স্বপ্নজাল (২০১৮)- সপরিবারে দেখার মতই, কাহিনীচিত্রে সবার অভিনয় উপভোগ করার মতই নির্মল ছবি
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

এই প্রথম প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা অসম্পূর্ণ রেখেই উঠে আসতে হল! না, অন্য কোন কারণে নয়, লেভেল ৮ এ অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ায় শেষ কয়েক মিনিট না দেখিয়েই শো বন্ধ করে দেয়া হল- আর স্টার সিনেপ্লেক্সের সব দর্শককে ইমারজেন্সি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসতে হল। তাই সমাপ্তি না দেখতে পারার অতৃপ্তি বাদ দিয়ে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে যা মনে হচ্ছে-
যা লাগে নি ভালো- পুরো সিনেমা জুড়ে কেমন দুঃখের ভাইব- দেখে দুঃখ- মনমরা ভাব লাগবেই! তাছাড়া যদিও পরিচালকের বয়ানমতে, বাস্তবে ঘটা সম্ভব নয় কিন্তু এমন একটি কাহিনী বাস্তবে হলে কেমন হত-তাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘স্বপ্নজাল’-এ,তারপরও পর্দায় এর বাস্তবায়ন দেখে মনে মনে বাস্তবের সাথে যোগসূত্র খুঁজতেই হয় আর তখনি মনে হয়-এ যেন নব্বইয়ের দশকের প্রেক্ষাপটে এ যুগের পাত্রপাত্রীদের চিত্রায়ন- কথাবার্তা থেকে শুরু করে কারো কারো পোশাক-পরিচ্ছদেও তার স্পষ্ট ছাপ ছিল! আর কাঁটাতারের বেড়া পারাপারের পথ কখনো মনে হয় দুর্গম অার কখনো এত সহজতর-এটাও বাস্তবধর্মী কল্পনার সাথেও সাংঘর্ষিক।
যা ছিল ভালো- চাঁদপুর থেকে কলকাতা- পুরো চিত্রায়নে প্রকৃতি অার পারিপার্শ্বিক অনুষঙ্গের ব্যবহার ছিল বেশ ভালো। অার অনবদ্য ছিল দুই খলনায়ক-মুখ্য ভূমিকায় ফজলুর রহমান ও পার্শ্বে ইরেশ যাকেরের অভিনয়- সত্যিকারের জাত অভিনেতার পরিচয় দিয়েছেন তারা।এক্ষেত্রে কাহিনীও ছিল তাদের সহায়-মানবিক দোষগুণ প্রকাশের সুযোগ দিয়েছে- আর সে সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে একদিকে ভয়ার্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, অন্যদিকে হাস্যরস উপহার দিয়েও দর্শকমন মাত করেছেন খলনায়কদ্বয়। বাদবাকি পার্শ্ব চরিত্রগুলোতে দুই বাংলার অভিনেতারা সর্বোপরি যথাযথ অভিনয়ই করেছেন।
আর নায়ক চরিত্রে- নবাগত ইয়াশ রোহান- যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন, তার চরিত্রের দাবি পূরণ করে উতরে গেছেন বলেই মনে হল। আর পরীমনির কথা তো আলাদা করে বলতেই হয়- উন্নতির আরো জায়গা আছে অবশ্যই, তারপরও শুভ্রা চরিত্রের সাথে ভালোই একাত্ম হয়ে গেছেন তিনি- তার প্রথম দিকের ছবির অসহ্যকর ঢং-ন্যাকামির সাথে আকাশপাতাল তফাতই! এ কৃতিত্বের অনেকটাই পরিচালক সেলিমের, নায়িকাকে চরিত্রের গভীরে নিয়ে যেতে পেরেছেন,অাবার পরিমনীর নিজেরও নি:সন্দেহে- কারণ, বিশেষত বর্তমান সময়ে-দেশের অনেক মূলধারার নায়িকাই কাহিনীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্রে এসে নিজের সাদাসিধে চরিত্রটিকে এরকম নিরেটভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন-ই না! এরপর থেকে-তিনি দরকারে জয়া আহসানের মত কলকাতার বিকল্প ধারায় অভিনয় করুন, কিন্তু শুধু অর্থের মোহে ওসব দেহায়ব দেখানো রুচিহীন সিনেমায় অার কক্ষনো নয়-সে প্রত্যাশা অবশ্যই থাকবে। অভিনয়ে অারো মনোযোগী হয়ে বহুদূর যাওয়ার সামর্থ্য অাছে তার , শুভ্রা চরিত্রটি তার বড় প্রমাণ হয়ে থাকবে!
এ ছবির গান নিয়ে সমালোচনা শুনেছি, তবে দেখে মনে হল- এই কাহিনী তেমন গানের বাহুল্য ডিমান্ড করে না! তবে আবহসঙ্গীত আরেকটু হৃদয়গ্রাহী হতে পারত। অার ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট দীর্ঘ ছবির কাহিনী মাঝপথে ঝুলে যায় কি না সে অাশংকাও ছিল, তবে যদ্দুর দেখলাম- শুধু বাঁধনহারা প্রেমের গল্প তো নয়,তাই নানা ক্লাইম্যাক্সের উত্থানপতনে প্রায়সময়ই মনোযোগ কেন্দ্রীভূত ছিল।
সব মিলিয়ে, ইউটিউবে গানের অংশবিশেষ দেখে পূর্বে সংশয় জাগলেও সপরিবারে দেখার মতই, কাহিনীচিত্রে সবার অভিনয় উপভোগ করার মতই একটি নির্মল ছবি- গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘স্বপ্নজাল’ – কোন ‘মনপুরা’ নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন তার এই স্বপ্নের জাল বোনা! জয় হোক চলচ্চিত্রে যত শুভ যাত্রার। 🙂

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন