মুভি লাভার্সদের জন্য স্ক্রিপ্টঃ দ্য স্পেস

দ্য স্পেস

 

কাহীনী সংক্ষেপঃ

শায়লা নামের একটা মেয়ে ভালবেসে বিয়ে করে তাকে তাদের বাড়িতে এসে মাঝে মাঝে পড়া দেখিয়ে দেয় এমন একজন আত্মীয় তথা যুবক টিউটরকে। ছেলেটির নাম অপু। সে একজন লেখকও বটে। বিয়ের পর তাঁর লেখক পরিচয়টি জানতে পারে শায়লা। একদিন অপুর একটি বই পড়তে গিয়ে খটকায় পড়ে সে। বইয়ের উৎসর্গ পেইজে দেখতে পায়, “উৎসর্গ আমার প্রিয় তমা কে”। শায়লা ভাবে তমা নামের মেয়েটি হয়ত অপুর প্রেমিকা। জেদ ধরে যায় শায়লার। ভাবে সেও প্রতিশোধ নিবে। লেখালেখি করে বই বের করবে। উৎসর্গ করবে অন্যান্য শাওন সুদিপ, নির্ঝর, কাজল, সজল, মানিক রতন নামের চেনা-অচেনা সব ছেলেদের। কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও কিছুতেই কোন লেখা শুরু করতে পারে না। অবশেষে বাধ্য হয়ে অপুর কোন একটি বই থেকে লেখা শুরু করার আইডিয়া নিতে যায় শায়লা। সেই বইয়ের উৎসর্গ পেইজটি দেখে ও চমকে উঠে এবং এই উৎসর্গ পাতার মধ্য দিয়েই অবশেষে সমস্ত ভুল ভাঙ্গে তাঁর।

[কাহিনী গুরুগম্ভীর মনে হলেও সমস্ত ব্যাপারটাই মজার। মজা করে উপস্থাপন করতে হবে]

 

চরিত্রঃ

১।নায়ক-অপু

২।নায়িকা-শায়লা

৩।নায়িকার বাবা

৪।মা

৫।ভাই-রাজু

৬।প্রকাশক

 

শুরু

 

দৃশ্য ১:

রাস্তায় বাজারের ব্যাগ হাতে শায়লা (বাজার থেকে বাড়ি ফেরার দৃশ্য)

সকাল।

শায়লা বাজার করে বাড়ি ফিরছে। এক হাতে বাজার ভর্তি ব্যাগ। অন্যহাতে এক দিস্তা হোয়াইট প্রিন্টের কাগজ, সাথে এক প্যাকেট কলম। [কাগজ কলমের ওপর বেশি ফোকাস থাকবে]

শায়লা চোখ মুখ শক্ত করে হাটছে। একটি ফ্লাশ ব্যাকে গত রাতের ঘটনা দেখানো হবে।

 

দৃশ্য ২:

গতরাতের ঘটনাঃ ফ্লাশ ব্যাক (অপুর রুমে শায়লা, আনন্দের সাথে বই গোছাতে ব্যাস্ত)

অপুর লেখালেখি করার ঘরে বই গোছাতে গিয়ে একটা বই হাতে নেয় শায়লা।পাতা উলটিয়ে চোখ যায় বইয়ের উত্স র্গ পেইজটার দিকে। পেইজে লেখা “উত্সশর্গ আমার প্রিয় তমাকে” [প্রিয় তমা এর মাঝে স্পেস থাকবে] ভ্রু কুচকে যায় ওর।

শায়লা “উত্সথর্গ, আমার প্রিয় তমাকে” কথাটি দুবার উচ্চারন করে। (প্রথম উচ্চারণ নরমালি, দ্বিতীয় উচ্চারণ বিস্ময়ের সাথে।)

[ফ্লাশের মাধ্যমে গতরাতের ঘটনা দু’বার দেখানো যেতে পারে ডায়লগসহ]

 

দৃশ্য ৩:

বাড়ি পৌছানোর পরের দৃশ্য (বাড়ি। দরজা খুলে শায়লা ভিতরে ঢুকবে)

দ্রুত বাজারের ব্যাগটা রেখে বেডরুমের দিকে আসবে শায়লা। হাতে একটি কাগজ ফেলার ঝুড়ি। আসার পথে অন্য একটি রুমের (অপুর লেখালেখি করার রুম) আধভেজা দরজার সামনে কিছুক্ষন দাড়াবে। ভিতরে দেখা যাবে একটা টেবিল ভর্তি বই পত্র, খাতা-কলম অগোছালো হয়ে পড়ে আছে। শায়লা পাত্তা না দেওয়ার ভান করে চলে যাবে।

 

দৃশ্য ৪: আয়নার সামনে শায়লা (বেডরুমের আয়না)

বেডরুমে আয়নার সামনে দাড়িয়ে আটসাট করে চুল বাঁধছে শায়লা। [সাধারনত কোন কাজ করার আগে চুল বেঁধে ফিটফাট হয়ে নেওয়াটাকে বোঝাতেই এই দৃশ্য]

 

চুল বেধে কিছুক্ষন নিজেকে আয়নায় দেখছে। একটু পর অভিযোগের সুরে বলে, “সব বাবার দোষ!” তাঁর কিছুক্ষন পর বাবাকে নকল করার মত করে একটা ডায়লগ দেয়, “বাবা অপু। তুমি তো অনেক ভাল ছাত্র ছিলে। মাঝে মাঝে বাড়ি এসে যদি আমার মেয়েটাকে একটু পড়া দেখিয়ে দিতে…।” কাট

কাগজ ফেলার ঝুড়িটা একপাশে রেখে খাটের পাশে মাটিতে বসে। খাতা কলম থাকবে খাটের ওপর [আয়োজন করে লেখালেখি করতে বসার প্রস্তুতি]। একটা সাদা কাগজ মুচরে সই করে ঝুড়িতে ফেলার চেষ্টা করবে। কিন্তু ঝুড়িতে কাগজ পড়বে না। কলমটা হাতে নিয়ে কিছু একটা লেখার চেষ্টা করবে।

[ফ্লাশ ব্যাক দৃশ্য দেখানো হবে]

 

দৃশ্য ৫ (অপু শায়লাকে পড়াচ্ছেঃ ফ্লাশ ব্যাক)

শায়লা ও অপু টেবিলে বসে আছে। অপু শায়লাকে পড়া বোঝাচ্ছে। কিন্তু শায়লা অপুর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।

অপুঃ বুঝতে পারছো?

শায়লাঃ পেরেছি।

অপুঃ আমাকে বোঝাও তো দেখি।

শায়লাঃ কেন? আপনি বোঝেন না? (অন্যকিছু মিন করার সুরে বলবে) অপু কথার মানে বুঝতে পেরে চুপ করে থেকে বইয়ের দিকে তাকাবে।

শায়লাঃ আপনি কিছু বলছেন না কেন?

অপুঃ কি বলব?

শায়লাঃ আমি আপনাকে ভালবাসি।

(অপু চুপ করে থাকবে)

শায়লাঃ আপনি আমাকে কিছুই বলবেন না?

অপু ফ্যালফ্যাল করে শায়লার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে আছে, কিছু বলছে না।

শায়লার কান্না পাচ্ছে। দৌড়ে সে অন্য ঘরে চলে যায়। অন্যঘরে যাওয়ার পথে শায়লার মাকে দেখা যাবে। তিনি অবাক হয়ে মেয়ের চলে যাওয়া দেখবেন। শায়লা দরজা লক করে দিলে মা দ্রুত গিয়ে দরজা ধাক্কায়।

মাঃ শায়লা, কি হল? দরজা খোল। কি হল শায়লা দরজা খোল।

 

মা এর চেঁচামেচি শুনে শায়লার ছোট ভাই ও বাবা (বাবা একটা জামা পড়তে পরতে) চলে আসবে। বাবা অস্থির হয়ে মাকে জিজ্ঞেস করছে-

বাবাঃ কি হল? কি হল?

মাঃ শায়লা দরজা বন্ধ করে রেখেছে। ও ঘরে অপুর সাথে কথা হচ্ছিল আর মেয়ে দৌড়ে এসে দরজা বন্ধ করেছে। কিছুই বুঝতে পারছি না।

[ততক্ষনে অপু কিছুটা দুরত্ব রেখে সবার পেছনে এসে দাড়ায়]

মায়ের কথা শুনে বাবা অবাক ও চিন্তা মিশ্রিত দৃষ্টি নিয়ে অপুর দিকে ফিরে।

 

ধীরে ধীরে সবাইকে পাশ কাটিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যাবে অপু। দরজায় হালকা ধাক্কা লাগিয়ে শুধু একবার বলবে “শায়লা দরজা খোলো।”

কয়েক সেকেন্ড পর ছিটকিনি খোলার শব্দ হবে। শায়লা দরজা খুলে অপুর সামনে দাড়াবে। কাট।

 

দৃশ্য ৬: (বিয়ের পর শায়লাকে নিয়ে অপু নিজের বাসায় এসেছে)

ঘর ভর্তি বই দেখে শায়লা অবাক হয়। বেশকিছু বইয়ের ওপর অপুর নাম। [অপুর একটা ফরমাল নাম থাকবে]

 

শায়লাঃ তুমি যে লেখালেখি করো তা আগে বলো নি তো।

অপুঃ বলার মত কিছু না।

শায়লাঃ এই সব গুলো বই তোমার লেখা? (কথার মাঝে বিস্ময় থাকবে)

অপুঃ বেশকিছু।

শায়লাঃ কি লেখো তুমি?

অপুঃ গল্প, উপন্যাস এসব। তুমি পড়ে টড়ে দেইখো। বুঝবা।

শায়লা খুশি হয়। [ফ্লাশ দৃশ্য শেষ]

 

 

দৃশ্য ৭: শায়লার ঘর (বেডরুম)

শায়লা আরো একটা কাগজ মুচরে ঝুড়িতে ফেলার চেষ্টা করছে। এটাও ব্যার্থ হল। মন খারাপ করে শায়লা। এমন সময় ফোন বেজে উঠল।

(ফোনের ওপাশের কাউকে দেখানো হবে না শুধু ডায়লগ শোনা যাবে)

 

শায়লাঃ হ্যালো মা

মাঃ হ্যা মা, ভালো আছিস?

শায়লাঃ আমি ভালো আছি।

মাঃ অপু কেমন আছে?

(শায়লা চুপ)

মাঃ অপু কোথায় রে? অফিসে?

শায়লা কথা কাটিয়ে বলবে-

মা আমি তোমাদের বাসায় কিছুদিন থাকব। রাজুকে একটু পাঠিয়ে দিও তো। [কিছুক্ষন হালকা অস্পষ্ট আরো কিছু কথা হবে] শায়লা ফোন রেখে দিবে। কাট

 

দৃশ্য ৮: (ঘরে পায়চারীরত শায়লা)

কলম হাতে ঘরে পায়চারী করছে শায়লা। লেখা নিয়ে চিন্তা করছে। আবারও গত রাতের ঘটনা প্রথম দৃশ্যের শেষ অংশটুকু ফ্লাশ করে দেখানো হবে। শায়লা ভ্রু কুচকে বলবে, “তমা কে? অপুর প্রেমিকা? আমি কি তাহলে তমা আর অপুর মাঝে বাঁধা হয়ে এসেছি?”

ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে কলম দিয়ে দেয়ালে খোঁচাখুচি করবে।

 

ফ্লাশ দিয়ে পরপর ৯ ও ১০ দুটি দৃশ্য দেখানো হবেঃ

দৃশ্য ৯ : ড্রয়িং রুমে প্রকাশক ও অপু

ড্রইং রুমে বসে প্রকাশকের সাথে অপু কথা বলছে। অন্য ঘর থেকে শায়লা আবছা আবছা কথা শুনবে এবং দরজায় দাড়িয়ে দুজনকে দেখবে। শায়লার চোখে মুখে আনন্দ। কাট।

 

দৃশ্য ১০ : বাড়ির সামনে চিঠির বাক্স।

বাড়ির চিঠির বাক্স থেকে শায়লা অনেকগুলো চিঠি নিবে।অপুর ভক্তদের চিঠি। শায়লা মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে অপুর কাছে চিঠিগুলো নিয়ে আসবে। অপু একটা পান্ডলিপি শেষ করা নিয়ে ব্যাস্ত থাকবে।

শায়লাঃ তোমার ভক্তদের চিঠি।

(অপু তেমন আগ্রহ দেখাবে না)

শায়লা কয়েকটা চিঠি খুলবে। দু এক লাইন পড়ে শোনাবে অপুকে। একটা প্রেমপত্রও পাবে। ওটা পড়ে শোনাতে শোনাতে শায়লা হেসে গড়িয়ে পড়বে। শায়লার হাসি দেখে অপুও হেসে ফেলবে।কাট। [ফ্লাশ দৃশ্য শেষ]

 

দৃশ্য ১১ : লেখালেখির চেষ্টা করার জায়গা।

কাগজ নিয়ে বসে কলমের মাথা কামড়াতে থাকবে শায়লা। কলম কামড়ানোর ফাঁকে শায়লার কিছু ডায়লগ-

 

“হুহ! অন্যমেয়েকে উত্সকর্গ করে বই লেখো? তমা-কমা কে উত্সয়র্গ করো? আমিও লেখব। উত্সার্গ করব শাওন, সুদীপ, নির্ঝর, কাজল, সজল, মানিক রতন সবাইকে। তোমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে অন্য ছেলেদের উত্সহর্গ করে আমি বই লিখব।”

এই বলে শায়লা একটা কাগজ মুচরে বাক্সে ফেলার জন্য ছুড়ে মারবে। এবারও কাগজটা ঝুড়িতে পড়বে না। শায়লা আবারও মন খারাপ করবে।কাট।

 

দৃশ্য ১২ :

বেশ কিছুক্ষন লেখালেখির চেষ্টার দৃশ্য (কাগজ মুচরানো এবং ছোড়ার দৃশ্যও থাকতে পারে) দেখানো হবে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে হতাশ হবে শায়লা।

হতাশ শায়লার ডায়লগ-

“কিভাবে লিখব? কি লিখব? শুরুটা কিভাবে হবে? এই বলে আরেকটা কাগজ মুচরে ঝুড়িতে ছুড়তেই এই প্রথম একটা কাগজ ঝুড়িতে গিয়ে পড়বে। সাথে সাথে শায়লা খুশি হয়ে উঠবে।”

ওর মাথায় একটা আইডিয়া আসবে। অপুর বই খুলে কোনো লেখা কিভাবে শুরু করতে হয় তার ধারনা নেওয়ার সীধান্ত নেয়। নিজের কাছেই নিজে চোরের মত করে হাতের কাছেই পড়ে থাকা অপুর একটা বই খুলে। দ্রুত হাতে নিয়ে বইটা খুলতেই প্রথমে চোখে পড়ে “উত্স র্গ আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে”! শায়লা তাচ্ছিল্য করে বলবে “উহ ঢং”

তত্ক্ষকনাতই ওর মনে পড়বে কি দেখাছিল সে গতরাতে? ফ্লাশে আবার সেই দৃশ্য। দৌড়ে অপুর ঘরে যায়। বইটা খুজে। কিছুক্ষন বই ওলট পালট করে খোঁজার পর পায়। উত্সঅর্গ পাতাটা খুঁজে। উত্তেজনায় পাতা উলটে যায়, খুজে পেতে একটু সময় লাগে। পাতাটি পেয়ে পড়ে “উত্স‍র্গ আমার প্রিয়তমা কে” (স্পেসটা থাকবে না) গতরাতের দৃশ্য (ফ্লাশ ১ এর শেষের দৃশ্য) আগের দৃশ্য আর এই দৃশ্য পরপর কয়েকবার দেখাবে। শায়লার মুখ দিয়ে অবিশ্বাসের সুরে একটা ডায়লগ আসবে “স্পেসটা গেল কই?” কিছুক্ষন পর বলে, “ভুল দেখেছিলাম তাহলে?” (নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারে না এমন হতবাক হওয়ার মত করে ডায়লগ দেয়) আবারও বইটা উলটে পালটে দেখে বলে, “ওমা! এ যে আমাকে নিয়েই লেখা বই!” (ডায়লগটি কিছুটা অবিশ্বাস আর কিছুটা আনন্দ মিশ্রিত হবে)।

সাথে সাথেই কলবেল বাজার শব্দ হয়। অপু এসেছে। শায়লা বই থেকে মুখ তুলে তাকায়। খুশি হয়ে যায়। দ্রুত বেডরুমে যেয়ে কাগজ কলম নিয়ে রুম থেকে একবার বের হবে। তারপর আবার রুমে ঢুকে কাগজ ফেলার ঝুড়িতে কাগজ কলম সব ফেলে দেয়। এরমধ্যে কয়েকবার বেল বাজে। শায়লা দ্রুত দরজা খুলতে যায়।

 

(সমাপ্ত)

 

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ

১। বাড়ি মানে বাড়ি নয়, একটি ছিমছাম বাসা।

২। কিছু কিছু মুভমেন্ট মজার করে উপস্থাপন করতে হবে।

৩। ডায়লগ প্রাণবন্ত স্বাভাবিক হতে হবে। প্রানবন্ত করতে দু চারটা ছোট ছোট শব্দ স্বভাবত চলে আসলে, গ্রান্টেড।

৪। বাকিসব ডিরেক্টরের ইচ্ছা 😀

 

 

 

(Visited 48 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আগেরবার কি কমেন্ট দিয়েছিলাম মনে নেই। তবে, আবার পড়ে আবারও ভালো লাগল। 🙂

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন