‘দ্বিতীয় কৈশোর’ একটি আবেগের ছবি

বায়োস্কোপ-এ মুক্তি পেয়েছে শিহাব শাহীন নির্মিত ওয়েব ছবি ‘দ্বিতীয় কৈশোর’

– রমিজ, ২৯-০১-১৯

‘দ্বিতীয় কৈশোর’ নামটা শুনেই কেমন একটা অনুভূতির সৃষ্টি হয় মনে। বিশেষ করে আমরা যারা অনেক আগে কৈশোর পেড়িয়েছি, তাদের কাছে ‘কৈশোর’ শব্দটাই একটি মায়া।

আসলে মানুষের বয়স যতই বাড়ুক, শৈশব কিংবা কৈশোর থেকে সে সম্ভবত কোনদিন বেড়ুতে পারে না। তাই ‘দ্বিতীয় কৈশোর’ নামটা শুনে অদ্ভুত এক মায়ায় চোখে পানি চলে আসে।

‘দ্বিতীয় কৈশোর’ শিহাব শাহীন নির্মিত একটি ওয়েব ছবি। এর আগে নির্মাতার ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিটি আমি দেখেছিলাম। সেখানে, গল্পটা খুব পছন্দ না হলেও নির্মাতার সার্বিক কাজ আমার বেশ ভাল লেগেছিলো। সিনেমার গল্পের ক্ষেত্রে, আমাদের নির্মাতারা খুব বেশী রিস্ক নিতে চান না। কিন্তু টেলিভিশন বা ওয়েবের জন্য নির্মিত ছবিতে রিস্ক না নিয়ে উপায় নেই। কারন এক্ষেত্রে একটি নতুন এবং সুন্দর গল্পই হয়ে ওঠে ছবিটির প্রাণ।

দ্বিতীয় কৈশোর বায়োস্কোপ

দ্বিতীয় কৈশোর ছবিতে প্রধান অভিনয় শিল্পীরা

‘দ্বিতীয় কৈশোর’ – এ পয়ত্রিশোর্ধ তিন বন্ধুর গল্প উঠে এসেছে। তিনজনের জীবনের আলাদা গল্প।
গল্প নিয়ে ডিটেইলস্‌ বলাটা বোধ হয় ঠিক হবে না। শুধু এইটুকু বলতে পারি যে, তিনটি গল্পই ভাল লাগার মতো।
তবে যে গল্পটি পুরো ‘দ্বিতীয় কৈশোর’কে প্রাণ দিয়েছে, সেটি হচ্ছে – এক পয়ত্রিশোর্ধ বাবা এবং হঠাৎ আবিষ্কার হওয়া তার কিশোরী মেয়ের মধ্যকার অন্যরকম আবেগের গল্প।

বার বার চোখে পানি এনে দিয়েছে বাবা-মেয়ের মধ্যকার ছোট, ছোট আবেগীয় দৃশ্যগুলো।
যে মেয়েকে এর আগে কোনদিন দেখেনি, সেই মেয়ের প্রতিও বাবার চিরায়ত আবেগ (‘প্রটেকটিভ ন্যাচার’) সত্যিই হৃদয়কে স্পর্শ করে।

‘আফরান নিশো’ বাবার চরিত্রে দারুন সাবলীল। শুধু তার অতীতের দৃশ্যগুলোতে কাঁচা-পাকা চুল দেখে ভাল লাগেনি। সেক্ষেত্রে অন্য কাউকে দিয়ে অল্প বয়সের দৃশ্যগুলো করালে ভাল হতো। তার মেয়ের চরিত্রে যে ছিলো (আমি ছোট পর্দার শিল্পীদের সম্পর্কে খুব কম জানি, তাই তার নাম বলতে পারছি না) আমার মতে সে পুরো ছবিটির হৃদপিন্ড হয়ে ছিলো। বাবা-মেয়েই পুরো ছবিটির ‘সউল’ বা আত্মা।
তাহসান এবং সানজিদা প্রীতি তাদের গল্পে ভাল ছিলো। অপুর্ব, আবুল হায়াত বা অন্যরা মোটামুটি ঠিকঠাকই ছিলো। শিল্পী নির্বাচনে নির্মাতা দারুণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। সম্ভবত ছোটপর্দায় এ প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় তিন মুখ আফরান নিশো, অপুর্ব এবং তাহসানকে একই ফ্রেমে নিয়ে আসাটা সত্যিই চমকপ্রদ ব্যাপার। আর ‘লরা’ চরিত্রের মেয়েটিও চরিত্রানুযায়ী খুব ন্যাচারাল ছিলো।

আমাদের বড় পর্দায় এ ধরনের ছবি দেখার সূযোগ তেমন আসে না। ছোট পর্দাই তাই ভরসা। সেক্ষেত্রে এ ধরনের আধুনিক এবং উন্নত গল্পের ওয়েব ছবি দেখার সুযোগ তৈরী হওয়ায় সত্যিই ভাল লাগছে। বায়োস্কোপ আর গুড কোম্পানীকে ধন্যবাদ এত চমৎকার ওয়েব ফিল্ম উপহার দেয়ার জন্য।

তবে শিহাব শাহীনদের মতো মেধাবীদের কাজ বড় পর্দায় নিয়মিত দেখতে চাই। বড় পর্দা মানেই বৃহৎ আয়োজন, নানা শিল্পের সমন্বয়। একটা চমৎকার গল্পের স্বাদ আরো কয়েক গুন বেড়ে যায় যখন সেটা বড় পর্দার জন্য গোছানো এবং সুন্দর ভাবে বানানো হয়।

শিহাব শাহীন তার মেধার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে ছোট পর্দার মতো বড় পর্দাও জয় করুক। তার প্রতি সব সময়ের জন্য শুভ কামনা রইলো।

(Visited 917 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. যারা দেশের বাহিরে তাদের জন্য দেখার কোনো ব্যাবস্থা নাই কেনো?

  2. Raihan vhai says:

    Gp sim ছাড়া দেখার কোনো অপশন নাই

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন