ডুব (NO BED OF ROSES) | Bangla Movie Preview
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ডুব কি হুমায়ুন আহমেদ বায়োপিক ?

–  রমিজ, ২৫-১০-১৭

গত কয়েক বছরে মধ্যে যতগুলো বাংলাদেশী ছবি মুক্তি পেয়েছে তার মধ্যে ডুব আমার কাছে সবচেয়ে স্পেশাল ছবি। হ্যা … অবশ্যই মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর ছবি বরাবরই স্পেশাল; তা শেষ পর্যন্ত ভাল লাগুক আর না লাগুক। একটা ব্রান্ড ভ্যালু তো ফারুকীর ছবির আছেই। তাছাড়া ছবিতে অভিনয় করছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অভিনেতা ইরফান খান। তিশা আছেন অন্যতম প্রধান চরিত্রে এবং ফারুকী-তিশা জুটির একটা আলাদা আবেদন আমার কাছে সবসময়ই আছে। ছবিটি ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল গুলোতে দেখানো হয়েছে এবং মোটামুটি ভালই রিভিউ পেয়েছে। এসব কিছু ছাপিয়ে যে কারনটির কারনে এ ছবিটি আমার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল একটি ছবি তা হচ্ছে- ছবিটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক এবং সেই বিতর্কের কারনে হোক কিংবা যে কারনেই হোক সেন্সর বোর্ডে ছবিটি আটকে থাকার ঘটনা। আমি বরাবরই সিনেমাকে আটকে রাখার বিরুদ্ধে। সিনেমা হচ্ছে একজন নির্মাতার শিল্পের স্বাধীনতা।  অথচ খুব তুচ্ছ কারনে আমাদের দেশে অনেক ভাল সিনেমা আটকে দেয়া হয়। এমনকি তারেক মাসূদের মতো বড় মাপের নির্মাতার ছবিও তুচ্ছ সব কারনে আটকে দেয়ার ঘটনা আমরা দেখেছি। অবশ্যই ডুবের বিষয়টি সম্পূর্ন আলাদা। এটার বিরুদ্ধে হুমায়ূন আহমেদ পত্নী মেহের আফরোজ শাওনের যে অভিযোগটি ছিলো তা মোটেও তুচ্ছ নয়। শাওনের অভিযোগ হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের অনুমতি ছাড়াই তার জীবনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। এই অভিযোগ সত্যি হলে নির্মাতাকে অবশ্যই আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কেননা শিল্পের স্বাধীনতা যেমন নিশ্চিত করা জরুরী, তেমনি অনুমতি ছাড়া কারো জীবনে নিয়ে সিনেমা বানানোটাও সেই স্বাধীনতার অপঃব্যাবহার যা আইনত অবৈধ। তাহলে ডুব কিভাবে আমার চোখে বৈধতা পায় ? …

প্রিভিউটি ভিডিওতে দেখুন নিচের লিঙ্কে গিয়ে —

আমি ডুব বিতর্কের প্রথম থেকেই স্পষ্ট করে বলেছি ডুব হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নিয়ে নির্মিত ছবি না। হুমায়ূন আহমেদ-এর জীবনের একটা অংশের সাথে এ ছবির মিল অবশ্যই আছে এতে কোন সন্দেহ্‌ নেই। স্বয়ং মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী তা অস্বীকার করেননি কখনো। কিন্তু তারপরও ডুব মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর কল্পিত গল্প। আর এখানেই শিল্পের স্বাধীনতার বিষয়টা আসে। একজন শিল্পী জীবনের গল্প থেকে রসদ নেয় এবং তার সাথে তার কল্পনা মিলেমিশে তৈরী হয় সম্পূর্ন নতুন শিল্প কর্ম।

ডুব কেন হুমায়ূন আহমেদ এর জীবনী নির্ভর চলচ্চিত্র না অর্থাৎ এটা কোন মতেই হুমায়ূন আহমেদের বায়োপিক কেন না ?

বায়োপিক বা বায়োগ্রাফিক্যাল ফিল্ম কোন বিখ্যাত বা সুপরিচিত ব্যাক্তির জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো নিয়ে তৈরী করা হয়। যেমন হুমায়ূন আহমেদের বায়োপিকে তার জন্ম, বেড়ে ওঠা থাকবে। ঢাকা ভার্সিটিতে তার শিক্ষা জীবন, সাহিত্যিক হিসেবে তার শুরুর দিনগুলোর কথা থাকবে। বিদেশে তার পিএইচডি করার দিনগুলো থাকবে। ১৯৭১ সালের যুবক হুমায়ূন কিংবা ঢাকা ভার্সিটির শিক্ষক হুমায়ূন থাকবে। তার প্রথম প্রেম, বিয়ে, দ্বিতীয় প্রেম, বিয়ে এসবই থাকবে। ক্যান্সারের সাথে তার জীবন যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে মৃত্যুর সময়কার ক্রাইসিস থাকবে। সবচেয়ে বড় করে থাকবে একজন সাহিত্যিক, একজন নাট্যকার এবং একজন চলচ্চিত্রকার হিসেবে তার সাফল্য ও স্ট্রাগলের বিষয়গুলো। জীবনী ভিত্তিক সিনেমা বা বায়োপিকে ব্যাক্তির আইডেন্টিটি এভাবেই স্পস্ট হয়ে উঠে। যেন তাকে দর্শক ভালভাবে জানতে পারে কিংবা তার সম্পর্কে একটা স্পস্ট ধারনা পেতে পারে। সূতারং ডুব কোন মতেই হুমায়ূন আহমেদের জীবনী নির্ভর ছবি বা বায়োপিক হতে পারে না। তার জীবনের কোন একটা বা দুইটা ঘটনার ছায়া  কোন চলচ্চিত্রে আসলে সেটাকে বায়োপিক বলা অত্যন্ত অযৌক্তিক।

ইরফান খান ডুব

আরেকটি বিষয় হচ্ছে কারো নাম, পরিচয় ছবিতে ব্যাবহার করতে হলে অবশ্যই ব্যাক্তির অনুমতি নিতে হবে। ডুব ছবি সম্পর্কে আমরা যতটুকু জেনেছি তাতে হুমায়ূন আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন বা হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের কারো নাম ছবিতে কোথাও ব্যাবহার করা হয়নি।

হ্যা, ছবির এক অভিনেত্রী তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে মেহের আফরোজ শাওনের নাম ব্যাবহার করেছেন। সেই থেকেই মূলত ডুব বিতর্ক চরম আকার ধারন করেছে। সেই স্ট্যাটাসের পর মেহের আফরোজ শাওনের অভিযোগ অবশ্যই যুক্তিযুক্ত।অনুমতি ছাড়া তার  নাম-পরিচয় কেউ কোথাও ব্যাবহার করলে সে অবশ্যই এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন। ডুব টিম (মূলত ডুবের মার্কেটিং টিম) তাদের ছবির নেগেটিভ প্রচারনার জন্য মেহের আফরোজ শাওনের নাম ব্যাবহার করেছেন। তারা সেক্ষেত্রে স্বার্থক। তবে একই সঙ্গে নিন্দার পাত্রও। জাজ মাল্টিমিডিয়া এবং এসকে মুভিজের যৌথ প্রযোজনার ছবি গুলোর ক্ষেত্রে এমন মিথ্যা প্রচারনা কৌশল আমরা বরাবরই দেখি। আশিকি মুক্তির সময় যেমন নূসরাত ফারিয়া ইমরান হাশমীর নায়িকা হয়ে যায়। এরকমই এক জঘন্য প্রচার কৌশল ছিলো শাওনের নাম ব্যাবহার করে ডুব ছবির প্রচারনা করা। এই দিক থেকে ছবির প্রচারনা টিম কিংবা প্রযোজনা সংস্থার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু সেই বিচার কোন অবস্থাতেই ছবিকে সেন্সর বোর্ডে আটকে দিয়ে করাটা যুক্তিযুক্ত না। এখানে ছবিটি সম্পূর্ন নির্দোষ।

 

ডুব বিতর্ক, ছবিটি সেন্সর বোর্ডে আটকে দেয়া এসব কারনে লাভের লাভ হয়েছে কিন্তু সেই দোষীদেরই। অর্থাৎ ছবির ব্যাপক প্রচারনা হয়েছে। ফলে ছবির প্রচারনা টিম এবং প্রযোজনা সংস্থা হয়েছে লাভবান। তাদের উদ্দেশ্য হয়েছে স্বার্থক। আর মাঝখান থেকে শিল্পের স্বাধীনতাকে ফেলে দেয়া হয়েছে বিতর্কে। কিছুটা অস্তিত্বের সঙ্কটেও।

ডুব নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ কিংবা মেহের আফরোজ শাওনের ভক্তদের ভয় মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী তার সো কল্ড কুটবুদ্ধী ব্যাবহার করে তাদেরকে কোনভাবে ছোট করে কিনা … আমি সাহিত্যিক, নাট্যকার এবং চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদ স্যার এবং তার স্ত্রী অভিনেত্রী, গায়িকা মেহের আফরোজ শাওনের একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে তাদের এই ক্ষুদ্র মানুষিকতার তীব্র প্রতিবাদ করছি। হুমায়ূন আহমেদের সম্মান কোন তাসের ঘর না যে কেউ এসে ফুঁ দিলেই তা ভেঙ্গে যাবে।  আমি চ্যালেঞ্জ দিতে পারি এরকম একটা চলচ্চিত্র কেন হাজারটা চলচ্চিত্র দিয়েও হুমায়ূন আহমেদের মতো মহাপুরুষের সামান্য অসম্মান করা সম্ভব না। তেমনি শাওনও এমন কোন অন্যায় বা ভূল করে নাই যে তাকে কেউ কোন অবস্থাতেই অসম্মান করতে পারে।

একজন চলচ্চিত্রকার হিসেবেও মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর প্রতি পূর্ন বিশ্বাস আছে যে তিনি কাউকে অসম্মান করার জন্য কোন ছবি বানাবেনই না।

সূতারং বেহুদা এই বিতর্কে আমি বরাবরই বিরক্ত ছিলাম আর তাই একটি চলচ্চিত্র হিসেবে ডুবের প্রতি পূর্ন সমর্থন প্রথম থেকেই ছিলো।

আগেই বলেছি ডুব বিতর্কে ছবির ব্যাপক প্রচারনা হয়েছে। তাই ছবির বাজ এখন খুব হাই। ছবির ট্রেলার এবং আহা জীবনও দর্শক দারুন ভাবে গ্রহন করেছে। আমার কাছেও ট্রেলার দারুন লেগেছে। ইরফান খান জাস্ট ফাটিয়ে দিয়েছে। গানও শুনতে দারুন হয়েছে।

শুক্রবারে তো এ ছবি বড় শহর গুলোতে নিশ্চিত কাঁপাবে। ডুব সম্পূর্নই ক্লাস ওডিয়েন্সের ছবি। ক্লাস ওডিয়েন্স সারা দেশেই আছে; কিন্তু তাদের জন্য ভাল হল নেই। তাই প্রথম সপ্তাহে বেছে বেছে ৪০ টা ভাল হলে ছবিটা মুক্তি দেয়া খুবই গুড পলিসি। ইতিহাস সাক্ষী আমাদের দেশের বড় হীট ছবি গুলোর বেশীর ভাগই প্রথম সপ্তাহে খুব কম সংখ্যক হলে মুক্তি পেয়েছে। পরে ঐ কম হলে ব্যাপক দর্শক চাপ দেখে ছবির হলও বেড়েছে দর্শকও বেড়েছে। এটা একটা ভাল স্ট্রাটেজি। বিশেষ করে ডুবের মতো ছবির জন্য। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়। আমি তো শুক্রবারেই দেখবো। চেষ্টা করবো ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো দেখতে। আপনারাও দেখুন। ডুবের মতো ওয়ার্ল্ড ক্লাস ছবি যদি না দেখেন তাহলে কি দেখবেন ?

 

বায়োস্কোপ ব্লগে আমার করা আরো কিছু পোষ্ট দেখুন নিচের লিঙ্কগুলোতে গিয়ে —

ঢাকা এটাক একটি সুনির্মিত, স্টাইলিশ বানিজ্যিক ছবি

ঢাকা এটাক মুভি প্রিভিউ | Dhaka Attack Movie Preview

মুভি রিভিউঃ ভয়ঙ্কর সুন্দর

http://bioscopeblog.net/ramizraza/59698

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন