রেকর্ড দিয়েই কি যাত্রা শুরু ঢাকা এটাকের ?
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আগামীকাল ঢাকাসহ্‌ সারাদেশে ১২২ টিরও বেশী হলে মুক্তি পাচ্ছে ঢাকা এটাক 

–  রমিজ, ০৫-১০-১৭

দীপঙ্কর দীপনের ঢাকা এটাক ছবিটি আগামীকাল সারাদেশের ১২২ টির বেশী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। আমার জানা মতে ঈদের ছবি ছাড়া সাধারন সময়ে মুক্তি পাওয়া কোন ছবির একযোগে এতো গুলো হলে মুক্তির রেকর্ড নেই। যদি আমার জানায় ভূল হয় তাহলে আপনারা সংশোধন করে দিবেন। তবে এটা নিশ্চিত যে এফডিসি কেন্দ্রিক ফর্মুলা ছবির বাইরে স্বাধীন ধারার নির্মাতার তৈরী একটি ভিন্ন ধারার ছবির জন্য এতো গুলো হলে এক যোগে মুক্তি পাওয়াটা রেকর্ড বটে।
আমরা সব সময়ই দেখে এসেছি ভিন্ন ধারার ছবিগুলো অপেক্ষাকৃত কম হলে মুক্তি পায়। এ নিয়ে আমাদের দর্শক, সমালোচকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা সব সময়ই ছিলো। ফেসবুকের গ্রুপ গুলোতে সচেতন দর্শকদের একটা কমন অভিযোগ ছিলো যে একটি সুনির্মিত ছবি কেন এতো কম হল পাবে ?

ঢাকা এটাক সেই হতাশা তো দূর করেছেই বরং সাথে এতো গুলো হলে মুক্তি পেয়ে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। অথচ এমনটিই হওয়া স্বাভাবিক ছিলো। একটি সুনির্মিত ছবি প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্শক পর্যন্ত দেখার অধিকার রাখে। কিন্তু হলের বাজে পরিবেশসহ্‌ নানা সমস্যার কারনে রুচিশীল ছবি গুলো আসলে খুব বেশী হলে মুক্তি দেয়ার সূযোগটাও কম।

 

ঢাকা এটাক ছবির প্রিভিউ ভিডিওতে দেখে নিতে পারেন নিচের লিঙ্কে গিয়ে —

ঢাকা এটাক একটা নতুন দিগন্ত উম্মোচন করেছে। এখন ছবিটি সব শ্রেনীর দর্শক প্রথম সপ্তাহেই দেখতে পারবে।
এ ছবিটি সফল হওয়া খুবই জরুরী।
একটু একটু করেই একটা বড় পরিবর্তন আসে। একবারেই কোন কিছুতে আমূল পরিবর্তন আসবে এমন ভাবাটা যুক্তিযুক্ত নয়। গত বছর আয়নাবাজি একটা ধাক্কা দিয়েছে; এবার ঢাকা এটাকের ধাক্কার প্রয়োজন আছে।
শুনেছি মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর ডুবও ব্যাপক সঙ্খ্যক সিনেমা হলে এক যোগে মুক্তি পাবে। ডুব ছবিটি নিয়েও আমি খুবই আশাবাদী।
এই যে সুনির্মিত ছবির গ্রান্ড রিলিজের একটা ধারা তৈরী হচ্ছে (যা আমাদের দেশে নিকট অতীতে একেবারেই ছিলো না) এটা ধরে রাখতে হবে। আর এর জন্য ঢাকা এটাক এবং ডুবের মতো ছবির সফল হওয়া খুব খুব বেশী জরুরী।
অবশ্যই ছবি যদি মানসম্মত না হয় কিংবা দর্শকদের বিনোদন দিতে ব্যার্থ হয় তাহলে দর্শক সে ছবি রিজেক্ট করবেই। দর্শকদের সে বিষয়ে পূর্ন অধিকার আছে। ছবি দেখে ভাল-মন্দ বিষয়ে মতামত দেয়ারও অধিকার দর্শকের আছে। চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সিনেমা কালচারের অংশ এবং এটা সিনেমা শিল্পের জন্যই জরুরী। তবে অবশ্যই ভিন্ন ধারার সুনির্মিত ছবি গুলো দর্শকের দেখা উচিৎ। এ ধরনের ছবি বিপুল সঙ্খ্যক দর্শক ডিজার্ভ করে। ছবি দেখেই আলোচনা-সমালোচনা করবো। এটাই হওয়া উচিৎ একজন সত্যিকারের সিনেমাপ্রেমীর মূল দর্শন।

Dhaka Attack Hall List

**ছবি – ঢাকা এটাকের হল লিষ্ট

সুনির্মিত ছবি গুলো হলে গিয়ে দেখুন। আলোচনা-সমালোচনা করুন। এবং নিম্ন মানের ছবি গুলো সম্পূর্ন রকম ভাবে ইগ্নোর করুন। এভাবেই সুস্থ, সুন্দর একটা সিনেমা কালচার আমাদের দেশে তৈরী হবে।
ঢাকা এটাক এবং ডুব সেই আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে।
এবার আমাদের পালা। আমরা দর্শকরাই পারি আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে গৌরবের জায়গায় নিয়ে যেতে। শুধু দরকার সকলের একটুখানি সুচিন্তার আর সিনেমার প্রতি অনেক খানি ভালবাসার।

এই পোস্টটিতে ৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন