রান আউটঃ ভরসা রাখুন কাহিনীর ওপর!
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

cover

কিশোর ( সজল নূর)  নামের এক যুবকের অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়া আর অপরাধ জগতের বাসিন্দা জেনিথের সাথে তার গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিয়েই এই চলচ্চিত্রের মূল কাহিনীর বিস্তার – সেখানেই  আসে  কিশোরের মা ও প্রেমিকা, জেনিথের মেয়ে ও বস প্রমুখ চরিত্রের সমাবেশ।

12079086_905431359547071_1511356663073196727_n

ভালো ভালো রিভিউ ও  জমজমাট কাহিনী দেখার আশাবাদ পাঠ পূর্বক আমি ও দুই বান্ধবী – একজনার ছোট ভাই সমেত  চিরচেনা ‘বলাকা’ প্রেক্ষাগৃহে গমন করেছিলাম রফিকুল ইসলামের চিত্রনাট্যে  তন্ময় তানসেন পরিচালিত  “রানআউট” নামক সেই  ক্রাইম থ্রিলার দেখতে।

2

প্রথমে আলোকপাত করা যাক, মুভির প্রথম  ১৮+  কনটেন্ট আইটেম সং এর প্রতি  [ যেহেতু এটাকে ফোকাস করেই বেশ  প্রচারণা করা  হয়েছে! :p ] –  কাহিনীর ভাবগতি অনুযায়ীই পরিবেশিত হয়েছে, তবে সকলেই অবগত যে,এর  মূল আকর্ষণ বিশিষ্ট ফেসবুক সেলিব্রেটি কেবল এক্সপ্রেশনহীন দেহসর্বস্ব   মডেলই বটে;  তাই সাথে মদ্যপ কিশোর  (সজল) শেষে মিলিয়ে মিলিয়ে না নেচে উল্টাপাল্টা ড্যান্স স্টেপ সমেত নাচলে আরেকটু জমত!

রান আউট মুভি রিভিউ

চরিত্রের পর্যালোচনায় এসে বলতেই হয়, মুভির সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্র জেনিথ আর অন্যতম শক্তিশালী দিক এই চরিত্রে মৌসুমী নাগের অভিনয়। ড্রেসআপে একটু মোটা (অবশ্য এক মেয়ের মা হিসেবে সেটা মানানসই মানা যায়) আর মেকআপে একটু আতিশয্য লাগলেও থ্রিলারের কাহিনীবিন্যাস ও চরিত্র  অনুযায়ী তার অভিনয়ই ছিল সবচেয়ে বলিষ্ঠ (চরিত্রটিকে আরও দৃঢ়তা তাই দেয়াই যেত!) । কিশোরের  চরিত্রে সজল নূরের অভিনয় ছিল চলনসই – তার  অভিনয়গুণে চরিত্রটা অত আকাশেও ওড়ে নি,  পানিতেও পড়ে নি! তবে তার প্রেমিকা নীলার অবাঞ্ছিত চরিত্রাভিনয়  অন্যতম দুর্বল দিক মনে হয়েছে।  জেনিথের বস চরিত্রে বিশিষ্ট অভিনেতা  তারিক আনাম ‘হু-হা-হা’ করতে করতে একটু একঘেয়ে ভিলেন হয়ে পড়েছিলেন- ক্ষণে ক্ষণে জেনিথের সাথে তার যে প্যাশনেট ভাবগতি বোঝানো হল দেখে আমরা প্রথমে বিব্রত ও পরে বোরড হলাম বটে- সে সময় আর এসব ভাবগতির বাহুল্য সংক্ষেপিত করে  কাহিনীতে গতিময়তা  আনলে বেশ ভালো হত। স্বল্প সময়ের উপস্থিতি হলেও ওমর সানি পুলিশ চরিত্রে বেশ  মাত করেছেন , মা- চরিত্রের শেষ ভাগে একটু দৃঢ়তা দেখানটাও ভালো ছিল। জেনিথের মেয়ে শিশু চরিত্রটিও নিজের চরিত্র বিকাশের সাথে শেষ পর্যন্ত ভালোই মানিয়ে নিয়েছিল। অন্যদের অভিনয়ও বেশ চরিত্রানুগ।

run out 2015

তবে এই যে, অল্প সময়ে বোঝানো সম্ভবপর কিছু ব্যাপার বেশ সময় নিয়ে দীর্ঘায়িত হল,  অথচ  কাহিনীর  পটপরিবর্তন, প্রধান চরিত্রগুলোর অতীত জীবন ও মনস্তাত্ত্বিক দিক, এমনকি  শেষভাগে এসে কিছুটা টুইস্ট রাখার চেষ্টা যখন বেশ সময় দাবি করছে  ঠিক তখনই তাড়াহুড়ো- সময়ের নিদারুণ সংকট  এসে উপস্থিত হয়েছে! প্রথম একটি মাত্র দৃশ্যে অফিসে কাজ করা ছাড়া কিশোরের চরিত্রের সাধারণ জীবনযাপন নিয়ে আর কোন ফ্ল্যাশব্যাক দৃশ্যও নেই, এমনকি প্রধান নায়িকা জেনিথের সাথে সম্পর্কের স্বরূপ নিয়ে তার নিজস্ব কোন চিন্তাধারাও ঠিক স্পষ্ট হয় নি। আবার জেনিথের  স্মৃতি রোমন্থন যখন  ইন্টারেস্টিং হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছিল- তখন তার অতীত জীবনের আরও উপস্থাপনা যেমন-  প্যারালাইজড মায়ের সাথে অন্তত একটি দৃশ্য, ‘সিঙ্গেল মাদার’ হিসেবে তার সংগ্রাম খানিকটা উপস্থাপন করে চরিত্রটির ভিত্তি অনেকটা মজবুত করা যেত।  কিশোরের প্রেমিকা নীলা চরিত্রটি যখন উড়ে এসে বসল তখন মনে হল, সারাদিন বাড়িতে বসে থেকেও বাড়িওয়ালা মা-বাবা ভাড়াটে কিশোরের  সাথে তার এত গভীর  প্রেমের সম্পর্কের কথা জানেনই না! ( অভিনয় আর চিত্রায়ন মিলিয়ে চরিত্রটিতে তেমন আবেদন ছিল না)। আর কিঞ্চিৎ কৌতুকরস পাওয়া গেল কিছু সিরিয়াস ন্যাকামিসুলভ ভাব- সংলাপ,  ড্যান্স মুভ আর এক্সপ্রেশনে! তবে সব মিলিয়ে যাই হোক,  যে কোন ভালো  রেটিং  পাওয়া  মুভির ক্ষেত্রে  এন্ডিং বা পরিসমাপ্তির একটা বড় ভূমিকা আছে। হ্যাপি হোক বা স্যাড হোক, না হয় “শেষ হইয়াও হইল না শেষ” গোছের হোক, মুভির অনেক অপূর্ণতা একটা ভালো পরিসমাপ্তি ঘুচিয়ে দিতে পারে। এই মুভির ক্ষেত্রেও  মনে দাগ কাটার মত তেমন একটা পরিসমাপ্তি  অনেক অতৃপ্তি ঘুচিয়ে দিতে পারত। কিন্তু কী হল?  স্লো মোশন অ্যাকশন দৃশ্যের উপস্থিতি কমার্শিয়াল মুভি হিসেবে যুতসই হল,তারপর ?  ‘আমি আঁচল পেতে দিলাম!’এমন সংলাপ আর  অসময়ে বাবা ডাক মানতে কষ্ট  হলেও স্বল্প সময়ে একটি ছোট্ট টুইস্ট টানা হল, তাই মুভির সমাপ্তি টানার ৪-৫ মিনিট আগেই প্রেক্ষাগৃহের সব বাতি জ্বলে উঠলেও জনবিরল প্রেক্ষাগৃহে আমি ও বান্ধবী ধীর গতিতে প্রস্থান করতে করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশায়  থাকলাম, দেখতে পাব কাহিনীর কোন  শেষ মোচড়-ধীর গতিতে এগোলেও এমন ভিন্নধারার প্লট এবার দাবি করতেই পারে একটু জমজমাট এন্ডিং ! কিন্তু তেমন কিছু হল না,যাহা চাই তাহা তো পাই না, আমাদের একটু অতৃপ্ত রেখেই পর্দায় ঘোর আঁধার নামল!

ekbar-bolo-dao

যাই হোক, মুভিতে ক্যামেরার কাজ- সিনেমাটোগ্রাফি , আলোআঁধারির খেলা দেখানোয় বেশ নৈপুণ্য ছিল।ব্যান্ডের সঙ্গীতায়োজন ব্যবহারের নব্য কনসেপ্টটিও ভালোই সঙ্গতি দিয়েছে – সাথে  একটি মেলোডি  থাকলে মন্দ হত না! কিছু লোকেশন নির্বাচন আর প্রাকৃতিক পরিবেশের চিত্রায়নও চমৎকার ছিল- একটি   গানে নীলাচলের মনোরম লোকেশন ব্যবহার বেশ চোখ জুড়িয়েছে- দেখিয়ে দিয়েছে, দেশের এত প্রাকৃতিক  সৌন্দর্য আর চমৎকার লোকেশন উপেক্ষা করে পার্ক বা বিদেশি সি-বীচে  ধেইধেই করে নাচা অনর্থক!

1

পরিশেষে নির্মাতাদের কাছে ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা রইবে-  ১৮+ ট্যাগের জোর নয়, ভরসা রাখুন কাহিনীর ওপর। কারণ কোন জমজমাট  থ্রিলারের রোমাঞ্চকর কাহিনী বা হৃদয়গ্রাহী  মেলোড্রামার ভাষা যুগের পর  যুগ ধরে এমনিতেই দর্শক মন আকর্ষণ করতে পারে- এক্ষেত্রে  স্বকীয়তা আর দেশীয় সংস্কৃতির নিজস্ব ভাষাই হয়তো হয়ে উঠতে পারে  বড় অনুষঙ্গ ! সব মিলিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভাবার চেষ্টা করলে, অপূর্ণতা তো জীবনেরই আনুষঙ্গিক  অংশ। সব  প্রত্যাশার মেলবন্ধন ঘটে না, অনেক অতৃপ্তি তো রয়েই যায়! তাই দেশি  চলচ্চিত্রের দীর্ঘ দিনের গতানুগতিকতা থেকে বাইরে এসে এমন একটি থ্রিলার  নির্মাণের প্রচেষ্টাকে কিঞ্চিৎ সাধুবাদ জানাতেই পারি। আর এমন একটি প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা  করার জন্য, ঘটনা-রটনা- নানা মুনির নানা মত স্বচক্ষে দেখে পর্যালোচনা করার জন্য যে কোন  সিনেমাপ্রেমী  দর্শক  সিনেমা হলে একটিবার ঢুঁ মারতেই পারেন!  🙂

1601375_712514735505402_1083222651641721258_n

নিজের দেয়া রেটিং – ৬.৫/১০    🙂

 পুনশ্চঃ মুভিটির IMDb পেইজ খুলে ফেললাম, চাইলে রেটিং দিতে পারেন 🙂 –  http://www.imdb.com/title/tt5128858 

 

 

 

Run Out (2015)
Run Out poster Rating: N/A/10 (N/A votes)
Director: Tonmoy Tansen
Writer: Rafiqul Islam
Stars: Tarik Anam, Mousumi Nag, Sajal Noor, Romana Sharna
Runtime: N/A
Rated: N/A
Genre: Crime, Romance, Thriller
Released: 16 Oct 2015
Plot: N/A

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. golpo chilo. but making taa valo chilo na. camera, visual effect barailei movie valo hoy na. ami ektu hotash.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন