মুভি রিভিউঃ ডুব (NO BED OF ROSES)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ডুব একটি নিয়ার মাষ্টারপিস্‌ যা মিস করা কারোরই উচিৎ না 

–  রমিজ, ২৮-১০-১৭

ডুব সম্পূর্ন রুপে মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর নিজস্ব স্টাইলে বানানো ছবি। এর আগে তার নির্মিত সবগুলো ছবি আমি দেখেছি। পিপড়াবিদ্যা বাদে বাকি সবগুলো ছবি ভাল লেগেছিলো। কিন্তু ডুব মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীকে নির্মাতা হিসেবে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার আগের ছবিগুলোতে বাজেটের সীমাবদ্ধতা ছিলো। আর ছিলো দর্শককে হাসানোর একটা চেষ্টা। যা হয়তো বিনোদনের জন্য জরুরী কিন্তু শিল্পের জন্য জরুরী ছিলো না। কিন্তু এ ছবিতে তিনি একজন নির্মাতা হিসেবে নিজেকে সেটিস্ফাইড করার চেষ্টা করেছেন। তার নিজস্ব সিনেমা দর্শনের সর্বোচ্চ ব্যাবহার এই ছবিতে আমি পেয়েছি। ছবির গল্পটি নিঃসন্দেহে হুমায়ূন আহমেদ এর জীবনের একটা অংশের দ্বারা অনুপ্রানীত। কিন্তু ফারুকী সেই গল্পকে সম্পূর্ন নিজের করে নিয়েছেন। জাভেদ হাসানকে তিনি হুমায়ূন আহমেদ বানানোর চেষ্টা করেননি। জাভেদ হাসানের গল্পকেও সম্পুর্নরুপে হুমায়ূন আহমেদের গল্প বলা যায় না। একটা ব্রোকেন ফ্যামেলির সদস্যদের আবেগগুলোকে অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং একই সঙ্গে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন ফারুকী। নির্মাতা হিসেবে আগে তার প্রতি যতটা শ্রদ্ধা ছিলো এ ছবি দেখার পর তা কয়েক গুন বেড়ে গেছে। নিঃসন্দেহে তারেক মাসূদ এবং হুমায়ূন আহমেদ বিহীন বাংলা চলচ্চিত্রের এই মুহুর্তের সেরা নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী। ডুব দেখার পর একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

আমার করা ডুবের ভিডিও রিভিউ দেখুন নিচের লিঙ্কে গিয়ে —

 

ছবির বেশীর ভাগ দৃশ্যই অত্যন্ত সুন্দর। মানবিক সম্পর্কগুলো নিয়েই ছবির গল্প সাজানো হয়েছে। গল্প বলার ধরন গোছানো না। এই বিষয়টা ছবিটিকে আরো উপভোগ্য করেছে। অসম্ভব সুন্দর কিছু বিচ্ছিন্ন দৃশ্য নিয়েই ছবিটি। আর পুরো ছবিটি যেহেতু দুইজন নারীর স্মৃতি চারনা সেহেতু বিচ্ছিন্ন দৃশ্যগুলোকেই ছবিটিকে শৈল্পিক রুপ দিয়েছে।
এ ছবির কয়েকটি দৃশ্য অসম্ভব সুন্দর। একটি দৃশ্য এমন- মায়ের জন্মদিনে মেয়ে মাকে নিয়ে আশুলিয়া ঘুরতে যায়। সেখানে মা-মেয়ের সম্পর্কের এমন আবেগী কিছু মূহুর্ত তৈরী হয় যা দেখে আনন্দে চোখে পানি চলে আসে। একই রকম বাবা-মেয়ের দৃশ্যগুলোও। আর নীতুর পাগলামীভরা কর্মকান্ডগুলোতো এতোটাই সুন্দর যা বলে বুঝানো যাবে না। নীতুর দেয়াল টপকে জাভেদের সাথে দেখা করতে যাওয়া কিংবা জাভেদ তাকে দেখে দরজা বন্ধ করে দিলে বর্ষার মধ্যে গাড়ীর ভিতরে বসে জাভেদকে দূর থেকে দেখার চেষ্টা এক কথায় অসাধারন।
জাভেদ হোসেনের সাথে তার প্রিয় মানুষগুলোর সম্পর্কের টানাপোড়েনই ছবিতে এসেছে। যেখানে সবাই নিজ নিজ আবেগের জায়গায় সঠিক কিন্তু একই সঙ্গে অসহায়। আহারে জীবন, আহা জীবন জলে ভাসা পদ্ম যেমন গানের কথার মতোই প্রত্যেকের ভিতরের অসহায়ত্ব আমরা ছবিতে দেখি।
সূতারং ছবির গল্প, চিত্রনাট্য এবং মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর মেকিং স্টাইল সবই এক কথায় পিউরলি ক্লাসিক।

মুভি রিভিউ ডুব
ছবির সবচেয়ে সুন্দর দিক এর সিনেমাটোগ্রাফী। অসাধারন। পুরো ছবি দেখে চোখ মন দুটোই জুড়িয়ে গেছে। সম্পাদনা অবশ্যই বেটার হতে পারতো। তবে এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলে এতো সুন্দর ছবিটার ত্রুটি খুঁজতে যাবো না। এ বিষয়ে যারা ছবিটির চুলচেরা বিশ্লেষন করবেন তারা বলুক। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুড এনাফ। গান নেই বললেই চলে। আহারে জীবন গান দুই জায়গায় অল্প করে এসেছে এবং গানটা যতটুকু এসেছে দারুন লেগেছে।

পারফরমেন্স এর কথা বললে সবাই দারুন। ইরফান খানের অভিনয় সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। ওয়ার্ল্ড ক্লাস অভিনেতা। তবে তার বাংলা বলার স্টাইলে কিছু কিছু যায়গায় সমস্যা ছিলো। শত চেষ্টা করুক তবু বিদেশী ভাষা বলতে গেলে কিছু সমস্যা তো থাকেই। তবে এই দিকটা একটু হলেও ছবির শিল্পগুনে প্রভাব ফেলেছে। অন্যথায় তাকে দারুন লেগেছে। তিশা বরাবরের মতোই অসাধারন। রোকেয়া প্রাচী সবসময়ের মতই ক্লাসিক। নীতু চরিত্রে পার্নো মিত্র অসাধারন। নীতু চরিত্রটি খুবই ইন্টারেষ্টিং চরিত্র। এই চরিত্রটাকে আরেকটু স্পেস দিলে দারুন হতো। আই লাভড্‌ দিস ক্যারেকটার।

সবমিলিয়ে, ডুব এক অসাধারন অভিজ্ঞতা। আমার মতে এটি শুধু এ বছরের না বরং গত ২০ বছরের মধ্যে নির্মিত সেরা বাংলাদেশী ফিল্মগুলোর একটি। ইনফ্যাক্ট তারেক মাসূদের মাটির ময়নার পর কোন ছবি দেখে এতোটা সেটিস্ফাইড হয়েছি।
এটাকে যদি মাষ্টারপিস্‌ নাও বলা যায় তো নিয়ার মাষ্টারপিস্‌ চোখ বন্ধ করে বলা যায়।
যারা ক্লাসি ফিল্ম পছন্দ করেন তারাতো এটা অবশ্যই মিস করবেন না একইসঙ্গে যারা ক্লাসি ফিল্ম পছন্দ করেন না তাদেরও এটা দেখা উচিৎ শুধু এইটুকু বোঝার জন্য যে ক্লাসি ফিল্ম কি জিনিষ।

আমি এই ছবিটিকে সম্পূর্ন মার্ক্স অর্থাৎ ৫* দিতাম। কিন্তু ইরফান খানের বাংলা উচ্চারনগত কিছু সমস্যা এবং দু একজায়গায় ছবির গল্প দ্রুত জাম্প করার সম্পাদনাজনিত সমস্যা কারনে অর্ধেক স্টার বাদ দিয়ে ছবিটিকে দিচ্ছি ৪.৫*। অর্থাৎ ৯০ % মার্কস্‌ বা গ্রেড আউটস্টান্ডিং

এই পোস্টটিতে ৯ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. অনেক জনের রিভিউ পড়েছি,কেউ বলেননি ভাল লাগছে।
    আর আপনি বলছেন নিয়ার মাস্টারপিস্(!)
    সবাই বলছে সিনেমার টিকিটের টাকা দিয়ে ডাব খেলে ভাল হত!!
    আপনার অসাধারণ তৈলাক্ত রিভিউর জন্য ধন্যবাদ

  2. Neon Alo says:

    আপনার রিভিও সম্পুর্ন biased ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা যারা এটা হলে দেখলাম তাদের কেউই বুঝলাম যে কি দেখলাম ২ ঘন্টা ধরে। ১/২ জন দ্বিমত করলে ভিন্ন কথা ছিল, কিন্তু সবাই যেখানে এটাকে একবাক্যে “ফালতু” বলে আখ্যা দিল সেখানে আপনি ৫ তারকা দিয়ে দিলেন। এটা আপনার কাছে মাস্টারপিস হলেও সাধারন দর্শকের কাছে master piss.

  3. Omar S Sumon says:

    আপনি বরাবরঈ তেল মারা রিভিউ দেন,

  4. Ata ki paid review disen naki?? Akn porjnto sudu apnar e positive review dakhlam…

  5. apni to vai next film award paben. sera bokwas review award

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন