পরিচালকদের নিয়ে ধারাবাহিক পোস্ট-আজকের পরিচালক কাজী হায়াৎ

kazi-hayet

কাজী হায়াৎ ১৯৪৭ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলায় অবস্থিত কাশিয়ানী উপজেলার ফাকরা ইউনিয়নের তারাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম দলিল উদ্দিন কাজী এবং মায়ের নাম আফরোজা বেগম।

কাজী হায়াৎ ১৭৭৪ সালে এম কম ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েই চলে আসেন চিত্রজগতে। চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর এতটাই টান ছিল যে, পরীক্ষার ফলাফলের খবরটিও নেননি। তিনি ১৯৭৪ সালে পরিচালক মমতাজ আলীর সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এবং ১৯৭৬-১৯৭৭ মৌসুমে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের সাথে সীমানা পেরিয়ে ছবিতেও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি পূর্ণ-পরিচলক হিসেবে ১৯৭৯ সালে দি ফাদার ছবিটি পরিচালনা করেন।
তার পরিচালিত ছবিগুলো হচ্ছে

দি ফাদার (সুচরিতা, বুলবুল আহমেদ)
দিলদার আলী (টেলি সামাদ)
খোকন সোনা (রাজীব,
রাজবাড়ী
মনা পাগলা
পাগলী (মান্না
বেরহম
দায়ী কে (এটিএম শামসুজ্জামান
যন্ত্রণা
আইন আদালত
দাঙ্গা (মান্না
ত্রাস (মান্না
চাঁদাবাজ (মান্না
সিপাহী (মান্না
দেশ প্রেমিক (মান্না
লাভ স্টোরি (রোজী সিদ্দিকি
দেশদ্রোহী (মান্না
লুটতরাজ (মান্না, মৌসুমী, দিতি)
পাগলা বাবুল
তেজি (মান্না, একা)
আম্মাজান (মান্না, মৌসুমী, আমিন খান)
জবর দখল
ধর (মান্না,
জখম
কষ্ট (মান্না, মৌসুমী, শাকিল খান)
ঝড় (মান্না, মৌসুমী)
ধাওয়া (রিয়াজ, সিমলা)
বর্তমান (মান্না, মৌসুমী)
ক্রোধ
পাঞ্জা (মান্না,মৌসুমী)
আব্বাজান (মান্না, সাথী)
তাণ্ডবলীলা (মান্না, মৌসুমী)
কাবুলিওয়ালা (মান্না, দীঘি,
মিনিস্টার (মান্না, মৌসুমী)
সমাজকে বদলে দাও (মান্না, শাবনূর)
ইতিহাস (কাজী মারুফ, রত্না, মৌসুমী)
অন্ধকার (কাজী মারুফ,
অন্যমানুষ (কাজী মারুফ, শাবনূর, শাকিল খান)
ক্যাপ্টেন মারুফ (কাজী মারুফ, নদী)
শ্রমিক নেতা (কাজী মারুফ, পূর্ণিমা)
অশান্ত মন (কাজী মারুফ, পূর্ণিমা, স্বাগতা)
আমার স্বপ্ন (কাজী মারুফ, পূর্ণিমা, সাহারা, বাপ্পারাজ)
ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না (কাজী মারুফ, পূর্ণিমা)
পিতা পুত্রের গল্প (কাজী মারুফ, সাহারা)
মানিক রতন দুই ভাই (ডিপজল, রেসি, কাজী মারুফ, তমা মীর্জা)
ইভটিজিং (কাজী মারুফ, তমা মীর্জা)

কাজী হায়াৎ তাঁর চলচ্চিত্র জীবনে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও অনন্যা চলচ্চিত্র পুরস্কার সহ সর্বমোট ৭৩টি চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে চারটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে অংশগ্রহণ করে দাঙ্গা চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে একটি পুরস্কার লাভ করেন। এবং মোট আটটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

আন্তর্জাতিক সম্মাননা
পিয়ান ইয়ান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব উত্তর কোরিয়া ১৯৯১। আফ্রো-এশিয়ো সরিডরি কমিটি এ্যাওয়ার্ড কর্তৃক প্রদেয় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার।
বিজয়ী শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র দাঙ্গা ১৯৯১

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
বিজয়ী শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচইতা (দায়ী কে)
বিজয়ী শ্রেষ্ঠ সংলাপ ও চিত্রনাট্যকার (ত্রাস)
বিজয়ী শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার (চাঁদাবাজ)
বিজয়ী শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (চাঁদাবাজ)
বিজয়ী শ্রেষ্ঠ পরিচলক (দেশ প্রমিক)
বিজয়ী শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার (দেশ প্রমিক)
বিজয়ী শ্রেষ্ঠ পরিচলক (ইতিহাস)
বিজয়ী শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার (ইতিহাস)

কাজী হায়াৎ এর স্ত্রীর নাম রোমিসা হায়াৎ। তার এক মেয়ে রোকসানা মীম ও এক ছেলে কাজী মারুফ। তার ছেলেও অভিনেতা।

(Visited 396 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    আরো একজন গুনী পরিচালক সম্পর্কে জেনে ভালো লাগল। ধন্যবাদ আবারো।

  2. ডন মাইকেল করলিয়নে says:

    আমার খুব পছন্দের একজন মানুষ, একজন পছন্দের অভিনেতা এবং একজন অসম্ভব গুণী পরিচালক… ভালো লিখেছ রিফাত 🙂 … চালিয়ে যাও… 🙂

  3. পোস্ট ভালো লেগেছে। পড়লাম পুরাটা

    • রিফাত আহমেদ রিফাত আহমেদ says:

      তবে ওনার কিছু ছবিতে অশ্লীল গান আছে। আর বাংলা চলচ্চিত্রে গালাগালির প্রচলন আর ছবি থেকেই শুরু হইছে

    • রীতিমত লিয়া says:

      ওনার মুভি গুলোতে এখন মনে হয় একমাত্র নায়ক মারূফ। সেইদিন আমি ক্যাপ্টেন মারুফ সিনেমাটার আংশিক অংশ দেখলাম। ছেলেটার কি কোন প্রবলেম আছে? এত অদ্ভুত অভিনয় করছে!!!!

  4. রীতিমত লিয়া says:

    ওনার পোলারে দেখলে ডর লাগে। ওর অভিনয় এমন কেন? ;/

  5. অনিক চৌধুরী says:

    এই মানুষটি ইন্ডিয়াতেই যদি সালমান কিংবা শাহরুখদের নিয়ে একশন মুভি করতেন, আমার ধারণা ২০০ কোটির নীচে একটাও থাকত না আয়ের দিক দিয়ে। যাহোক পোস্ট পড়ে খুব ভালো লাগলো। এই সিরিজটার জন্য হ্যাটস অফ।

  6. মেগামাইন্ড says:

    ইতিহাস কোনদিন ভুলবো না

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন