মানুষকে মুগ্ধ করেছে, নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তখন একদল অনলাইনে এই সিনেমাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু করে। তাদের দাবি, ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া কোরিয়ান সিনেমা ‘টাম্বেলউইড’ এর প্লটের উপর ভিত্তি করেই বানানো হয়েছে ‘আয়নাবাজি’। সত্য-মিথ্যা যাচাই পরে করছি, আগে এর প্রভাব বলি। এই তথ্য শুনে অনেকেই হতাশ হয়েছেন, অনেকেই আবার ‘আয়নাবাজি’ না দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন! এমনটা হওয়া স্বাভাবিক।

aynatreble

 

‘আয়নাবাজি’ দেখে এই সিনেমার প্রশংসায় মুখর ছিলাম। আমার কাছে সবকিছু মিলিয়ে অত্যাধিক ভালো লাগার প্যাকেজ মনে হয়েছিলো। কিন্তু যখন শুনলাম সিনেমার প্লট চুরি করা! বিষয়টা ধাক্কা দিয়েছে। তবে ‘টাম্বেলউইড’ দেখেই তারপর মন্তব্য করতে চেয়েছিলাম।

‘টাম্বেলউইড’ ও ‘আয়নাবাজি’র মধ্যে মিল
______________________

১। দুই সিনেমাতেই নায়ক-নায়িকা আছে।
২। দুই সিনেমাতেই খাবার ভক্ষণ করার দৃশ্য আছে।
৩। সবাই জামা-কাপড় পড়েছিলো।
৩। দুই সিনেমাতেই আকাশের দৃশ্য, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট আছে।
৫। নায়ক দাঁত কেলিয়ে হাসে দুই সিনেমাতেই।

 

এমন আরো অসংখ্য মিল, যা বলে শেষ করা যাবে না! আর এইজন্য যদি ‘আয়নাবাজি’ নকল হয়, তাহলে দুনিয়ার সকল সিনেমাই নকল। ‘দ্য স্টোরি অব দ্য কেলি গ্যাং’ (১৯০৬) এর পর থেকে সব সিনেমায় এমন কিছু দৃশ্য ছিলো। সেই যুক্তিতে সত্যজিত রায়, আলফ্রেড হিচকক, স্ট্যানলি কুব্রিক, ক্রিস্টোফার নোলান আজ পর্যন্ত মৌলিক সিনেমা বানাতে পারেন নি! সবাই ফারাহ খান কিংবা দেবাশীষ বিশ্বাসের মতো পরিচালক!

 

সিনেমার দুই লাইনের সারমর্ম দেখেই যারা সিনেমা বিচার করে, তাদের কাছে ‘আয়নাবাজি’ নকল হওয়া স্বাভাবিক। ‘টাম্বেলউইড’ এর কাহিনীর সাথে ‘আয়নাবাজি’র বিন্দুমাত্র মিল নাই। দুই সিনেমার দুইটা আলাদা প্লট, আলাদা গল্প, আলাদা সমাপ্তি। উপরের ছবি দুইটার মধ্যে মিল আছে, এই জন্য সিনেমাই নকল? এমন দৃশ্য কয়েকশো সিনেমায় আছে। সিনেমার সমালোচনা হবে, কিন্তু মিথ্যা তথ্য প্রচার করে কেন? নেতিবাচক প্রচারণা করে আপনার তো কোনো লাভ নাই কিন্তু আর একজনের তো বিশাল ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।

দয়া করে ‘সিনেমার সম্মান’ নষ্ট করবেন না।


এই পোস্টটিতে ১২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. অপু says:

    Munibun Billah Nirjharভাই, ভিতরে পড়ছেন? 😛

    • হ পড়লাম মাত্র,’কাহানী’ কি আসলেই কপিড?, পইড়া দেবাশীস বিশ্বাসের প্রোফাইল খুজতেছিলাম, ঐ দুই একদিন আগে আয়নাবাজীরে খোচা মাইরা একটা স্টাটাস দিছে, ঐটাই খুজতেছিলাম

    • অপু says:

      না কপি না। তবে আমার মনে হয় কোরিয়ান মুভিটার সিনোপ্সিস পড়েই হয়তো আয়নাবাজির থিম রাইটারের মাথায় আসছিল! নাও হতে পারে। তবে কাহিনো অন্যভাবে আগায়। মিল নাই কোনো।
      দেবাশীস বিশ্বাস বিশাল চুতিয়া। হালায় কিছুদিন আগে আয়নাবাজির পোস্টার শেয়ার করে অমিতাভ রেজারের অভিনন্দন জানাইছিল পরে কদিন পর নাকি আয়নাবাজিরে নাটক বইলা স্ট্যাটাস দিছে। আজ আবার শুনতেছি অয় কোন সিনেমা হলে গিয়া মুভিটা দেখতেছে :3

    • আরে আমি আয়নাবাজীর কথা কইতেছি না, ‘কাহানী’ এর কথা কইতেছি, মুভিটা ভালো লাগছিলো

  2. দারুণ লিখেছেন ভাই…

  3. প্রস্থেটিক বেলি রাখসে বলেই কাহানি টেকিং লাইফের নকল হয়ে গেল? o.O

  4. বেশি হয়ে গেছে পিনিকটা। আয়নাবাজি জাস্টিফাই করতে গিয়ে কেউ যদি বলে আজ পর্যন্ত কেউ মৌলিক সিনেমা বানাতে পারে নাই! তাইলে কিছু বলার নাই। বাঙালি পারেও।

  5. Shoaib Arman says:

    বন্ধু আসিফ😀

    AAsif Mahmud Oroup

  6. দুইটা মুভিতেই মানুষ আছে, কাজেই আইনাবাজি কোন মৌলিক সিনেমা না…
    ভাষা খারাপ হয়ে আসার উপক্রম হচ্ছে, কাজেই আর কিছু না বলি।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন