My Sassy Girl Jun Ji-Hyun এর যত মুভি-ড্রামা-বিজ্ঞাপন পর্ব ৫+(১৯৯৭-২০১৭)- ২০ বছরের ক্যারিয়ার-আজ ৩৬ তম জন্মদিন!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

জুন জি হিয়নের যত মুভি ড্রামা- পর্ব , , এবং  প্রকাশের তিন বছর পর- শিরোনামের মতই অগণিত ভিডিও সমেত অতিকায় লেখা হবে! :3

তাহার নামের বানান কুল, ছিঁড়ে গেল মাথার চুল! 

নাম ছিল তার ওয়াং জি হিয়ন (왕지현) । কিন্তু বংশ নাম ওয়াং (মানে রাজা!)-এর  মাঝে  চাইনিজ-তাইওয়ানিজ পরদাদার গন্ধ, তাই টিভি ড্রামার প্রোডিউসার পদবি নাম বদলে দিলেন  전지현- মানে জন জি হিয়ন/ ছন জি হিয়ন (অবস্থানভেদে- কোরীয় উচ্চারণরীতি অনুযায়ী-যাক সে কথা!) কিন্তু এই নাম ইংরাজিতে কী রূপে লেখা হইবেক? ইংরেজিতে “অ” প্রকাশক কোন বর্ণ নেই, “eo” দিয়ে “অ” কে প্রকাশ করতে গিয়ে রাজধানী서울 (সউল) হয়ে গেছে Seoul (সিউল)-তাই কোরীয়রা নামধামের এই “অ” কে আজকাল “উ” দিয়েই লেখে [সউল ডায়ালেক্টের  মত!]  তাই Jeon Ji-Hyeon বা Chun Ji-Hyun নামে সুবিধা করতে না পেরে শেষমেশ তার ইংরেজি নাম হল Jun Ji-Hyun। বছর দশেক পরে আবার নিজের হলিউড ডেব্যুটের জন্য নাম নিয়েছিলেন “Gianna Jun” (জিয়ান্না জুন)। তাহলে জন-ছন নয়,  “Jun” (জুন) নামেই তার বিশ্বময় পরিচিতি , আর “জি হিয়ন” তার ডাকনাম- এই দুই মিলে কী হল? জুন জি হায়ুন/হাইয়ুন (ইংরাজি hype এর উচ্চারণের মত- বহু আগে যা লিখতুম!) / হায়েন/ জুন জী হাইয়েন নয় (শেষ বানানটা “প্রথম  আলো”-র “নকশা”-য়  লেখা-একবারই ছোট্ট করে উনার কথা লিখেছিল- ছাত্রের কাছে শুনে তন্নতন্ন করে পেপার ঘেঁটে বের করে কিঞ্চিৎ হতাশ হয়েছিলুম!) , বাংলায় তার নাম লিখলাম “জুন জি হিয়ন” ! –হুম, এই বানান বের করতে তবে ছিঁড়ল মাথার চুল, দুঃস্বপ্নে কোরীয় বর্ণ দেখেই হলাম এটুক কুল! :3  :p

তার ওয়েস্টার্ন নাম “জিয়ান্না জুন” হওয়ার হিস্টোরিও কুল- আর সেটা উনার মুখ থেকেই শুনি- ইংরেজিতেই তো বয়ান করেছিলেন!

 

তার ইংরেজি কথন- আর ধুন্ধুমার অ্যাকশন! 

বান্ধবী-অভিনেত্রী কিম ইয়ুন জিনের পরামর্শে আর বছরখানেক টিউটর রেখে ইংরেজি শিখে হয়েছিল তার হলিউড যাত্রা- করেছিলেন “Blood:The Last Vampire” এ অভিনয়। তার ক্যারিয়ার ট্রেন্ড বজায় রেখেই কোন ছোটখাটো চরিত্র করেন নি- নায়কবিহীন সিনেমায় নায়িকা নিজেই নায়ক- ভ্যাম্পায়ার সায়া! আর সে চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০০৭ সাল জুড়ে অমানুষিক পরিশ্রমই করেছিলেন, যে জন্য ওই সিনেমা “ব্লাড” দর্শক-সমালোচকদের কাছে তেমন বেল না পেলেও কেউই নায়িকার অভিনয়-প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নি, Rogert Ebert এর মত সমালোচক জিয়ান্না জুনের প্রশংসা করে ৪/৫ রেটিং দিয়েছেন,  বরং সবাই একটু দুর্বল-কার্টুনিশ CGI, লো বাজেট আর কাহিনীর  ফাঁকফোকরের যা  সমালোচনা করেছেন। আমার মত উদারমনাও  এই সিনেমাকে ৬/১০ দিয়েই  ভেগে গিয়েছিল, বহুদিন পর “বিহাইন্ড দ্যা সিন” চোখে পড়তেই তাই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম- এত কষ্ট, জীবন নষ্ট, কিন্তু এত কুল কেন, অ্যাকশনই জীবনের মানে যেন!

আসলে এমন অ্যাকশন করার সুযোগ বা বাসনা ২০০১ সালে “My Sassy Girl” এ Matrix এর মত ছোট্ট ওয়্যার অ্যাকশন করার পরেই হয়েছিল, CF Queen খ্যাত জুন তখন থেকেই বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে স্যাসি-টাফ চরিত্রে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তেমনি ২০০৩ সালে এক জিন্সের বিজ্ঞাপনে তিনি হলেন ভয়ানক গোয়েন্দা- এটার মেকিংও খুব কুল লেগেছে!

তো হচ্ছিল তার হলিউড ডেব্যুট কথন, “ব্লাডঃ দ্যা লাস্ট ভ্যাম্পায়ার (২০০৯)” শুটিং এর পর মুক্তি পেতে প্রায় বছর দুয়েক বিলম্ব হয়েছিল, এর মাঝে কোরিয়ায় “A Man Who Was Superman (2008)” এ অভিনয়ের পর চাইনিজ- ইংলিশ মুভি “SnowFlower and the Secret Fan (2011)” এ যোগ দিয়েছিলেন- যেখানে আধুনিক কালের কাহিনীর ছোট্ট অংশে তার বিপরীতে ছিলেন এক হলিউড অভিনেতা- কী যেন নাম- হিউজ জ্যাকম্যান!

একই নামের বেস্ট সেলিং উপন্যাস থেকে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে  ওই হলিউডি অভিনেতা পাওয়ার আতিশয্যেই কি না তার তদানিন্তন ১৪ বছরের ক্যারিয়ারের রক্ষণশীল প্রথা ভেঙ্গে করলেন প্রথম কিস- তাতে আমি হলাম শকাহত, সাফল্য হল মিস! না মানে, প্রাচীন চীনে মেয়েদের  জীবন, তাদের গোপন ভাষা লাও তাং, “Eternal sister” হওয়া- আধুনিক সময়ে তাদের সেই  বন্ধুত্বের পুনরুত্থান- প্লটটা ইন্টারেস্টিং ছিল, কিন্তু আরও ফ্যান্টাসি-গতিময়তা-আর্ট যোগ করলেই হয়তো ফ্যান্টাস্টিক কিছু হতে পারত। জুন জি হিয়নকে ঠিক প্রত্যাশিত স্যাসি চরিত্রে পাই নি, কিছুটা oppressed নারী চরিত্র- যদিও  মেইন ক্যারেকটার তিনিই ছিলেন- প্রাচীন কালের স্নোফ্লাওয়ার আর আধুনিক কালের লিলি। IMDb রেটিং এর মতই এই অধমের রেটিং ছিল -৬/১০;  পরে ট্রেইলারটা দেখেই বরঞ্চ বেশি ভালো  লেগেছিল- ধারাভাষ্যের নারী  কণ্ঠটাও তারই! 🙂

সেই সিনেমা করার সুবাদেই ২০১১ সালে হেঁটেছিলেন Cannes Festival এর রেড কার্পেটে- তবে ইংরেজিতে বাতচিত কষ্টকর ব্যাপার না!  ইন্টার্ভিউ দিতেও যুত আসে না, মুখে কোরিয়ানই চলে আসে, বিদেশী সাংবাদিকদের দেখলেও নাকি দোভাষী ছাড়াও কোরিয়ান বলা শুরু করতেন, টিভি ক্যামেরা দেখে কষ্ট করেই  ইংরেজি ইন্টার্ভিউ দিতে হয়েছিল!  –  https://youtu.be/XyFRAkiMYRw

বাই বাই ইংলিশ- বিয়ে হল, আবার সাফল্য এলো!  

সেই ২০০১ সালে “My Sassy Girl” এর পর আর হিট মুভির দেখা নেই, “Windstruck (2004)”, “Daisy (2006)”-র মত মুভিগুলো এশিয়ার অন্যান্য দেশে ও ডিভিডি মারফত বেশ সাড়া জাগালেও কোরিয়ার বক্স অফিসে সেভাবে হিট হতে পারে নি। ( সেসময় রাশি রাশি টিভি বিজ্ঞাপনে নায়িকার উপস্থিতিও নাকি সিনেমাগুলোর ব্যর্থতার অন্যতম কারণ!)  এদিকে দুইটা  ইন্টারন্যাশনাল মুভির জন্য এত খাটাখাটনির পরও তেমন ফল মিলল কই! এর মাঝে জাপান, চীন, তাইওয়ান ঘুরে বিজ্ঞাপন করা চলছে কিন্তু এদ্দিন হয়ে গেল- হিট প্রোজেক্টের অভাবে  কোরিয়ায় CF Queen এর পদবি হাতছাড়া হতে চলেছে। এমন সময় মধুসূদনের মত ইংরেজি বাতচিতের ঝঞ্ঝা পেরিয়ে স্থায়ীভাবেই ফিরে এলেন  নিজ দেশে, আর বিয়ে করে থিতু হয়ে গেলেন। ‘১০সালে  এক পারিবারিক প্রোগ্রামে  ছেলেবেলার বন্ধু ছোই জুন  হিয়কের সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিল, পুনর্মিলন থেকে প্রায় দেড় বছরের সম্পর্ক, পাত্র ব্যাংক অফ আমেরিকা-র  ব্যাংকার, সম্ভ্রান্ত-খানদানি পরিবার- এদিকে নায়িকার বয়স হয়েছে ৩১, তাই শুভস্র শীঘ্রম বলে ২০১২ সালের এপ্রিলে শিলা হোটেলে তাদের শুভ বিবাহ হয়ে গেল 🙂

 

আর বিয়ের পরই তার ভাষায় তিনি “আরও পরিণত” হলেন, আর ১১ বছর পর বক্স অফিসের সাফল্যও আবার ধরা দিল “The Thieves (2012)” মুভিতে-যদিও ঠিক প্রধান চরিত্র নয়, তবে মেইন আর খল পরিণতি বরণ করা নায়িকা তিনিই ছিলেন আর ব্লাড মুভির জন্য করা ধুন্ধুমার ওয়্যার অ্যাকশনের প্র্যাকটিস সেখানে বেশ কাজে দিয়েছিল!

“The Thieves” এ “ভয়কে জয় করে করা” যত ওয়্যার স্ট্যান্টের পেছনের দৃশ্য-   [ আড়াই কোটি টাকা পারিশ্রমিক ছিল তার এই মুভিতে, আর সর্বশেষ ড্রামায় পর্বপ্রতি নিয়েছেন  প্রায় ৭০ লাখ টাকা- যা  কোরিয়ান অভিনেত্রীদের মধ্যে সর্বোচ্চ] – 

The Thieves-মুভিটির নির্বাচিত কিছু অংশ-

 

আবার ২০১৪-১৫ সালে তুমুল হিট হওয়া ড্রামা সিরিজ “My Love From The Star” এ কমেডি আর ইমোশনের মিলমিশ চেওন সং ঈ-চরিত্রে হলিউড যাত্রার জন্য কষ্ট করে নিজের শেখা ইংরেজির মকারি নিজেই করেছেন।

এই এলিয়েনরূপী, নিজের চেয়ে সাড়ে ৬ বছরের ছোট নায়ক কিম সু হিয়নের সাথে তার পরিচয় ঘটেছিল “The Thieves” মুভিতে জুটিবদ্ধ হতে গিয়েই, সে ব্যবস্থাও নাকি জুন নিজেই করেছিলেন, সে সময় প্রচারিত এক ড্রামা সিরিজে এই নায়কের অভিনয় আর চোখের ভাষা দেখে তার নাকি মনে হয়েছিল-“কিম সু হিয়ন কোরিয়ার লিওনার্দো ক্যাপ্রিও!” আর তাই তার নাম মুভি পরিচালকের কাছে সুপারিশ করেন। সেই থেকে গড়ে ওঠা সিনিয়র- জুনিয়র বন্ধুত্বের জোরেই কিম সু হিয়নও নাকি “MLFTS’ এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ বছর পর ছোটপর্দায় কামব্যাক করতে জুনকে রাজি করান।

সবসময় টাফ- চ্যালেঞ্জিং চরিত্র নেয়ার নেশায় সর্বশেষ অভিনীত “The Legend of The Blue Sea (2016-17)” তেও জুন জি হিয়নকে দেখা যায় মারমেইড বা মৎস্যকন্যার চরিত্রে। ’১৬ র ফেব্রুয়ারিতে পয়লা বাচ্চার জন্ম দিয়ে জুলাইয়ের মধ্যেই ফিট-স্লিম হয়ে আসা, তারপর আবার এমন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জিং রোলে অভিনয়- সেই “ব্লাড” মুভি থেকে প্রতিদিন ঘণ্টা ধরে রানিং মেশিনে দৌড়াদৌড়ি, ইয়োগা-ব্যায়ামের অভ্যাস আর তারও আগ হতে সকার থেকে সুইমিং- নানাবিধ খেলাধুলায় উৎসাহ থাকলেও নিঃসন্দেহে টাফ ব্যাপার- তাই মারমেইড সাজতে ভালো লেগেছে, কিন্তু এই প্রোজেক্ট শেষে আগুন বা পানি নিয়ে এত  খেলাধুলার আর কোন প্রোজেক্টে জীবনেও আর কাজ করার সাধ নেই বলে ঘোষণা দিয়েছেন!

সাক্ষাৎকার, দুর্ঘটনা  ও পানিতে খেলাধুলার কিছু দৃশ্য!-   

ইনজুরি- ভুঁড়ি-ভুঁড়ি! 

তার স্যাসিনেস-তার কমেডি লেগেছে কত ভালো, কিন্তু টাফ চরিত্রগুলোতে অভিনয় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা ইনজুরির কবলে তো পড়তেই হয়েছে।“My Sassy Girl” এ যেমন তার হাতে বেচারা নায়ককে বারবার মার খেতে দেখা গেলেও বাস্তবে নায়কের হাতের টোকা খেয়েই আর বৃষ্টির পানিতে পিছলা খেয়ে পড়ে নাকি তারই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাল দাগ আর কালশিটে পড়ে গিয়েছিল।

তারপর আমার দেখা সবচে’ বোরিং  এর অন্যতম+হরর নামের কলঙ্ক কোরীয় মুভি- তারই অভিনীত “Uninvited (2003)” – সেই মুভিকে কিছু রেটিং দিয়েছিলাম নায়ক-নায়িকার অভিনয়ের জন্য; পরে দেখলাম কারণ যৌক্তিক- সোজা হয়ে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ার অভিনয় করতে গিয়ে হাঁটু লাল করে ফেলেছেন, তবু পিছপা তো হন নি!

Berlin File (2013)” -ও বক্স অফিসে সুপারহিট কিন্তু  আমার পরিণতি ভালো না লাগা মুভির মাঝে অন্যতম- যে মুভিতে  অভিনয়ের জন্য কথা দেয়া ছিল, তাই  প্রফেশনালিজমের খাতিরে জুন জি হিয়ন নিজের বিয়ের তারিখই এগিয়ে  এনেছিলেন! আর মুভিতে একটি অ্যাকশন দৃশ্যে একটি গুলি তার চামড়া এফোঁড়-ওফোঁড় করে যায়, তবে ফাঁপা গুলি ছিল আর কি, ফার্স্ট এইড নিয়েই আবার শুটিং এ নেমে পড়েন, পুরো মুভির শুটিং শেষে স্টাফরাই এ তথ্য মিডিয়াকে জানান দেন আর তার পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।

এতক্ষণে  নিচ্ছি ছোট্ট বিজ্ঞাপন বিরতি!

জিওরদানো-২০০১- কোরিয়া    

লানিয়েজ- ২০০৫- কোরিয়া 

আশিয়েন্স শ্যাম্পু- ২০০৮  (জাপান) 

রিবক- কোরিয়া ২০১৪ 

কেএফসি চিকেন ২০১৪- চীন 

হেরা- কোরিয়া ২০১৪ 

 

Yoyi C ড্রিঙ্কস- ২০১৬- চীন 

হেরা-কোরিয়া-২০১৫ 

ফিরে আসি মুভি রিভিউতে-

Assassination (2015)

IMDb রেটিং- ৭.৩/১০ – http://www.imdb.com/title/tt3501416/  

IMDb রিভিউ- http://www.imdb.com/title/tt3501416/reviews-9 

ছোই দোং হুন পরিচালিত, কোরীয় বক্স অফিসে সুপার হিট মুভি “ 암살” (গুপ্তহত্যা)-র কাহিনী আবর্তিত হয়েছে জাপানি কলোনিয়াল শাসনামলে কোরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামকে ঘিরে- এক গুপ্তঘাতকের দল জাপানি কম্যান্ডারকে হত্যার মিশনে নামে, আর তার নেতৃত্বে কে থাকেন? আন ওকে ইয়ুন মানে জুন জি হিয়নের চরিত্র।

মুভির প্রথমার্ধ বেশ স্লো ছিল ( মানে দেখতে বসে ছোট ভাই দুই দিন ঘুমিয়ে পড়েছিল!), কাহিনীর খেই কোথায় যাচ্ছে বুঝতেও যেন একটু সমস্যা;  তবে দ্বিতীয়ার্ধে  বেশ জমজমাট এক হিস্টোরিক্যাল ড্রামাই হয়ে উঠেছিল মুভিটি।  ইল মারে-তে জুন জি হিয়নের নায়ক লি জং জ্যা এই সিনেমায় ছিলেন রাজাকার, আর বার্লিন ফাইল-এর নায়ক হা জং-উ ছিলেন হাওয়াই পিস্তল চরিত্রে, পরিচালক “দ্যা থিভস”এর- পরিচিত গণ্ডি আর কি! এ সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করে জুন ব্যাকসাং এ সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারও পেয়েছিলেন, তবে ওভারঅল তার চরিত্রটা একটু বোরিং-ই ছিল (অবশ্য সেটা চরিত্রানুযায়ী-ই সিরিয়াস রোল ) ! তাই তার তুলনায় হাওয়াই পিস্তল আর তার কমিক সাইড কিকের চরিত্রের গুরুত্বটা বেশি বাড়ালে, আরও জ্যামপ্যাকড-অননুমেয় করলে বেশি ভালো হত! তবে সব মিলিয়ে সেটিংস, ঐতিহাসিক পটভূমি, সশস্ত্র সংগ্রামকে বিশ্বস্তভাবে ছবিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, তাই আমার উদার রেটিং ছিল ৭ আর ৮ এর মাঝামাঝি ।

বাচ্চা হবে, বাচ্চা হবে !

“Assassination” শেষে সে বছরের মুভি-ড্রামার কোটা পূরণ হয়ে গেছে, এবার তবে জামাই-বউয়ের পরিবার পরিকল্পনার ফল গ্রহণ হোক- মানে  “বাচ্চা হবে, বাচ্চা হবে!”

তবে সে সময়েও কাজের নেশায় বা টাকার নেশায় যাই হোক, আট মাস পর্যন্ত  বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে সপ্রতিভভাবে হাজির হলেন মডেল জুন জি হিয়ন! 🙂

আসলে বর্তমানেও তো তিনি গর্ভকালীন অবকাশে আছেন- এক বাচ্চা জন্ম  দিয়ে The Legend of the Blue Sea (2016) ড্রামা করার পরই আবারো! -আসলে  বয়স হয়ে যাচ্ছে, সে কথা ভেবেই নিশ্চয় জলদি জলদি অন্তত দুই সন্তানের পরিবার পরিকল্পনা  নিয়েছেন- তো সেই দ্বিতীয় বাচ্চা সামনের জানুয়ারিতে আসার অপেক্ষায়। 🙂

পেলেন প্রেসিডেন্সিয়াল এ্যাওয়ার্ড

হালিয়ু ওয়েভ মানে কোরীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করিয়ে দিতে যেটুকু অবদান রেখেছেন তারই স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালের অক্টোবরে পেলেন প্রেসিডেন্সিয়াল এ্যাওয়ার্ড । খবরে প্রকাশ পেল- অনেক নেটিজেন নাকি কোন চাইনিজ পানির অ্যাড করার শাস্তিস্বরূপ তাকে এই পুরস্কারের যোগ্য মনে করেন না, তবে তাদের এ ভাবনায় কার কী এল,গেল!

উপরোক্ত ছবিতে বেশ মোটা দেখা যাচ্ছে- মানে প্রেগন্যান্ট অবস্থায় এ্যাওয়ার্ড গ্রহণের ছবি 🙂

এরপর… তার প্রথম ড্রামা “Fascinate My Heart (1998)” নিয়ে এক কথা, “Happy Together (1999)” নিয়ে দুই কথা, “The Legend of the Blue Sea” নিয়ে রিভিউধর্মী চার কথা, তারই মুভি-ড্রামার বাংলা সাবকরণ, আরও  বিজ্ঞাপন  নিয়ে পাঁচ  কথা… এসব লিখতে গেলে নতুন আরেক পর্বই লেগে যাবে- কম তো হল না, আজ অবশ্যই এ পর্যন্তই থাক!

পরবর্তী পর্বের প্রিভিউ!- বাংলা সাব সংবলিত ইল মারে-র মিউজিক ভিডিও

푸른 바다의 전설 – নীল সাগরের কিংবদন্তি – পয়লা-বাংলা টিজার 

উপসংহার- ১৯৯৭- ২০১৭- স্যাসিনেসের ২০ বছর, আজ ৩৬ তম জন্মদিন

সাহসী নায়িকা হয়ে- তবে ইয়ে-  খোলামেলা  দৃশ্য না করে স্যাসিনেস,  ইনোসেন্স,কমেডি, অ্যাকশনের কমপ্লিট প্যাকেজ রূপে আবির্ভূত হয়েছেন গত ২০ বছরের ক্যারিয়ারে।

মডেলিং-বিজ্ঞাপন বেশি বেশি করেছেন বলে যা কিছু আউফাউ কাজ সে ভাগেই বেশি পড়েছে- তার প্রতি টিনের চশমা পড়ে,  মনে মনে একশটা সমালোচনা করে একবার তাকে বড়ই প্রিয় নায়িকা মানা যায়।

বছরে একটির বেশি মুভি-ড্রামা নয়, গুরুত্বছাড়া কোন চরিত্র নয়- অতিথি চরিত্রও নয়, তার অভিনীত প্রায় প্রতিটি মুভি-ড্রামা হয় নায়িকাপ্রধান নতুবা  নায়কের সাথে পাল্লা দিয়ে গেছে তার চরিত্র, কাহিনীতে শেষ অবধি তার চরিত্রের বড় ছাপ থাকবেই!

প্রোজেক্টের নানা  দুর্বলতা নিয়ে ধরেছেন, কিন্তু তার প্রথম মুভি থেকে শেষ ড্রামা পর্যন্ত  অভিনয়ের কোন দুর্বলতা- কঠোর সমালোচকের রিভিউতেও ধরা পড়ে নি!

এমনই    ইউনিক ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছেন তিনি- একজন সেরা স্যাসি নায়িকা হওয়ার মোহে; তাতে কিছু ভুলচুক-ভালো না লাগা  থাক,  মাঝে মাঝে  বুড়িয়ে যাচ্ছেন মনে হলেও  দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এতটা ফিটফাট ধারাবাহিকতার জন্য তার স্যাসি-অ্যাকশন আর  কমিক অবয়বের জন্য অনেক ভালোবাসা!

শুভ জন্মদিন- 생일  축하합니다- এশিয়ার ওয়ান এন্ড অনলি-  অরিজিনাল স্যাসি গার্ল নায়িকা জুন জি হিয়ন! 🙂 – Rifat Sharna –   Sassy Girl Jun Ji-Hyun -전지현 Bangladeshi Fan     :p 🙂
[পুনশ্চঃ এই বড় লেখা – এটার কভার ফটো ফটোশপে আনাড়ি হাতে ডিজাইন- ঘষামাজা করে বানাতেও  অনেক সময় গেছে, ভালোবাসার এত তেল রে! -_- ]    🙂     

 

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন