গল্পের নাম গ্র্যাভিটি

অদ্ভুত, অসাধারণ, অভূতপূর্ব- অযুক্ত এ ধরনের আরো যত শব্দ দিয়ে ভাললাগা আর বিষ্ময় প্রকাশ করা যায় পাঠকের কাছে  gravity-movie-review-sandra-bullock-shiop অনুরোধ থাকবে সে শব্দগুলো নিজ দায়িত্বে বসিয়ে নেয়ার।

উইকিপিডিয়া গ্র্যাভিটিকে সায়েন্স-ফিকশন/ টেকনো থ্রিলার মুভি বলছে। মধ্যাকর্ষণ শক্তি যেখানে নেই এমন স্থানে সংঘটিত ঘটনা নিয়ে নির্মিত এ মুভিটিকে সায়েন্স ফিকশন বলতে আমারও কোনো সমস্যা নেই। তবে সায়েন্স ফিকশন মুভিগুলো আমাকে সচরাচর এতটা মুগ্ধ করে না। তবে স্টার ওয়ার্ল্ড সিরিজ, ম্যাট্রিক্স, অ্যাভাটারের পর গ্র্যাভিটি দেখেই এতোটা ভাল লাগলো। তবে বাজে প্রিন্টের কারণে মুভিটার শতভাগ আমি উপভোগ করতে পারিনি।

শ্বাসরুদ্ধকর গ্র্যাভিটির প্রায় পুরোটা সময়ই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থেকেছি কম্পিউটারের পর্দার দিকে।  মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ড. রাইন স্টোন যখন মহাকাশযান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান সে সময়টার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। একটি মানুষ শুন্যে ভেসে বেড়াচ্ছে, তার চারপাশে কোনো শুরু-শেষ নেই, তার ধরার কিছু নেই, থামার উপায় নেই, চলার উপায় নেই, তার কথা শোনার কেউ নেই, তাকে কিছু বলার কেউ নেই। অসীম শুন্যতার মাঝে হারিয়ে যাওয়া। সত্যিকারের অসীম। কল্পনাতেও যার অস্তিত্ব শরীরের লোমগুলো খাড়া করে দেয়। 20131003_gravity_featurettethehumanexperience

অসীমের মাঝে পড়েও নাটকীয়ভাবে প্রাথমিক বিপদ কাটিয়ে ওঠেন রাইন- ছেলের আশায় যার বাবা মেয়ের নামটি রেখেছিলেন ছেলের নামে। পেয়ে যান সফরসঙ্গী ম্যাটকে। অদ্ভুত জীবনীশক্তি নিয়ে তারা দুজন ফিরে আসেন মহাকাশযানে। ফিরে এসে তারা বুঝতে পারেন পৃথিবীর বাইরে বিশাল জগতে আপাতত তাদের সঙ্গী বলতে আর কেই নেই। যারা ছিলেন তারা সবাই প্রাণ হারিয়েছেন।

গল্পের এর পরের অংশের যুদ্ধটা রাইনের একার। তীব্রতম বিপদে ভাগ্যের/ সময়ের সর্বোচ্চ যতরকম বিড়ম্বনা হতে পারে তার বোধহয় কিছুই বাদ যায় না রাইনের কপাল/ সময় থেকে।

অক্সিজেন শেষ হয়ে আসা, ক্ষতিগ্রস্ত যান, জ্বালানির অভাব, আবার অগ্নিকাণ্ড- সব মিলিয়ে রাইনের সময়টা যে ঠিক কতটা বেঠিক ছিল গ্র্যাভিটির পুরোটা বোধহয় তার জ্বলন্ত প্রমাণ। তবে বেঠিক সময় মানেই পরাজয় নয়। রাইন তার যুদ্ধটা দিয়ে দেখিয়েছে সেটিও।

এরপর কিভাবে সে মহাশূন্য থেকে আবার ফিরে আসে নীল আর সবুজের এই গ্রহটিতে তা দেখার জন্য গ্র্যাভিটি মুভিটা একবার দেখে ফেলাই ভালো। লসের কোনো সম্ভাবনাই নেই। এককথায় দুর্দ্ন্ত।

(Visited 71 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মুভিটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। আমি এ পর্যন্ত হলে যত মুভি দেখেছি তার মধ্যে এটাই বেস্ট। মুভিটা আসলেই শ্বাসরুদ্ধকর ! হলে কিছুক্ষণের জন্য দম আটকে আসছিল। এর কৃতিত্ব অবশ্য বুলকের। তার অভিনয় এতটাই ভালো ছিল যে, সত্যি সত্যি তার জন্য খারাপ লাগছিল। ভয় লাগছিল কি হবে না হবে।
    এক কথায় অসাধারণ একটা মুভি! যারা হলে গিয়ে দেখে নি, তারা কখনও জানতে পারবে না কি মিস করেছে।

    • রিতম says:

      আমি হলে দেখিনাই..বাসায় ছোট্ট সিআরটি মনিটরে দেখলাম.. হল প্রিন্টে..তাই নিশ্চিত মুভিটা যতটা ভাল ছিল তার অর্ধেকটাই হয়তো আমি মিস করে গেসি..বড় পর্দায় দেখতে কেমন লাগতো ভাবতেই অন্যরকম লাগছে..মুভিটা অসাধারণ..সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই..

  2. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    দেখার অপেক্ষায় আছি। ছুটির দিনের মুভি আমার। এমনিতেই ইচ্ছে ছিল দেখার তার উপর আপনার রিভিউ পড়ে আরো ইচ্ছে হচ্ছে।

  3. রিফাত আহমেদ রিফাত আহমেদ says:

    মুভিটা বেশি জোশ

  4. শাতিল আফিন্দি says:

    অসাম মুভি। 🙂

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন