ঢাকা অ্যাটাক (২০১৭) – টানটান উত্তেজনায় মাতুন, সবাই মিলে অবশ্যই ছবিটি দেখুন!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

শিরোনামের কথাটি আসলে না লিখলেও চলত- বলাকায় সকাল সাড়ে দশটার শো ধরতে গিয়ে যে লম্বা লাইন আর গণমানুষের ঢল দেখলাম! কে বলে, দেশের মানুষ বাংলা সিনেমা দেখতে তেমন একটা হলে যায় না! বরং দেশের দর্শকরা আজকাল অনেক বেশি সচেতন- তাই তাদের জন্য যত্ন নিয়ে,বাজেট নিয়ে সিনেমা বানালে, সাথে যথাযথ প্রচারণা  চালালে তারাও সে সিনেমা নিয়ে নিজেরাই আশপাশের  পরিচিতদের মধ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন, সে সিনেমা দেখতে নিজেরা নিজেদের তাগিদেই বন্ধুবান্ধবসমেত হলমুখী হচ্ছেন! সেজন্য হিরো আলমকে নিয়ে বস্তাপচা “মার ছক্কা” বা গত ঈদে কিং খানকে নিয়ে  নিম্নমানের-নকল কাহিনীর কোন সিনেমা বানিয়েও সচেতন দর্শকদের সেভাবে হলমুখী করা যায় নি। এই সচেতনতার জয়জয়কার হোক, আপাতত “ঢাকা অ্যাটাক” নিয়ে তবে আলোচনা হোক!

তাহলে এবার আসি- প্রচারনায় যে সব কথাবার্তা তুলে হাইপ ছড়ানো হয়েছে, তার সাথে বাস্তবতার সঙ্গতি কতটুকু ছিল?!

“ঢাকা অ্যাটাক” ছোট পর্দার সফল পরিচালক দীপঙ্কর দীপন পরিচালিত, ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশ বাহিনীর উপ-কমিশনার সানী সানোয়ারের গল্প অবলম্বনে নির্মিত বাংলা ছবি। প্রথমজন বলিউডের স্বনামধন্য এক পরিচালকের সহকারী হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা ঝুলিতে পুরেছেন, দ্বিতীয়জন জঙ্গি ও টেরোরিজম বিরোধী অনেক সফল অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন।২০১৩ থেকে ২ বছর ছবির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলে, ২০১৫ তে শুভ মহরত, শুটিং শুরুর আবার ২ বছরের মাথায় কাঙ্ক্ষিত ছবিটির মুক্তি… হ্যাঁ, এসব প্রচারণার যথাযথ প্রতিফলনই ঘটেছে  পুরো “ঢাকা অ্যাটাক” ছবিতে- পরিচালকের মুন্সিয়ানা আর গল্পের নানা বাস্তবসম্মত- সুনিপুণ বাঁক দর্শন তারই সাক্ষ্য দেয়!

এবার দ্বিতীয় প্রচারণা- সিনেমাটোগ্রাফি প্রসঙ্গে – খায়ের খন্দকার, নাদিম ফুয়াদ সহ একাধারে ৫ জন চিত্রগ্রাহক এই মুভির জন্য কাজ করেছেন!… হ্যাঁ, তার প্রতিফলনও বিভিন্ন ক্লোজ-লং-ড্রোন শটে পাওয়া যায়-সর্বোপরি একটা অ্যাকশন থ্রিলার ফিল্মে- শহরের রাস্তা থেকে দুর্গম জঙ্গলে পুলিশ অপরাধীদের খোঁজে হানা দিচ্ছে, তল্লাশি করছে- সেসব দৃশ্য এতটা আধুনিক, বাস্তবসম্মত ও বেশ  আকর্ষণীয়ভাবে  এই মুভিতে যেভাবে  ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তার কৃতিত্ব চিত্রগ্রাহকদের প্রাপ্য তো বটেই!

তৃতীয় ও বড় মাপের প্রচারণা- দেশের প্রথম পুলিশ ক্রাইম অ্যাকশন-থ্রিলার ছবি, ১০ মিনিট পর পরই নাকি গল্পের মোড় পাল্টাতে থাকবে, টানটান উত্তেজনা দর্শককে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হলের চেয়ারে আটকে রাখবে! … হ্যাঁ, সম্পূর্ণ পুলিশি ক্রাইম-থ্রিলার ছবি এটা; বাংলাদেশ পুলিশ, সোয়াট টিমের কর্মকাণ্ড এত আধুনিক- চিত্তাকর্ষকভাবে ফুটিয়ে তোলা-এর আগে কোন মুভিতে হয় নাই! পুলিশ বাহিনীর সরাসরি সম্পৃক্ততার ফলই বলতে হয়- বোম ডিজপোজাল ইউনিট, গোয়েন্দা ও আর্মড ফোরস বাহিনীর দুর্ধর্ষ প্রতিটি অভিযানের দৃশ্য দর্শকদের থ্রিলিং ভাব দিতে বাধ্য। যদিও দশ মিনিট পর পর কাহিনীর  মোড় আদৌ পাল্টাল কি না বুঝলাম না,  কিন্তু প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মনের মধ্যে একটা উত্তেজনা নিয়েই চূড়ান্ত পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে হয় – ভিলেনের সাথে নায়ক ডিসিয়া, ডিসিয়া ফাইটের পর পুলিশ “হ্যান্ডস আপ” বলে ছুটে আসবে- এমন গৎবাঁধা কোন মতেই নয়- যা খুবই ভালো দিক এবং আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রের নিরিখে এই “ঢাকা অ্যাটাক” ছবির জন্য  বিরাট সাফল্য!

এবার আসি অভিনয়ে- সহকারী পুলিশ কমিশনার ও বোমা নিস্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞ  আবিদ চরিত্রে আরেফিন শুভ- হুম, প্রথমে চুলের তেলতেলে (আসলে জেলজেলে!) স্টাইলটা একটু কেমন লাগলেও তার অভিনয় বলতে গেলে বেশ মাপমতই হয়েছে।  ভারিক্কী একটি চরিত্রে ভারিক্কী ড্রেস পরে অনেক করিৎকর্মা ভাবই  দেখিয়েছেন-  নাহ, এমন কুল নায়ক চরিত্রে-দেশীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে এখনো আরেফিন শুভ-র  বিকল্প অভিনেতা ভাবা যায় না –যে নায়ক বিভিন্নধর্মী চরিত্রগুলোর জন্য নিজেকে  আলাদাভাবে তৈরির চেষ্টাটা করে থাকেন! আর তার এক্সপ্রেশনের নিরিখে সবচে’ ভালো  হয়েছিল বোমা ডিজপোজালের  পার্টটা। প্রসঙ্গত, জ্যাজের অধীনে আরেফিন শুভ-র পরপর বেশ কয়েকটা চলচ্চিত্র নানা নেতিবাচকতায় তেমন সাফল্য পায় নি, টাইগার মিডিয়ার এ চলচ্চিত্রটি তার ক্যারিয়ারে নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য বলেই  বিবেচিত হবে।

দ্বিতীয়ত- দ্বিতীয় নায়ক- পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াট কমান্ডার চরিত্রে এবিএম সুমন। এর আগে উনার কিছু মিউজিক ভিডিও ছাড়া আর কাজ দেখা হয় নি- তবে আজ যা দেখলাম, পুলিশ কম্যান্ডার চরিত্রটিকে আবেগ ও অ্যাকশন দিয়ে খুব ক্যারিশম্যাটিকভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন এই অভিনেতা।

আর যারা প্রধান অভিনেতা ছিলেন- শতাব্দী ওয়াদুদ- চরিত্রানুযায়ী যথাযথ; আফজাল হোসেন, আলমগীর, হাসান ইমামের মত অভিজ্ঞ অভিনেতাদের কমিশনার, আইজি, মন্ত্রীর চরিত্রে খুবই স্বল্প সময়ের জন্য দেখা গেছে-তাদের আরও সম্পৃক্ত করে আরেকটু ব্যাপ্তি হয়তো দেয়া যেত। ও, এ ছবিতে তৃতীয় (এবং নায়িকাবিহীন!) নায়কও আছেন- শিপন- যিনি এ ছবির মালয়েশিয়া অভিযান অংশটুকুতে থাকেন, তাকেও তার অংশে সাবলীলই দেখা গেছে। এছাড়াও বাকি যত গুণ্ডা-মাস্তানের চরিত্রেও যারা অভিনয় করেছেন-প্রায় সব পুরুষ অভিনেতারাই চরিত্র অনুযায়ী প্রায় পারফেক্ট অভিনয় করেছেন বলে মনে হয়েছে।

আহা, নারী চরিত্রগুলোর কী দশা তবে? তাদের জন্য আসলে প্রথমেই এক বালতি দুঃখ! নায়িকারা আরক্তি সৃষ্টি না করে কিঞ্চিৎ বিরক্তির উদ্রেক করবে কেন! প্রথমে  নায়িকা মাহিয়া মাহি- জী আপু, কোন এককালে আপনার অ্যাকশন দেখে, আপনারই ভক্ত হয়ে লাফাতে লাফাতে “অগ্নি” দেখতে গিয়েছিলুম, আজ কি না  মূলত  আরেফিন শুভকে দেখেই “ঢাকা অ্যাটাক” দেখতে যেতে হয়! না, “টুপটাপ” গানে তাকে  সুন্দরীই দেখাচ্ছিল, মুভিতেও তার সৌন্দর্যই রূপায়িত হয়েছে- কিন্তু এই যে তার  কথাবার্তার ঢঙে শুরুতেই সেই ‘ন্যাকামি রোগ’ ধরল, ইন্টারভিউতে তার কথোপকথনও তো এর  চেয়ে  অনেক স্বাভাবিক মনে হয়-অভিনয়ে এই হল কেন- দুঃখ পেলুম! মাঝখানে  আবার স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল, শেষে এসে আবার একটু!  জানি, তার চরিত্রবিন্যাসও এর জন্য দায়ী- কিছুটা বোকা-ইমোশনাল সাংবাদিক-কাহিনীতে গুরুত্ব কম, মুখ দেখানোর পার্টই বেশি; তারপরও মনে পড়ে যায়-  “আয়নাবাজি”-র কাহিনীতে স্বল্প গুরুত্ব থাকলেও নাবিলার সাবলীল-ন্যাকামিবর্জিত  অভিনয় সেই মুভির জন্য কিন্তু একটা প্লাস পয়েন্ট ছিল! যাই হোক, মাহিয়া মাহি  আজও দেশের নায়িকা জগতের আশার আলো, শুভ-মাহি জুটির রসায়নেরও একটা গুরুত্ব আছে, তাই তিনি ভবিষ্যতে গ্রুমিং করে করে   প্রতিটা চরিত্রের জন্য নিজেকে আলাদা করে প্রস্তুত করুন আর এই কৃত্রিমতাটুকু কাটিয়ে উঠুন- আজও সেই প্রত্যাশা রইল!

আর দ্বিতীয় নায়িকা নওশাবা মানে সিসিমপুরের ‘ইকরি’ আপু- আল্লা রে, তার চরিত্রটাই লুতুপুতু- এবিএম সুমনের প্রেগন্যান্ট বউ যাকে জামাই সেবাযত্নে রাখেন,  নুডলস মুখে তুলে খাইয়ে দেন, এমন একটা ক্যারেক্টার। বলছি না, একদম অবাস্তব লেগেছে- তারপরও একজন নিবেদিত পুলিশ অফিসারের পরিবারের সদস্য-তার স্ত্রী নিজেও তো (স্বামীকে বারবার না ডেকেই!) অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করতে  পারেন, গর্ভাবস্থায়ও নানা সাংসারিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন নিশ্চয়- সে ব্যাপারটা শুধু পুলিশেরই ভালোমানুষি দেখাতে গিয়ে অনুপস্থিত ছিল। তবে প্রেগনান্সির জ্বালা-যন্ত্রণা উপস্থাপন আর চোখের জল ফেলায় তিনি পাস মার্কস পেতে পারেন!

হালকা-হালকা এই অসংগতি

১। মালয়েশিয়ান নারী পুলিশ বাদে বাকি নারী চরিত্রগুলোর বিন্যাসে/অভিনয়ে/মেকআপে একটু কৃত্রিম ভাব ছিল যেজন্য তাদের কিছু ইমোশনাল বাকগ্রাউন্ড থাকলেও তাদের প্রতি তেমন সিম্প্যাথি জাগে না, কিছু ন্যাকামি/বাগড়াতে কিঞ্চিৎ বিরক্তি আসে। একটা ক্রাইম থ্রিলারে সাইড কিক-হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে নারী চরিত্রগুলো এলে আরেকটু জমজমাট হত নিশ্চয়!

২। দু’একটা একটু মেকি লাগা দৃশ্য-স্কুলবাসে যাওয়া বা আসা কোন সময়েই বাচ্চারা এমন চিলিং বা গান গাওয়ার মুডে থাকে না- পিকনিকের স্কুলবাস হলে একটু বিশ্বাসযোগ্য হত। আর সে সময় ছেলেমেয়েদের ইন্টারএকশনও একটু মেকি ঠেকেছে।

৩। অ্যাড প্লেসমেন্ট- কুল শেভিং ফোমেরটা মানা যায়, কিন্তু কুল স্প্রের অ্যাড প্লেসমেন্ট খুব দৃষ্টিকটু লেগেছে!

৪। মুভির ইংরেজি-মালয় ডায়ালগের সাথে দেয়া বাংলা সাবটাইটেলে বেশ কয়েকটি বানান ভুল চোখে পড়ল, তাড়াহুড়োর ঝোঁকে হলেও এমন একটা হাইফাই-বাংলাদেশি ছবির সাথে যায় না তা!

৫। ভিলেনের ব্যাকগ্রাউন্ড খুব সমৃদ্ধ- তবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরও তার  ক্রাইম করার মত অগাধ টাকা-পয়সার সোর্সটা আরেকটু ক্লিয়ার করা যেত, সাথে পুলিশ বাহিনীর এত ভালোগিরির-র সাথে দু’ছটাক মন্দ … আচ্ছা, থাক!

এছাড়া ট্রেইলার দেখে দু’একজন এই মুভির ভিএফাইএক্স নিয়ে দু’এক কথা বলার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। আরে ছাড়ুন তো এত খুঁতখুঁতানি – বড় পর্দায় দেখেও কোন বিস্ফোরণই হাস্যকর লাগে নি, ওভারঅল ভালোই হয়েছে। ক্যাজুয়ালটি-রক্তারক্তি দেখানোও একদম বাস্তবসম্মত-গ্রেট! আর এডিটিং, কালার কারেকশন, ‘টিকাটুলির মোড়’, ‘হয়তো হবে না’ গানগুলোর প্লেসমেন্ট সব মানানসই- “টুপটাপ’ গানের ইউটিউব ভার্সনের এডিটিংটা বেশি ভালো মনে হয়েছিল অবশ্য।

ও ভিলেন, ও ভিলেন- ভিলেন তুমি মহান!   

হ্যাঁ, এত বাগাড়ম্বরের লেখা লিখে শেষটা জমিয়ে রেখেছি ট্রেইলারে চেহারা না দেখানো, শুধু কণ্ঠস্বর শোনানো, এই ছবির সবচে’ বড় চমক ভিলেনের মাহাত্ম্য  গাইবার জন্য! প্রথমার্ধ একটা  টানটান ভাব বজায় রেখে শেষ হলেও দুইটা আশংকা ছিল-   ১] দ্বিতীয়ার্ধে না ঢিলে দিয়ে যায়, ২] আর নতুন ভিলেন, কে যেন- অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী তাসকিন রহমান- সে কেমনই বা করবে ! কিন্তু নাহ, এসব আশংকা অমূলক প্রমাণ করে  দ্বিতীয়ার্ধেই তো ভিলেনের আসল খেল শুরু! ভিলেনের এন্ট্রিটা একটু অগোচরে করা হলেও যে কোন সচেতন দর্শকমাত্র তা ধরতে পারবেন,আর তারপর… ভিলেন অনস্ক্রিনে আসামাত্রই তার খেলা জমে উঠল! ভিলেনের এমন ডিটেইলড বাকগ্রাউন্ড দেখানো আগে কোন বাংলা সিনেমায় দেখেছি বলে মনে হয় না- পরিচালকের জন্য তালিয়া হবে! তার সাথে ইনি “ছেড়ে দে শয়তান” গোছের ভিলেন না, ওসব ভিলেন বহু আগেই সেকেলে হয়ে গেছে- সে কথা মনে করিয়ে দিতেই এই ছদ্মবেশী- কোল্ড ব্লাডেড সিরিয়াল কিলার ভিলেনের আগমন! তার  নৃশংসতা, বাইক চালনা বা ছোট্ট ওয়্যার অ্যাকশন- সবকিছুতেই একটা ভিলেন-ভিলেন কিন্তু স্টাইলিশ ভাব। মোট কথায়, একেবারে বাজিমাত করেছেন এই ভিলেন তাসকিন রহমান, সেকেলে খলনায়কত্বকে অসাড় প্রমাণ করে নতুনের জয়ধ্বনি করেছেন! আর তাকে ঘিরে যে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি হয় মুভিটির শেষভাগে- একদম সেরা! জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা খলনায়কের স্বীকৃতি ও খলনায়কগিরির জন্য আরও অনেক পুরস্কার তার প্রাপ্য! আর সামনে ২০১৯ সালে, নাকি “ঢাকা অ্যাটাক-২”  আসবে, যেভাবে পারা যায়, সেখানে এই নীলচোখা ভিলেনকেই ফিরিয়ে আনা হোক অথবা এমন  আরও কুল ভিলেনের জন্ম দেয়া হোক!

স্টাইলিশ দৃশ্যায়ন, নান্দনিকতা,সকল চরিত্রের ন্যাকামি থেকে গ্রেটনেস- সবকিছু  মিলিয়ে, এই মুভিকে অধমের  দৃষ্টি থেকে প্রদত্ত রেটিং ৮/১০

শেষ কথা-“ঢাকা অ্যাটাক”-পর্দার সামনে, প্রচারণার স্বার্থে শুভ-মাহির ঢাকা  অ্যাটাক বলার চেয়ে কাহিনীর স্বার্থে  শুভ-সুমন-তাসকিনের ঢাকা অ্যাটাক বলাই শ্রেয়! তবে পর্দার পেছনে- এটা নিশ্চয় দীপংকর দীপনের মুভি, চলচ্চিত্র পরিচালক  হিসেবে অভিষেকে বাজিমাতই করেছেন, সখী জুথি বলল- তার পরবর্তী সকল মুভি দেখতে চাই!  বিদেশী ক্রাইম মুভি বা হলিউডি ধাঁচের থ্রিলার দেখে যারা  দেশীয় মুভির  কাতরতায় দুঃখ করতেন, তাদের অপেক্ষার দিন ফুরিয়েছে – কারণ বুদ্ধিদীপ্ত কাহিনী, জমজমাট অ্যাকশন, টানটান উত্তেজনা আর আধুনিকতার ছোঁয়া লাগানো দুর্ধর্ষ সব দৃশ্যায়ন সমেত এসেছে এই “ঢাকা অ্যাটাক” ! বিগ বাজেটের সদ্ব্যবহার, কাহিনী- চিত্রায়নে সময়ক্ষেপণ, পুলিশ বাহিনীর চৌকস উপস্থাপন-এসব বৃথা যায়  নি- ছবিতে দেখানো একটি সদ্যোজাত নবজাতকের মতই তা ‘দীপনে দীপ্যমান’!   নগণ্যের   বিচারে, দেশীয় ক্রাইম-থ্রিলারের মাঝে “আয়নাবাজি”-র পরেই এর অবস্থান, আর  ক্রাইম-অ্যাকশন-থ্রিলার মিলিয়ে এখন পর্যন্ত এটাই সেরা!তাই এ মুভির নাটের গুরু থেকে পেছনের সকল কলাকুশলীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলতে হয়- ঢাকা অ্যাটাক-এর রোমাঞ্চ থেকে বঞ্চিত হওয়া,  হলে বসে বড় পর্দায় না দেখা মানে তো বড় মিস! তাই সবাই মিলে অবশ্যই ছবিটি দেখুন আর টানটান উত্তেজনায় মাতুন! – ইতি- রিফাত কবীর স্বর্ণা

 

Error: No API key provided.

এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

    • রিফাত স্বর্ণা says:

      এই মুভির ক্লাইম্যাক্স ডাল লাগলে বোধহয় সবই আপনার কাছে ডালভাত!- তবে নানা মুনির নানা মত, তাই ধন্যবাদ!

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন