2001 : A Space Odessy রিভিউ ও আলোচনা

2001 : A Space Odyssey (1968)

Directed by Stanely Kubrick

Plot (নো স্পয়লার): বিবর্তনবাদ অনুসারে বিবর্তনের মাধ্যমে এপরা (Apes : বনমানুষ) মানুষে পরিণত হয় । কিন্তু মানুষের আবির্ভাবের অনেক আগে এপরা যখন কেবলই বন্য পশু, তখন তারা একটা রহস্যময় বস্তু দেখতে পায় । কি সেই বস্তু? কে বানিয়েছে ওটা? কোথা থেকে এলো? কেন এলো? রহস্যের শুরু এখানেই… যদি একবার ভাল লেগে যায়, কসম, রহস্যে দম বন্ধ হয়ে আসবে । আমি তো কি হচ্ছে বুঝার জন্য অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম । বারবার মনে হচ্ছিল পুরো ছবি টেনে দিয়ে শেষ টুকু দেখি…কিন্তু…. ।

2001 দেখে ফেলেছেন? বোরিং লেগেছে? তাহলে আপনি এই পোস্টের নিচে স্পয়লার অংশে চলে যান । দেখি আপনার ধারনা বদলাতে পারি কিনা ।

2001 দেখেন নি? আমাদের জেনারেশনের জন্য মুভিটা সত্যিই খুব ধীর গতির । তবু কষ্ট করে, ২ ঘন্টা ব্যয় করে, খুব বোরিং লাগলে দরকার পড়লে লম্বা শটগুলো কেটে কেটে দেখে ফেলুন Stanely Kubrick এর এই অসাধারণ সাই-ফাই মাস্টারপিসটি । যদি একবার মুভিটির প্রেমে পড়ে যান তাহলে বুঝতে পারবেন কেন প্রায় সবগুলো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট এই মুভিটি তাদের সাই-ফাই টপ লিস্টে “১ নম্বর” অবস্থানে রাখে ।
মূল আলোচনায় যাবার আগে একটা কথা না বললেই নয়, তা হল এই মুভির ভিজুয়াল ইফেক্টস ও সাউন্ড । পুরো মুভি জুড়ে, অবিশ্বাস্য ভিজুয়ালের সাথে মুভিটির সাউন্ড সমানে সমানে পাল্লা দিয়েছে আর আপনি যদি সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর পাগল হন তাহলে এই মুভি আপনার জন্য মাস্টের উপরে মাস্ট ওয়াচ ।

এবার মূল আলোচনা : [মুভিটি দেখা না থাকলে, না পড়াই শ্রেয় । আর যদি এমন হয় অর্ধেক দেখে বাকিটা দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ,তাহলে আপনার জন্যই এই লেখা ।]

অবশ্যই মুভিটি বিখ্যাত ও আলোচিত এর অসাধারণ ভিজুয়াল ইফেক্টসের জন্য, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আলোচিত হয়েছে এর অন্তর্নিহিত ভাবের জন্য । এই মুভি শুধু চোঁখ ধাঁধানোর জন্য বানানো হয় নি, এটি তৈরি হয়েছে আপনার চিন্তার জগতকে সীমাহীন করতে । এ প্রসঙ্গে, মুভিটির রাইটার স্যার আর্থার ক্লার্ক বলেছেন – “কেও যদি মুভিটি পুরোপুরি বুঝতে পারে, তাহলে আমরা (তিনি আর স্ট্যানলি কুব্রিক) ব্যর্থ ।” তাই যারা মুভি দেখার সময় মাথা খাটাতে পছন্দ করেন তাদের জন্য পারফেক্ট উপরে পারফেক্ট একটি মুভি ।

এখন, মুভির ফিলোসফিক্যাল দিকে যাবো, ভাবার্থ তুলে ধরার চেষ্টা করব ।পূর্বেই বলে নেই, ব্যক্তিভেদে এই মুভির ব্যাখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে । আর নিম্নোক্ত ব্যাখ্যাতে আমার ব্যাক্তিগত ধারনা তো যুক্ত থাকবেই, সাথে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ব্যাখ্যার অংশবিশেষের অনুপ্রেরণাও থাকবে ।

[[[[মেজর স্পয়লার এলার্ট!!!]]]]

রহস্য, এরকম রহম্যময় মুভি খুব কমই আছে । প্রথম দিক থেকেই, কালো চারকোণা বস্তুটি তথা মনোলিথ এর রহস্য জানার জন্য দর্শকদের তর সয় না । মুভিটা ধীর গতির কিন্তু এই ধীর গতিই উত্তেজনা আরো বারিয়ে দেয় । পরে কী হবে জানার অধীর আগ্রহ মুভি দেখার অভিজ্ঞতাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায় ।

১। মনোলিথটি কি?

মুভিতে মনোলিথটি মানুষের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত কোন জীবের তৈরি চারকোণা পাথর এবং পুরোটাই রূপকঅর্থে ব্যবহৃত । মুভির প্রথমে ও প্রথমার্ধ শেষে দেখবেন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশিক্ষণ স্ক্রীন #কালো হয়ে থাকে । তবে ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্ষীন একটা মিউজিক বাজতে থাকে । হ্যাঁ, মুভিতে যতবারই মনোলিথটি দৃশ্যমান হয়েছে ততবারই ওই মিউজিকটিই বেজেছে ।
এর অর্থ কী? এর অর্থ হল, মনোলিথ দেখেই আমরা মুভির প্রথমার্ধ শুরু করি এবং মনোলিথ দেখেই মুভির দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করি । সিনেমা হলের পর্দা, আপনার কম্পিউটার স্ক্রিন, আমার মোবাইল স্ক্রীন সবই এখানে মনোলিথের প্রতিরূপ যা আমাদের চিন্তাভাবনাকে বহুদূর নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় । (শেষ লাইনটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা ক্রমান্বয়ে পেয়ে যাবেন)

২। মনোলিথের কাজ কি?

মুভিতে, মানব ইতিহাসের বিবর্তনের অনুপ্রেরণা যোগায় এই রহস্যময় মনোলিথ । বুঝিয়ে দেয় যে, বিকাশ বা অভিযানের শেষ বলে কিছু নেই । আমাদের এখনও অনেক কিছু দেখার বাকি আছে, অনেক কিছু আবিষ্কার করার বাকি আছে ।
মনোলিথের ছোঁয়ায় এপদের বিবর্তনে মানবজাতির সৃষ্টি হয় । এরপর, মানুষ অনেক উন্নতি করে, এত উন্নতি যে মনে হয়, উন্নতির সর্বোচ্চ শিখর ছুঁলো বলে । কিন্তু তারপরই আবার দৃশ্যমান হয় মনোলিথ এবং মানুষ বুঝতে পারে, মহাবিশ্বে তারা একা নয়, আর বাকি যারা আছে তাদের তুলনায় মানুষ একেবারেই অনুন্নত । পরবর্তি উন্নতির পথে কেবল যেন পা রাখল মানুষ, মনোলিথ সৃষ্টিকারী সেই জীবের বা এর চেয়েও অচিন্তনীয় কিছুর খোঁজ পাওয়ার জন্য মানুষ নেমে পড়ে অভিযানে । মনোলিথ পথ দেখায় মানুষকে, জুপিটারে নিয়ে আসে নভোচারীর একটি দলকে, এরপর ‘ডেভ’ নামের এক নভোচারীকে স্টারগেটের মাধ্যমে নিয়ে যায় সৃষ্টিজগত ভ্রমণে, সৃষ্টিজগতের রহস্য দেখাতে, জ্ঞানের বিস্তৃতি দেখাতে ।

৩। হাল-৯০০০ কম্পিউটারের ব্যাপারে :

মুভিটির একটি হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য হল ডেভ কর্তৃক হালের ডিঅ্যাক্টিভেশন । এ সময় হাল ‘ডেইজি ডেইজি’ গান গায়, এই গানটির মাধ্যমেই বিজ্ঞানের ইতিহাসে মেশিন কর্তৃক ভয়েস সিন্থেসিজ উচ্চারণ প্রযুক্তি শুরু হয়, যা এখন সকলের অ্যান্ড্রয়েড, আইফোনে আছে । যেটা দিয়ে শুরু সেটা দিয়েই শেষ দেখালেন পরিচালক ।
অতি উন্নত কম্পিউটার হালের প্রতারক, স্বার্থান্বেষী চরিত্র যেন সৃষ্টিজগতে সর্বাপেক্ষা উন্নত মানবজাতিকেই প্রতিফলিত করে । আমরা এখন উন্নত কিন্তু আমাদের মানসিকতা উন্নত নয় । আর আমরা যখন প্রতারণা, মিথ্যার চরম পর্যায়ে চলে যাবো, কে জানে, তখন হয়তো, আমাদের অবস্থা হালের মতই হবে । উন্নতির শীর্ষে গিয়ে চরম অবনতি দেখতে হবে আমাদের ।

৪। ছবির শেষ দিকের সেই সাজানা গোছানো কক্ষটি প্রকৃতপক্ষে কী?

রুমটিকে কিছু ওয়েবসাইট মানুষের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত কোন এলিয়েন বা সত্ত্বার তৈরি চিড়িয়াখানার একটি খাঁচা জাতীয় কিছুর সাথে তুলনা করেছেন । সে যুক্তিও আছে, তবে সেদিকে যাব না ।
ডেভ যে কক্ষে নিজেকে আবিস্কার করে, খেয়াল করে দেখবেন সেই কক্ষে প্রবেশের জন্য কোন দরজা নাই । এখানে মনোলিথই কক্ষটির দরজা যা আমাদেরকে আবার বুঝিয়ে দেয় যে, দরজারূপী এই মনোলিথ চিন্তার বিকাশের একটা রূপক মাধ্যম , আমাদের চিন্তার দ্বার খুলে দেয়ার উপমা । আর ঐ কক্ষটি ডেভের জন্য গভীর চিন্তা ক্ষেত্র ।
একটু পরে দেখবেন ডেভের হাত থেকে #গ্লাস পড়ে ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য । পরিচালক সেই দৃশ্যটি কেন এত গুরুত্ব সহকারে দেখালেন? (ছবির বহুল আলোচিত একটি দৃশ্য)
গ্লাস পড়ে ভেঙে যাওয়ার আইডিয়াটি ছবির ডেভ চরিত্র রূপদানকারী Keir Dullea এর , তিনি দৃষ্টি বিছানার দিকে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে এই দৃশ্যটি সাজেস্ট করেছিলেন । তার একটি সাক্ষাৎকার আমি দেখেছি । সেখানে তিনি সেই দৃশ্যের দৃশ্যের কোন ভাবার্থ আছে কি না বলেন নি । তবে স্ট্যানলি কুব্রিক যেভাবে দৃশ্যটি উপস্থাপন করেছেন , আমার মত অনেকেরই উত্তর হল, গ্লাস ভেঙে যেমন পানি উন্মুক্ত হওয়া দেখানো হয়েছে তেমনি পরিচালক আমাদের ভাবনার পরিসীমাকে ভেঙে উন্মুক্ত ও স্বাধীন করে দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন ।

৫। কক্ষটিতে ডেভের বয়স :

ডেভের বিভিন্ন বয়স, মূলত জীবনের বিভিন্ন পর্যায় এবং পর্যায়গুলোর গভীর পর্যবেক্ষণেরই প্রতিরূপ । আর এরপর ডেভ যখন একটি অতিমানবীয় শিশুতে (স্টারচাইল্ডে) পরিণত হল, তখন যেন সে প্রস্তুত বিশ্বজগতকে নতুন ভাবে দেখার জন্য । আর পৃথিবীতে এই নতুনত্ব আনার জন্য সে মনোলিথের মাধ্যমে ভ্রমন করে চলে আসে আমাদের এই পৃথিবীর খুবই কাছাকাছি ।

সিনেমা এখানেই শেষ । অনেক ছোট ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কথা তবু না বলাই থেকে গেল । ওগুলো নিজেরাই আবিষ্কার করে নিবেন । ব্যক্তিগতভাবে আমি এই মুভির ডাই হার্ড ফ্যান, অসাধারণ ভিজুয়াল ইফেক্টস ও সাউন্ডের আকর্ষণে এবং গভীর ভাবের তাড়নায় চিন্তাভরা মাথা নিয়ে অনেক কয়েকবার দেখে ফেলেছি মুভিটি । আপনার কাছে সময় থাকলে, আরেকবার দেখতে বসে যেতে পারেন Stanely Kubrick এর এই ক্লাসিক মাস্টারপিসটি ।

(মোবাইলে লিখেছি, আশা করি, বানান ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)

2001: A Space Odyssey (1968)
2001: A Space Odyssey poster Rating: 8.3/10 (327,363 votes)
Director: Stanley Kubrick
Writer: Stanley Kubrick (screenplay), Arthur C. Clarke (screenplay)
Stars: Keir Dullea, Gary Lockwood, William Sylvester, Daniel Richter
Runtime: 160 min
Rated: G
Genre: Mystery, Sci-Fi
Released: 15 May 1968
Plot: Humanity finds a mysterious, obviously artificial, object buried beneath the Lunar surface and, with the intelligent computer H.A.L. 9000, sets off on a quest.

(Visited 357 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন