A Taxi Driver (2017)- সামরিক শাসনের নির্মমতার উপাখ্যান- দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এবারের অস্কার-কন্টেন্ডার
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

দক্ষিণ কোরিয়ান নির্মাতাদের নানা জনরার নানা মুভি বাস্তবানুগ নির্মাণ ও কাহিনীগুণে দর্শক-সমালোচকদের কাছে বেশ সুপরিচিত ও সমাদৃত। যদিও এ যাবত অস্কারে পাঠানো তাদের পাঠানো ২৯ টি  সাবমিশনের মাঝে একটির ভাগ্যেও চূড়ান্ত নমিনেশন পাওয়া বা শর্ট লিস্টে থাকারও কল্কে জোটে নি- এর মাঝে প্রতিবেশী জাপান (এনিমেশন-ড্রামা মুভি মিলিয়ে) ও এশিয়ার আরেক দেশ ইরান (এক পরিচালক আসগার ফারহাদি-র-ই দুইটি), তাইওয়ানও যা  অস্কার বাগিয়েছে । তবে তাতে কী বিশেষ আসে যায়… প্রতি  বছরের মত এবারো যাচ্ছে, আর এবারকার মুভি জাং হুন পরিচালিত  ড্রামা- থ্রিলার-ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র “A Taxi Driver ( 택시운전사) [ প্রসঙ্গত- বাংলাদেশ থেকে অস্কারে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য চূড়ান্ত হয়েছে “খাঁচা”, এখনো দেখি নি, প্রশংসাই পাঠ করেছি এবং সর্বোচ্চ শুভ কামনাটা নিজ দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্যই অবশ্য-বরাদ্দ 🙂  ]

যাক, এবার আসি- “ট্যাক্সি ড্রাইভার” এর কাহিনী সংক্ষেপে- বিপত্নীক কিম সিউল শহরের এক ট্যাক্সি চালক, বাড়ি ভাড়ার জোগান দিতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। এক সময় সৌদি আরবের   মরুতে কাজ করে টাকা কামালেও স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে ঋণের বোঝা চেপেছে;  আর সে দায় মিটিয়ে, ১১ বছর বয়সী একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জীবন চালাতেই এই ট্যাক্সি চালনা। নাহ, এ নিয়ে আর ইমোশনের বাগাড়ম্বর না করে এবার কাহিনীর মোড় ঘুরেছে- সামরিক  শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দিকে। এটা ১৯৮০ সালের মে মাসের কাহিনী, যখন দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন বেশ জোরেসোরেই হচ্ছে। এমন সময়ে জাপান থেকে মিশনারির বেশে কোরিয়ায় এলেন এক জার্মান সাংবাদিক হেইঞ্জপিটার  আর খবর পেলেন- গোয়াংজু প্রদেশের আন্দোলন আর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানা যাচ্ছে না, কারণ  সেখানকার টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে, পত্রপত্রিকার খবর সেন্সরড করা হচ্ছে, কোন সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না, শহরের চতুর্দিকে কড়া সেনা প্রহরা। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন- সেখানে ঢুকে হাঁড়ির খবর বের করবেনই আর ওদিকে ১০ হাজার ওন কামানোর লোভে সুকৌশলে তার এই বিপদসংকুল অভিযানের সঙ্গী হল সেই ট্যাক্সি চালক কিম। বিদেশী সাংবাদিক সহ এগিয়ে গেল তার ট্যাক্সি আর ট্যাক্সি ড্রাইভারের কাহিনী।

এবার একটু আসা যাক মুভির ভালো-মন্দ নিয়ে!

– ১-

একদম বাস্তব কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত মুভির প্লটকে বাস্তবভাবেই ফুটিয়ে তোলা- সেজন্য একদিকে আশির দশকের নানা অনুষঙ্গ যেমন ব্যবহার করা হয়েছে, সবার অভিনয়-চরিত্রায়োজনও তেমনি বাস্তবসম্মত হয়েছে। “Memories of Murder (2003) ” থেকে “The  Wailing (2016)” –বহু  থ্রিলার চলচ্চিত্রে অভিনয় করা কাং হো সং ট্যাক্সি চালকের চরিত্রের জন্য  সেরা অভিনেতার সম্মাননাও লাভ করেছেন  ফ্যান্টাসিয়া ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।

– ২-

কিছু জায়গায় একটু অনুমেয় মেলোড্রামার আধিক্য মনে হয় অবশ্য- কিছুটা আরেক কোরিয়ান  মুভি “Assassination암살  (2015)”-র মত- আশেপাশের কিছু মানুষের সাথে দ্বন্দ্ব-ক্যাচাল লাগবে, তারাই আবার একসাথে জান কোরবান করবে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য- এ তো জানা কথা- এমন ব্যাপার। তবে জনরা বিচারে অতিরঞ্জিত নয়ও অবশ্য। আরেকটি দৃশ্য- গোলাগুলির তোড়ে ট্যাক্সিগুলোর কাচ ভাঙছে, কিন্তু পরের দৃশ্যগুলোতে সেই কাচ প্রায় অক্ষতই দেখা গেল- এটা  একটু চোখে লেগেছে।

-৩-

তবে এ মুভির আরেকটি বাস্তবসম্মত- শক্তিশালী দিক হল, ছাত্র আন্দোলন আর তার বিরুদ্ধে সামরিক জান্তার ভয়াবহ অভিযানকে বেশ মর্মস্পর্শীভাবেই ফুটিয়ে তোলা। কারিগরি প্রযুক্তি আর   ম্যানপাওয়ার- দুটোরই ভালো ব্যবহার হয়েছে এতে। কার চেজিং এ থ্রিলারে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে- গাড়ি শূন্যে উড়াউড়ি-ঘুরাঘুরি করেছে এমন না, প্রাণ বাজি রেখে ট্যাক্সি চালকদের গণহত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টাই এখানে উপজীব্য। সব মিলিয়ে, একটি ঐতিহাসিক-ইমোশনাল চলচ্চিত্র হিসেবেও দেখার দাবিদার এই “ট্যাক্সি ড্রাইভার” – যা দেখে কোন এক ফাঁকে মনে পড়েই যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার আশির দশকের মত স্বাধীন বাংলাদেশেও  নব্বইয়ের  দশকে সামরিক শাসন আর স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল, সে সময়ে গোয়াংজু-র মত গণহত্যা না হলেও অকুতোভয় ছাত্ররা সংগ্রাম করেছিলেন, নূর হোসেন আত্মত্যাগ করেছিলেন- সে কাহিনী নিয়ে আমাদের দেশেও নিশ্চয় চলচ্চিত্র তৈরি হতে পারে!    ছোটবেলায় এ নিয়ে বিটিভিতে একটি নাটক দেখেছিলাম অবশ্য, আচ্ছা যাক সে কথা!

“Taxi Driver (2017)”- কোরিয়ার বক্স অফিসে সুপার হিটের তকমা পাওয়া (highest grossing films-এর তালিকায় দশম) –র সাথে সমালোচকদের প্রশংসাও লাভ করেছে, IMDb তে বর্তমান রেটিং ৭.৯/১০ আর রোটেন টোম্যাটো-তে ৯৪% । আর নগণ্য আমার বিচারে- ৭.৫/১০। তবে কারো আলোচনা-সমালোচনার ধার না করে দেখে নিতে পারেন মুভিটি আর অবলোকন করতে পারেন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণহত্যার পটভূমিতে এক ট্যাক্সি ড্রাইভার  আর বিদেশী রিপোর্টারের বিচিত্র সম্পর্ক আর নানা টানাপড়েনের কাহিনী।

 

[পুনশ্চ- এই মুভিটি রিলিজ পেয়ে তুমুল আলোচিত হওয়ার পরই নাকি  বাস্তব জীবনের ট্যাক্সি ড্রাইভার কিমের সন্ধান মিলেছিল, উইকিতে আছে, এখানে আর কোন স্পয়লার দেয়া হল না!]

[পুনশ্চ ২- On Demand Korea-র নিবেদিত অরিজিনাল সাবখানি নিজে বারংবার সিংক ও  কয়েকখানি মিসিং লাইন  অ্যাড করতে করতে  দেখতে হয়েছে; তাতে আসল মুভি দেখার মনোযোগে  বিঘ্ন ঘটাই স্বাভাবিক! তবে যাই হোক, এই অনর্থক-জনহিতকর-এডিটকৃত ইংরাজি সাবখানি “Subscene” ও “Avistaz”  এ আপলোড করে দেয়া হয়েছে – https://subscene.com/subtitles/a-taxi-driver/english/1637775  এবং মুভি ডাউনলোড লিংকে প্রদত্ত mkv ফাইলের সাথে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে – https://goo.gl/98NtPn ]

[পুনশ্চ৩– মুভির  টরেন্ট ফাইল লিংক- https://goo.gl/CF99VY অল্প সময়ের মধ্যে ৮০ জন ক্লিক করায় ডিরেক্ট ড্রাইভ লিংকটি কয়েক ঘণ্টার জন্য অচল হয়ে গেছে! এত বড় ফাইল ড্রাইভে আপলোড দিতে ৪ ঘণ্টা লেগেছিল, তাই এখন টরেন্ট ফাইল যোগ করে দিলাম!]

 

 

 

 

Error: No API key provided.

এই পোস্টটিতে ৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Pankaj Bose says:

    তুহিনের প্রত্যাবর্তন

  2. রিফাত স্বর্ণা says:

    ডাউনলোড লিংক পোস্টের শেষেই দেয়া ছিল, আচ্ছা- কমেন্টেও দিয়ে দিলাম- ঃ) https://goo.gl/98NtPn

  3. রিফাত স্বর্ণা says:

    মুভির টরেন্ট ফাইল লিংক- https://goo.gl/CF99VY অল্প সময়ের মধ্যে ৮০ জন ক্লিক করায় ডিরেক্ট ড্রাইভ লিংকটি কয়েক ঘণ্টার জন্য অচল হয়ে গেছে! এত বড় ফাইল ড্রাইভে আপলোড দিতে ৪ ঘণ্টা লেগেছিল, তাই এখন টরেন্ট ফাইল যোগ করে দিলাম!

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন