ডুব কথন – নীতু দ্যা মিন গার্ল
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
ডুবে ডুব দিয়ে আমি অনেক কিছুই পেয়েছে। নীতু সেই অনেক কিছুর মধ্যে অত্যন্ত স্পেশাল কিছু।
–  রমিজ, ৩০-১০-১৭
তিন দিন হয়ে গেলো কিন্তু এখনো ডুবের রেশ মাথা থেকে যাচ্ছে না। বিশেষ করে ডুবের চরিত্রগুলো সারাক্ষন মাথায় ঘুরপাক করছে। এর আগে এরকম হয়েছিলো The Dreamers (2003) দেখার পর। ডুবের চারটা চরিত্রই আমার অসম্ভব ভাল লেগেছে। কিন্তু নীতু যেন একটু বেশীই স্পেশাল। গল্পে নীতুর গুরুপ্ত প্রবল, কিন্তু পর্দায় তার স্পেস কম। এই কম স্পেসের কারনে নীতু হয়ে উঠেছে আরো বেশী স্পেশাল। তাকে আরো দেখার প্রবল আকাঙ্খা তৈরী হয়েছে।
একই চরিত্রকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে নিতে পারে। আমি নীতুকে কিভাবে নিয়েছি আমি শুধু সে বিষয়েই বলছি।
আমার কাছে নীতু ধরা দিয়েছে শহুরে পরিবেশে বেড়ে ওঠা একটি সাধারন মেয়ে যার মধ্যে সাধারন মানুষের ছোট ছোট দোষগুলো যেমন জেলাসি, স্বার্থপরতা অল্প অল্প পরিমানে আছে আর আছে নানা রকম পাগলামো করার অভ্যাস। মূলত শহুরে পরিবেশে একাকীত্বে বেড়ে ওঠা মেয়েদের মধ্যে এই মিন বিষয়গুলো আমরা দেখি। তাই নীতু আমার কাছে ধরা দিয়েছি অতি পরিচিত কোন মেয়ের রুপে যার দোষগুলো অতি সরল। যার চোখের ভাষায় সেই সারল্যের দেখা মিলে। নীতু সেই সরল চরিত্রটি যে ভদ্রতার লেবাসে নিজের দোষ-ত্রুটিকে লুকাতে পারে না। সে চলে প্রকৃতির নিয়মে। ফলে টুকটাক দোষ ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নীতুর সারল্য তাকে অনন্যা করে। নীতুকে ভাল না বেসে পারা যায় না। যেমন জাভেদ হাসান পারেননি। মুখে ‘’গো এওয়ে’’ বলে নীতুকে তাড়িয়ে দিলেও তার কন্ঠে বিরক্তি প্রকাশ পায় না; প্রকাশ পায় অসহায়ত্ব। অপ্রত্যাশিত প্রেমের আবেগ মানুষকে এভাবেই অসহায় করে।
parno mitra in doob
নীতুকে অসম্ভব ভাল লেগেছে ছবির দুইটি দৃশ্যে। একটি দৃশ্যে সে দেয়াল টপকে জাভেদ হাসানের রুমে যায়। এবং পরে সকাল বেলা আবার লুকিয়ে দেয়াল টপকে বের হতে গিয়ে কেয়ারটেকারের চোখে চোখ পড়ে যার। নীতু স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তার চোখে কোন অপরাধবোধ নেই। যেন সে জানে সে যা করেছে তা অতি স্বাভাবিক। এটাই নীতুর প্রকৃতি। আর এই প্রকৃতিই তাকে আমার চোখে অসাধারন করে। নীতুর সরল চোখের সেই দৃষ্টি দেখতে হলেও ডুবে আমি শতবার ডুব দিতে পারি।
আরেকটি দৃশ্য এমন- নীতু জাভেদ হাসানের সাথে দেখা করতে গেলে জাভেদ হাসান তার মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দেয় এবং গো এওয়ে বলে আর্তনাদ করে। আগেই বলেছি যে এই আর্তনাদ ছিলো প্রেমের অসহায়ত্বের আর্তনাদ। কিন্তু নীতুর কাছে তার প্রেম অসহায় না। তাই নীতুকে আমরা দেখি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই সে বিষয়টা নেয়। এবং বাইরে গিয়ে গাড়ীর ভিতরে আরাম করে বসে থাকে। মুষল ধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আর নীতু নামের এক তরুনী তার গাড়ীর পেছনের গ্লাস দিয়ে তাকিয়ে আছে তার ভালবাসার মানুষের জানালার দিকে। কি অদ্ভুত সুন্দর সে দৃশ্য! নীতুর চোখে নেই কোন গ্লানী, নেই কোন জটিলতা। প্রবল সারল্যে ভরা সে চোখ দুটো বলে- আমি জানি আমি কি চাই বা কি করছি।
বিয়ের পরে সাধারন মেয়েদের মতই সে সাংসারিক হয়ে উঠে। একটি দৃশ্যেই সেই বিষয়টা স্পস্ট হয়। নীতু দামাদামি করে মাছ কিনছে। ঠিক শহুরে গৃহিণীদের মত।
নীতু একটি সাধারন শহুরে মেয়ে। যার মধ্যে নানা দোষ ত্রুটি আছে। ছোটবেলা থেকেই বান্ধবীর প্রতি তার জেলাসি। যা আমরা পর্দায় যতটা দেখি তারচেয়ে বেশী অনুভব করি। কিন্তু সেই জেলাসি অতি সাধারন মানবীয় আবেগ থেকে আসা। বান্ধবীর গোছানো সুন্দর জীবনের প্রতি জেলাস হওয়াটা অস্বাভাবিক না। বান্ধবীর সাথে তার বাবার অসম্ভব সুন্দর সম্পর্কে দেখেও সে জেলাস হয়। যা আমরা সাবেরীর কন্ঠে ছবির ক্লাইম্যাক্স-এ শুনতে পাই। এটার অবশ্য দুইটা ব্যাখ্যা দেয়া যায়। হয়তো সাবেরীর সেটা ইমাজিনেশন। সাবেরী এখানে নিজেই মনে মনে নীতুর চরিত্রকে জেলাস এবং স্বার্থপর হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যের সম্পর্কে আমাদের যেমন একটা সম্পুর্ন নিজস্ব ধারনা তৈরী হয়। আবার নীতুর নানা কর্মকান্ডে সাবেরীর কথা বিশ্বাসও হয়। সেক্ষেত্রে আমরা ধরে নিতে পারি নীতু যে করেই হোক সাবেরীর বাবার সাথে একই রকম সুন্দর কোন সম্পর্কে জড়াতে চায়। যেহেতু তার মেয়ে হওয়া অসম্ভব সেহেতু প্রেমিকা হয়েই সে তার ভালবাসা পেতে চায়।
আর এ সব কিছু মিলিয়ে নীতু – দ্যা মিন গার্ল হয়ে উঠে আমার চোখে অসাধারন এক চরিত্র।
নীতুকে পর্দায় এতো কম স্পেস কেন দেয়া হলো এজন্য আমার কোন আক্ষেপ নেই। যা পেয়েছি তাতেই নীতু অনন্যা হয়ে ধরা পড়েছে আমার চোখে। হয়তো আরো বেশী স্পেস পেলে তাকে নিয়ে ঠিক এমনি করে ভাবতে পারতাম না। তাকে পর্দায় কম পাওয়ায় যে তাকে বেশী করে দেখার জন্য হৃদয়ে এক ধরনের হাহাকার তৈরী হয়েছে সেটা তখন তৈরী হতো না।
তাই ‘’কি পেলাম না’’ তার চেয়ে আমার কাছে বেশী গুরুপ্তপূর্ন ‘’কি পেয়েছি’’। ডুবে ডুব দিয়ে আমি অনেক কিছুই পেয়েছে। নীতু সেই অনেক কিছুর মধ্যে অত্যন্ত স্পেশাল কিছু।
**ডুব নিয়ে আমার করা ভিডিও রিভিউ দেখুন এখানে

এই পোস্টটিতে ১৯ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. অসম্ভব ভালো লেগেছে মুভিটা

    • Shanto says:

      এই জন্যই ডুবেছে

    • কোনো একটা মুভির ডুবে যাওয়ার উপর তার ভাল বা খারাপ হওয়াটা নির্ভর করে না। অনেক ভালো ভালো মুভিওও দর্শক জনপ্রিয়তা পায় না আবার অনেক ফালতু মুভিও বিপুল অর্থ আয় করে। সর্বোপরি কোনো মুভি ভালো না খারাপ তা দর্শকের উপর নির্ভর করে। আবার ভালো বা খারাপ লাগাটাও আপেক্ষিক। আমার একটা মুভি ভালো লাগছে তাই বলে যে আপনারও লাগবে এমনটা নেই!।

    • Md Ramiz says:

      Shanto আপনি কি গাধা ? উনি বলেছেন ওনার ভাল লেগেছে … তাতে ডুব ডুবলো না ভাসলো সে প্রসঙ্গ আসে কেন … ভাল ছবি এদেশে সব সময়ই ডুবেছে … এটা নতুন কিছু না

  2. যে মুভিটি (নাকি লম্বা নাটক) সবার মাথার উপর দিয়ে গেছে,আপনি সে মুভির(নাকি লম্বা নাটক) মাঝে ডুবে আছেন।
    আর কত চেস্টা করবেন ভাসাইতে(!)

    • Saiful Enam says:

      ভাই!উনি ছবি রিলিজ হওয়ার আগে থেকেই মুগ্ধ হয়ে আছেন। ২৫ তারিখ থেকে শুধু এই ছবি নিয়েই লিহছেন। দর্শক যেহেতু বুজতে পারে নাই তাই উনি বুঝায় তারপর ছারবেন।😁

  3. বাঙ্গালী চোর…. সেটা আবারও প্রমাণিত। অবশ্য ফারুকী ভাইয়ের দোষ দিয়া লাভ নাই….. চোর জাতির কাছে… অন্যের খারাপ দিকটা তুলে ধরলেই সবাই সেটা দেদারছে গিলে।।

  4. বালের রিভিউ। এই চাটাগুলারে ব্যান করেনা কেন? সব জায়গায় এতো চাটার দল কই থাইকা যে আসে

  5. Faysal Ahmed says:

    রমিজ ভায়া, ক্লাস নাইনে ভর্তি হন। তারপর “রচনার শিল্পগুন” প্রবন্ধ টি মনযোগ সহকারে ৭ বার পড়বেন। আর পারলে আঁতলামি বন্ধ করবেন।

    • Md Ramiz says:

      নাইনে ভর্তি হওয়ার বয়স নাই ভাইয়া … বয়স থাকলে আপনার পরামর্শ বিবেচনায় রাখতাম … আর আঁতলামি বন্ধ সম্ভব না ব্রো … আঁতলামি করতে খুব খুব ভালবাসি … আপনি বরং কষ্ট করে আমার নামটা মনে রাখুন … তাতে কি হবে – এই নাম দেখলেই আপনি সহজে আমার আঁতলামিময় পোষ্ট এড়িয়ে যেতে পারবেন … ধন্যবাদ

  6. Champa Nuur says:

    কারো ব্যক্তিগত ভালো লাগা নিয়ে এত negative কথা বলার কি আছে। যার ভালো লাগেনি সে দূরে থাকুন ভাই। দরকার হলে negative review দিন। কিন্তু যার ভালো লেগেছে তার ভালো লাগাটা নিয়ে এত কথা না বললেই হয়। থাকুক না যে যার অনুভূতি নিয়ে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন