২০১৮ সালের ছবি গুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রতীক্ষিত বাংলাদেশী ছবি
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

My Most Awaited Bangladeshi Films 2018

-রমিজ, ০১-০১-১৮

আমি বরাবরই বিশ্বাস করি চলচ্চিত্রে স্পস্ট দুইটা ধারা তৈরী হয়েছে। এটা শুধু আমাদের ইন্ডাষ্ট্রির জন্য না সারা বিশ্বের সিনেমার ক্ষেত্রেই এটা সত্য। একটি ধারা শৈল্পিক ধারা; যেখানে নির্মাতার ছবি নির্মানের মূল উদ্দেশ্য থাকে শিল্পের চর্চা, বাক স্বাধীনতার চর্চা কিংবা নিজের শিল্পের ক্ষুধা কিংবা  মননশীলতাকে  গুরুপ্ত দেয়া। আর দ্বিতীয় ধারাটি হচ্ছে বানিজ্যিক ধারা; যে ধারায় নির্মাতা একটা ট্রেন্ডি ফর্মুলাকে অনুসরন করে ছবি বানান, যার মূল উদ্দেশ্য থাকে যতটা সম্ভব বানিজ্যিক ভাবে লাভবান হওয়া।

এই দুই ধারায়ই ভাল ছবি হয়, মন্দ ছবি হয়। আবার সাফল্য কিংবা ব্যার্থতা এই দুই ধারার ছবির ক্ষেত্রেই আসে। এমন না যে শিল্পের উদ্দেশ্যে নির্মিত সব ছবিই ভাল ছবি কিংবা বানিজ্যের উদ্দেশে নির্মিত ছবি মানেই খারাপ ছবি। বানিজ্যিক ছবিও ভাল হতে পারে আবার শৈল্পিক ছবিও ব্যাবসা করতে পারে। সূতারং বিষয়টা সেরকম না। এই দুই ধারার ছবিরই আলাদা আলাদা দর্শক শ্রেনী আছে এবং চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এই দুই ধারার ছবিরই গুরুপ্ত আছে। শিল্প কিংবা বানিজ্য; উদ্দেশ্য যেটাই হোক ছবি ভাল হওয়া চাই। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সেটাই।

**ইউটিউব লিঙ্ক

যাই হোক, প্রথমে আমি কথা বলছি শিল্পকে উদ্দেশ্য করে নির্মিত ২০১৮ সালের সেই ছবি গুলোকে নিয়ে যেগুলো আমার কাছে এই মূহুর্তে বহুল প্রতিক্ষীত।

স্বপ্নজাল

মনপুরার পর গিয়াস উদ্দীন সেলিম নির্মান করছেন স্বপ্নজাল। মনপুরা শিল্প এবং বানিজ্য এই দুই ধারার স্বমন্বয় করে নির্মিত ছবি যেটি ব্যাবসায় কিংবা জনপ্রিয়তায় গত দশকের অন্যতম সেরা ছবি। ছবিটি ২০০৯ এ মুক্তি পেয়েছিলো। কিন্তু তারপর গত ৭-৮ বছরে এই নির্মাতার দ্বিতীয় ছবি আর মুক্তি পায়নি। সুসংবাদ হচ্ছে গিয়াস উদ্দীন সেলিম তার দ্বিতীয় ছবি নিয়ে অবশেষে ২০১৮ তে আসছেন। ছবির কাজ প্রায় শেষ। এখন সুদিন দেখে মুক্তি দিলেই হবে আর সত্যি কথা বলতে এই মূহুর্তে স্বপ্নজাল নিয়েই আমার আগ্রহটা সবচেয়ে বেশী। কেন যেন মনে হচ্ছে এই ছবিতে নির্মাতা তার শিল্পের স্বাধীনতাকে পুরোপুরি প্রয়োগ করেছেন। ছবির কন্সেপ্ট থেকে শুরু করে সবকিছুই গতানুগতিক ফর্মুলার বাইরে। কাস্টিং-  এ নির্মাতা সুরুচীর পরিচয় দিয়েছেন। বানিজ্যিক নায়িকা পরিমনিকে সম্পূর্ন নতুন রুপে পাওয়া যাবে এ ছবিতে। সাথে নতুন মুখ ইয়াশ রোহান আছেন। একেবারেই ফ্রেশ কাস্ট। বাংলাদেশ এবং কলকাতার লোকেশনে শুট করা হয়েছে ছবিটি। সত্যিই এ ছবিটার জন্য আর অপেক্ষা করা যাচ্ছে না। ছবিটা ব্যাবসা কতটা করতে পারবে জানি না তবে আমার মনে হচ্ছে খুব খুব বিশেষ একটা ছবি আমরা পেতে যাচ্ছি।

বিউটি সার্কাস

নবীন নির্মাতা মাহমুদ দিদারের স্বপ্নের প্রজেক্ট বিউটি সার্কাস নিয়ে এই মূহুর্তে আমি ব্যাপক আগ্রহ্‌বোধ করছি। বিশেষ করে ছবির পোষ্টার এবং স্টিল পিক দেখে আমার খুবই ভাল লেগেছে। পিউর ক্লাস যাকে বলে। ছবিতে সার্কাস দলের মেয়ে চরিত্রে আছেন জয়া আহসান। জয়া আহসানকে বাংলাদেশের নির্মাতারা ব্যাবহার করতে পারে না এই ধারনা ভূল প্রমান করতেই যেন আসছে এই ছবি। শুধুমাত্র স্টিল পিকচারেই জয়াকে দেখে আমি মুগ্ধ। খুব বড় বাজেটের ছবি এটা। শুনেছি ছবিটা বাজেট সঙ্কটে পড়ে বন্ধ হয়ে আছে। তবে আমি মন থেকে চাইছি ছবিটা দ্রুত শেষ হোক এবং মুক্তি পাক। এ ধরনের ছবি বাংলাদেশে এই মূহুর্তে ভীষন দরকার।

রিকশা গার্ল

আয়নাবাজি নির্মাতা অমিতাভ রেজার ছবি রিকশা গার্ল এ বছর মুক্তি পেতে পারে। যেখানে আয়নাবাজি বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মিত আর্টিস্টিক ফিল্ম সেখানে রিকশা গার্ল এ আমরা নির্মাতার শৈল্পিক চেতনাটা  দেখতে পাবো। স্বভাবতই এই মুহুর্তের অন্যতম প্রশংসিত নির্মাতার এই ভিন্ন ধারার ছবিটা দেখার আগ্রহ্‌ আমার খুব বেশী করেই আছে।

শনিবার বিকেল

প্রিয় নির্মাতা মোস্তফা ফারুকীর নতুন কোন মুভি যদি এ বছর আসে তো সে ছবি আমার আগ্রহের লিস্টে সবার উপরেই থাকবে। শুনেছি ফারুকীর ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট সাটারডে আফটারনুন (শনিবার বিকেল) এ বছরেই মুক্তি পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ ছবির জন্য আগ্রহ্‌ এখনই অনেক বেশী মাত্রায় আছে।

এছাড়া চঞ্ছল চৌধুরী ও জয়া আহসান অভিনীত হুমায়ূন আহমেদ-এর উপন্যাস থেকে নির্মিত দেবী এবং তৌকির আহমেদেরও পরের ছবি দেখার অপেক্ষায় থাকবো।

most awaited bangladeshi films 2018

বানিজ্যিক ছবি গুলো মধ্যে ইফতেখার চৌধুরী এবং ববি হকের সুপার উমেন ফিল্ম বিজলী আমাকে দারুন এক্সাইটেড করেছে। বাংলাদেশে এ ধরনের আধুনিক ছবি সচারচর নির্মিত হয় না। খুব বড় বাজেটে, সময় নিয়ে ছবিটি বানানো হয়েছে। ছবির একটা গান ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গানটিতে ববিকে খুবই গ্লামারাস লেগেছে।

পোড়ামন টু এর কন্সেপ্ট শুনে আমি খুবই ডিসাপয়েন্টেড। তবে সিয়ামের কারনে ছবিটা দেখার আগ্রহ্‌ তৈরী হয়েছে। সিয়ামকে আমি দু একটা নাটকে এবং মিউজিক ভিডিওতে দেখেছি। রোমান্টিক ছবির নায়ক হিসেবে তাকে দারুন লাগবে বলেই মনে হচ্ছে।

শাকিব খান আর ববি অভিনীত রাশেদ রাহার নোলক ও বেশ আগ্রহ তৈরী করেছে। নতুন নির্মাতার সাথে সুপারস্টার শাকিব খানের মেলবন্ধন দেখার জন্য আগ্রহ্‌ বোধ করছি।

জাজ মাল্টিমিডিয়ার পাষান-এর জন্যো অপেক্ষা করছি। সৈকত নাসিরের কাজ দেখিনি এখনো, তবে শুনেছি সে ভাল নির্মাতা। তার নির্মানে ওম আর মিমের কেমেষ্ট্রি দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। অপেক্ষা করছি জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবি নূরজাহান দেখার জন্য। ছবিটি মারাঠি ব্লকবাষ্টার সাইরাতের রিমেক তাই আগ্রহটা বেশী। এছাড়া অনন্য মামুনের বন্ধন দেখতে আগ্রহী। রোশানকে সম্পূর্ন একশন লুকে দেখা যাবে বেপরোয়া ছবিতে। ফলে এ ছবিটাও দেখবো।

 

এছাড়া এবিএম সুমন ও সায়লা সাবি অভিনীত আদি, আরিফিন শুভ ও ঋতুপর্না অভিনীত একটি সিনেমার গল্প নিয়েও কম বেশী আগ্রহ্‌ আছে।

মূলত ট্রেলার এবং গান দেখেই ছবির প্রতি আগ্রহ্‌ বাড়ে কমে। যেহেতু ২০১৮ সালের বেশীর ভাগ ছবির ট্রেলার ও গান রিলিজ হয়নি তাই সময়ে সময়ে এই আগ্রহ্‌ কম বেশী হবে। কোন ছবির প্রতি হয়তো আগ্রহ্‌ বাড়বে আবার কোন ছবির প্রতি কমবে। তবে এই মূহুর্তে এই ছবি গুলোই আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন