কারিগরঃ একটি অন্যরকম মুক্তিযুদ্ধের ছবি

‘স্বাধীনতা যুদ্ধে সাধারণ জনসাধারণের অবদান’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হয়ে নুপুর মোতালেব কারিগর এর কাছে যায়। মোতালেব কারিগরকে (কারিগর মানে যারা খৎনা করে) নিয়ে কথিত আছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার একটি অবদান ছিল। বিপত্নীক বুড়ো মোতালেব কারিগর মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কোনো তথ্য না দিয়ে কেবল নিজের স্ত্রী গুলবাহারের গল্প করতে থাকেন। ওইসব গল্পের ভেতর দিয়ে নুপুর অনুভব করে তার যদি প্রেমানুভূতি থাকে তা কেবল এই মোতালেব কারিগরের মত আধুনিক অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতমনা লোকের জন্যই। নুপুর চায় মোতালেব কারিগর মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছু বলুক। অবশেষে মোতালেব কারিগর জানান ’৭১-এ পাক বাহিনী তার অঞ্চলের হিন্দুদের হত্যা করতে আসে। তখন তিনি তাদের কোরআন শরীফ মাথায় রেখে বলেন এই গ্রামে কোন হিন্দু নেই। তিনি এবং তার পূর্ব পুরুষেরা সবাইকে খৎনা করে দিয়েছে। মোতালেব কারিগরের বুদ্ধিমত্তার ফলে তার এলাকার হিন্দুরা প্রাণে বেঁচে যান। যুদ্ধ শেষ হয়। সবাই ফিরে পায় স্বাভাবিক জীবন। মোতালেব কারিগরকে একঘরা করা হয় কারণ সে কোরআন মাথায় নিয়ে মিথ্যা বলেছে। এমনকি যে হিন্দুদের জন্য তিনি নিজ প্রাণ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত ছিলেন সেই তারাই বিপক্ষে কাজ করে। কারণ সে পবিত্র গ্রন্থ মাথায় নিয়ে মিথ্যা বলেছে। আসলে সেদিন সে কোরআন না, একটা মোটা বই কাপড়ে পেচিয়ে রেখেছিল।

ছবিতে মোতালেব চরিত্রে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, নূপুর চরিত্রে রোকেয়া প্রাচী এবং গুলবাহার চরিত্রে সুষমা অভিনয় করেছে।

সত্যি বলতে কি অসাধারণ একটা ফিল্ম হতে পারতো কারিগর। তবে এই ফিল্ম এর অন্য চরিত্র গুলো একদম ফালতু ছিল আর ফিল্মটাকে মাঝে মাঝে ফিল্ম না প্রামাণ্য চিত্র মনে হচ্ছিল।

images

(Visited 19 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন