ঈদের নাটকের পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট!!

এই ঈদে টিভি খুল্লেই একটা চেহাড়াই সবার নজরে পড়ছে। প্রতিটা চ্যানেলে এই মুখ দেখে দেখে অনেকেই বিরক্ত (আমি সহ)। বেচাড়া হয়ত অভিনয় ভাল করে, কিন্তু তাঁর কিছু স্পেশাল নেকামী কারোরই ভাল লাগার কথা না। আর কেন জানি তাঁর সাথে অভিনয় করতে গিয়ে তাঁর সহ শিল্পীরাও ন্যাকা ন্যাকা হয়ে যায়। বলছি আর কারো কথা নয় টিভি অভিনেতা ‘সজল’ এর কথা। এই পাঁচ দিন মনে হয়েছে টেলিভিশনে বুঝি “সজল ফিচারিং ঈদের অনুষ্ঠান” হচ্ছে। কোন নাটকের কোন কাহিনী নাই। ইচ্ছামত নায়ক আর নায়িকাকে দিয়ে আজাইরা ভালবাসাবাসি দেখিয়ে দিলেই হল? সজল অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- অতঃপর এক সন্ধ্যায়, জনি আঙ্কেল, কালার অব লাইফ, কেমিস্ট্র, ফুচকা, রাঁধা তুমি কার, হারানো মেঘের উপাখ্যান, মিঃ লুডু মিস দাবা। আবার তাঁর একটা নাটকে দেখছি হিন্দী ছবির গানের সাথে নাচ।

প্রথমেই ক্যাচাল দিয়ে শুরু করেছি। এবার একটু ভাল কথায় আসি। প্রতি ঈদের মত এই ঈদেও বাংলা ভিশনে প্রচারিত হল ঈদের নাটক “আরমান ভাই কইয়া পারছে” এর সিক্যুয়াল “আরমান ভাই হানিমুনে”। নাটকটি বরাবরে মত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ঢাকাইয়া আঞ্চলিক ভাষায় তৈরি এই নাটকে আরমান ভাই ভূমিকায় অভিনয় করেছে হাস্যরসিক জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান, সহশিল্পী হিসেবে ছিল তিশা। তাছাড়া কয়েক পর্ব পরে নাটকে ইন করে আরো দুই চরিত্র সারিকা ও নাঈম। ক্যচাল এবার আরমান দম্পতির সাথে এই দুজনের। এবারের কাহিনী ঢাকার বাইরে কক্সবাজারে ফিয়ে থেমেছে। নাটকটি ভাল হয়েছে। ভাল না হলে সিক্যুয়াল চলে এদ্দিন! 🙂 জাহিদ হাসানের অন্যন্য নাটকের মধ্যে ছিলট- বিয়েটা আমার খুব দরকার, চিঠি, কী ব্যাপর নীলিমা কাঁদছে কেন। প্রতিটি নাটকই বেশ মজার। বিয়েটা আমার খুব দরকার এর বিস্তারিত এখানে 

ঈদে জমজমাট দর্শক ছিল সালাহউদ্দিন লাভলুর নাটকে। তাঁর নাটকের সাথে পরিচয় থাকলে এতক্ষনে নিশ্চই বুঝে গেছেন সালাহউদ্দিন লাভলুর নাটক কি রকম হতে পারে। অত্যাধিক মজা ও হাসির পাশাপাশি একটা করে মেসেজ থাকে। এই ঈদে সালাহউদ্দিন লাভলুর ছয় পর্বের নাটক ‘মায়া’ শেষ পর্যন্ত দর্শক ধরে রেখেছে। এছাড়াও ছিল টেলিফিল্ম “নিক্তি”, “জাগতী”। এছাড়া টেলিফিল্ম ‘রঙ্গীলা’ তে তিনি নিজে অভিনয় করেছেন, সহ শিল্পী ছিলেন তিশা।

এই ঈদে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাটক ছিল “মনসুবা জংশন”। এই নাটকের প্রচারনা দর্শককে আকৃষ্ট করেছে এবং দ্রুত কাজকর্ম সেড়ে টিভির সামনে বসিয়েছে। নাটকটি নিয়ে সকলের প্রত্যাশা ছিল অনেক হাই এবং নাটকটি সেটা পূরন করতে পেরেছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। মনসুবার বিস্তারিত এখানে  । প্রতিবার তাহসান ঈদের জন্য এক থেকে দুটি নাটক করে থাকেন এবং বরাবরই তাঁর নাটক জনপ্রিয়তা পায়। ফেসবুক জগৎ নিয়ে তাহসানের কেমন আগ্রহ জানি না, তবে তাঁর প্রতিটি নাটকে ফেসবুক থাকবেই। গত ঈদে তাহসান-মিথিলা দম্পতির “সময় চুরি” নাটকটির পর এই ঈদেও আশা ছিল এই দম্পতির আরো একটি নাটক পাব। কিন্তু মিথিলা ছাড়াও তাহসান জয় করেছে অনেক কিছু! একসাথে চারজন অভিনেত্রী নিয়ে এক নাটকে অভিনয় করতে দেখে গেছে তাঁকে। “রিভিশন” নাটকটিতে তাহসানের সাথে ছিল মোনালিসা, সুষমা, ফারিয়া, অহনা। রিভিশন নাটকের বিস্তারিত এখানে  তাহসানের নাটকে ‘ফারিয়া’ নামটা ভীষন কমন। “আমাদের গল্প” তেও ছিল, “মন-ফরিং্যের গল্প”, “সময় চুরি”, “রিভিশন” এও ছিল! জিজ্ঞেস করতে মন চায় এর কারন কি? :p

নাটকে সবসময়ই থাকে তিশার জয়জয়কার। এবারো তাঁর ভিন্নতা ঘটে নি। তিশার সবসময়কার ঈদের নাটক “আরমান ভাই” সিক্যুয়ালে চমৎকার অভিনয় করেছে। এছাড়াও তাঁর অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে ছিল মনসুবা জংশন, লোকটি বউকে বড়ো ভালোবাসত, অর্থাৎ, আঁধারে আলো। “অর্থাৎ” নাটকে একজন অন্ধ নৃত্যশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করেছে তিশা। সহশিল্পী ছিল নিশো। এধরনের চ্যালেঞ্জিং নাটক বাংলাদেশে খুব কম দেখা যায়।

ঈদে হুমায়ুন আহমেদের একক নাটক “গুড়া মরিচ পার্টি” তে অভিনয় করে ফারুক আহমেদ, মীর সাব্বির, স্বাধীন খসরু, যুথী। তিন বেকার যুবকের কাহিনী নিয়ে তৈরি এই নাটক বেশ কিছু হাস্য রসের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। এছাড়া এবার ঈদে হুমায়ুন আহমেদের সর্বশেষ চলচ্চিত্র “ঘেটুপুত্র কমলা” প্রচারিত হয় চ্যানেল নাইনে। বিপুল পরিমান দররশকের আকাঙ্গিত এই সিনেমার বিস্তারিত মতামত এখানে

এবার বড় পর্দার মুখগুলোকে ছোট পর্দায়ও দেখা গেছে। এই ঈদের বিশেষ নাটোকে অভিনয় করেছে বড় পর্দার পরিচিত মুখ মৌসুমি। এবার ঈদে “অতঃপর এক সন্ধ্যায়” ও “ক্যমারাওয়ালা” নাটকে মৌসুমিকে দেখা যায়। “ক্যামারাওয়ালা” নাটকে তিনি বড় পর্দার এক্টিং ছোট পর্দায় দেখাইছে। একটা গান ছিল “মুন্নী বদনাম হয়ে গেছে”! গানটা দেখে টাস্কি খেয়েছি তিনবার। নাটকটিতে ফিল্মের নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছে মৌসুমি।

এছাড়া নায়িকা নিপুনকেও অভিনয়ে দেখা গেছে। মোশাররফ করিমের বিপরীতে নাটক “অফ দি ফুটবল, ফর দি ফুটবল, বাই দি ফুটবল” এ অভিনয় করেছে নিপুন। হাসির এই নাটকটিতে দম আটকানো হাসি আসে একেবারে শেষের দৃশ্যে। আমিরুল (মোশাররফ করিম) হাতেম আলী ক্লাব ফুটবল দলের অধিনায়ক। জীবনে কখনো হাতেম আলী ক্লাব গোল দিতে পারে নি। তাদের গোল খয়ার সংখ্যা ২৫১৭ টি। একের পর এক দলের সাথে হেরে নাটকের শেষ দৃশ্যে বিপক্ষ দলের হাতে পায়ে ধরে আমির একটা গোল করার অনুরোধ করে। এত অনুরোধে আবেগের বশবর্তী হয়ে বিপক্ষ দল আমিরক্র গোল করার জন্য পুরো মাঠ ছেঁড়ে দেয়। এমনকি গোল্কিপার বলে, “ভাই আমি সরে যাচ্ছি আপনি আরাম করে গোল দেন” (এই ডায়লগ টা আমার কাছে চরম লাগছে)। কিন্তু বেচাড়া আমিরুল সব কিছু ফাকা পেয়ে এমন একটা কিক করল বল একেবারে গোল পোষ্ট থেকে পাঁচ হাত দূর দিয়ে গেছে। শেষ গোল্টাও করতে পারল না হাতেম আলী ক্লাব।

ঈদের নাটক ‘মাস্টার জামাই’ এ অভিনয় করেছেন নায়ক রাজের পুত্র বাপ্পারাজ। নাটকটি পরিচালনা করেছে নায়ক রাজ রাজ্জাক। নায়িকা পূর্নিমা ঈদের নাটক অভিনয় করেছেন ইমনের বিপরীতে। নাটকটির কাহিনী চিরাচরিত বাংলা সিনেমার কাহিনী। একসময় অপকার করে পরে সেটার প্রশ্চিত্ত করে নিজের রক্ত কিংবা কিডনী দিয়ে, এখানে ইমন প্রাশ্চিত্য করেছে এসিড দগ্ধ পূর্নিমাকে চিকিৎসা করে। যা পূর্নিমা জানত না। জানতে পেরে তাঁর এতদিনের ক্ষোভ নেমে যায়। তবে পূর্নিমা যদি তাঁর সিনেমাকালিন অভিনয়ও এর একাংশও করত তবে নাটকটা আরো ভাল হতে পারত। এখানে পূর্নীমার অভিনয় খুব বাজে হয়েছে সাথে ইমনেরও (নাটকটির নাম আমি ভুলে গেছি)। দেশ বিদেশে অভিনয় করেও নাটক্টা একটু জাতে আনতে পারেন নি তারা। ‘সেই মেয়েটি একা’ নাটকে অভিনয় করেছে বড় পর্দার মুখ আলীরাজ।

এছাড়াও আরো হাবিজাবি অনেক নাটক আধাআধি দেখছি। সবগুলার কথা মনে নাই। তাঁর মধ্যে আছে “কবি হইতে সাবধান”, “ঘর ভর্তী ক্যারাক্টার” অন্যতম। সর্বপরী এইটা সত্য বাংলাদেশের টিভি নাটক অনেক অনেক অনেক এগিয়ে গেছে।  🙂

এই ঈদে টিভি অনুষ্ঠান কেমন লাগল তাঁর কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরলাম। কোনটা নাটক, কোনটা টেলিফিল্ম গুলিয়ে ফেলছি। নিজ দ্বায়িত্বে বুঝে নিবেন। :p

(Visited 101 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন