ভিকি জাহেদের শর্ট ফিল্ম “দেয়াল” – অভী জিবরান রিভিউ

96ee16c266f6a413bf10bc92778672d6

মাহফুজের জন্য অপেক্ষা করছে নিলু। নিলুর জন্য অপেক্ষা করছে নিলুর মা। আর নিলুর ভাইর রাতেই কোথায় যেন যেতে হবে অথচ আজ বাদে কাল ছোট বোনের বিয়ে। কোথায় যাবে সেটা বলা হয়নি। তবে যেতেই হবে। মাকে বাজার করে দিয়ে যাবার কথা বলে ছেলে। মা বলে “তুই সাবধানে থাকিস বাবা”।

প্রেমিকের জন্য প্রেমিকার পার্কে বিচলিত অপেক্ষা, দেরির অজুহাত হিসেবে প্রেমিকার পছন্দের জিনিস আনা সবই পুরনো। তবু চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি আর রূপসজ্জা নজর কাড়ে। আর তওসিফ-সাফার পর্দার রসায়ন যেন উপরিপাওনা। বিশেষ করে শাফার বাঙালী তরুণী মেক-অভার আর অভিব্যক্তিতে ভূয়সী উন্নতি প্রশংসনীয় যেটা গত ঈদে একি জুটির হুমায়ূন আহমেদের নাটকটিতেই টের পেয়েছিলাম। আর তওসিফের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় ওর ট্রাম্প কার্ড। পার্শ্বচরিত্রে তওসিফের রুমমেট আর নিলুর বড় ভাইর চরিত্র এবং অভিনয় উল্লেখযোগ্য।

237859

আবহ সংগীত, শিল্প নির্দেশনা, পরিচালনা আর সিনেমাটোগ্রাফি মিলিয়ে নতুন মেকার হিসেবে বেশ পরিপূর্ণ একটা কাজ। ২টা পছন্দের দৃশ্যঃ যেখানে “স্ক্রিপ্ট-অভিনয়” পুরা ফিল্মে ছিল সেরা –

১। তওসিফ-তার কবি রুমমেটের মাঝের দৃশ্য।

10449475_10208115159386611_8793665709132844011_n
২। “টিপটা সরে গেছে” – সাফা-ম্যাডাম কণার মাঝের দৃশ্য।

11238728_10207581477951717_1450909303535278470_n

তবু যেসব জায়গায় আরও কাজ করলে আরও ভালো হত সেগুলা নিচে তুলে ধরছি-

১। ভাষার ব্যবহারে শুরুতেই সেই inconsistency – শুদ্ধ ভাষার মাঝে হঠাৎ একটা “করসি” চলে আসলে কানে খুব বাজে। বাকি সময়টা মোটামুটি ঠিক ছিল। এ ব্যাপারে আরও কঠোর হতে হবে নির্মাতাদের।
২। স্টোরিটেলিং এ মনের কথা ন্যারেট না করিয়েও লেখনীর সূক্ষ্মতায় দেখানো যায়। যেমন – নিলুর জন্য মা তজবি গুনছে, তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে কি ভাবছে শোনানোর দরকার ছিল না। কেননা একটু পরেই ম্যাডাম কণার সাথে কথোপকথনে প্রকাশ পেয়েছিল ব্যাপারটা।
৩। আরেকটা স্টোরিটেলিং টিপসঃ চাকরীর চমকটা মুখে না বলে উপহারের ভেতরে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দিয়ে দেখালে আরও সুন্দর হত।
৪। ঝিলের উপরে নুয়ে পড়া গাছের দৃশ্যে শব্দ নিয়ন্ত্রণ সুন্দর হলেও একটু পরে নিলুদের আঙিনায় নিলু-মা-তার বড় ভাই এর দৃশ্যে বেড়াছেড়া হয়ে গিয়েছিল।
৫। fadeout before the 5 hours break – বেশি slow হয়ে গিয়েছিল মনে হয়েছে, smooth হহওা উচিত ছিল আরও।
৬। শেষের সিলিং থেকে ধরা ডেথ সিনগুলায় ক্যামেরা কাঁপছিল কেন? একদম still থাকা উচিত ছিল।
৭। থিম অনুসারে end credit একদম সনাতন বাংলা ফন্টে হওয়া উচিত ছিল। এই ফিল্মে ইংলিশ ফন্ট মানায়নি একেবারেই।

10906146_10203739560556217_8887505422487015566_n

ক্লাইম্যাক্সের foreshadowing শুরু থেকেই দেয়া যেত, যেটা এন্ডিংটাকে আরও মিনিংফুল করত মনে করি। কেননা পুরাটা সময়ে পটভূমিটাকে গোপন রাখা হয়েছে। সেটা না করে পটভূমিটা দেয়ালের পোস্টার, খাকি জামা পরিহিত ব্যক্তির আনাগোনা, ইত্যাদি বিভিন্নভাবে দেখানো যেত তাতে পিরিয়ডের ডিটেইলিং বাড়ত। কেননা আমার কাছে যেকোনো ফিল্ম/ নাটকের পিরিয়ডের প্রকাশ শুরুতেই হয়ে যাওয়া জরুরী। শুধু পাত্রপাত্রীর রূপসজ্জা দিয়ে হয়না।

সব মিলিয়ে চমৎকার পরিচালনা আর গল্পের একটা ফিল্ম, যেটা আরও ভালো হতে পারতো। বিশেষ করে স্ক্রিপ্ট আর সংলাপে সাবলীলতা দর্শনীয়। অভিনয়ে নিলুর ভাই আর মাহফুজের কবি রুমমেটটার কাজ বেশি ভালো লেগেছে। ওরা কি মঞ্চের লোক নাকি?

এরকম যত্ন আর সততার কাজ দেখতে এবং তা নিয়ে লিখতেও ভালো লাগে। সামনে আরও ভালো করবেন এই প্রত্যাশায়।

লিংকঃ Watch it on YOutube

(Visited 309 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন